হিউমের মৃত্যুশয্যা

হিউমের মৃত্যুশয্যা

এক দার্শনিক বলেছিলেন ইউরোপে না কি মানুষ একেক যুগে নিজের অজান্তেই বাঁচার একেক রকম সংজ্ঞা বানিয়ে নিয়েছে, এবং কোনো সংজ্ঞাতেই বেশিদিন স্থির থাকতে পারেনি। প্রাচীন গ্রিসে মিথোস আর লোগোসের মহাভারসাম্যের মাঝে মানুষ এক পুরোদস্তুর প্রাকৃতিক জীব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সেই মানুষদের চেতনা ছিল রবীন্দ্রনাথের বৃক্ষের মতো। একটা বৃক্ষ এই পৃথিবীর বুকে যেমন প্রবল স্থৈর্য্য ও আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকে প্রাচীন গ্রিকরা যেন প্রকৃতির কোলে তেমনভাবেই অধিষ্ঠিত ছিল। ধরিত্রীর কোলে তারাই এভাবে আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে যারা প্রকৃতির বুকের উপর মানুষের ক্ষণস্থায়ী আস্ফালনে সম্মোহিত না হয়ে মানুষের প্রকৃত সীমাবদ্ধতা বুঝে এবং পৃথিবীর অন্য সব সত্তার মাহাত্ম্যকে পূজা করে। এই চেতনায়ই হয়ত রবীন্দ্রনাথ বৃক্ষের শক্তিমত্তাকে বন্দনা করেছিলেন আর হোমার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকা মানুষের বন্দনা করে বলেছিলেন,

Of all creatures that breathe and move upon the earth,
nothing is bred that is weaker than man.

বিস্তারিত পড়ুন

সিরীয় শরণার্থীরা কোথায়?

বর্তমানে পৃথিবীতে সবচেয়ে মানবেতর অবস্থায় জীবন যাপন করছে সম্ভবত সিরিয়ার মানুষেরা। ২০১১ সালে আরব বসন্তের ধারাবাহিকতা হিসেবে সিরিয়ায় রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয় এবং আসাদ প্রচণ্ড সহিংসভাবে তা দমনের চেষ্টা করেন, শুরু হয় সিরীয় গৃহযুদ্ধ যা এখনও চলছে। গৃহযুদ্ধের অস্থিরতাকে কাজে লাগানোর জন্য বেশ কিছু সশস্ত্র বাহিনী তৈরি হয়। প্রথমে আরব বসন্তের সমর্থকরা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে ২০১১ সালে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি গঠন করেছিল। আরব বসন্তকে রাজনৈতিক ইসলামের সমর্থকদের কাজে লাগানোর ধারাবাহিকতা হিসেবে ২০১৩ সালে সশস্ত্র ইসলামিক ফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে বীভৎস রূপ নিয়ে হাজির হয় পূর্বাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত الدولة الإسلامية في العراق والشام অর্থাৎ ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট, সংক্ষেপে ISIL বা শুধু IS।

এই মহামরণযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার যথারীতি সাধারণ মানুষ। যুদ্ধ শুরুর আগে সিরিয়ার মোট জনসংখ্যা ছিল ২ কোটির মতো। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ১.২ কোটি বর্তমানে গৃহহারা, বাস্তুচ্যুত। এরা সবাই শরণার্থী এবং এদেরকে আশ্রয় দেয়াটা অন্য দেশগুলোর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ১.২ কোটি শরণার্থীর মধ্যে ৮০ লক্ষ সিরিয়ার ভেতরেই আছে, তারা নিজেদের বিপদসংকুল ভিটা ছেড়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় কোনোমতে খেয়ে পরে বেঁচে আছে। আর ৪০ লক্ষ পালিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিশেষ করে তুরস্ক, লেবানন ও জর্ডানে যেতে পেরেছে; তুরস্কে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে (ইইউ) সিরীয় শরণার্থীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র আড়াই লক্ষ জন পৌঁছাতে পেরেছে, যা মোট শরণার্থীর ২% এর চেয়েও কম। আর আমরা সবাই জানি যে ইউরোপের কোনো দেশে অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করতে হলে আগে সেই দেশে পৌঁছাতে হয়, ইউরোপের বাইরে থেকে ভিতরে অ্যাসাইলামের আবেদন করা যায় না। তার মানে বর্তমানে যে আড়াই লক্ষ ইউরোপে পৌঁছেছে তাদের সবাইকে প্রচণ্ড ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ, অবৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশ করে তারপর অ্যাসাইলাম খুঁজতে হয়েছে।

ইইউ সম্প্রতি গোটা বিশ্ব থেকে ২০ হাজার মানুষকে বিশেষ কোটা’র আওতায় অ্যাসাইলাম দেয়ার কথা ভাবছে। এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলে উক্ত ২০ হাজার ইউরোপের বাইরে থেকেই ইউরোপে অ্যাসাইলামের আবেদন করতে পারবে। কিন্তু এই সংখ্যাটা গোটা বিশ্বের জন্য প্রযোজ্য। আর পুরো ২০ হাজার যদি কেবল সিরিয়ার পিছনেও খরচ করা হয় তারপরও সেটা মোট সিরীয় শরণার্থীর ০.২% এর চেয়েও কম। মোদ্দাকথা মৃত্যুর মুখোমুখি বসে থাকা এক বিশাল সংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দেয়ার পরিবর্তে আমরা এমন ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত যাতে তারা কোনোভাবেই আমাদের দেশে ঢুকতে না পারে। আমাদের দেশ নয় অবশ্যই, ইউরোপের দেশ। কিন্তু ইউরোপীয় দেশ ছাড়া অন্যদের তো ২০ হাজার নেয়ার ইচ্ছাটুকুও নেই।

হান্স রসলিং খুব সুন্দরভাবে এই ফ্যাক্টপডে পরিস্থিতিটা তুলে ধরেছেন।

হুসার্ল, হাইডেগার ও আধুনিক অস্তিত্ববাদ – ২

হুসার্ল, হাইডেগার ও আধুনিক অস্তিত্ববাদ – ২

<< গত পর্বের পর

ম্যাজি: এই ধারণাগুলো দিয়ে হাইডেগার শুধু মানুষের পরিস্থিতিই নয় বরং স্বয়ং মানব সত্তার অর্থাৎ মানুষের পরিচয়েরই একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণ করেছিলেন যা গতানুগতিক যেকোনো দার্শনিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একেবারে আলাদা। সেই দৃষ্টিভঙ্গিটার সাথে কি এবার আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারবেন?

ড্রাইফাস: আচ্ছা। এটা তো নিশ্চিত যে তিনি কর্তা, ব্যক্তি, মন বা চেতনা থেকে শুরু করতে পারবেন না। আমাদের সত্তার যৌথ উপলব্ধির পটভূমিতে আমাদের চলমান কর্মকাণ্ডকে বর্ণনা করার একটা উপায় তার বের করতে হবে। এটা করার জন্য তিনি মারাত্মক একটা শব্দ বেছে নেন: Dasein (উচ্চারণ: ডাজাইন)। জার্মান ভাষায় ‘ডাজাইন’ অর্থ অস্তিত্ব, একেবারে নিত্য নৈমিত্তিক অস্তিত্ব। কিন্তু শব্দটির দুটো অক্ষরকে যদি আলাদা করে ফেলা হয় তাহলে ‘Da-sein’ অর্থ দাঁড়ায় ইংরেজিতে ‘being-there’ বা ‘সেথা-বিরাজন’। যে পরিস্থিতির সাথে আমরা মানিয়ে চলি, বা যে পরিস্থিতিতে আমরা বিভিন্ন কিছুর সাথে মিথস্ক্রিয়া করি, ডাজাইন বলতে সেই পরিস্থিতিটা হয়ে যাওয়াকেই বুঝানো হচ্ছে। [এখানে ‘ডা’ বা ‘সেথা’ দিয়ে পরিস্থিতিটার দিকেই ইঙ্গিত করা হচ্ছে, এবং এরকম ক্ষেত্রে পরিস্থিতিটা থেকে যে আমাদেরকে একেবারেই আলাদা করা যায় না সেটাই বলার চেষ্টা করা হচ্ছে।] বিস্তারিত পড়ুন

মহাপৃথিবী

ধানের রসের গল্প পৃথিবীর—পৃথিবীর নরম অঘ্রান
পৃথিবীর শঙ্খমালা নারী সেই—আর তার প্রেমিকের ম্লান
নিঃসঙ্গ মুখের রূপ, বিশুষ্ক তৃণের মতো প্রাণ,
জানিবে না, কোনোদিন জানিবে না; কলরব করে উড়ে যায়
শত স্নিগ্ধ সূর্য ওরা শাশ্বত সূর্যের তীব্রতায়।
— জীবনানন্দ দাশ, সিন্ধুসারস (মহাপৃথিবী)

আমরা কি সম্ভাব্য সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বে বাস করি? জার্মান গণিতবিদ গটফ্রিড লাইবনিৎস তাই মনে করতেন; ১৭১০ সালে তিনি লিখেছিলেন, পৃথিবী “সম্ভাব্য সর্বোত্তম বিশ্ব” (Die beste aller möglichen Welten)। লাইবনিৎসের ধারণাকে পরবর্তিতে পুরোদস্তুর অবৈজ্ঞানিক অভিলাষী কল্পনা হিসেবে বাতিল করেছেন অনেকে, বিশেষ করে ফরাসি সাহিত্যিক ভলতেয়ার, তার মান্যুমোপুস কাঁদিদ এ। তারপরও অন্তত এক গোত্রের বিজ্ঞানীদের সাথে লাইবনিৎসের মতাদর্শ বেশ ভালই মিলে যায়—সেইসব জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গোত্র যারা কয়েক দশক ধরে সৌরজগতের বাইরের অন্যান্য আকর্ষণীয় গ্রহ খোঁজার ক্ষেত্রে পৃথিবীকে আদর্শ নমুনা হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। বিস্তারিত পড়ুন

কৃষ্ণবিবর খোঁড়াখুঁড়ি

কৃষ্ণবিবর খোঁড়াখুঁড়ি

আজি যত তারা তব আকাশে
সবে মোর প্রাণ ভরি প্রকাশে।।
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

একদিন সূর্য মারা যাবে। তার নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। তখন পৃথিবী যদি আদৌ টিকে থাকে তবে তার আকাশে আলোর খরা নেমে আসবে আর মানুষ সব এক চিরশীতের দেশে বন্দি হবে। বেঁচে থাকতে হলে আমাদের বংশধরদেরকে অন্য কোনো উপায় দেখতে হবে। হয়ত তারা প্রথমে পৃথিবীর সম্পদ শেষ করবে, তারপর সৌরজগৎ নিঃশেষ করবে, এবং একসময় যত তারা আছে মহাবিশ্বাকাশে সব প্রাণ ভরে উজাড় করে ছাড়বে। পোড়ানোর আর কিছু না পেয়ে তাদের দৃষ্টি নিশ্চিত নিবদ্ধ হবে আপাতদৃষ্টিতে অবশিষ্ট একমাত্র অবলম্বন—কৃষ্ণবিবর—এর দিকে। তারা কি আসলেই কৃষ্ণবিবরের শক্তি আবাদ করে সভ্যতাকে পরমধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে? বিস্তারিত পড়ুন

মহাগর্জনের মহাকর্ষণ

মহাগর্জনের মহাকর্ষণ

… অকস্মাৎ
পরিপূর্ণ স্ফীতি-মাঝে দারুণ আঘাত
বিদীর্ণ বিকীর্ণ করি চূর্ণ করে তারে
কালঝঞ্ঝাঝংকারিত দুর্যোগ-আঁধারে।
— নৈবেদ্য (৬৫), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

স্ফীতি একটা বুনো আগুন—একবার শুরু হলেই হলো, পুরো বন না জ্বালিয়ে থামবে না। আর বনটার যদি কোনো শেষ না থাকে? গুথ, স্তারোবিনস্কি এবং লিন্দে কহেন, মহাস্ফীতি’র (cosmic inflation) কারণেই নাকি আমাদের মহাবিশ্বকে অনস্তিত্বের বদলে অস্তিত্ব বেছে নিতে হয়েছে।

গত বছরের মার্চে এক মার্কিন বিজ্ঞানীদল অ্যান্টার্কটিকায় স্থাপিত অণুতরঙ্গ (মাইক্রোওয়েভ) দুরবিন বাইসেপ২ দিয়ে করা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে দাবী করেছিলেন, মহাস্ফীতি প্রমাণিত। তারা একেবারে স্থানকালের জন্মলগ্ন থেকে আসা একটা সংকেত পর্যবেক্ষণের দাবী করেছিলেন। মহাবিশ্বের আদিলগ্নে—মহাগর্জনের (big bang) এক সেকেন্ডের শতকোটি ভাগের শতকোটি ভাগের শতকোটি ভাগের এক ভাগ সময় পর—মহাস্ফীতির মাধ্যমে সৃষ্ট মহাকর্ষতরঙ্গ তখনকার ফোটনের মধ্যে একটা সংকেত পুরে দিয়েছিল। অণুতরঙ্গরূপী ফোটনের কাঁধে ভর করে সেই সংকেতের আমাদের কাছে আসার কথা। সংকেতটা হয়ত আসলেই আছে, কিন্তু আবিষ্কারের দাবীটা শুরু থেকেই ছিল বড্ড গোলমেলে। অবশেষে এ বছরের জানুয়ারিতে এক ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদল বাইসেপ২-দলের সাথে মিলে প্লাংক উপগ্রহ আর বাইসেপ২ দুরবিনের পর্যবেক্ষণ যৌথভাবে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন: বাইসেপ২ ভুল, আদিম মহাকর্ষতরঙ্গ পাওয়া যায়নি, মহাস্ফীতি প্রমাণিত নয় (অবশ্যই অপ্রমাণিতও নয়)। বিস্তারিত পড়ুন

মহাবিশ্বের ঊষালগ্ন

মহাবিশ্বের ঊষালগ্ন

“তিমির কাঁপিবে গভীর আলোর রবে”
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ থেকে প্রায় ১৩৭৪.৯ কোটি বছর আগে, মহাবিস্ফোরণের (big bang) মাত্র ৪ লক্ষ বছর পরে মহাবিশ্বের সব বাতি প্রায় ধপ করেই নিভে গিয়েছিল। এর আগে মহাবিশ্ব ছিল একটা ভয়ানক গরম, ফুটন্ত, ছুটন্ত প্লাজমা—প্রোটন, নিউট্রন আর ইলেকট্রনের এক চঞ্চল, ঘন মেঘ। সেইখানে কেউ থাকলে চারিদিকে দেখত শুধু ধোঁয়াশা আর ধোঁয়াশা, তবে একইসাথে সেটা হতো অন্ধ করে দেয়ার মতো উজ্জ্বল। বিস্তারিত পড়ুন

স্পোরলোস

স্পোরলোস

ফ্রয়েডের সাইকোএনালাইসিসে মানব মনের তিনটি স্তর আছে- ইগো, সুপারইগো এবং ইড। ইগো হচ্ছে চেতন মন যা আমাদেরকে একজন সামাজিক মানুষে পরিণত করে। ইড এবং সুপারইগো দুটিই অবচেতন বা অচেতন জগতের ব্যাপার। সুপারইগো হচ্ছে মনের ড্রাইভিং ফোর্স, সে আমাদেরকে চরমপন্থী সব নৈতিক বা অনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত করে। আর ইড হচ্ছে ইতর সব অভিলাসের চালিকাশক্তি, ক্ষণস্থায়ী কিন্তু নগদ সুখের খোঁজ করাই তার কাজ। এর সাথে কিন্তু ধর্মচিন্তারও মিল করা যায়। সুপারইগোকে বলা যায় ঈশ্বর, তবে মনে রাখতে হবে ঈশ্বর মানে ভাল নয়, ঈশ্বর মানে এমন একজন যে মনে করে, আমি যা বলি তাই মানুষকে শুনতে হবে। ইগো হচ্ছে মানুষ আর ইড হচ্ছে শয়তান। বলা যায় না, হয়ত ফ্রয়েড ভেবেছিলেন, মানুষ যেহেতু ধর্ম সৃষ্টি করেছে সেহেতু তার মানসিক কাঠামো ও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে একটা মিল থাকা আবশ্যিক। বিস্তারিত পড়ুন

স্টিলিং বিউটি

স্টিলিং বিউটি

বয়স্ক অসংখ্য পুরুষের মত অনেক শিল্পীও কোন কিশোরীর রূপে মুগ্ধ হয়ে তার উদ্দেশ্য কিছু একটা উৎসর্গ করতে চেয়েছে। ইতালীয় পরিচালক বেরনার্দো বেরতোলুচ্চি স্টিলিং বিউটি বোধহয় বানিয়েছেন শুধুমাত্র সেই তাড়না থেকেই। ১৯৯০-এর পর যে বেরতোলুচ্চি আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোন সিনেমা বানাতে পারেননি তার আরেকটা প্রমাণ ১৯৯৬-এর এই সিনেমা। বিস্তারিত পড়ুন

কয়ানিসকাৎসি

কয়ানিসকাৎসি

কয়ানিসকাৎসি মার্কিন মিডিয়া-বিপ্লবী গডফ্রি রাজিওর প্রথম সিনেমা। তিনি সিনেমা বানানোর জন্য সিনেমা বানাতে আসেননি, বরং নিজের ভেতর জমে থাকা একটি গভীর বোধকে প্রকাশের কোনো ভাষা না পেয়ে কথাহীন ছবিমালা বেছে নিয়েছেন। এই সিনেমায় কোনো কথা নেই, আছে কেবল চলমান-চিত্র, টাইম-ল্যাপ্স ভিডিও, শব্দ, আর সুর। টাইম-ল্যাপ্স এর মাস্টার রন ফ্রিকি চিত্রগ্রহণের কাজ করেছেন, আর সুর দিয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সুরকার ফিলিপ গ্লাস যিনি সিনেসুর নিয়ে আগেও অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু এইবার রাজিও এসে তাকে বলেছিলেন, তার না-কি সিনেমার সঙ্গীত-সুর ভালো লাগে না, তিনি এমন কিছু চান যা সিনেমায় সচরাচর দেখা যায় না। তারা তিনজন মিলে এত চমৎকার একটা কাজ করেছেন যে, যিনি সিনেমার নিহিতার্থ, গূঢ় তাৎপর্য ইত্যাদি নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না তিনিও এটি দেখে মোহগ্রস্ত হতে বাধ্য। কেবল সুর, শব্দ, আর ছবির উপর নির্ভর করে এর চেয়ে সুন্দর কোনো সিনেমা এর আগে নির্মীত হয়নি। বিস্তারিত পড়ুন