স্পোরলোস

স্পোরলোস

ফ্রয়েডের সাইকোএনালাইসিসে মানব মনের তিনটি স্তর আছে- ইগো, সুপারইগো এবং ইড। ইগো হচ্ছে চেতন মন যা আমাদেরকে একজন সামাজিক মানুষে পরিণত করে। ইড এবং সুপারইগো দুটিই অবচেতন বা অচেতন জগতের ব্যাপার। সুপারইগো হচ্ছে মনের ড্রাইভিং ফোর্স, সে আমাদেরকে চরমপন্থী সব নৈতিক বা অনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত করে। আর ইড হচ্ছে ইতর সব অভিলাসের চালিকাশক্তি, ক্ষণস্থায়ী কিন্তু নগদ সুখের খোঁজ করাই তার কাজ। এর সাথে কিন্তু ধর্মচিন্তারও মিল করা যায়। সুপারইগোকে বলা যায় ঈশ্বর, তবে মনে রাখতে হবে ঈশ্বর মানে ভাল নয়, ঈশ্বর মানে এমন একজন যে মনে করে, আমি যা বলি তাই মানুষকে শুনতে হবে। ইগো হচ্ছে মানুষ আর ইড হচ্ছে শয়তান। বলা যায় না, হয়ত ফ্রয়েড ভেবেছিলেন, মানুষ যেহেতু ধর্ম সৃষ্টি করেছে সেহেতু তার মানসিক কাঠামো ও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে একটা মিল থাকা আবশ্যিক। বিস্তারিত পড়ুন

স্টিলিং বিউটি

স্টিলিং বিউটি

বয়স্ক অসংখ্য পুরুষের মত অনেক শিল্পীও কোন কিশোরীর রূপে মুগ্ধ হয়ে তার উদ্দেশ্য কিছু একটা উৎসর্গ করতে চেয়েছে। ইতালীয় পরিচালক বেরনার্দো বেরতোলুচ্চি স্টিলিং বিউটি বোধহয় বানিয়েছেন শুধুমাত্র সেই তাড়না থেকেই। ১৯৯০-এর পর যে বেরতোলুচ্চি আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোন সিনেমা বানাতে পারেননি তার আরেকটা প্রমাণ ১৯৯৬-এর এই সিনেমা। বিস্তারিত পড়ুন

কয়ানিসকাৎসি

কয়ানিসকাৎসি

কয়ানিসকাৎসি মার্কিন মিডিয়া-বিপ্লবী গডফ্রি রাজিওর প্রথম সিনেমা। তিনি সিনেমা বানানোর জন্য সিনেমা বানাতে আসেননি, বরং নিজের ভেতর জমে থাকা একটি গভীর বোধকে প্রকাশের কোনো ভাষা না পেয়ে কথাহীন ছবিমালা বেছে নিয়েছেন। এই সিনেমায় কোনো কথা নেই, আছে কেবল চলমান-চিত্র, টাইম-ল্যাপ্স ভিডিও, শব্দ, আর সুর। টাইম-ল্যাপ্স এর মাস্টার রন ফ্রিকি চিত্রগ্রহণের কাজ করেছেন, আর সুর দিয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সুরকার ফিলিপ গ্লাস যিনি সিনেসুর নিয়ে আগেও অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু এইবার রাজিও এসে তাকে বলেছিলেন, তার না-কি সিনেমার সঙ্গীত-সুর ভালো লাগে না, তিনি এমন কিছু চান যা সিনেমায় সচরাচর দেখা যায় না। তারা তিনজন মিলে এত চমৎকার একটা কাজ করেছেন যে, যিনি সিনেমার নিহিতার্থ, গূঢ় তাৎপর্য ইত্যাদি নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না তিনিও এটি দেখে মোহগ্রস্ত হতে বাধ্য। কেবল সুর, শব্দ, আর ছবির উপর নির্ভর করে এর চেয়ে সুন্দর কোনো সিনেমা এর আগে নির্মীত হয়নি। বিস্তারিত পড়ুন

ফ্র্যান্টিক

ফ্র্যান্টিক

রজার ইবার্ট ফ্র্যান্টিক (১৯৮৮) এর বেশ যথোপযুক্ত একটি রিভিউ লিখেছিলেন। তার মতে, সিনেমাটির প্রথম দৃশ্যগুলো দেখে আবার সেই পুরনো পোলানস্কির কথা মনে পড়ে যায় যিনি রোজমেরি’স বেবি এবং চায়নাটাউন এর মতো সিনেমা বানিয়েছিলেন। কিন্তু পর্দায় স্যুডো-হিরোইনের আগমনের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়, একের পর এক ক্লাইম্যাক্স আর ইঁদুর-বিড়াল দৌঁড়ের মধ্যে পোলানস্কির থ্রিলারের স্বাদটা হারিয়ে যায়। শুরুতে যে এসেন্সটা তৈরি করতে পেরেছিলেন সেটা থেকে এত দূরে সরে না গেলে ফ্র্যান্টিক নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের আরেকটা উল্লেখযোগ্য অর্জন হতে পারত। কিন্তু থ্রিলারের বাইরেও ফ্র্যান্টিক এর আরেকটা রূপ আছে যেটা একেবারে এড়িয়ে গেলে চলবে না। বিস্তারিত পড়ুন

ইয়াগতেন

ইয়াগতেন

ইয়াগতেন (Jagten/The Hunt, ২০১২) ডেনমার্কের নাট্য চলচ্চিত্রের শক্তিশালী ঐতিহ্যের (যার পুরোধা ব্যক্তিত্ব লাস ফন ট্রিয়া) আরেকটি চমৎকার নিদর্শন। কেবল ড্রামাকে বিবেচনায় নিলে ট্রিয়া’র যেকোনো কাজকেও হয়ত টমাস ভিন্টারবের এর এই নতুন সিনেমা ছাড়িয়ে যাবে, এবং তাতে খুব বেশি আশ্চর্য হওয়ারও কিছু নেই; হাজার হোক তার ১৯৯৮ সালের সিনেমা ফেস্তেন কে স্বয়ং ইংমার বারিমান মাস্টারপিস বলেছিলেন (যদিও বারিমান মাস্টারপিস তত্ত্বে বিশ্বাস করতেন না)। রজার ইবার্টের মতে অভিনয়সর্বস্ব ড্রামা হিসেবে ইয়াগতেন আসলেই একটি অনন্যসাধারণ অর্জন, কিন্তু উৎকৃষ্ট সিনেমার সবগুলো মাপকাঠি (বিশেষ করে চিত্রগ্রহণ) বিবেচনায় আনলে এর কিছুটা মূল্যহানি ঘটে। তবে হস্তচালিত বা হ্যান্ডহেল্ড ক্যামেরার ঝাঁকি যাদের অসহ্য লাগে না, বরং যারা মনে করেন এ ধরণের ক্যামেরা অভিনয়ে সৌকর্য প্রতিষ্ঠা এবং অভিনেতাদের পাণ্ডিত্যের প্রতি সুবিচার করতে পারে তাদের জন্য নিঃসন্দেহে ইয়াগতেন একটা সত্যিকারের এল-দোরাদো। বিস্তারিত পড়ুন

মাস্কুলাঁ ফেমিনাঁ

মাস্কুলাঁ ফেমিনাঁ

জঁ-লুক গদারের অধিকাংশ সিনেমা দেখে তৎক্ষণাৎ দুইয়ে দুইয়ে চার মিলানো খুব কঠিন; মিজঁসেন দেখতে খুব ভালো লাগে, কথোপকথনের চমকে না ভুলে পারা যায় না, হাস্যরসের তারিফও করতে হয়, বিশেষ বিশেষ কিছু মুহূর্তকে জীবনে দেখা সেরা সিনেমুহূর্ত বলে মনে হয়, কিন্তু পুরো সিনেমাটা দেখা শেষে কোত্থেকে শুরু করেছিলাম, কোথায় এসে পড়লাম, আর কোন পথেই বা এলাম এসব ভেবে কূল-কিনারা পাওয়া যায় না। তবে আশার কথা হচ্ছে যত সময় যায় সিনেমার তত বেশি সংখ্যক মুহূর্ত ভালো লাগতে থাকে, এবং কখনো কখনো সবগুলো মুহূর্তকে একসাথে গাঁথার সূতোটিও পাওয়া যায়। পলিন কেইলের মতে মাস্কুলাঁ ফেমিনাঁ’র ক্ষেত্রে সেই সূতোটি হচ্ছে: বিস্তারিত পড়ুন

রিচার্ড লিংকলেটার

রিচার্ড লিংকলেটার

পৃথিবীর সব সিনেবাণিজ্য কেন্দ্রের মতো হলিউডের সিনেমাও একসময় দর্শকদের মনে পরিচালক বলে কারো অস্তিত্বের কথা জানান দিত না। ওতার তত্ত্বের সাময়িক উন্মাদনা সেই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছিল, কিন্তু অচিরেই আবার যে সেই। সিনেমাকে একজনের একক ভিশন হিসেবে অনেক সময় দেখা যায়, কিন্তু সেটা গল্প-উপন্যাসের মতো নয়। সাহিত্যে যেমন সেই ভিশনটা লেখক নিজেই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে ছাড়েন, সিনেমায় তেমনটি সম্ভব নয়। সিনেমায় পরিচালকের ভিশন বাস্তবায়নে অনেকের অতি-গুরুত্বপূর্ণ অবদানের দরকার পড়ে। আর পরিচালক যদি নিজে চিত্রনাট্য না লিখে থাকেন তাহলে তো তার ভিশনে অন্যদের ভাগটা আরো বেড়ে যায়। বর্তমান হলিউডে নিজস্ব ভিশন বাস্তবায়নকারী পরিচালকদের সিনেমা খুব বেশি জনপ্রিয় নয়, তবে যারা তুলনামূলক বেশি পরিচিত তাদের মধ্যে রিচার্ড লিংকলেটার অন্যতম। নব্বইয়ের দশকে তরুণ সেমি-ওটার দের করা সিনেমাগুলোর মধ্যে সেইফ, দ্য ডুম জেনারেশন, রেজারভোয়ার ডগস এবং বিফোর সানরাইজ কে সেরা বলতে হবে। এবং পরিচিতি ও কাল্টানুসরণের বিচারে বিফোর সানরাইজ যে একটা বিশেষ জায়গা দখল করে থাকবে তা বলাই বাহুল্য। বিস্তারিত পড়ুন

স্ট্যানলি কুবরিক

স্ট্যানলি কুবরিক

হলিউডের স্টুডিওতন্ত্রের মধ্যে থেকে খুব কম পরিচালকই কুবরিকের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন। ধীরে ধীরে নিজেকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রকারদের সারিতে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে কুবরিক একসময় তার সব সিনেমার উপর পূর্ণ শৈল্পিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সিনেমার পরিকল্পনা ও চিত্রনাট্য রচনা থেকে শুরু করে একেবারে নির্মাণোত্তর কর্মকাণ্ড পর্যন্ত সবকিছুর উপর তার তদারকি থাকত। তৃণমূল থেকে সিনেমা শিখে আসার কারণেই তিনি বৃহ্ত্তম স্টুডিওগুলোর কাছ থেকে পাওয়া শৈল্পিক স্বাধীনতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। বিস্তারিত পড়ুন

আব্বস কিয়রোস্তামি: নতুন পৃথিবীর চলচ্চিত্রকার

আব্বস কিয়রোস্তামি: নতুন পৃথিবীর চলচ্চিত্রকার

এই লেখাটি সেন্সেস অফ সিনেমায় Mehrnaz Saeed-Vafa এর লেখার ভাবানুবাদ, তবে কিছু কথা নিজে অতিরিক্ত যোগ করেছি। কোনটা আমার আর কোনটা মেহ্‌রনাজ সাইদের সেটা উল্লেখ করার হ্যাপায় আর গেলাম না (শোনা যায় স্বয়ং এরিস্টটলও সেই হ্যাপায় যেতেন না :D)।

আব্বস কিয়রোস্তামি (ইংরেজি: Abbas Kiarostami, ফার্সি: عباس کیارستمی, জন্ম: ২২শে জুন ১৯৪০) ইসলামী বিপ্লব (১৯৭৯) পরবর্তী ইরানের সবচেয়ে বিখ্যাত ও বিতর্কিত চলচ্চিত্রকার। নব্বইয়ের দশকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্রকারদের মধ্যেও তিনি অন্যতম, একবিংশ শতকেও অবশ্য তাকে নিয়ে কম আলোচনা হয় না। পড়াশোনা করেছিলেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে, সিনেমা জগতে তার পদচারণা শুরু হয়েছিল ক্রেডিট-টাইটেল ও বিজ্ঞাপন নির্মাণের মধ্য দিয়ে। বিস্তারিত পড়ুন

ফানি ও আলেকজান্ডার (১৯৮২)

ফানি ও আলেকজান্ডার (১৯৮২)

সুইডেনের সবচেয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ইংমার বারিমানের অন্যতম সেরা সিনেমা “ফানি ও আলেকজান্ডার” নিয়ে রজার ইবার্টের রিভিউয়ের বঙ্গানুবাদ।

ইংমার বারিমান চেয়েছিলেন ‘ফানি ও আলেকজান্ডার’ (Fanny och Alexander, ১৯৮২) হোক তার শেষ সিনেমা, তাই এতে শেষ দীপশিখার মত অনেক উদ্দীপনার সমারোহ। এতে তিনি একইসাথে হতে চেয়েছেন তরুণ, মধ্যবয়স্ক আর বৃদ্ধ, পুরুষ আর নারী, খ্রিস্টান আর ইহুদি, প্রকৃতস্থ আর অপ্রকৃতস্থ, ধনী এবং গরিব, ধার্মিক এবং অধার্মিক। এতে এমন এক জগতের দেখা পাওয়া যায় যেখানে পরম নিশ্চয়তার পাশে নিশ্চিন্তে সহাবস্থান করে ভৌতিকতা আর ইন্দ্রজাল। সে জগতে চরিত্রের সংখ্যাও অনেক, প্রত্যেকেই তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অবিস্মরণীয়। তাই আশ্চর্যের কিছু নেই যে তার অন্যতম অনুপ্রেরণা ছিল চার্লস ডিকেন্স। বিস্তারিত পড়ুন