<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss" xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
	>

<channel>
	<title>সুবর্ণরেখা</title>
	<atom:link href="http://bigganpuri.wordpress.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://bigganpuri.wordpress.com</link>
	<description>সুবর্ণরেখার তীর থেকে: বিজ্ঞান+আর্ট</description>
	<lastBuildDate>Thu, 22 Dec 2011 12:03:04 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.com/</generator>
<cloud domain='bigganpuri.wordpress.com' port='80' path='/?rsscloud=notify' registerProcedure='' protocol='http-post' />
<image>
		<url>http://0.gravatar.com/blavatar/4cb6ca2df42610c3f297a1cd4f5bd0ed?s=96&#038;d=http%3A%2F%2Fs2.wp.com%2Fi%2Fbuttonw-com.png</url>
		<title>সুবর্ণরেখা</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com</link>
	</image>
	<atom:link rel="search" type="application/opensearchdescription+xml" href="http://bigganpuri.wordpress.com/osd.xml" title="সুবর্ণরেখা" />
	<atom:link rel='hub' href='http://bigganpuri.wordpress.com/?pushpress=hub'/>
		<item>
		<title>হাবলের তোলা অশ্বক্ষুরাকৃতির আইনস্টাইন বলয়</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/21/a-horseshoe-einstein-ring-from-hubble/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/21/a-horseshoe-einstein-ring-from-hubble/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 21 Dec 2011 18:44:28 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[দৈনিক জ্যোতির্চিত্র]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=786</guid>
		<description><![CDATA[ব্যাখ্যা: বিশাল বড় এবং নীল কোন জিনিসটি নিজের কাঠামো দিয়ে পুরো একটি ছায়াপথকে জড়িয়ে ফেলতে পারে?- কেবল একটি মহাকর্ষীয় লেন্স মরীচিকা। উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি উজ্জ্বল লোহিত ছায়াপথ তার থেকে অনেক দূরের একটি নীল ছায়াপথের আলোকে মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/21/a-horseshoe-einstein-ring-from-hubble/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=786&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class="wp-caption aligncenter" style="width: 610px"><a href="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/lensshoe_hubble_3235.jpg"><img alt="" src="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/lensshoe_hubble_3235.jpg" width="600" /></a><p class="wp-caption-text">Image Credit: ESA/Hubble &amp; NASA</p></div>
<p><strong>ব্যাখ্যা:</strong> বিশাল বড় এবং নীল কোন জিনিসটি নিজের কাঠামো দিয়ে পুরো একটি ছায়াপথকে জড়িয়ে ফেলতে পারে?- কেবল একটি মহাকর্ষীয় লেন্স মরীচিকা। উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি উজ্জ্বল লোহিত ছায়াপথ তার থেকে অনেক দূরের একটি নীল ছায়াপথের আলোকে মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে বিকৃত করে দিয়েছে। সাধারণত আলোকে এভাবে বাঁকিয়ে দেয়ার কারণে পুরোভূমির ছায়াপথের দুই পাশে পটভূমি ছায়াপথের দুটি পৃথক পৃথক ছবি তৈরি হয়। কিন্তু এখানে লেন্সের রেখাবিন্যাস এতোই নিখুঁত যে পুরো একটি অশ্বক্ষুর তৈরি হয়েছে&#8211; যা পূর্ণ বলয়ের খুব কাছাকাছি। প্রায় ৭০ বছর আগে এমন বলয়ের প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আলবার্ট আইনস্টাইন যে কারণে এদের আইনস্টাইন বলয় নামে ডাকা হয়। &#8220;এলআরজি ৩-৭৫৭&#8221; নামক উজ্জ্বল লোহিত ছায়াপথটি ২০০৭ সালে স্লোয়ান ডিজিটাল স্কাই সার্ভেতে ধরা পরলেও এই ছবিটি হাবল মহাকাশ দুরবিনের ওয়াইড ফিল্ড ক্যামেরা ৩ এর মাধ্যমে আরও পরে তোলা হয়েছে। এলআরজি ৩-৭৫৭ এর শক্তিশালী মহাকর্ষীয় লেন্স কেবল অদ্ভুতুড়ে নয় বরং উপযোগীও- এদের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পুরোভূমির লেন্স নির্মাণকারী ছায়াপথটির ভর এবং তাতে তমোবস্তুর (Dark matter) পরিমাণ নির্ণয় করতে পারেন।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/786/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/786/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/786/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/786/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/786/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/786/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/786/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/786/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/786/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/786/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/786/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/786/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/786/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/786/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=786&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/21/a-horseshoe-einstein-ring-from-hubble/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/lensshoe_hubble_3235.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>প্রথম পৃথিবী আকারের গ্রহ আবিষ্কার</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/20/first-earth-sized-planets/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/20/first-earth-sized-planets/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 20 Dec 2011 21:11:51 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[গ্রহবিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=779</guid>
		<description><![CDATA[কিছুদিন আগেই কেপলার ২২বি নামে একটি বহির্গ্রহ আবিষ্কার করেছিল কেপলার নভোমানমন্দির যা কিনা আবার তার মাতৃতারার প্রাণমণ্ডলের ভেতরে ছিল। এবারের ঘটনা হচ্ছে, কেপলার ২০ নামে আরেকটি তারার চারপাশে এই প্রথম পৃথিবী আকারের গ্রহের খোঁজ পাওয়া গেছে, একটি নয়, দুই দুইটি। &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/20/first-earth-sized-planets/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=779&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কিছুদিন আগেই কেপলার ২২বি নামে একটি বহির্গ্রহ আবিষ্কার করেছিল কেপলার নভোমানমন্দির যা কিনা আবার তার মাতৃতারার প্রাণমণ্ডলের ভেতরে ছিল। এবারের ঘটনা হচ্ছে, কেপলার ২০ নামে আরেকটি তারার চারপাশে এই প্রথম পৃথিবী আকারের গ্রহের খোঁজ পাওয়া গেছে, একটি নয়, দুই দুইটি। আমাদের থেকে প্রায় ২৯০ পারসেক তথা ৯৩৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই তারাকে আবর্তন করছে পৃথিবী এবং শুক্র গ্রহের সমান আকারের দুটি গ্রহ।</p>
<div class="wp-caption aligncenter" style="width: 610px"><img alt="" src="http://graphics8.nytimes.com/images/2011/12/21/science/21planets1/21planets1-articleLarge.jpg" width="600" height="330" /><p class="wp-caption-text">পৃথিবী আকারের দুটি গ্রহ সূর্যের মত একটি তারাকে আবর্তন করছে। শিল্পীর চোখে: University of Toulouse, via Agence France-Presse — Getty Images</p></div>
<p>এর মাধ্যমে গ্রহবিজ্ঞানে নতুন যুগের সূচনা ঘটল। এর আগে পৃথিবী আকারের গ্রহ সনাক্ত করার কথা ভাবাও যেতো না দুরবিনের সীমাবদ্ধতার কারণে। কেপলার ২২বি এর আকার ছিল পৃথিবীর প্রায় আড়াই গুণ। এই গ্রহ আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মাল যে কেপলারের মাধ্যমেই পৃথিবী আকারের আরও অনেক গ্রহ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কেপলার ২০ই এবং কেপলার ২০এফ নামে পরিচিত এই দুটি গ্রহ আবিষ্কারের খবর একালের সবচেয়ে প্রভাবশালী জার্নাল <a href="http://www.nature.com/nature/journal/vnfv/ncurrent/full/nature10780.html">নেচারে একটি চিঠি</a> হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। চিঠিটির নির্যাস বঙ্গানুবাদ করলে এমন দাঁড়ায়:<span id="more-779"></span></p>
<p><em>সূর্যের মত তারার চারদিকে আবর্তনরত দানবীয় বহির্গ্রহ আবিষ্কারের পর থেকে আমাদের পর্যবেক্ষণ কৌশলের অনেক বিবর্তন ঘটেছে যার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল পৃথিবী-সদৃশ গ্রহ সনাক্তকরণ। বহির্গ্রহ আবিষ্কারের একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হচ্ছে অতিক্রমণ (Transit): গ্রহটি তারার চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে যখন আমাদের দৃষ্টিরেখা এবং তারার মাঝে চলে আসে তখন তারাটির উজ্জ্বলতা গ্রহের ব্যাসার্ধ্যের উপর নির্ভর করে কিছুটা কমে যায়। এ যাবৎ আবিষ্কৃত ক্ষুদ্রতম বহির্গ্রহটির ব্যাসার্ধ্য পৃথিবীর ১.৪২ গুণ আর আয়তন ২.৯ গুণ। এই চিঠিতে আমরা কেপলার ২০ তারাকে আবর্তনরত এমন দুটি গ্রহ আবিষ্কারের ঘোষণা দিচ্ছি যার একটি পৃথিবীর সমান (পার্থিব ব্যাসার্ধ্যের ১.০৩ গুণ) এবং অন্যটি পৃথিবীর চেয়েও ছোট (০.৮৭ গুণ)। উল্লেখ্য এর আগে কেপলার ২০ এর চারদিকে আরও ৩টি অপেক্ষাকৃত বড় গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছিল। মাতৃতারার উপর নতুন তারাগুলোর মহাকর্ষীয় টান এতোই কম যে তা বর্তমান যন্ত্রপাতি দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। আমরা পরিসাংখ্যিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখিয়েছি যে অতিক্রমণের সংকেতটি গ্রহের কারণেই ঘটেছে, কোন গ্রহণরত যুগল তারার জন্য নয়। আমাদের হিসাব বলছে গ্রহ হওয়ার সম্ভাব্যতা যুগলতারা হওয়ার চেয়ে দশকের ৩ ঘাত গুণ বেশি। তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বলছে এই গ্রহগুলো পাথুরে, গাঠনিক উপাদান লোহা এবং সিলিকেট। অপেক্ষাকৃত বাইরের গ্রহটির চারদিকে বাষ্পের বায়ুমণ্ডল থাকারও সম্ভাবনা রয়েছে।</em></p>
<p>নির্যাস থেকে খুব ভালভাবেই বোঝা যাচ্ছে গ্রহ দুটি বাসযোগ্য নয়। বুধ সূর্যের যত কাছে ভেতরের গ্রহটি তার মাতৃতারার তার চেয়েও কাছ দিয়ে আবর্তন করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা নাকি বলেছেন এক সময় এরা প্রাণমণ্ডলের ভেতরে ছিল এবং ধীরে ধীরে স্থানান্তরের মাধ্যমে মাতৃতারার অনেক কাছে চলে এসেছে। সে হিসেবে একসময় এদের কোন একটি বা দুটোরই প্রাণ ধারণার যোগ্যতা ছিল বললে অত্যুক্তি হবে না।</p>
<p>কেপলার ২০ই ৬ পার্থিব দিনে একবার তার তারাকে আবর্তন করে। পৃষ্ঠে তাপমাত্রা ১,০৪০ কেলভিন যা যেকোন বায়ুমণ্ডল বাষ্পীভূত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। অবশিষ্ট থাকতে পারে কেবল সিলিকা এবং লৌহসমৃদ্ধ ভূপৃষ্ঠ।</p>
<p>কেপলার ২০এফ ২০ পার্থিব দিনে একবার তারাকে আবর্তন করে, স্বভাবতই একটু দূরে অবস্থিত যে কারণে তাপমাত্রা একটু কম- ৭০৫ কেলভিন। এই তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন বা হিলিয়ামের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয় কিন্তু কিছু জলবাষ্প টিকে থাকার সম্ভাবনা থেকেই যায়।</p>
<p>দুটি গ্রহই তাদের তারার সাথে কটালবদ্ধ (Tidally locked) হয়ে আছে অর্থাৎ তাদের একটি মুখই সর্বদা তারার দিকে ঘুরে থাকে। এ জন্য গ্রহগুলোর এক দিক প্রচণ্ড উত্তপ্ত, আর বিপরীত দিক সমপরিমাণ শীতল। এ থেকে প্রমাণিত হয় গ্রহগুলোর কোন একটি অঞ্চল সবসময় গোধূলি লগ্নের উষ্মায় থাকে। এই অঞ্চলে তো প্রাণ থাকতেও পারে, কারণ সেখানের তাপমাত্রা বেশ কম এবং তা কখনো খুব একটা উঠানামা করে না। অবশ্য গবেষণা দলের প্রধান হার্ভার্ড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের ফ্রঁসোয়া ফ্রেসাঁ এদেরকে বাসযোগ্য অভিধায় ভূষিত করতে চান না।</p>
<p>এই গ্রহের আবিষ্কার একটু ভিন্নভাবে হয়েছে। সাধারণত কেপলার কোন গ্রহপ্রার্থী খুঁজে পাওয়ার পর ভূকেন্দ্রিক দুরবিন দিয়ে সেগুলো নিশ্চিত করা হয়। এমনই একটি ভূকেন্দ্রিক দুরবিন হচ্ছে মাউনা কিয়ার ১০ মিটার ব্যাসের কেক দুরবিন। কিন্তু কেপলার ২২ ই ও এফ কে কেক দুরবিনের মাধ্যমে নিশ্চিত করার উপায় ছিল না, কারণ মাতৃতারার চারদিকে তাদের আবর্তনকাল খুব কম। কেক এর নিশ্চিত সুযোগ হারিয়ে বিজ্ঞানীরা আশ্রয় নিয়েছিলেন পরিসংখ্যানের:</p>
<p>প্রথমত, কেপলার ২০ তারার চারদিকে এর আগে আরও তিনটি গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে এবং নতুন দুটির কক্ষপথ আগের গুলোর কক্ষতলেই অবস্থিত। একই তলে সুবিধাজনক অবস্থান থেকে আসা অতিক্রমণ সংকেত মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।<br />
দ্বিতীয়ত, ক্যালিফোর্নিয়ার পালোমার মানমন্দিরের হেইল দুরবিন দিয়ে কেপলার ২০ এর একটি উচ্চ রিজল্যুশনের ছবি তোলা হয়েছে যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় পটভূমিতে থাকা কোন তারার কারণে তারাটির উজ্জ্বলতায় এমন হ্রাসবৃদ্ধি ঘটতে পারে না।</p>
<p>তবে ঘনত্ব জানার জন্য গ্রহ দুটির ভর নির্ণয় করতে হবে যা সম্ভব আরও অভিনব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে। যেমন ২০১২ সালের এপ্রিলে কানারি দ্বীপপুঞ্জের লা পালমা মানমন্দিরে ২.৬ মিটার জাতীয় গালিলেও দুরবিনের সাথে স্থাপিত হার্পস-নর্থ নামক অরীয় বেগনির্ভর বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে ভর নির্ণয়ের চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে চিঠিতে ভর ও ব্যাসার্ধ্যের একটি আনুপাতিক হিসাব দেখানো হয়েছে যার বর্ণনা নিচের ছবিতে বিধৃত:</p>
<p><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/fressin-2011-3.png?w=640" alt="" /><br />
[ছবি: Fressin et al. 2011, doi:10.1038/nature10780]<br />
বিভিন্ন ভরের তারার ভর-ব্যাসার্ধ্য সম্পর্ক: উল্লেখ্য অবিচ্ছিন্ন রেখাগুলো ধ্রুব তাপমাত্রার ভর-ব্যাসার্ধ্য বিবর্তন চিত্রিত করে। অর্থাৎ তাপমাত্রা স্থির রেখে কোন গ্রহের ব্যাসার্ধ্য এবং ভর বাড়াতে থাকলে তার অবস্থান লেখচিত্রটির এই রেখাগুলো ধরেই পরিবর্তিত হবে। কেপলার ২০ই এবং কেপলার ২০এফ এর সম্ভাব্য অবস্থান কমলা ও সবুজ রঙের অঞ্চলের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। আর এ যাবৎ আবিষ্কৃত অন্য গ্রহগুলোর অবস্থান কালো চতুর্ভুজাকৃতির বিন্দু দিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছে। অবিচ্ছিন্ন রেখাগুলো হচ্ছে সমসত্ত্ব গাঠনিক উপাদানবিশিষ্ট গ্রহের জন্য, আর ডট বা ডট-ড্যাশ যুক্ত রেখাগুলো অসমসত্ত্ব গাঠনিক উপাদান নির্দেশ করে। যেমন সবার উপরের অবিচ্ছিন্ন নীল রেখা দ্বারা কেবল পানি-বরফ দিয়ে গঠিত গ্রহের অবস্থান নির্দেশ করা হয়েছে। উপর থেকে নিচের দিকে যেতে থাকলে রেখাগুলো যে ধরণের গাঠনিক উপাদান নির্দেশ করে তা হলে:<br />
- পানি+বরফ<br />
- ৭৫% বরফ-পানি, ২২% সিলিকেট শেল, ৩% লৌহ কেন্দ্র<br />
- ৪৫% বরফ-পানি, ৪৮,৫% সিলিকেট শেল, ২২.৫% লৌহ কেন্দ্র (গ্যানিমেড)<br />
- ২৫% বরফ-পানি, ৫২.৫% সিলিকেট শেল, ২২.৫% লৌহ কেন্দ্র<br />
- ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট পারভোস্কাইট<br />
- ৬৭.৫% সিলিকেট ভূত্বক, ৩২.৫% লৌহ কেন্দ্র (পৃথিবী)<br />
- ৩০% সিলিকেট ভূত্বক, ৭০% লৌহ কেন্দ্র (বুধ)<br />
- লোহা<br />
কেপলার ২০ই এর ব্যাসার্ধ্য ঠিক রেখে ভর যদি সর্বনিম্ন করা হয় অর্থাৎ ঘনত্ব যদি সম্ভাব্য সর্বনিম্ন ধরা হয় তাহলে তার গাঠনিক উপাদান হওয়ার কথা ১০০% সিলিকেট (অবিচ্ছিন্ন লাল রেখা)।<br />
কেপলার ২০এফ এর সর্বনিম্ন ঘনত্বের ক্ষেত্রে গাঠনিক উপাদান ৭৫% বরফ-পানির রেখা (নীল ড্যাশযুক্ত রেখা) অনুসরণ করে।</p>
<p>নতুন আবিষ্কারটি বেশ অদ্ভূত। কারণ নিজেদের সৌরজগৎ দেখে আমরা আগে ধারণা করতাম পাশাপাশি ছোট এবং দানবীয় গ্রহ থাকতে পারে না। কিন্তু কেপলার ২০ এর জগতে দেখা যাচ্ছে ক্ষুদ্রাকার দুটি গ্রহ খুব ভালভাবেই দানবীয় গ্রহদের সাথে অবস্থান করছে। যত দিন যাচ্ছে বহির্গ্রহ বিজ্ঞানে অদ্ভুতুড়ে পর্যবেক্ষণের সংখ্যা ততোই বাড়ছে।</p>
<p>গবেষণাযত্রটি নেচার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপিএন দিয়ে ডাউনলোড করে এখানে যুক্ত করলাম। এমন গবেষণাপত্রের আন্তর্জাল সংস্করণ মুক্ত না থাকলে এই আর্কাইভের যুগে ঠিক শান্তি পাই না।<br />
- <a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/fressin-et-al-2011.pdf">গবেষণাপত্রটি পিডিএফ হিসেবে ডাউনলোড করুন</a>।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/779/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/779/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/779/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/779/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/779/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/779/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/779/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/779/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/779/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/779/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/779/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/779/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/779/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/779/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=779&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/20/first-earth-sized-planets/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://graphics8.nytimes.com/images/2011/12/21/science/21planets1/21planets1-articleLarge.jpg" medium="image" />

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/fressin-2011-3.png" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>এনজিসি ২৫৩: ভাস্কর ছায়াপথ</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/20/ngc-253-the-sculptor-galaxy/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/20/ngc-253-the-sculptor-galaxy/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 20 Dec 2011 09:50:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[দৈনিক জ্যোতির্চিত্র]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=775</guid>
		<description><![CDATA[এনজিসি ২৫৩ যে কেবল উজ্জ্বলতম সর্পিলাকার ছায়াপথগুলোর একটি তাই নয় সবচেয়ে ধূলিময় গুলোরও একটি। ১৭৮৩ সালে ক্যারোলিন হার্শেল কর্তৃক আবিষ্কৃত এই ছায়াপথটির অবস্থান ভাস্কর মণ্ডলে আমাদের থেকে মাত্র ১ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। এই ছায়াপথটি আমাদের স্থানীয় পুঞ্জের সবচেয়ে নিকটবর্তী ছায়াপথ &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/20/ngc-253-the-sculptor-galaxy/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=775&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class="wp-caption aligncenter" style="width: 610px"><a href="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/ngc253_lau_1200.jpg"><img alt="" src="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/ngc253_lau_1200.jpg" width="600" /></a><p class="wp-caption-text">Image Credit &amp; Copyright: Angus Lau</p></div>
<p>এনজিসি ২৫৩ যে কেবল উজ্জ্বলতম সর্পিলাকার ছায়াপথগুলোর একটি তাই নয় সবচেয়ে ধূলিময় গুলোরও একটি। ১৭৮৩ সালে ক্যারোলিন হার্শেল কর্তৃক আবিষ্কৃত এই ছায়াপথটির অবস্থান ভাস্কর মণ্ডলে আমাদের থেকে মাত্র ১ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। এই ছায়াপথটি আমাদের স্থানীয় পুঞ্জের সবচেয়ে নিকটবর্তী ছায়াপথ পুঞ্জ ভাস্করের সর্ববৃহৎ সদস্য। ঘন তমসাচ্ছন্ন ধূলিময় অঞ্চলে তারা জন্মের হারও অনেক বেশী যে কারণে এনজিসি ২৫৩ কে স্টারবার্স্ট ছায়াপথ বলা হয়। উপরের ছবিতে ভাস্কর ছায়াপথের উজ্জ্বল কেন্দ্রীনটি দেখা যাচ্ছে যা রঞ্জন রশ্মি এবং গামা রশ্মির বিকিরণের জন্য বেশ সুপরিচিত।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/775/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/775/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/775/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/775/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/775/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/775/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/775/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/775/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/775/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/775/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/775/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/775/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/775/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/775/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=775&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/20/ngc-253-the-sculptor-galaxy/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/ngc253_lau_1200.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>ইরানের আকাশে একটি মিথুন উল্কা</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/19/a-geminid-meteor-over-iran/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/19/a-geminid-meteor-over-iran/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 19 Dec 2011 20:48:36 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[দৈনিক জ্যোতির্চিত্র]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=773</guid>
		<description><![CDATA[ব্যাখ্যা: এক বিন্দু বালি থেকে অনেক সুন্দর জিনিসের জন্ম হতে পারে। ঝিনুকের খোলসে আবৃত একটি বালিকণা পরিণত হয় চিত্রাভ মুক্তায়, যা যেমন মনোহর তেমনি দ্যুতিময়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল চিড়ে সেকেন্ডে ৩৫ কিলোমিটার বেগে ধাবমান একটি অতি সাধারণ মহাজাগতিক কণিকা পরিণত হয় &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/19/a-geminid-meteor-over-iran/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=773&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class="wp-caption aligncenter" style="width: 610px"><img alt="" src="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/geminid_golestaneh_1800.jpg" width="600" /><p class="wp-caption-text">Credit &amp; Copyright: Arman Golestaneh</p></div>
<p><strong>ব্যাখ্যা:</strong> এক বিন্দু বালি থেকে অনেক সুন্দর জিনিসের জন্ম হতে পারে। ঝিনুকের খোলসে আবৃত একটি বালিকণা পরিণত হয় চিত্রাভ মুক্তায়, যা যেমন মনোহর তেমনি দ্যুতিময়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল চিড়ে সেকেন্ডে ৩৫ কিলোমিটার বেগে ধাবমান একটি অতি সাধারণ মহাজাগতিক কণিকা পরিণত হয় ভীতি জাগানীয়া উল্কায়, সেই ভয়ংকর সৌন্দর্য্য আগ্রহী সবার দেখার জন্যই উন্মুক্ত। এ বছরের মিথুন উল্কাপাতের হার সবচেয়ে বেশী ছিল গত সপ্তাহে, উল্কাপ্রেমীদের হিসাব অনুসারে উজ্জ্বল চাঁদের আলোকচ্ছটা সত্ত্বেও ঘণ্টায় ১৫০টি করে উল্কাপাত দেখা গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি তাফতানের উপরে আকাশে এমনই একটি উল্কাপাত দেখা যাচ্ছে। একেবারে বামে উজ্জ্বল তারা লুব্ধক এবং ছবির মাঝামাঝি জায়গায় কালপুরুষ তারামণ্ডলের ঠিক মাঝ দিয়ে পতিত হচ্ছে উল্কাটি। আকাশ পর্যবেক্ষকরা অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে আগামী বছরের মিথুন উল্কাপাতের জন্য যেটি ঘটবে ঘোর অমাবস্যার সময়।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/773/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/773/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/773/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/773/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/773/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/773/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/773/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/773/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/773/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/773/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/773/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/773/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/773/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/773/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=773&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/19/a-geminid-meteor-over-iran/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/geminid_golestaneh_1800.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>হ্যাড্রন সংঘর্ষপীঠে হিগসের ছটা</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/18/hints-of-higgs-from-the-large-hadron-collider/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/18/hints-of-higgs-from-the-large-hadron-collider/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 18 Dec 2011 14:56:19 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[দৈনিক জ্যোতির্চিত্র]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=762</guid>
		<description><![CDATA[প্রাককথন: নাসা Astronomy Pictures of the Day নামে একটি চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছিল সেই ১৯৯৫ সালে। আজ পর্যন্ত তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট একটি করে ছবি বর্ণনাসমেত প্রকাশিত হয়ে আসছে। এপডের সাইট থেকে খবর পেলাম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এই &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/18/hints-of-higgs-from-the-large-hadron-collider/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=762&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong>প্রাককথন:</strong><br />
নাসা <a href="http://apod.nasa.gov/">Astronomy Pictures of the Day</a> নামে একটি চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছিল সেই ১৯৯৫ সালে। আজ পর্যন্ত তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট একটি করে ছবি বর্ণনাসমেত প্রকাশিত হয়ে আসছে। এপডের সাইট থেকে খবর পেলাম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ভিনদেশী ভাষায় বর্ণনাসহ অনেকেই এই ছবিগুলো যার যার সাইটে প্রকাশ করছেন। ভাবলাম আমিও শুরু করব বাংলায়। এখান থেকেই তার সূচনা। আজ থেকে প্রতিদিন নাসা-র এপড গুলো এই ব্লগে প্রকাশ করা হবে, বাংলা বর্ণনাসহ।</p>
<div class="wp-caption aligncenter" style="width: 610px"><a href="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/atlas_cern_900.jpg"><img alt="" src="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/atlas_cern_900.jpg" width="600" /></a><p class="wp-caption-text">Credit &amp; Copyright: Maximilien Brice, CERN</p></div>
<p><strong>ব্যাখ্যা:</strong> বস্তুর ভর থাকে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইউরোপের সার্ন নির্মাণ করেছে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার, এখন পর্যন্ত মনুষ্যনির্মীত সর্ববৃহৎ কণা ত্বরক। ২০০৮ সাল থেকে লাহ্যাক এক প্রোটনের সাথে অবিশ্বাস্য গতিতে আসা আরেক প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটিয়ে চলছে। উদ্দেশ্য কণা পদার্থবিজ্ঞানের একটি প্রভাবশালী অনুকল্পের সত্যতা যাচাই। অনুকল্পটি বলে, সাধারণ কণাগুলো হিগস বোসন নামক এক ধরণের অসদ কণার অদৃশ্য কিন্তু পরিব্যাপক ক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে প্রবহমান এবং যে যত সহজে ক্ষেত্রটির মধ্য দিয়ে চলতে পারে সে তত হালকা। উচ্চ শক্তির কণাদের মাঝে সংঘর্ষ ঘটিয়ে হিগস বোসন তৈরি করতে পারলে এই হিগস প্রক্রিয়ার পক্ষে শক্ত প্রমাণ মিলবে। গত সপ্তাহে লাহ্যাকের দুটি পৃথক পৃথক গবেষক দল প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ১২০ গিগা ইলেকট্রন ভোল্টের কাছাকাছি ভরের হিগস কণা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। লাহ্যাকের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অনু-কৃষ্ণবিবর, চৌম্বক একমেরুর অস্তিত্ব-অনস্তিত্ব সম্পর্কে যেমন জানা সম্ভব তেমনি প্রতিটি মৌলিক কণার বিপরীতে একটি অদৃশ্য অতিপ্রতিসম প্রতিরূপ রয়েছে কিনা তাও যাচাই করে দেখা সম্ভব। বাসায় একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার থাকলে যে কেউ LHC@Home প্রকল্পে যোগদানের মাধ্যমে লাহ্যাকের বিপুল পরিমাণ সংরক্ষিত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অদ্ভূতুড়ে বৈশিষ্ট্যের সন্ধানে অবদান রাখতে পারেন। উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অ্যাটলাস (ATLAS) নামক সনাক্তকারী যন্ত্রের সামনে একজন বিজ্ঞানী দাঁড়িয়ে আছেন। লাহ্যাকের ৬টি সনাক্তকারী যন্ত্রের একটি হচ্ছে অ্যাটলাস।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/762/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/762/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/762/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/762/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/762/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/762/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/762/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/762/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/762/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/762/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/762/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/762/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/762/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/762/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=762&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/18/hints-of-higgs-from-the-large-hadron-collider/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://apod.nasa.gov/apod/image/1112/atlas_cern_900.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>আরেকটি পৃথিবী: কেপলার ২২-বি</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/09/kepler-22b/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/09/kepler-22b/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 09 Dec 2011 00:53:43 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[ভিডিও]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=754</guid>
		<description><![CDATA[অনেকদিন ধরেই পডকাস্ট বা ভিডিও ব্লগিং কিছু একটা শুরু করার ইচ্ছা ছিল। এবার কেপলার ২২-বি আবিষ্কারের বদৌলতে ভিডিও ব্লগিংটা শুরুই করে দিলাম। অতোটা ধৈর্য্য এখনও হয়ে উঠেনি, তাই এক বসায় পুরো ১৫ মিনিটের ভিডিওটা শেষ করে ফেলেছি। একটু একটু করে &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/09/kepler-22b/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=754&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>অনেকদিন ধরেই পডকাস্ট বা ভিডিও ব্লগিং কিছু একটা শুরু করার ইচ্ছা ছিল। এবার কেপলার ২২-বি আবিষ্কারের বদৌলতে ভিডিও ব্লগিংটা শুরুই করে দিলাম। অতোটা ধৈর্য্য এখনও হয়ে উঠেনি, তাই এক বসায় পুরো ১৫ মিনিটের ভিডিওটা শেষ করে ফেলেছি। একটু একটু করে পরে আবার এডিটিং এর ঝামেলায় যেতে ইচ্ছে করেনি। এজন্য ভিডিও করার পর শুনে দেখলাম বেশ কিছু ভুল আছে। কিন্তু ভুলগুলো আর সংশোধন করা হয়নি।<br />
ভিডিওটা এখানে:</p>
<span style="text-align:center; display: block;"><a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/09/kepler-22b/"><img src="http://img.youtube.com/vi/znTfTbkySBY/2.jpg" alt="" /></a></span>
<p>এখানে বলে রাখি:<br />
- বারবার আকারের বদলে বলে চলেছি আকৃতি। খুবই খারাপ ব্যাপার। কিন্তু কিচ্ছু করার নাই।</p>
<p>লিংক:<br />
<a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/kepler-22-b.pptx">যে পাওয়া পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিয়ে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।</a></p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/754/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/754/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/754/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/754/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/754/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/754/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/754/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/754/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/754/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/754/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/754/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/754/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/754/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/754/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=754&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/12/09/kepler-22b/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>বিজ্ঞান, শিল্প ও ক্রীড়া</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/20/science-art-and-play/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/20/science-art-and-play/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 20 Nov 2011 02:09:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[বিজ্ঞানের দর্শন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=743</guid>
		<description><![CDATA[মূল প্রবন্ধ: Science, Art and Play. লেখক &#8211; এয়াভিন শ্রোডিঙার অনুবাদ &#8211; খান মুহাম্মদ *** মানুষ এবং অন্য সকল প্রজাতির সদস্যদের চিন্তা ও কর্মের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজের প্রয়োজন মেটানো এবং জীবন সংরক্ষণ। প্রতিবেশ জীবন ধারণের খুব বেশী প্রতিকূলে না &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/20/science-art-and-play/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=743&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>মূল প্রবন্ধ: Science, Art and Play. লেখক &#8211; <a href="http://jyotirbiggan.wikispaces.com/%E0%A6%8F%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A8+%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%99%E0%A6%BE%E0%A6%B0">এয়াভিন শ্রোডিঙার</a><br />
অনুবাদ &#8211; খান মুহাম্মদ</p>
<p>***</p>
<p>মানুষ এবং অন্য সকল প্রজাতির সদস্যদের চিন্তা ও কর্মের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজের প্রয়োজন মেটানো এবং জীবন সংরক্ষণ। প্রতিবেশ জীবন ধারণের খুব বেশী প্রতিকূলে না থাকলে একটি উদ্বৃত্ত শক্তি থাকে- কেবল মানুষ নয়, অন্যসব প্রাণীর ক্ষেত্রেও এটি সত্য। ইতর প্রাণীদের জীবনে এই উদ্বৃত্ত শক্তি খেলাধুলায় প্রকাশিত হয়। খেলার সময় সকল প্রাণীই সচেতনভাবে জানে যে, এটি তার জীবনের কোন প্রয়োজন মেটানোর সাথে সম্পর্কিত নয়। একটি উলের বল পেলে বিড়ালছানা উৎফুল্ল হয়ে উঠে ঠিকই, কিন্তু এতে কোন সুকুমার বৃত্তির আশা করে না। লালায় সিক্ত পাথরটি ধাওয়া করতে করতে কুকুর আমাদের দিকে কাতর চোখে তাকায়, বলতে চায়, &#8220;আমার কোন লক্ষ্য নেই, পাথরটি ছুঁড়ে একটি লক্ষ্য ঠিক করে দাও&#8221;। মানুষের ক্ষেত্রে এই একই উদ্বৃত্ত শক্তি শারীরিক ক্রীড়ার পাশাপাশি এক ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রীড়ারও জন্ম দেয়। সাধারণভাবে এ ধরণের সকল বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রীড়াকেই তাস খেলা, বোর্ড গেম, ডোমিনো বা ধাঁধার মত খেলার সাথে তুলনা করা যায়। এমনকি বিজ্ঞানকেও আমি এই বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রীড়ার শ্রেণীভুক্ত করব, সব বিজ্ঞান না হলেও অন্তত আভঁ গার্দ বিজ্ঞান যাতে বিশুদ্ধ গবেষণার স্বাদ পাওয়া যায়।</p>
<p>ক্রীড়া, শিল্প এবং বিজ্ঞান- মানুষের কাজকর্মের এমন একটি অংশ যেখানে লক্ষ্য ও কার্যপদ্ধতি জীবনের কোন প্রয়োজনীয়তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তার তাগিদ থাকলেও যিনি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি শীঘ্রই সেই তাগিদ ভুলে মনের আনন্দে গবেষণায় মেতে উঠেন। সত্যি বলতে প্রয়োজনীয়তা আর চাহিদার ভাবনা মন থেকে দূর করতে না পারলে গবেষণায় উন্নতিই হয় না। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রীড়ার উদ্দেশ্য ছাত্র বা শিল্পী নিজেই ঠিক করে এবং সেই উদ্দেশ্য হয় বাহুল্য- যা সাধন না হলেও কোন আসন্ন ক্ষতি নেই। সুতরাং এখানে অস্তিত্ব রক্ষার নগ্ন সংগ্রাম ছাপিয়ে আমাদের সামনে একটি উদ্বৃত্ত শক্তি সরাসরি কাজ করছে। সে হিসেবে শিল্প এবং ক্রীড়ার মত বিজ্ঞানও একটি বিলাসিতা- এই ধারণাটি একালের তুলনায় গত শতাব্দীতে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেতো। সেকালে কেবল রাজকুমার ও বিত্তবান রাজনীতিবিদরাই শিল্পী ও বিজ্ঞানীদেরকে নিজের দরবারে আনিয়ে আপাত-অলাভজনক কাজের বিনিময়ে তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতেন। বিনোদন এবং নগর ও স্বয়ং রাজকুমারের সুনাম বৃদ্ধি ছাড়া এই বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রীড়াবিদদের আর তেমন কোন অবদান থাকতো না। প্রতি যুগেই এই ক্রীড়াকে অভ্যন্তরীণ শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়েছে; সাধারণ জনগণ এবং এমনকি শাসকরাও এই বিশুদ্ধ ও মহিমান্বিত বিলাসিতার অধিকারীদের ঈর্ষা করত।<span id="more-743"></span></p>
<p>এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ঐকমত্য পোষণ করলে বলা যায়, অতীতের সকল যুগের মত বর্তমান যুগেও বিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জীবন যাপনের সাধারণ আনন্দ বৃদ্ধি করা। তাই একজন বিজ্ঞানের শিক্ষকের কাজ তার ছাত্রদেরকে পেশাগত জীবনে উপযোগী জ্ঞান বিতরণ হলেও তাকে সেই জ্ঞান এমনভাবে বিতরণ করতে হবে যাতে ছাত্ররা আনন্দ পায়। ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে ব্যস্ত প্রকৌশলী যাদের মূল উদ্দেশ্য বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কারের প্রায়োগিক দিক অনুসন্ধান তাদের সামনে বক্তৃতা দিতে এই শিক্ষকের যতটা আনন্দ হয়, কর্মজীবী মানুষ যারা তাদের কর্মব্যস্ত জীবনের একটি ঘণ্টা তার কথা শুনে বুদ্ধিবৃত্তিক তৃপ্তি লাভের সংকল্প করেছে তাদের সামনে কথা বলতেও তার ততোটা আনন্দ হতে হবে। বিশুদ্ধ জ্ঞান যে কি পরিমাণ আনন্দ দিতে পারে তা বলে বোঝানোর কিছু নেই; যাদের এ অভিজ্ঞতা হয়েছে তারা খুব ভাল করেই জানে যে এর মধ্যে একটি গাঢ় নৈসর্গ্যিক উপাদান রয়েছে, বিশাল কোন শৈল্পিক কাজ সম্পাদনের যে আনন্দ অনেকটা তারই মত। যাদের অভিজ্ঞতা হয়নি তারা বুঝবে না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাদেরকে আমাদের সমাজবৃক্ষে অবনতশাখা হয়ে থাকতে হবে, কারণ তারা জীবনপাত্র পূর্ণ করতে শিল্প-ক্রীড়ার বিশাল উন্মুক্ত ভাণ্ডার থেকে যে কোনটি বেছে নিতে পারে, হতে পারে ক্রীড়াবিদ, নৃত্যশিল্পী বা অ্যাথলেট। সাধারণভাবে বলা যায়, এই সবকিছুই একটি মহান শক্তির প্রস্ফূটন, সকল উপযোগিতার কাজ শেষে যে শক্তিটুকু নিজে আনন্দ লাভ এবং অন্যকে তা বিলোনোর জন্য আমাদের হাতে অবশিষ্ট থাকে।</p>
<p>এত সমান্তরাল টানার পরও স্বীকার না করে উপায় নেই, বৈজ্ঞানিক ও শৈল্পিক কাজের মধ্যে পার্থক্য আছে, আরও বেশি আছে হয়ত বিজ্ঞান ও ক্রীড়ার মাঝে। কারণ মানুষের ব্যবহারিক জীবন সাজানো এবং তার চাহিদা পূরণের উপর বিজ্ঞানের গভীর প্রভাব আছে। বলা যেতে পারে বিজ্ঞান প্রধানত বাস্তব জগতে আমাদের কল্যান সাধনের কাজ করেছে, ডাক্তার ও প্রকৌশলীর দক্ষতা এবং আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের প্রজ্ঞা যার ফসল। অনেক রাশভারী বিশ্লেষক বলতে পারেন, নতুন আবিষ্কারের আনন্দের তুলনায় সমগ্র মানবতার কল্যানের গুরুত্ব বেশি কারণ আনন্দটুকু কিছু সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের পাঠক-শ্রোতাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে শিল্পের জগতে এই অংক কষতে গিয়ে বেশ উদ্ধতভাবেই তিনি উল্টো সিদ্ধান্ত টানবেন। আর আমরাই কি বিজ্ঞানের ব্যবহারিক ফলগুলোকে কিছু বিনোদনের উপজাত হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত? গবেষণার মূল আনন্দ কি তার মহৎ ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে নিহিত? তেমন হলে ক্রীড়ার সাথে তার বিভাজন রেখা টানতে হবে।</p>
<p>তবে মূল্যবোধের বিচার বেশ ঝামেলার। আধুনিক শল্যচিকিৎসক বা মহামারী রোগের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত গবেষকদের কতটুকু ধন্যবাদ প্রাপ্য সে নিয়ে তর্ক চলে না। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, শল্যচিকিৎসার উন্নতি প্রয়োজন ছিল ফলিত বিজ্ঞানের উত্তরোত্তর প্রগতির একটি প্রতিষেধক হিসেবে, তা না হলে যানবাহন আর বন্দুকের জখম সারিয়ে তোলার কেউ থাকত না। ফলিত বিজ্ঞানের কুৎসা রটানোর কোন উদ্দেশ্য আমার নেই, বরং আমি তো মনে করি তার এত খ্যাতির পক্ষে প্রধান যুক্তি হচ্ছে, সে বস্তুগত কল্যান এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে, সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক মুল্য সৃষ্টি করে বা তাকে সংবর্ধিত করে। এই মূল্য আবার বিরাজ করে তার নিজের খাতিরেই, কোন বস্তুগত লাভের খাতিরে নয়। দূরত্বকে জয় করে মানুষ পারষ্পরিক বোঝাপড়া এবং যোগাযোগে যে বিপ্লব সাধন করেছে তার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, যেহেতু আমার কাছে এর গুরুত্ব অনেক। আমি স্বীকার করছি, এই দূরত্ব-জয়ের বস্তুগত দিক রয়েছে। হামবুর্গের একজন বণিক এখন মাত্র ৪ দিনে নিউ ইয়র্ক পৌঁছাতে পারে, জাহাজে থেকেই প্রতিদিন লেনদেনের সমীকরণগুলো বেতারের মাধ্যমে জেনে নিতে পারে, নিজের অফিসে নির্দেশনা পাঠাতে পারে। কিন্তু আমরা, এই মানবেরা, কি সত্যিই ব্যবসায়িক লেনদেনের দ্রুততা নিয়ে এতটা উৎসাহী? আমি তা অস্বীকার করছি। আমাদের অন্তরে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু আছে। আমাদেরকে প্রকৃত আনন্দ দেয় অন্য কিছু: আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ ভিনদেশে পাড়ি জমাতে পারে, জাতিগুলো পরষ্পরের কাছাকাছি আসতে পারে, এক সভ্যতা পারে আরেক সভ্যতার সমঝদারি করতে, বুঝতে পারে একে অপরকে। দুরন্ত অভিযাত্রীরা মেরুর বরফ ভেদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেও আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হই না, কারণ প্রতিদিনই তাদের কাছ থেকে তারবার্তা পাই, জানতে পারি তারা কোথায় আছে, প্রয়োজনে সাহায্যও করতে পারি। উপরন্তু বলতে হয়, বিশুদ্ধ কৌশলগত আনন্দ, সমস্যা সমাধানের তুষ্টি, সাফল্যের সুখ ইত্যাদি দিনদিন ব্যবহারিক সুবিধার তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যারা উদ্ভাবনগুলো করে তারা সবসময়ই এই তুষ্টি ভোগ করে এসেছে, কিন্তু এখন সাধারণ মানুষের মাঝেও এটি ছড়িয়ে পড়ছে। ভাল্টার ফন ডেয়া ফোগেলভাইডে, তোরকুয়াতো তাসো এবং লুদোভিকো আরিয়োস্তো যে যে রাজসভায় কাব্যচর্চা করতো সেগুলো গৌরবান্বিত হয়েছিল, আর এ যুগে জেপেলিন এবং আটলান্টিকের ব্লু রিবন গোটা জার্মানিকেই এমন খ্যাতি এনে দিচ্ছে।</p>
<p>এমন কিছু সাধারণ উদাহরণ থেকে প্রত্যয়ে পৌঁছানো যায় যে, বিজ্ঞান আসলে যতটা ভাবা হয় তত নিবেদিতপ্রাণ সেবক নয়, বস্তুগত কল্যানের প্রতি তার দৃষ্টি আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক কম, অন্যদিকে বিশুদ্ধ আদর্শিক আনন্দের প্রতি তার অবদান আমাদের কল্পনার চেয়েও বেশি। এটা সত্যি যে বিজ্ঞানের এমন আনন্দঘন মুহূর্ত বেশ বিরল, তাৎক্ষণিৎ ফলাফল প্রদর্শনের মাধ্যমে সকলের মন কেড়ে নেয়ার মত আবিষ্কার বা উদ্ভাবন হরহামেশা হয় না। বিজ্ঞান যখন মানুষের সামনে একটি শৈল্পিক সৃষ্টি তুলে ধরতে পারে তখনই কেবল আনন্দের প্রাবল্য চোখে পড়ে। দুই হাজার বছর আগে সৌন্দর্য্যকে স্বপ্নে দেখে এক শিল্পী যে শ্বেত পাথরের মূর্তি গড়েছিল তা একালে প্রত্নতত্ত্ববিদরা বার্লিন জাদুঘরে স্থাপন করেছেন। এই মূর্তির সামনে যারা দুরু দুরু বক্ষে রুদ্ধ নিশ্বাসে দাঁড়িয়ে থাকে তাদের নিশ্চয়ই প্রত্নতত্ত্ববিদদের সে প্রচেষ্টার কারণ বুঝে নিতে এক বিন্দু দেরি হয় না। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথ দীর্ঘ ও বন্ধুর, কিছু বিরল ক্ষেত্রে আবার সে পথেও বাঁধা থাকে। কিন্তু আমরা মনে করি জ্ঞানবৃক্ষের এই প্রান্তিক কুঁড়িগুলোরও অস্তিত্বশীল থাকার অধিকার আছে; কারণ প্রতিটি প্রান্ত একে অপরকে উর্বর করে তুলতে পারলেই কেবল পুরো সম্প্রদায়ের জন্য আকাঙ্ক্ষিত ফলটি ফলবে। যেমন জার্মানিতে জেপেলিন বহনের উপযোগী জাহাজ গ্রাফ জেপেলিন নির্মান এবং তারও বহু বছর আগে খ্রিস্টপূর্বে দ্বিতীয় শতকে এশিয়া মাইনর নির্মীত পেরগামন বেদি।</p>
<p>একদিক দিয়ে চিন্তা করলে, একটি সাংস্কৃতিক অর্জন কত জন ব্যক্তি উপভোগ করছে তা অপ্রাসঙ্গিক। মানব মন তো দূরের কথা জীবনের কোন রূপকেই পাটিগণিত দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না- গুণ-ভাগ এখানে অসম্ভব। একজন চিন্তাবিদের মনে যে চিন্তা খেলে যায় তা আরও কয়েক শত মানুষ অনুসরণ করলেও চিন্তার কোন বৃদ্ধি ঘটবে না। এই যুক্তি সত্যি হলেও মনে রাখতে হবে আমরা এখানে সংস্কৃতির একটিমাত্র অর্জন বা অঙ্গন নিয়ে আলোচনা করছি না, বরং সংস্কৃতির ক্ষেত্রই অসংখ্য। তাই একেবারে বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, আবিষ্কারক তার আবিষ্কারের যতোটা সান্নিধ্য পেয়েছেন সাধারণ মানুষ ততোটা না পেলেও আবিষ্কারটির কথা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা উচিত। এতে করে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ অনুকূল পরিবেশে একজন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যমূলক সম্পদে পরিণত হতে পারে যা গাণিতিক না হলেও অন্য এক ধরণের গুণন ঘটিয়ে দেয়। এক সময় এটি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের গুণনের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে যায়। চিন্তা যখন ফলবতী হয় তখন সে অদৃষ্টপূর্ব সব উন্নয়নের দুয়ার খুলে দেয়।</p>
<p>***</p>
<p>মাঝে মাঝে বলা হয় পদার্থবিজ্ঞান বর্তমানে একটি রূপান্তর ও বিপ্লবের পর্যায়ে আছে অনেকে আবার যাকে ক্রাইসিস হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই পর্যায় অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড এবং জীবনীশক্তি বৃদ্ধির পর্যায়। ইংরেজি ক্রাইসিস শব্দটি গ্রিক থেকে এসেছে সে ভাষায় যার অর্থ &#8220;সিদ্ধান্ত&#8221; (বাংলায় যদিও প্রতিশব্দ করা হয় সংকট)। ভাষাগত অর্থে নিলে পদার্থবিজ্ঞান এখন ক্রাইসিসেই আছে। কিন্তু একে আবার ব্যবসায়িক ক্রাইসিস তথা সংকটের সাথে গুলিয়ে ফেলার অবকাশ নেই। ব্যবসার জগতে সংকটকালে ভয়ংকর সব সিদ্ধান্তের খেলা চলে এবং একসময় নেমে আসে পরিপূর্ণ ধ্বস। অন্যদিকে বিজ্ঞানের জগতে ক্রাইসিসের ব্যাখ্যা এভাবে দেয়া যায়: নতুন কিছু তথ্য বা ধারণার উৎপত্তি ঘটেছে যেগুলো আমাদেরকে কিছু প্রশ্নের উত্তরে নির্দিষ্ট একটি অবস্থান নিতে চাপ দিচ্ছে, যে প্রশ্নগুলো আগে উন্মুক্ত ছিল বা যেগুলোর কোন সুস্পষ্ট উত্তর জানা ছিল না। আমাদের মূল উদ্দেশ্য অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট অবস্থানের দিকে ধাবিত হওয়া এবং বিজ্ঞানের জগতে এমন অবস্থান সাধারণত পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষণের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। বিষয়টি যত গুরুত্বপূর্ণ তার দ্বারা সৃষ্ট ক্রাইসিস তত ভয়ংকর এবং এর সমাধানের মাধ্যমে আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের মাত্রাও তত বেশি বৃদ্ধি পায়। আমি স্বীকার করছি এই ক্রান্তিকালের সাথে জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকার মিল আছে, কারণ এতদিন ধরে সত্যি বলে ধরে নেয়া কিছু বিষয় এ সময় মিথ্যে হয়ে যেতে থাকে। কিন্তু রোগের সাথে এর একটি বড় পার্থক্য আছে- বিজ্ঞান সবসময়ই নিশ্চয়তা দেয় যে রোগের প্রকোপ থেকে মুক্তির পর সে অপেক্ষাকৃত মুক্ত, সুখী এবং সংহত জীবন লাভ করবে। বিভিন্ন বিজ্ঞানের সংকটগুলো জানার পর কেউ যদি ধরে নেয় বিজ্ঞানের একটি সাধারণ ঊষালগ্ন আছে তাহলে ভুল হবে, কারণ তা শব্দের অপপ্রয়োগ বৈ অন্য কিছু নয়।</p>
<p>ক্রান্তিকাল বা কোন ধরণের দুর্যোগই অস্বাভাবিক নয় এটা ধরে নেয়া যায়। তবে সকল ধরণের মূল্যবোধের পুনঃমূল্যায়ন এবং পরিবর্তন কিন্তু ধ্রুব সত্য। প্রশ্ন হচ্ছে এই পুনঃমূল্যায়ন কেন বিজ্ঞানের সকল শাখায় এত প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছে? গণিত, রসায়ন, জ্যোতির্বিজ্ঞান বা মনোবিজ্ঞান- পুনঃমূল্যায়নের সংকট থেকে কারোই মুক্তি নেই। এ কি কোন দুর্ঘটনা?</p>
<p>পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলো খুব কম সময়ই দুর্ঘটনাবশত হয়। অধিকাংশ সময়ই নতুন ধারণা বা অনুকল্প পরীক্ষণকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়। যে ধারণাগুলো বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার পটভূমি তৈরি করে তারা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত, একইসাথে তারা যুগের সাধারণ চিন্তাধারার সাথে একটি আদিম বন্ধনে আবদ্ধ। এর কারণ মানবকূলের যে উল্লেখযোগ্য এবং বর্ধিষ্ণু একটি অংশ বিজ্ঞান সাধনায় আত্মনিয়োগ করে তার সদস্যরাও মানুষ এবং সেহেতু যুগের সাধারণ আদর্শের সাথে নিবিঢ় আত্মীয়তার সূত্রে গাঁথা। এসব আদর্শের প্রভাব বিজ্ঞানের অনেক জটিল এবং কিম্ভূতকিমাকার শাখা-প্রশাখায় প্রস্ফূটিত হয়ে উঠে। কয়েক বছর আগে জ্যোতির্বিজ্ঞান এক ধরণের স্ক্লেরোসিস বা কাঠিন্যদশায় ভুগছিল কারণ তার দিগন্ত ছিল পুরোপুরি সংকটমুক্ত। ধ্রুপদী বা পুরাতন যুগের এই অভিশাপ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান অবশেষে মুক্তি পেয়েছে এবং এর পেছনে আধুনিক সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ যন্ত্রপাতির প্রভাব যতোটা তারচেয়ে অনেক বেশি প্রভাব তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু থেকে আসা বর্ণালী বিশ্লেষণের উপায় বাতলে দেয়ার মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞানই ক্রাইসিসটির উৎপত্তি ঘটিয়েছিল। বলেছিল, প্রতিটি তারা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ না করে অনেকগুলো তারার উপর একসাথে তুলনামূলক পরিসংখ্যান প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। পরিসংখ্যানের এই ধারণাটি কিন্তু যুগের সাধারণ আদর্শ থেকেই এসেছিল, সেটি ছিল পরিসাংখ্যিক পদার্থবিজ্ঞানের যুগ। যুগের এই সাধারণ আদর্শই মহাকাশ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান প্রায় অসীম পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছে।</p>
<p>আমাদের এই যুগে সবাই প্রথাগত আচারানুষ্ঠান ও মতামতের তীব্র সমালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। এতে করে একটি নতুন চেতনার জন্ম হচ্ছে যা কোন ধরণের কর্তৃত্ব মানে না, যা প্রতিটি বিষয়ে স্বাধীন ও যৌক্তিক চিন্তার দাবী জানায়। যুক্তি ও স্বাধীনতার উপর প্রতিষ্ঠিত যেকোন চিন্তাকেই এই যুগ স্বাগত জানায় তা যত বৈপ্লবিক, প্রথাবিরোধী হোক না কেন, পূর্বতন ধারণার যতই বিরোধী হোক না কেন। আমার মতে বর্তমানে বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় সংকটের মূল কারণ এই অভিনব চেতনা। এর ফলাফল আমাদের জন্য সবদিক দিয়েই ভাল হবে: কোন বৈজ্ঞানিক কাঠামোই পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় না, যা টিকে থাকার যোগ্য তা নিজেই নিজেকে টিকিয়ে রাখে, তার কোন সুরক্ষার দরকার পড়ে না।</p>
<p>আমার মতে এটি কেবল বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেই সত্য নয় বরং এর একটি বিস্তীর্ণ প্রয়োগ আছে। যুগের চেতনা চিন্তার জগতে যে আকস্মিক হামলা চালায় তাকে বাঁধা দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই: যা বেঁচে থাকার যোগ্য তা নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/743/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/743/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/743/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/743/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/743/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/743/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/743/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/743/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/743/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/743/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/743/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/743/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/743/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/743/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=743&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/20/science-art-and-play/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>মহাবিশ্ব &#8211; সুলতানা নাহার</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/13/the-universe/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/13/the-universe/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 13 Nov 2011 19:12:21 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[জ্যোতির্বিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=728</guid>
		<description><![CDATA[লেখক &#8211; সুলতানা নুরুন নাহার, জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগ, ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি অনুবাদক &#8211; খান মুহাম্মদ সারাংশ আমরা এই মহাবিশ্বেরই অংশ। মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দেয়ার জন্য এই লেখায় কেন্দ্রীন সংশ্লেষের মাধ্যমে আদিম মৌলসমূহের সৃষ্টি, তারা, কৃষ্ণ বিবর ইত্যাদি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুর &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/13/the-universe/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=728&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>লেখক &#8211; সুলতানা নুরুন নাহার, জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগ, ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি<br />
অনুবাদক &#8211; খান মুহাম্মদ</p>
<p><strong>সারাংশ</strong></p>
<p>আমরা এই মহাবিশ্বেরই অংশ। মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দেয়ার জন্য এই লেখায় কেন্দ্রীন সংশ্লেষের মাধ্যমে আদিম মৌলসমূহের সৃষ্টি, তারা, কৃষ্ণ বিবর ইত্যাদি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুর উদ্ভব এবং অতিনবতারা বিস্ফোরণের মত ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বস্তু থেকে আসা আলো বা অন্যান্য বিকিরণের বর্ণালী বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করা যায়।</p>
<p><strong>১। ভূমিকা</strong></p>
<p>পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশ পর্যন্ত গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত করাটা আমাদের জন্য সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ জ্যোতিষ্ক নিয়ে গবেষণার মাধ্যমেই আমরা মহাবিশ্বে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারি। আমরা নিজেরাই তো পৃথিবীর পিঠে চড়ে মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছি, আবর্তন করছি সূর্য নামের একটি মাঝারি আকারের তারাকে। পরের বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদে মহাবিশ্বের পরিচয়টিই তুলে ধরা হবে।</p>
<p><strong>২। মহাবিশ্বের সৃষ্টি</strong></p>
<p>পর্যবেক্ষণ বলছে আমাদের মহাবিশ্বের একটি শুরু ছিল, ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে সৃষ্টি হওয়ার পর বেশ কয়েক ধাপে তার বিবর্তন ঘটেছে। মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বের মাধ্যমে এই সৃষ্টি ও বিবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়, এ যুগের বিভিন্ন আবিষ্কার ও পর্যবেক্ষণের সাথে এই ব্যাখ্যা বেশ মিলেও যায়। মহা বিস্ফোরণের ঠিক পরের সময়টা নিয়ে অবশ্য আমরা খুব বেশি কিছু জানতে পারে নি, কিছুটা ধারণা করতে পেরেছি কেবল। মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয়রূপে ক্ষুদ্র, অসীম তাপ এবং অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস হিসেবে যাতে একটিমাত্র বল ছিল- অতিমহাকর্ষ। মহাবিশ্বের সে অবস্থাটিকে বলা হয় অনন্যতা (Singularity)। এই উৎস কোথা থেকে এল সেটা বিজ্ঞান ‌এখনও ব্যাখ্যা করতে পারে নি। অতিমহাকর্ষ ভেঙে মহাকর্ষ এবং দুর্বল তাড়িত বল হওয়ার পরই সেই আদিম অনন্যতাটি খুব দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করেছিল। এর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মহাবিশ্বের সূচকীয় (exponential) স্ফীতি শুরু হয়। মূলত এই সূচকীয় স্ফীতিকেই মহা বিস্ফোরণ বলা হয়। বিস্ফোরণের পর মহাবিশ্বের ধরণ-ধারণ একেবারেই বদলে যায়। তখন মহাবিশ্ব ছিল উচ্চ শক্তির ফোটনে পরিপূর্ণ। ফোটনগুলো খুব ঘন সন্নিবিষ্ট অবস্থায় ছিল এবং তাদের তাপমাত্রাও ছিল অনেক বেশী। এসব ফোটনের সংঘর্ষে কোয়ার্ক, গ্লুওন এবং অন্যান্য মৌলিক কণা গুলো উৎপন্ন হয়। আদিম উত্তপ্ত মহাবিশ্বে কণাগুলোর এই ঘন সন্নিবিষ্ট অবস্থাকে মহা বিস্ফোরণের &#8220;কণা স্যুপ&#8221; (Particle soup) নামে ডাকা হয়।</p>
<p>মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমেই স্থান এবং কাল এর সূচনা ঘটে। বিশ্বাস করা হয়, মহা বিস্ফোরণের আগে কোন স্থান ছিল না এবং শূন্যতম সময়েই এই বিস্ফোরণটি ঘটেছিল। সুতরাং সবগুলো ছায়াপথকে নিয়ে স্থান নিজেই প্রসারিত হচ্ছে। ১ নং চিত্রে মহাবিশ্বের বিবর্তনের বিভিন্ন দশা দেখানো হয়েছে।</p>
<p><div id="attachment_729" class="wp-caption aligncenter" style="width: 510px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/1.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/1.png?w=640" alt="" title="1"  class="size-full wp-image-729" /></a><p class="wp-caption-text">আমাদের মহাবিশ্বের কালপঞ্জি। এখানে বিকিরণ ও পদার্থের বিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সূত্র - schoolnet.gov.mt/earth universe</p></div><br />
<span id="more-728"></span><br />
<div id="attachment_730" class="wp-caption aligncenter" style="width: 510px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/2.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/2.png?w=640" alt="" title="2"  class="size-full wp-image-730" /></a><p class="wp-caption-text">আমাদের মহাবিশ্বের কালপঞ্জি। এখানে মৌলিক বলগুলোর সাথে বিবর্তন দেখানো হয়েছে। সূত্র - www.redorbit.com</p></div></p>
<p><strong>৩। আদিম কেন্দ্রীন সংশ্লেষ</strong></p>
<p>পদার্থ সৃষ্টির কিছুক্ষণের মধ্যেই আদিম কেন্দ্রীন সংশ্লেষ (Nucleosynthesis) এর যুগ শুরু হয়। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এ যুগে প্রথম নিউক্লিয়াস তথা কেন্দ্রীন সৃষ্টি হয়েছিল। এর অপর নাম মহা বিস্ফোরণ কেন্দ্রীন সংশ্লেষ (Big Bang Nucleosynthesis &#8211; BNN, বিবিএন)। ধারণা মতে, মহা বিস্ফোরণের আনুমানিক ০.০১ সেকেন্ড পর এই যুগ শুরু হয়েছে আর শেষ হয়েছে ৩ মিনিট পর। আদিম মহাবিশ্বের কোয়ার্ক গুলোর মধ্যে &#8220;আপ কোয়ার্ক&#8221; ২/৩ পরিমাণ ধনাত্মক আধান বহন করতো, আর &#8220;ডাউন কোয়ার্ক&#8221; ১/৩ পরিমাণ ঋণাত্মক আধান বহন করতো। বিবিএন এর পূর্বে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে চলাচল করছিল যার কারণে নিউক্লিয়ন তৈরি সম্ভব হয় নি। আবার বিবিএন এর শেষ দিকে তাপমাত্রা এতো কমে গিয়েছিল যে নিউক্লিয়ন তৈরি অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পুরো সময় জুড়েই মহাবিশ্ব শীতল হতে থাকে এবং এ কারণে দুর্বল তাড়িত বল থেকে শক্তিশালী কেন্দ্রীন বল আলাদা হয়ে যায়। দুর্বল তাড়িত বল বিভক্ত হয়ে পরে আরও দুটি বলের জন্ম হয়- তড়িচ্চুম্বকীয় বল এবং দুর্বল কেন্দ্রীন বল। এ সময়ই কেন্দ্রীন বলগুলো দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক এর সমন্বয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন কোয়ার্ক ও একটি আপ কোয়ার্ক এর সমন্বয়ে নিউট্রন তৈরি করতে সক্ষম হয়। প্রোটন ও নিউট্রন কেই একসাথে নিউক্লিয়ন বলা হয়। ব্যারিয়ন দ্বারাও প্রোটন এবং নিউট্রন কেই বোঝানো হয়। সে সময় কণাগুলোর গতি ছিল অনিয়মিত, দ্রুতি ছিল আপেক্ষিকতাভিত্তিক (relativistic), আর সংঘর্ষের মাধ্যমে সকল ধরণের কণা-প্রতিকণা জোড়া অবিরাম সৃষ্টি ও ধ্বংস হচ্ছিল। বিকিরণ ও পদার্থের মধ্যে তাপীয় সাম্যাবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে। সম্প্রসারণের কারণে মহাবিশ্বের তাপমাত্রার ক্রমহ্রাসই এই সাম্যাবস্থার কারণ। এরই মধ্যে ব্যারিওজেনেসিস (Baryogenesis) নামের একটি অজানা বিক্রিয়া ব্যারিয়ন সংখ্যার সংরক্ষণ নীতি ভঙ্গ করে এন্টি-কোয়ার্ক ও এন্টি-লেপ্টন এর তুলনায় কোয়ার্ক ও লেপ্টনের পরিমাণ সামান্য বাড়িয়ে দেয়। এই পরিমাণটি ছিল প্রতি ৩০ মিলিয়ন-এ ১ টি। অর্থাৎ এন্টি-কোয়ার্ক এর সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন হলে কোয়ার্ক এর সংখ্যা ছিল ৩০ মিলিয়ন ১ টি। মহা বিস্ফোরণের আনুমানিক ১ সেকেন্ড পর নিউট্রিনো গুলো বিযুগলায়িত (decoupled) হয়ে পুরো মহাবিশ্ব জুড়ে ভ্রমণ শুরু করে। ফোটনগুলোর যখন আর প্রোটন এন্টি-প্রোটন জোড় তৈরির মত শক্তি অবশিষ্ট রইল না তখন মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের কারণে তাপমাত্রা কমে যেতে শুরু করল। আর বিকিরণের মাধ্যমে প্রোটন ও নিউট্রন তাপীয় সাম্যাবস্থা থেকে বিচ্যুত হল। এর ৪-১০ সেকেন্ড এর মধ্যে তাপমাত্রা এতো কমে গেল যে ইলেকট্রন গুলোও আর তাপীয় সাম্যাবস্থায় থাকল না।</p>
<p>মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রথম ৩ মিনিটে ব্যারিয়ন-ফোটন অনুপাত ছিল ধ্রুবক, এ সময়ই ব্যারিয়ন দিয়ে তৈরি কয়েক প্রজাতির আদিম কেন্দ্রীন তথা নিউক্লিয়াস এর উদ্ভব ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল প্রোটন এবং হিলিয়াম এর কেন্দ্রীন। সাথে সামান্য পরিমাণ ডিউটেরিয়াম (ভারী হাইড্রোজেন), ট্রিটিয়াম এবং লিথিয়াম (Li-7) ও ছিল। দুই মিনিটের মাথায় তাপমাত্রা এতো কমে গিয়েছিল যে কেন্দ্রীন সংযোজন (নিউক্লিয়ার ফিউশন) বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রোটন ও নিউট্রন একত্রিত হয়ে পারমাণবিক কেন্দ্রীন গঠন শুরু করে। প্রথমে তৈরি হয় ডিউটেরিয়াম, এরপর হিলিয়াম, এবং এর কিছুক্ষণ পর লিথিয়াম ও বেরিলিয়াম এর কেন্দ্রীন। এই কেন্দ্রীন সংশ্লেষ অবশ্য বেশিক্ষণ চলতে পারে নি, ১৭-৩০ মিনিটের মত চলেছিল। এরপর মহাবিশ্বে আর কেন্দ্রীন সংযোজন বিক্রিয়া ঘটানোর মত যথেষ্ট তাপ ছিল না। কেন্দ্রীন সংশ্লেষ যুগ এর শেষে সকল প্রোটন ও নিউট্রন ই একত্রিত হয়ে গিয়েছিল। একত্রিত হয়ে এরা মূলত হিলিয়াম তৈরি করেছিল। আদিম হালকা পদার্থের শতকরা ২৪ ভাগই ছিল হিলিয়াম। ভর হিসেব করলে হিলিয়াম আয়ন এর তুলনায় প্রোটন ছিল তিন গুণ। তাপীয় পরিবেশ এবং প্রদত্ত সময়ই প্রোটন, নিউট্রন, ডিউটেরিয়াম ইত্যাদির সংখ্যা নির্ধারণ করেছিল। বর্তমানে হালকা পদার্থের প্রাচুর্য্য বিবিএন যুগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোরই ফসল। তাই এটি বিবিএন যুগে ব্যারিয়ন-এর ঘনত্ব এবং মহাবিশ্বের অবস্থা সম্পর্কে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা দেয়।</p>
<p>মহা বিস্ফোরণ কেন্দ্রীন সংশ্লেষ কণা পদার্থবিজ্ঞানের &#8220;প্রমিত মডেল&#8221; দ্বারা সমর্থিত। উল্লেখ্য, প্রমিত মডেল চারটি জানা মৌলিক বল বা মিথস্ক্রিয়া এবং এসব ক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এই মডেল অনুসারে, আমাদের মহাবিশ্বের দৃশ্যমান পদার্থের অধিকাংশই ব্যারিয়ন দিয়ে গঠিত।</p>
<p><strong>৪। বিকিরণ ও পুনর্মিলন যুগ</strong></p>
<p>মহাবিশ্বে তখনও ফোটনের আধিপত্য ছিল। এসব ফোটন পরবর্তী ৩০০,০০০ বছর ধরে আয়নিত প্রোটন, ইলেকট্রন ও কেন্দ্রীন এর সাথে অবিরাম মিথস্ক্রিয়া চালিয়ে গেছে। ফোটনগুলো টমসন বা কম্পটন বিচ্ছুরণের মাধ্যমে মুক্ত প্লাজমা কণা থেকে বিচ্ছুরিত হতো এবং এদের গড় মুক্ত পথ ছিল খুব ছোট। তাই প্লাজমার পুরো শক্তিই ফাঁদে আটকে গিয়েছিল, যে কারণে প্লাজমা ছিল বিকিরণের প্রতি অনচ্ছ। এই যুগকে বলা হয় বিকিরণ প্রভাবিত যুগ বা ফোটন যুগ (ইপক)। এ যুগে বিকিরণ এর তাপমাত্রা পদার্থের তাপমাত্রার ওপর প্রভাব বিস্তার করে ছিল।</p>
<p>ফোটন যুগে প্রথমে আয়ন এবং পরবর্তীতে নিরপেক্ষ পরমাণুর জন্য পুনর্মিলন (Recombination) প্রক্রিয়া শুরু হয়। পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান নির্ণয় করেছে, হাইড্রোজেন নয় বরং একটি ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট হিলিয়াম আয়নই (He+) ছিল প্রথম সৃষ্ট পরমাণু। এই ইলেকট্রন-আয়ন মিলন প্রক্রিয়াকে নিচের বিক্রিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরা যায়:<br />
<img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=He%5E%7B2%2B%7D%2Be+%5Crightarrow+He%5E%2B+%2B+h%5Cnu+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='He^{2+}+e &#92;rightarrow He^+ + h&#92;nu ' title='He^{2+}+e &#92;rightarrow He^+ + h&#92;nu ' class='latex' /><br />
প্রথম পারমাণবিক প্রজাতি He+ হওয়ার কারণ, যখন কেন্দ্রীন এবং ইলেকট্রন সম্পূর্ণ আয়নিত অবস্থায় মুক্ত ছিল তখন প্লাজমার তাপমাত্রা ছিল অনেক বেশি। হিসাব মতে যার আয়নীকরণ শক্তি (EIP) সবচেয়ে বেশী তারই সবার আগে পারমাণবিক প্রজাতিতে পরিণত হওয়ার কথা। He+, হিলিয়াম এবং হাইড্রোজেন এর আয়নীকরণ শক্তি তুলনা করলেই ব্যাপারটা বোঝা যায়,<br />
<img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=E_%7BIP%7D+%28He%5E%2B%29%3D+Z%5E2+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='E_{IP} (He^+)= Z^2 ' title='E_{IP} (He^+)= Z^2 ' class='latex' /> = ৪ Ryd = ৫৪ ইলেকট্রন ভোল্ট<br />
<img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=E_%7BIP%7D+%28He%29+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='E_{IP} (He) ' title='E_{IP} (He) ' class='latex' />= ১.৮ Ryd = ২৪.৬ ইলেকট্রন ভোল্ট<br />
<img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=E_%7BIP%7D+%28H%29+%3D+Z%5E2+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='E_{IP} (H) = Z^2 ' title='E_{IP} (H) = Z^2 ' class='latex' />= ১ Ryd = ১৩.৬ ইলেকট্রন ভোল্ট<br />
এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে, He+ অনেক উচ্চ তাপমাত্রায়ও টিকে থাকতে পারে, অন্তত নিরপেক্ষ হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন এর তুলনায়। তার মানে আদ্যিকালের অতি উচ্চ তাপমাত্রায় He+ থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশী। নিরপেক্ষ হাইড্রোজেন গঠিত হওয়ার ২৪০,০০০ বছর আগেই He+ গঠিত হয়েছিল, আর হাইড্রোজেন এর উদ্ভব ঘটেছে আরও পরে।</p>
<p>প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা ও ঘনত্ব কমতে থাকে, এর ফলেই এক সময় ইলেকট্রন ধারণ (capture) এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শক্তিতে পার্থক্যের কারণে হাইড্রোজেন এর তুলনায় হিলিয়াম এর ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুততর। ২৪০,০০০ থেকে ৩১০,০০০ বছর পর্যন্ত সময়টিকে বলা হয় পুনর্মিলন যুগ। আদিম কালে হালকা মৌলসমূহের আপেক্ষিক প্রাচুর্য্য বোঝার জন্য এই যুগ নিয়ে গবেষণা করা বেশ জরুরী। সে যুগে সংখ্যার দিক দিয়ে H:He এর অনুপাত ছিল প্রায় ৯৩:৭, আর ভরের দিক দিয়ে প্রায় ৭৯:২৪। বর্তমানে অনেক অনেক তারার অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ হিলিয়াম উৎপন্ন হচ্ছে তার তুলনায় মহা বিস্ফোরণের পরের ৩ মিনিট সময়ে অনেক বেশী হিলিয়াম উৎপন্ন হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে সে যুগে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তাতে বর্তমান মহাবিশ্বের সমগ্র হিলিয়াম ভাণ্ডারের ৯৮% তৈরি হতে পারতো। মহাবিশ্বে প্রতি ৯ টি হাইড্রোজেন কেন্দ্রীনের বিপরীতে ১ টি করে হিলিয়াম কেন্দ্রীন রয়েছে। পুনর্মিলন যুগের দশা একটু ভিন্ন হলে এই অনুপাতও ভিন্ন হতো। আমরা জানি মহাবিশ্বের অধিকাংশ হাইড্রোজেনই তার স্বাভাবিক দশায় আছে, ডিউটেরিয়াম বা ট্রিটিয়াম এর মতো ভারী অবস্থায় নেই। তারার অভ্যন্তরে কোন ডিউটেরিয়াম তৈরি হয় না, এটি কেবল ধ্বংসই হয়। তাই ডিউটেরিয়াম এর বর্তমান পরিমাণ আদিম কেন্দ্রীন সংশ্লেষ এর সময় উপস্থিত ডিউটেরিয়াম এর পরিমাণে একটি নিম্নসীমা বেঁধে দেয়, একইসাথে ব্যারিয়ন এর ঘনত্বেও একটি নিম্নসীমা তৈরি হয়ে যায়। আদি মহাবিশ্বে কী ঘটেছিল সে বিষয়ক যেকোন মডেলকে অবশ্যই মৌলসমূহের বর্তমান প্রাচুর্য্যের ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হতে হবে। উত্তপ্ত মহা বিস্ফোরণ আমরা বর্তমানে যা দেখছি তা ব্যাখ্যা করতে পারে, আর মৌলের প্রাচুর্য্য মহাবিশ্বের ব্যারিয়ন ঘনত্বের আরও সূক্ষ্ণাতিসূক্ষ্ণ পরিমাপে সাহায্য করে।</p>
<p>পরমাণু কেন্দ্রীনের সাথে ইলেকট্রন মিলিত হয়ে যা তৈরি করেছে তা-ই পরবর্তীতে তারাসমূহের বীজ হিসেবে কাজ করেছে। জীবন সৃষ্টিকারী কার্বন, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন থেকে শুরু করে লোহা, তামা এবং স্বর্ণের মত ধাতব পদার্থ ইত্যাদি সবকিছুই তারার জীবনচক্রের বিভিন্ন ক্ষণে সৃষ্টি হয়েছে। তারার জন্ম এবং মৃত্যুর চক্রেই বাঁধা পড়েছে তাদের উদ্ভব। যত বেশী পদার্থ গঠিত হয়েছে ততই বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু গঠনের হার বেড়েছে। একে একে জন্ম হয়েছে ছায়াপথ, নবতারা, কৃষ্ণ বিবর, তারা, গ্রহ ইত্যাদির।</p>
<p><strong>৫। প্রসরমান মহাবিশ্ব</strong></p>
<p>বিজ্ঞানী এডুইন হাবল আবিষ্কার করেছিলেন যে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। এ বিষয়ে তার তত্ত্বটি হাবল নীতি নামে সুপরিচিত। এই নীতি মহা বিস্ফোরণকে সমর্থন করে। মহাবিশ্ব এক সময় কেবল একটি বিন্দু উৎস ছিল, সেখান থেকে দীর্ঘদিনের প্রসারণ ও শীতলায়ন শেষে সে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে- এই চিত্র হাবল নীতির সাথে খুব মিলে যায়।</p>
<p>সমরূপ এবং সমসত্ত্ব মহাবিশ্বের সমমুখী প্রসারণ থেকে বোঝা যায়, অনেক দূরের কোন বস্তু থেকে আসা বিকিরণ পর্যবেক্ষক থেকে ধ্রুব বেগে (v) পেছনের দিকে সরে যাবে। পরীক্ষণের মাধ্যমে হাবল নীতির এই সূত্রটি নির্ণয় করা হয়েছে,<br />
<img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=v%28t%29+%3D+H_0+%5Ctimes+d%28t%29+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='v(t) = H_0 &#92;times d(t) ' title='v(t) = H_0 &#92;times d(t) ' class='latex' /><br />
যেখানে, d হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট t (লুক-ব্যাক সময়) সময়ে দূরত্ব এবং <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=H_0+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='H_0 ' title='H_0 ' class='latex' /> হচ্ছে হাবল ধ্রুবক। হাবল ধ্রুবকের সাধারণ্যে গৃহীত মান হচ্ছে ৬৭ কিলোমিটার/সেকেন্ড/মেগাপারসেক। যেহেতু রৈখিক হাবল সম্পর্কে <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=H_0+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='H_0 ' title='H_0 ' class='latex' /> মানের একটি ঢাল থাকে সেহেতু এর বিপরীত অর্থাৎ  নিলেই তা সময়ের মাত্রায় চলে যাবে এবং এভাবে সরাসরি মহাবিশ্বের বয়স বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে হাবল নীতি সমবেগে প্রসারণ ধরে নেয়, কিন্তু বাস্তবতায় (ক) প্রকৃত বেগ নির্ণয় করা হয় মহাকর্ষের পেছনে দায়ী মোট বস্তুর পরিমাণের মাধ্যমে এবং (খ) পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে বর্তমানে ছায়াপথসমূহের ত্বরণ হচ্ছে। এই দুটি পরিমাণই মহাজাগাতিক ধ্রুবকের ওপর নির্ভর করে বিশেষত, মহাবিশ্বে পদার্থের ঘনত্ব এবং শক্তির ঘনত্বের ওপর। মহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি, অর্থাৎ এটি কেবল প্রসারিতই হতে থাকবে, নাকি এক সময় স্থির অবস্থায় পৌঁছুবে, নাকি আবার সংকুচিত হয়ে একটি মহা সংকোচন ঘটাবে তা এর মধ্যকার ব্যারিয়নীয় পদার্থের ঘনত্বের ওপরই নির্ভর করে।</p>
<p><strong>৬। মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি</strong></p>
<p>মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি (Cosmic microwave background &#8211; CMB) বিকিরণকে বলা হয় মহাবিশ্বের সৃষ্টিলগ্নের ধ্বংসাবশেষ। এই বিকিরণ সকল দিকে সমানভাবে বিরাজমান, কোন দিকে কী পরিমাণ জৌতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু বা পদার্থ আছে তার ওপর এটি একেবারেই নির্ভর করে না। খুব মৃদু পটভূমি আভা হিসেবে এই বিকিরণ চিহ্নিত করা যায়।</p>
<p>সিএমবি হচ্ছে পুনর্মিলন যুগে নিরপেক্ষ পরমাণু গঠিত হওয়ার পর সৃষ্ট স্বচ্ছ মহাবিশ্বের ফল। পুনর্মিলন যুগে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা মাত্র ৩০০০ কেলভিনে নেমে এসেছিল। নিরপেক্ষ পরমাণু তাপীয় বিকিরণ শোষণ করতে পারে না। এ কারণে মহাবিশ্বের সকল পদার্থ বিকিরণের প্রতি স্বচ্ছ হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ তারা বিকিরণ শোষণ করে কোন বাঁধার সৃষ্টি করতো না, তাদের মধ্য দিয়ে বিকিরণ স্বচ্ছন্দে চলে যেতে পারতো। ফোটন যুগে পদার্থ ও বিকিরণের তাপীয় ইতিহাস ভিন্ন ভিন্ন পথ অনুসরণ করতে শুরু করে। সেই তখন থেকেই ফোটনগুলো মহাবিশ্ব জুড়ে সঞ্চালিত হচ্ছে, তাদের সংখ্যায় কোন পরিবর্তন হয় নি। একই পরিমাণ ফোটন দিন দিন অপেক্ষাকৃত বেশী স্থান দখল করায় স্বভাবতই তারা আগের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। এই ফোটনগুলোকেই বলা হয় সিএমবি বিকিরণ বা সিএমবিআর। তাই বলা যায়, সিএমবি হল পুনর্মিলন যুগের শেষে মহাবিশ্বের একটি ছবি। সিএমবিআর ২.৭২৫ কেলভিন তাপমাত্রার একটি তাপীয় কৃষ্ণ বস্তু সদৃশ বর্ণালী প্রদর্শন করে। এই বর্ণালীর সর্বোচ্চ মান পাওয়া যায় ১৬০.২ গিগাহার্জ কম্পাঙ্ক তথা ১.৯ মিলিমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে। এই কম্পাঙ্ক বর্ণালীর অনুতরঙ্গ তথা মাইক্রোওয়েভ অংশে পড়ে। এজন্যই নামের মধ্যে অনুতরঙ্গ শব্দটি রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকে যে গবেষণার সূচনা ঘটেছিল তা-ই চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে ১৯৬৪ সালে এসে। এই বছর রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্নো পেনজিয়াস ও রবার্ট উইলসন সিএমবি আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের জন্য তারা ১৯৭৮ সালে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।</p>
<p>সিএমবি আভা সবদিক থেকে প্রায় সমানভাবেই আসে, তবে একে পুরোপুরি সুষম বলা যাবে না। কোন একটি লাল-উত্তপ্ত এবং বিস্ফোরন্মুখ গ্যাসপিণ্ডের মধ্যে ঘটতে থাকা আকস্মিক এবং অনিয়মিত ঘটনাগুলো যদি পুরো মহাবিশ্বের আকারের সাথে তুলনীয় হয় তবে সেদিক থেকে আসা সিএমবি আভায় এক ধরণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। সাধারণ অর্থে মহাবিশ্ব সমরূপ হলেও আদি মহাবিশ্বের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সিএমবি বিকিরণে বিষমরূপতা (Anisotropy) পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক কালে এ ধরণের বিষমরূপতা “উইলকিনসন মাইক্রোওয়েভ এনাইসোট্রপি প্রোব” (WMAP &#8211; ডব্লিউম্যাপ) এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা গেছে। পুনর্মিলন যুগের পূর্বে ফোটনের সাথে কণার কম্পটন বিচ্ছুরণের কারণে তখন পর্যন্ত সমরূপ থাকা সিএমবি বিকিরণে কিছু বিষমরূপতার জন্ম হয়েছে। এই ক্রিয়াকে বলা হয় সানিয়েভ-জেলদোভিচ ক্রিয়া (Sunayev-Zeldovich effect, SZ effect)। ২০০৯ সালে প্ল্যাংক (PLANCK) নামক আরেকটি সন্ধানী যান মহাশূন্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে আরও সূক্ষ্ণভাবে সমগ্র আকাশের বিষমরূপতা পরিমাপের জন্য।</p>
<p>মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মহাবিশ্বকে সমরূপ ধরে নিলে এই পশ্চাদপসরণ বেগের কারণে স্থির কাঠামোর সাপেক্ষে যেকোন উৎস থেকে আসা বিকিরণের মধ্যে তরঙ্গদৈর্ঘের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এই পরিবর্তন ডপলার ক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়। উৎস থেকে পর্যবেক্ষকের কাছে আসার পর বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য লাল এর দিকে সরে যায় বলে লাল সরণের সাথে সহজেই তাপমাত্রার সম্পর্ক তৈরি করা যায়। লাল সরণকে সংজ্ঞায়িত করা হয় এভাবে,<br />
<img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=z%3D%5Cfrac%7B%5Clambda_%7Bobs%7D-%5Clambda_%7Bemit%7D%7D%7B%5Clambda_%7Bemit%7D%7D%5Capprox+%5Cfrac%7Bv%7D%7Bc%7D+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='z=&#92;frac{&#92;lambda_{obs}-&#92;lambda_{emit}}{&#92;lambda_{emit}}&#92;approx &#92;frac{v}{c} ' title='z=&#92;frac{&#92;lambda_{obs}-&#92;lambda_{emit}}{&#92;lambda_{emit}}&#92;approx &#92;frac{v}{c} ' class='latex' /><br />
z&gt;0 এর জন্য মহাবিশ্বের কার্যকরী তাপমাত্রা এভাবে প্রকাশ করা যায়,<br />
<img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=T%28z%29+%3D+T_0%281%2Bz%29+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='T(z) = T_0(1+z) ' title='T(z) = T_0(1+z) ' class='latex' /><br />
পুনর্মিলন যুগে তাপমাত্রা ছিল ৩০০০ কেলভিন। সেই তাপমাত্রার প্রায় ১০০০ ভাগ লাল সরণ ঘটেছে, যার ফলে বর্তমানে তাপমাত্রা এসে দাঁড়িয়েছে ২.৭২৫ কেলভিনে। মহাজাগতিক অনুতরঙ্গ পটভূমির এই তাপমাত্রা উপর্যুক্ত সমীকরণের মাধ্যমেই প্রমাণ করা যায়। সমীকরণে <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=T_0+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='T_0 ' title='T_0 ' class='latex' /> হচ্ছে ২.৭২৫ কেলভিন, যা z=0 অর্থাৎ বর্তমান যুগের্ পটভূমির তাপমাত্রা। এই নিম্ন তাপমাত্রায় কৃষ্ণ বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট তাপমাত্রা অনুতরঙ্গ অঞ্চলে আছে। সংজ্ঞা অনুসারে, সিএমবি তাপমাত্রা লাল সরণের সাথে রৈখিকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিকিরণ থেকে পদার্থ দ্বারা প্রভাবিত মহাবিশ্বে পরিবর্তনটি ঘটেছিল z ~ ৩৫,০০০ তথা T(z) ~ <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=10%5E5+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='10^5 ' title='10^5 ' class='latex' /> কেলভিনে। মহাজাগতিক মডেল এর মাধ্যমে এর একটি আনুমানিক সময়সীমা বের করা হয়েছে, মহা বিস্ফোরণের ৩০০০ বছর পর।</p>
<p><strong>৭। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু</strong></p>
<p><strong>৭.১। কালপুরুষ নীহারিকা, তারাসমূহের জন্মস্থান</strong></p>
<p>তারার জন্ম এবং বিবর্তনের জন্য কেমন শর্ত প্রয়োজন তা বুঝতে হলে সূর্যকে বোঝার বিকল্প নেই। আমাদের থেকে তারাসমূহের নিকটতম জন্মস্থান ১,৫০০ আলোকবর্ষ দূরে, নাম কালপুরুষ নীহারিকা। তারা গবেষণার জন্য এই মহাজাগতিক মেঘটিকে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়। কালপুরুষ তারামণ্ডলে অবস্থিত তিনটি তারার ঠিক নিচেই এই নীহারিকাটি অবস্থিত যা ২ নং চিত্রে দেখানো হয়েছে। এক রেখায় অবস্থিত এই তিনটি তারার সুবাদেই আকাশে কালপুরুষ নীহারিকা চিহ্নিত করা বেশ সহজ। আকাশে তারাগুলোকে সহজে চিহ্নিত করার জন্যই এগুলোকে বিভিন্ন তারামণ্ডলে ভাগ করা হয়েছিল, মণ্ডলগুলো সবই বিভিন্ন বস্তু, জীব বা চরিত্রের আদলে কল্পনা করে নেয়া হয়েছে, এদের কোন বাস্তব কাঠামো নেই। কালপুরুষ তারামণ্ডলকে কল্পনা করা হয়েছিল একজন শিকারীর আদলে, ২ নং চিত্রেই এটি দেখানো হয়েছে।</p>
<p>কালপুরুষ বন্ধনীর ঠিক নিচেই একটি লালাভ কুণ্ডলী হিসেবে কালপুরুষ নীহারিকাটি দেখা যায়। এই নীহারিকার বিস্তৃত ছবি তুলেছে নাসা-র দুটি মহাকাশ দুরবিন, স্পিৎজার এবং হাবল। ৩ নং চিত্রে সমন্বিত একটি ছবি দেখা যাচ্ছে। ছবিতে কমলা-হলুদ বিন্দুগুলো হচ্ছে শিশু তারা, ধূলি এবং গ্যাস এর গুটির মধ্যে এমন ১০০০ এরও বেশী তারা আছে। বিভিন্ন রঙের মাধ্যমে ছবিতে গাঠনিক পদার্থ এবং তারার জন্মের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভৌত শর্ত উপস্থাপন করা হয়েছে।</p>
<p><strong>৭.২। কৃষ্ণ বিবর &#8211; অপরিমেয় শক্তির আধার</strong></p>
<p>জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুগুলোর মধ্যে কৃষ্ণ বস্তুর দিকে আমাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশী কারণ এর অভ্যন্তরে রয়েছে অপরিমেয় শক্তি যা ছায়াপথকে স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করে কিংবা আশপাশের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুগুলোতে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। তীব্র মহাকর্ষ শক্তির মাধ্যমে এই বস্তুগুলো আশপাশের পদার্থগুলোকেই যে কেবল নিজের ভেতর টেনে নেয় তা নয় বরং পাশ দিয়ে ছুটে যাওয়া আলোও বন্দী করে ফেলে। অধিকাংশ ছায়াপথের কেন্দ্রেই একটি কৃষ্ণ বিবর আছে এবং এই বিবরই তার কার্যক্রম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে। কৃষ্ণ বিবর থেকে আলোও পালাতে পারে না, কিন্তু এসব বস্তুর আশপাশ থেকে প্রচুর পরিমাণ শক্তিশালী এক্স-রশ্মি বিকিরিত হয় যার মাধ্যমে এদেরকে চিহ্নিত করা যায়। চারদিকের বিপুল পরিমাণ পতনশীল বস্তু মাধ্যমেও এদের অবস্থান বোঝা সম্ভব। কৃষ্ণ বিবরের চারদিকে কুণ্ডলাকারে ঘূর্ণায়মান এবং পতনশীল অত্যন্ত উত্তপ্ত আয়নিত কণা থেকেই এক্স-রশ্মি বিকিরিত হয়। একটি কৃষ্ণ বিবর শক্তিশালী কণার জেটও নিক্ষেপ করতে পারে যা ৪ নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করেন কৃষ্ণ বিবর থেকে বিশাল ছায়াপথের অন্যান্য স্থানে শক্তি পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জেটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরা এমনকি ছায়াপথের বিভিন্ন স্থানে কি হারে তারার জন্ম হবে তাও নিয়ন্ত্রণ করে। </p>
<div id="attachment_731" class="wp-caption aligncenter" style="width: 510px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/3.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/3.png?w=640" alt="" title="3"  class="size-full wp-image-731" /></a><p class="wp-caption-text">কালপুরুষ তারামণ্ডলের কাল্পনিক ছবি। শিকারী কালপুরুষ। এক রেখায় থাকা তিনটি তারা তার বেল্ট গঠন করেছে।</p></div>
<div id="attachment_732" class="wp-caption aligncenter" style="width: 510px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/4.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/4.png?w=640" alt="" title="4"  class="size-full wp-image-732" /></a><p class="wp-caption-text">কালপুরুষ নীহারিকা। প্রায় ১০০০ শিশু তারার জন্মস্থান, হলুদ বিন্দুগুলোই এসব তারা। অন্যান্য তারা দ্বারা আলোকিত গ্যাস ও ধূলির গুটির মধ্যেই এদের জন্ম হয়।</p></div>
<p>বিশালকায় তারাগুলোর বিবর্তনের শেষে যে উৎপাদ তৈরি হয় সেটাই কৃষ্ণ বিবর। ছায়াপথের বিভিন্ন যুগল তারা জগতের অভ্যন্তরে অসংখ্য ছোট ছোট কৃষ্ণ বিবর আছে। এর মধ্যে সবচেয় আকর্ষণীয় একটি হচ্ছে “জিআরও জে১৬৫৫-৪০” (GRO J1655-40) যুগল তারা জগত, চন্দ্র মহাকাশ দুরবিনের মাধ্যমে এটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৫ নং চিত্রে দেখানো হয়েছে কিভাবে যুগল তারা জগতের একটি কৃষ্ণ বিবর তার সঙ্গী তারাটিকে শুষে নেয়। পদার্থগুলো কৃষ্ণ বিবরের চারদিকে কুণ্ডলাকারে ঘূর্ণন শুরু করার আগে একটি বায়ুপ্রবাহের রূপ নেয়। এই বায়ুর কারণে সৃষ্ট সরু এক্স-রশ্মি রেখার মাধ্যমে বোঝা যায় সেখানে প্রচণ্ড আয়নিত অবস্থায় ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, লোহা, নিকেল ইত্যাদি মৌল আছে।</p>
<div id="attachment_733" class="wp-caption aligncenter" style="width: 510px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/5.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/5.png?w=640" alt="" title="5"  class="size-full wp-image-733" /></a><p class="wp-caption-text">সেন্টরাস এ হল পৃথিবীর নিকটতম ছায়াপথ যার অভ্যন্তরে একটি অতিবৃহৎ কৃষ্ণ বিবর অবিরাম জেট নিক্ষেপ করে চলেছে। চন্দ্র মহাকাশ দুরবিন দিয়ে এটি দেখা হয়েছে।</p></div>
<div id="attachment_734" class="wp-caption aligncenter" style="width: 510px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/6.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/6.png?w=640" alt="" title="6"  class="size-full wp-image-734" /></a><p class="wp-caption-text">জিআরও জে১৬৫৫-৪০ যুগল তারা জগৎ। বেলন এর মত আকৃতির তারাটি থেকে সব পদার্থ বামের সঙ্গী কৃষ্ণ বিবরটি শুষে নিচ্ছে। বিবরের কেন্দ্রও দেখা যাচ্ছে। কৃষ্ণ বিবরের চারদিকে বিরাজমান গ্যাস বায়ু থেকে যেসব তরঙ্গ আসে তাদের বর্ণালী বিশ্লেষণে প্রাপ্ত এক্স-রশ্মি রেখাগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায় এখানে কি ধরণের পদার্থ আছে।</p></div>
<p><strong>৭.৩। অতিনবতারা অবশিষ্টাংশ &#8211; ভারী মৌলের উৎস</strong></p>
<p>অতিনবতারার অবশিষ্টাংশ নিয়ে গবেষণা করাও খুব জরুরী কারণ এরা গ্রহ তৈরির ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। অধিকাংশ স্থান হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে পূর্ণ থাকলেও গ্রহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ভারী মৌল পাওয়া যায়। এরকম ভারী মৌল যেমন, জিরকোনিয়াম, স্বর্ণ, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি অতিনবতারার বিস্ফোরণের সময় গঠিত হয়। আমাদের পৃথিবীতে প্রায় সব ধরণের মৌলই আছে, কারণ পূর্ববর্তী অনেকগুলো প্রজন্মের অতিনবতারা অবশিষ্টাংশের ভগ্নাবশেষ থেকেই তার জন্ম হয়েছে। ৬ নং চিত্রে তিনটি দুরবিন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা একটি অতিনবতারা অবশিষ্টাংশ দেখানো হয়েছে যার নাম “ক্যাসিওপিয়া এ”। স্পিৎজার দুরবিনের মাধ্যমে একে অবলোহিত (লাল) আলোয় দেখা হয়েছে, হাবল দিয়ে দেখা হয়েছে দৃশ্যমান (হলুদ) আলোর মাধ্যমে আর চন্দ্র দিয়ে পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এক্স-রশ্মি (সবুজাভ নীল) ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যাসিওপিয়ার মত একটি প্রমিত অতিনবতারা অবশিষ্টাংশের মধ্যে থাকে: বহিষ্কৃত পদার্থে তৈরি একটি অত্যুজ্জ্বল বহিঃস্থ স্তর এবং এককালে বিশাল আকারবিশিষ্ট একটি তারা দিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় কঙ্কাল। এ ধরণের তারাকে বলে নিউট্রন তারা।</p>
<div id="attachment_735" class="wp-caption aligncenter" style="width: 510px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/7.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/7.png?w=640" alt="" title="7"  class="size-full wp-image-735" /></a><p class="wp-caption-text">ক্যাসিওপিয়া এ নামক অতিনবতারা অবশিষ্টাংশ। বিস্ফোরণের সময় সৃষ্ট অনেক ভারী মৌল এই অবশিষ্টাংশে থাকে।</p></div>
<p><strong>লেখক</strong></p>
<p>ড. সুলতানা নুরুন নাহার<br />
এপিএস ফেলো, সিনিয়র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট<br />
জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগ<br />
ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি<br />
140 W. 18th Ave, Columbus, OH 43210,<br />
ই-মেইল: nahar@astronomy.ohio-state.edu<br />
টেলিফোন: 614-292-1888,<br />
ফ্যাক্স: 614-292-2928</p>
<p>ড. সুলতানা নাহার ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন। এই পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। এর পর ১৯৭৯ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন, এবারও তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। তার মাস্টার্স গবেষণার বিষয় ছিল “নিম্ন শক্তিতে নিউক্লিয়ন এর কম্পটন বিচ্ছুরণ”। ১৯৮২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অবস্থিত ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কোয়ান্টাম আলোকবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এবার তার গবেষণার বিষয় ছিল “নিম্যাটিক তরল কেলাস এবং আলোকীয় নন-লিনিয়ারিটি”। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে পারমাণবিক তত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল “পরমাণু থেকে ইলেকট্রন ও পজিট্রন বিচ্ছুরণ”। ২০০১ সাল থেকে তিনি ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। এরই মধ্যে তিনি ৭ টি নাসা গ্র্যান্ট এওয়ার্ড অর্জন করেছেন।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/728/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/728/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/728/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/728/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/728/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/728/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/728/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/728/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/728/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/728/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/728/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/728/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/728/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/728/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=728&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/13/the-universe/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/1.png" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/2.png" medium="image">
			<media:title type="html">2</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/3.png" medium="image">
			<media:title type="html">3</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/4.png" medium="image">
			<media:title type="html">4</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/5.png" medium="image">
			<media:title type="html">5</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/6.png" medium="image">
			<media:title type="html">6</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/11/7.png" medium="image">
			<media:title type="html">7</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>ইসলামী বিজ্ঞানের পৌরাণিক কাহিনী</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/09/islami-bigganer-pouranik-kahini/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/09/islami-bigganer-pouranik-kahini/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 09 Nov 2011 11:15:36 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[ধর্ম]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=710</guid>
		<description><![CDATA[কুরআন বলে, পৃথিবী সমতল প্রথম দিকে আমার বই পড়ার অভ্যাস খুব একটা ছিল না। ক্লাস এইটে হঠাৎ খুব ধার্মিক হয়ে গেলাম। আমার বই পড়াও তখন থেকে শুরু হল। বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের বই পড়া শুরু হয় তিন গোয়েন্দা বা সেবার অনুবাদ দিয়ে। &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/09/islami-bigganer-pouranik-kahini/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=710&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong>কুরআন বলে, পৃথিবী সমতল</strong></p>
<p>প্রথম দিকে আমার বই পড়ার অভ্যাস খুব একটা ছিল না। ক্লাস এইটে হঠাৎ খুব ধার্মিক হয়ে গেলাম। আমার বই পড়াও তখন থেকে শুরু হল। বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের বই পড়া শুরু হয় তিন গোয়েন্দা বা সেবার অনুবাদ দিয়ে। আমাদের বাসায় ধর্মীয় বইয়ের জোয়ার ছিল বলেই বোধহয় আমার ক্ষেত্রে সেরকম হয়নি। যে কারণেই হোক, স্বীকার করছি, ইসলামের প্রতি আগ্রহ থেকেই আমার বইয়ের প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। একসময় সবচেয়ে বেশী মজা পেতাম তথাকথিত ইসলামী বিজ্ঞানের বইগুলো পড়ে। সেখানে কুরআন-হাদিসের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের আশ্চর্য সব সাদৃশ্যের ব্যাখ্যা দেয়া থাকতো। সাথে এটাও খেয়াল করতাম, অধিকাংশ ধার্মিকই বইগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ে না। কেবল জানে যে, এই নামে একটা বই আছে। এটাও মেনে নেয়, কুরআন সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত। তারা মনে করে, ঐ বইগুলোতে কুরআনের বিজ্ঞানময়তার সঠিক ব্যাখ্যা দেয়া আছে; যদিও ব্যাখ্যাটা সম্বন্ধে তাদের কোন ধারণাই নেই।</p>
<p>কিন্তু আমার খটকা লাগতে শুরু করলো। বুঝতে পারলাম, অধিকাংশ ব্যাখ্যাই একেবারে মনগড়া। তিলকে তাল বানানো। তবে সেটা আমার বিশ্বাসকে টলাতে পারল না। অন্তত কয়েকটি আয়াতের ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ ছিল না। কিন্তু, এর কারণ এখন বুঝি। কারণ, তখন সংশয় কি জিনিস তা জানতামই না, আর বিজ্ঞান কি জিনিস তা বুঝতামই না। আসলে মহা বিস্ফোরণ আর মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আমি ধর্মীয় বইয়েই প্রথম পড়েছিলাম। সেখান থেকেই আগ্রহের সূচনা। পরবর্তীতে বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের বই থেকে এগুলো পড়তে লাগলাম। তখনই খটকাটা দৃঢ় হতে শুরু করলো। প্রকৃত বিজ্ঞানীদের এতো সূক্ষ্ণ ও কষ্টসাধ্য আবিষ্কারগুলোর কত হাস্যকর ব্যাখ্যাই না অলৌকিকতার বিজ্ঞানীরা (তথাকথিত “ইসলামী বিজ্ঞানী”রা) বের করেছে। তখন মনকে প্রবোধ দিলাম এই বলে, কুরআন তো আর বিজ্ঞান গ্রন্থ না, কুরআন হল জীবন কিভাবে চালাতে হবে তারই নির্দেশনামূলক গ্রন্থ।</p>
<p>ভার্সিটিতে আসার পর ইন্টারনেটের সাথে পরিচয় হল। এখন আর বই লাগে না। ইন্টারনেটে লেখার অভাব নেই। কুরআনের জীবনাদর্শের অসারতাও এবার পরিষ্কার হতে শুরু করল। এক্ষেত্রে আমার পারিবারিক জীবনেরও প্রভাব ছিল। আমাদের বাসার পরিবেশকে গোঁড়া ইসলামী পরিবেশ বলা যায়। আমার ছোট বোনকে ক্লাস এইট থেকে বোরকা পরার জন্য চাপাচাপি করতে লাগলেন আমার বাবা-মা। বোরকা পরাতে তাদের খুব কষ্ট করতে হয়নি। একসময় যখন নেকাব পরানোর জন্য আব্বু-আম্মু উঠেপড়ে লাগল তখন আর সহ্য করতে পারলাম না। আমি স্পষ্ট করে বললাম, আমি নেকাবের সম্পূর্ণ বিপক্ষে। কেউ স্বেচ্ছায় পরলে পড়ুক, কিন্তু কোন চাপাচাপি করা যাবে না। এভাবেই ইসলামী জীবনাদর্শ ধীরে ধীরে ত্যাগ করতে শুরু করলাম।</p>
<p>এখন আমি স্বাধীন। তাই স্বাধীন মনে লিখতে বসেছি। আবার সেই কুরআন হাতে নিয়েছি, তবে একটা সূক্ষ্ণ পার্থক্য আছে। আগে অজু করে নিতাম, এখন অজু ছাড়াই কুরআন হাতে নিয়েছি। আগে অন্ধ একটা বিশ্বাস সবকিছুকে দমিয়ে রাখত। কুরআনকেই শাশ্বত সত্য মনে করতাম, বিজ্ঞানের সাথে না মিললে মনে করতাম, ভবিষ্যতে সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন আর তা মনে করি না। আসলেই দেখতে চাই, কুরআন আল্লাহ্‌ প্রদত্ত নাকি সপ্তম শতকের মানব রচিত কোন সাধারণ গ্রন্থ।<span id="more-710"></span></p>
<p>আমি এই ইসলামী বিজ্ঞানের সবকিছু নিয়ে স্বাধীনভাবে লিখতে চাই। অভিজিৎ রায় তার “Does the Qur’an Have any scientific Miracles?”[১] প্রবন্ধে যে দশটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন সেখান থেকেই একটি বেছে নিলাম। আমার লেখার উদ্দেশ্য সবাইকে বোঝানো যে, কুরআনে কোন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়নি। কুরআনে অবৈজ্ঞানিক অনেক কিছুই আছে। সে সময়ে সাহিত্য হিসেবে তা যে মর্যাদাই পাক না কেন, আধুনিক বিজ্ঞানের প্রেক্ষিতে কুরআনের কোন মূল্য নেই। কেউ অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে চাইলে করুক; কিন্তু কেউ যেন কখনও কুরআনের পক্ষে বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে পার পেয়ে না যায়। আমরা চাই বিজ্ঞানমনস্ক উদার সমাজ গঠন করতে। লেখাগুলো সেই সমাজ নির্মাণের জন্যই।</p>
<p>এর জন্য প্রথমেই পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে কুরআনে কি কি আয়াত আছে এবং সেগুলোতে কি বলা হয়েছে তা দেখে নেয়া প্রয়োজন। মুনিম সালিহ্‌’র “The Myth of Scientific Miracles in The Quran: A Logical Analysis”[২] প্রবন্ধে পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে কুরআনের আয়াতগুলোর তালিকা পেয়েছি। অভিজিৎ রায়ের উপরে উল্লেখিত প্রবন্ধেও দুটি আয়াত পেয়েছি। দুটি আয়াত পেয়েছি জাকির নায়েকের বক্তৃতায়। সেগুলোই প্রথমে তুলে দিচ্ছি। মা’আরেফুল কুরআনের অনুবাদে আয়াতগুলো এরকম:</p>
<p>[২: ২২] যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা (ফিরাশা) এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসেবে। অতএব, আল্লাহ্‌র সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।</p>
<p>[১৩: ৩] তিনিই ভূমণ্ডলকে বিস্তৃত (মাদ্দা) করেছেন এবং তাতে পাহাড়-পর্বত ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন এবং প্রত্যেক ফলের মধ্যে দু’দ প্রকার সৃষ্টি করে রেখেছেন। তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আবৃত করেন। এতে তাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা চিন্তা করে।</p>
<p>[১৫: ১৯] আমি ভূ-পৃষ্ঠকে বিস্তৃত (মাদাদনা) করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।</p>
<p>[১৮: ৪৭] যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উন্মুক্ত প্রান্তর এবং মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।</p>
<p>[১৮: ৮৬] অবশেষে তিনি যখন সূর্যের অস্তাচলে পৌঁছলেন; তখন তিনি সূর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।</p>
<p>[১৮: ৯০] অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌঁছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্মরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি।</p>
<p>[২০: ৫৩] তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা (মাহ্‌দা) করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।</p>
<p>[৩১: ২৯] তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত ভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন?</p>
<p>[৩৯: ৫] তিনি আসমান ও যমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।</p>
<p>[৪৩: ১০] যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা (মাহ্‌দা) এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পার।</p>
<p>[৫০: ৬-৭] তারা কি তাদের উপরস্থিত আকাশের পানে দৃষ্টিপাত করে না আমি কিভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? তাতে কোন ছিদ্রও (ফুরুজ) নেই। আমি ভূমিকে বিস্তৃত (মাদাদনাহা) করেছি, তাতে পর্বতমালার ভার স্থাপন করেছি এবং তাতে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উদ্‌গত করেছি।</p>
<p>[৫১: ৪৮] আমরা ভূমিকে বিছিয়েছি (ফারাশনা)। এবং আমরা কতই না উত্তম সমতল রচনাকারী (আল-মাহিদুন)।</p>
<p>[৭১: ১৯] আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য ভূমিকে করেছেন বিছানা (বিসাতা)।</p>
<p>[৭৮: ৬] আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা (মিহাদা)।</p>
<p>[৭৯: ২৭-৩০] তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন? তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যালোক প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীকে এর পর বিস্তৃত (দাহাহা) করেছেন। (ওয়াল আরদা বা’দা যালিকা দাহাহা)</p>
<p>[৮৮: ২০] এবং পৃথিবীর দিকে যে, তা কিভাবে সমতল বিছানো (সুতিহাত‌) হয়েছে?</p>
<p>[৯১: ৫-৬] শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর। শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত (তাহাহা) করেছেন, তাঁর।</p>
<p>সাধারণ কাউকে এই আয়াতগুলো পড়তে দিলে তার বুঝতে কোন অসুবিধাই হবে না যে, কুরআনে পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে। সমতলভাবে বিস্তৃত পৃথিবীর কথা বোঝানোর জন্য যত রকমের শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে তার প্রায় সবই কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে। শব্দগুলো হচ্ছে ফিরাশা, মাদ্দা, মাদাদনা, মাহ্‌দা, মাদাদনাহা, ফারাশনা, আল-মাহিদুন, বিসাতা, মিহাদা, দাহাহা, সুতিহাত এবং তাহাহা। শব্দ অবশ্য এতোগুলো না। একই শব্দ বিভিন্ন পদে ব্যবহৃত হয়েছে। আমি হুবহুই লিখলাম। আল-মাহিদুন দিয়ে তো একেবারে পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ্‌ আত্মপ্রশংসা করে বলছেন, আমরা কতই না উত্তম সমতল রচনাকারী। “শব্দার্থে আল-কুরআনুল মাজীদ” বইয়ে হুবহু এই অনুবাদই পেয়েছি।</p>
<p>কুরআনের সবচেয়ে বড় ত্রুটি ধরা পড়ে যুলকারনাইনের বিশ্ব ভ্রমণের বর্ণনাতে। এ ধরণের বিশ্ব ভ্রমণ আমরা পৌরাণিক কাহিনীতেও পাই। যুলকারনাইন সূর্যের অস্তাচলে পৌঁছেছেন, অর্থাৎ সূর্য যেখানে অস্ত যায় সেখানে গিয়েছেন। সেখানে বসবাসকারী জাতিও দেখেছেন। আবার সূর্য যেখানে উদিত হয়ে সেখানেও গিয়েছেন। সেখানেও এক সম্প্রদায় বাস করতো। সূর্য তাদের খুব কাছে, আল্লাহ সূর্য থেকে তাদের রক্ষার জন্য কোন আড়ালও তৈরী করেননি। এখানে পৃথিবীকেন্দ্রিক খুব সংকীর্ণ এক বিশ্বের ধরণা ফুটে উঠেছে। সেই পৃথিবীও আবার সমতল। এই তলের এক পাশ থেকে সূর্য উদিত হয় এবং অন্য পাশে অস্ত যায়। সে হিসেবে পৃথিবীর প্রান্তও আছে। কারণ যুলকারনাইন উদয় এবং অস্তাচলের পর আর এগোননি। সেখানেই যেন পৃথিবীর শেষ।</p>
<p><strong>কুরআনে এ ধরণের ব্যাখ্যা থাকাই স্বাভাবিক</strong></p>
<p>কুরআনে এ ধরণের ব্যাখ্যা পেয়ে আমি মোটেই অবাক হয়নি। কারণ, কুরআন লেখা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে সেই সপ্তম শতকে। তখন আরবে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল কুরআনে তো তা-ই থাকবে। যেকোন সময়ের রচনা তো সে সময়ের চিন্তাধারারই প্রতিফলন।</p>
<p>মধ্যযুগে, পৃথিবী সমতল এরকম একটি ধারণা ছড়িয়ে পড়েছিল। এর মূল কারণ গ্রিক দর্শন এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অবনতি এবং খ্রিস্টান ধর্মের জাগরণ। খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতকেই পিথাগোরাস বলেছিলেন, সকল জ্যোতিষ্ক গোলাকার। সে হিসেবে পৃথিবীও গোলাকার। তবে এরিস্টটল বলেছেন, লুসিপাস ও ডিমোক্রিটাসের মত প্রাক-সক্রেটীয় দার্শনিকরা সমতল পৃথিবীতে বিশ্বাস করতেন। ৩৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দেই এরিস্টটল গোলাকার পৃথিবীর পক্ষে পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণ দেন। তখন থেকে গ্রিক সভ্যতায় গোলাকার পৃথিবীর ধারণাই প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাবে এই ধারণা টিকতে পারেনি। লক্ষ্যণীয় যে, এই খ্রিস্ট ধর্মই এরিস্টটলের পৃথিবীকেন্দ্রিক ভুল মতবাদ প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য বিজ্ঞানীদের পুড়িয়ে মেরেছিল।</p>
<p>এরপরের যুগটা ছিল অন্ধকারের। ইসলামী ইতিহাসেও ইসলামের আবির্ভাবের আগের সময়টাকে “আইয়াম-ই-জাহিলিয়াত” বলা হয়। তখন আরবের সবাই মনে করতো, পৃথিবী সমতল। মুহাম্মাদ ইসলাম প্রচার শুরু করার পূর্বে আরব সমাজ নিয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করেছেন এবং সফরগুলোর মাধ্যমে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। এই সাধারণ বিষয়গুলো তিনি ভালভাবেই জানতেন।</p>
<p>ইসলামকে কেন্দ্র করে আরব সংঘটিত হয়। এর মাধ্যমে সেখানে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক বিপ্লব ঘটে। ইসলাম হয়ত তাদেরকে সংঘটিত করেছে, কিন্তু জ্ঞান বিকাশের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতি কুরআনকে কেন্দ্র করে হয়নি। হয়েছে প্রাচীন গ্রিক দর্শন ও বিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে। মধ্যযুগে মুসলিম বিজ্ঞানীদের কেউই তথাকথিত ইসলামী বিজ্ঞানী ছিলেন না। তারা ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞান আলাদাভাবে অধ্যয়ন করেছেন। পৃথিবীর আকৃতি নিয়েই একটি উদাহরণ দেয়া যায়। গ্রিক দর্শন আরবিতে অনুবাদ করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে, পৃথিবী গোলাকার। ৮৩০ সালে খালিফা আল-মামুন এক দল জ্যোতির্বিজ্ঞানীকে বর্তমান সিরিয়ার দুটি শহরের মধ্যবর্তী দূরত্ব পরিমাপের কাজে নিযুক্ত করেন। তারা শহর দুটির দূরত্ব ও অক্ষাংশের পার্থক্য পরিমাপ করে পৃথিবীর পরিধি নিণয় করেন। পরিধির এই মান প্রায় নিখুঁত ছিল। কুরআনে পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে না গোলাকার বলা হয়েছে এ নিয়ে সেই বিজ্ঞানীরা চিন্তাই করেননি। চিন্তা করলে নিশ্চয়ই কিছু বলে যেতেন।</p>
<p>কুরআনে পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে প্রথম কথা বলেন ইবন তাইমিয়াহ্‌ যিনি বিজ্ঞানী ছিলেন না। তিনি “মাজমুল ফাতওয়া” গ্রন্থে বলেছিলেন, পৃথিবী গোলাকার এটা কুরআনে বলে দেয়া আছে। ইবন আব্বাসের হাদিসের সূত্র দিয়ে এই আয়াতের যে ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছিলেন, বর্তমানের ইসলামী বিজ্ঞানীরা সেটাকেই ফলাও করে প্রচার করেন। এই অসার ব্যাখ্যার কথা একটু পরে বলছি। এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, কোন মুসলিম বিজ্ঞানী কুরআনের সাথে বিজ্ঞানকে মেশানোর চেষ্টা করেননি। কেবল ধর্মতত্ত্ববিদেরাই সে চেষ্টা করেছেন।[৩]</p>
<p><strong>ইসলামী বিজ্ঞানীদের ঘোলাটে ব্যাখ্যা আর আমাদের পরিষ্কার ব্যাখ্যা</strong></p>
<p>ইসলামী বিজ্ঞানীরা আবিষ্কারে খুব একটা পারদর্শী না হলেও উদ্ভাবনের বেলায় অতুলনীয়। কুরআনের খুব সাধারণ কোন আয়াত থেকে তারা অনেক কিছু উদ্ভাবন করেন। তাদের ব্যাখ্যা মোটেই বৈজ্ঞানিক না। কিন্তু ধর্মতত্ত্বে এ ধরণের ব্যাখ্যার অবকাশ আছে। আমি যতদূর দেখেছি, ধর্মতত্ত্ব এমন একটা বিষয় যেখানে একই বিষয়র অনেক রকম ব্যাখ্যা দেয়া যায় এবং সবগুলোই খুব আধ্যাত্মিক (যৌক্তিক বলা যাবে না) মনে হয়। কুরআনের তাফসিরগুলো দেখলেই বোঝা যায়। ইসলামের মধ্যে এতো দল তৈরী হওয়ার অন্যতম কারণ একই বিষয়ের হরেক রকম ব্যাখ্যা। সবাই নিজের ব্যাখ্যাকে সঠিক মনে করে। কুরআনের আয়াতগুলো সুন্দর কিন্তু ভোঁতা। অনেক ফাঁক আছে। কিন্তু বিজ্ঞান এমন না। বিজ্ঞানের কিছু বিষয়েও মতভেদ আছে, কিন্তু মতভেদগুলো প্রমাণ করে, সে বিষয়ের সবকিছু এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব পূর্ণতা পেলে তাতে কারও সন্দেহের অবকাশ থাকে না।</p>
<p>ইসলামী বিজ্ঞানীরা কুরআনের মধ্যে বিজ্ঞান খোঁজেন। খুঁজে পেলে বলেন, কুরআন এক অলৌকিক গ্রন্থ। কুরআনে বিজ্ঞান আছে বলে তা অলৌকিক, অথচ বিজ্ঞানে আবার অলৌকিক বলে কিছু নেই। যাহোক এসব বিচারে তাদেরকে অলৌকিকের বিজ্ঞানীও বলতে ইচ্ছে হয়। কুরআনের তাফসিরকারীদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তাদের ধর্মকথাগুলো বেশ ধারালো হয়। কিন্তু অলৌকিকের বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অতিরিক্ত ভোঁতা যা পড়লে মাঝেমাঝে হাসি পায়। তাদের অপবিজ্ঞান চর্চা নিয়ে বিজ্ঞানীদের চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ ছিল না। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য চিন্তা করতে হচ্ছে। কুরআন ও বিজ্ঞানের সুসম্পর্ক দেখিয়ে গাদি গাদি বই বেরোচ্ছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিজ্ঞান সম্বন্ধে তেমন কিছুই জানে না। তারা এগুলো পড়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে। এজন্যই তাদের ব্যাখ্যাগুলো খতিয়ে দেখার প্রয়োজন পড়ছে।</p>
<p>ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের “গবেষণা বিভাগ” থেকে “Scientific Indications in Holy Quran” নামে ৬৬৯ পৃষ্ঠার একটি বই বেরিয়েছে। এই বিভাগে এম আকবর আলী ও সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এম শমসের আলীর মত ব্যক্তি আছেন। তারা বিস্তৃতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে:</p>
<p>এ সকল আয়াতের অর্থ দাঁড়ায় এই যে, পৃথিবীপৃষ্ঠ সমতল। অথচ ধারণাটি পৃথিবী গোলাকার-এ বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়। নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এই আপাত বৈপরীত্যের মীমাংসা করা সম্ভব।</p>
<p>আমরা জানি একটি ক্ষেত্র যত বড় হবে তার তলের বক্রতা তত কম হবে। পৃথিবী একটি বিশাল ক্ষেত্র যার ব্যাস প্রায় ৬, ৪০০ কিলোমিটার। আর আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পৃথিবীপৃষ্ঠের খুব সামান্য একটা অংশ নিয়েই কাজ-কর্ম করে থাকি। এই অংশটুকুকে সকল ব্যবহারিক কাজে সমতল ধরে নেয়া যেতে পারে। এই স্বল্প অংশের বক্রতার পরিমাণ উপলব্ধি করার মত নয়। এমনকি, পৃথিবীপৃষ্ঠের এক মাইলের মত ব[দূরত্বও পৃথিবীর কেন্দ্রে এক ডিগ্রির ৭০ ভাগের এক ভাগের মত অতি সামান্য কোণ সৃষ্টি করে। এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, এই ক্ষেত্রের তলকে সমতল বলা হয় যার ব্যাসার্ধ্য সীমাহীন, অনন্ত।</p>
<p>এটা আমার জীবনে পড়া সবচেয়ে ফালতু ব্যাখ্যাগুলোর একটি। কুরআনের আয়াতগুলো পড়লেই বোঝা যায়, সমতল পৃথিবীর কথা বলা হচ্ছে। এখানে আমরা এমন এক আল্লাহ্‌র সন্ধান পাই যার জ্ঞান এরিস্টটলের চেয়েও কম। যুলকারনাইনের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পড়লে তা আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। সেজন্যই কি শমসের আলীরা ১৮ নং সূরার ৮৬ ও ৯০ নম্বর আয়াত দুটি এড়িয়ে গেলেন? পুরো বইয়ে এ আয়াত দুটির কোন উল্লেখ নেই। কিন্তু ৯৩ ও ৯৪ নং আয়াত দুটি আছে। কারণ সেখানে ভুলের পরিমাণ কম। এক্ষেত্রে শমসের আলীরা রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিয়েছেন, বিজ্ঞানকে আক্রমণ করেননি।</p>
<p>এবারে অন্য কথায় আসি। শমসের আলীরা বললেন, কুরআনে সত্যিই পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে। কিন্তু জাকির নায়েক আবার অন্য কথা বলে বসলেন, তিনি উল্টো আক্রমণ করলেন। কারণ, attack is the best defense. অলৌকিকের বিজ্ঞানীরা যখন শমসের আলীদের (এটা অবশ্য তাদের মৌলিক না) ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পারছিলেন না তখন, অতি জটিল আরবি ভাষার পুরাণ ঘেঁটে “দাহাহা” শব্দের নতুন অর্থ বের করা হল। কুরআনে অন্য সব শব্দের মতই দাহাহা শব্দটি “বিস্তৃত” অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু তারা বললেন, দাহাহা শব্দের একটি মূল “দুহিয়া”। দুহিয়া অর্থ উট পাখির ডিম। তার মানে কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ পৃথিবীকে উট পাখির ডিমের মত বিস্তৃত করেছেন। এই সেদিন উদ্ভাবিত হল এটা। এ বিষয়ে জাকির নায়েকের ব্যাখ্যাটা এরকম:[৪]</p>
<p>কুরআনের যত স্থানে “বিস্তৃতি” বা “বিছানা” বা এ ধরণের সমার্থক শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোকে জাকির নায়েক পরে বলেছেন। আগে বলেছেন [৩১: ২৯] ও [৩৯: ৫] আয়াত দুটির কথা। তার ভাষায়:</p>
<p>রাত্রি দিবসে অন্তর্ভুক্ত হয়, আর দিবস রাত্রিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া অর্থ হল রাত্রি ধীরে ধীরে এবং ধারাবাহিকভাবে দিনে পরিবর্তিত হয় এবং ঠিক তার বিপরীতভাবে দিনও। পৃথিবী গোলাকার বলেই এ ধরণের ঘটনা সংঘটিত হতে পারে। পৃথিবী যদি সমত হতো, তাহলে রাত্রি থেকে দিনে এবং দিন থেকে রাত্রিতে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতো।</p>
<p>জাকির নায়েক [৩৯: ৫] আয়াতের “ইউকাব্বিরু” শব্দের উল্লেখ করেছেন যার অর্থ আবৃত করা বা কুণ্ডলী করা বা গোলাকার কিছু জড়ানো। গোলাকার শব্দটি অবশ্য তার উদ্ভাবন।</p>
<p>এই ব্যাখ্যাও শমসের আলীদের সমতল পৃথিবী ব্যাখ্যার মত অসার। একটা প্রশ্নের মাধ্যমেই তা বোঝা যায়। ধরুন, আমি পৃথিবী সমতল না গোলাকার তার কিছু জানি না। এখন আমাকে কেউ প্রশ্ন করল, দিনের সব আলো নিভে গিয়ে কি হঠাৎ করেই রাত চলে আসে? আমি বলব, না তো। ধীরে ধীরে দিন রাতে পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ দিনের আলো ধীরে ধীরে নিভে যায় এবং রাত ধীরে ধীরে নেমে আসে। এর মানে কি আমি বললাম, পৃথিবী গোলাকার? মোটেই না, আমি যা দেখি তাই বললাম। ঐ যুগের কোন কাফিরকে প্রশ্ন করলেও সে একই উত্তর দিত। কুরআনে অভিনব কিছু লেখা হয়নি।</p>
<p>তবে জাকির নায়েক এখানেই থেমে থাকেননি। এরপর তিনি বললেন [৭৯: ৩০] আয়াতটির কথা। তিনি দাবী করলেন, ইতোমধ্যে কুরআনে বলা হয়েছে যে, পৃথিবী গোলাকার। এরপর এই আয়াতে নাকি বলা হয়েছে, তা ডিমের মত দুই পাশে চাপা। এতোদিন পর্যন্ত সকল তাফসিরেই “দাহাহা” শব্দের অর্থ করা হয়েছে বিস্তৃত। কিন্তু এখন বলা হল, দাহাহার আরেক অর্থ নাকি উট পাখির ডিমের মত বিস্তৃত। এটা সত্যি হলেও কিছু প্রমাণ হয় না। কারণ দাহাহা ছাড়াও সমতল বা বিস্তৃতির অনেকগুলো প্রতিশব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যা আমি উপরে উল্লেখ করেছি। তার যেকোন একটি সত্য হলেই হয়। কারণ, আল্লাহ্‌ একটি ভুলও করতে পারেন না। সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায়, কুরআনে সে সময়ের ধ্যান-ধারণা বলা হচ্ছে। তারপরও জাকির নায়েককে প্রশ্ন করা হল। তিনি চারটি পয়েন্টের মাধ্যমে বিস্তারিত উত্তর দিলেন:</p>
<p>১. পৃথিবীকে বিছানোর (কার্পেটের মত) কথা বলা হয়েছে। তার মানে পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের চারদিকে ভূ-ত্বক বিছানো হয়েছে। কার্পেট তো গোলাকার জিনিসের উপরও বিছানো যেতে পারে।</p>
<p>কথা হচ্ছে, কুরআনে ভূ-ত্বকের কোন কথাই নেই। সব স্থানে বলা হয়েছে গোটা পৃথিবীটাই বিছানা। বিছানা গোলাকার হয় তা অবশ্য আমি জানতাম না। নেক্কারজনকভাবে একের পর একেক মিথ্যা আরোপ করছেন তিনি।</p>
<p>২. ঐ কথাই। কার্পেট গোলাকার বস্তুর চারপাশেও বিছানো যেতে পারে।</p>
<p>আসলে কার্পেট গোলাকার বস্তুর চারদিকে বিছানো যায় না। কার্পেট দিয়ে গোলাকার বস্তু মোড়ানো যায়। কুরআনের কি মারাত্মক শাব্দিক ভুল! অবশ্য সাহিত্য আর বিজ্ঞানকে মিশিয়ে ফেললে ঠিক আছে!</p>
<p>৩. অনেক স্থানে পৃথিবী বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে। এর মানে পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।</p>
<p>বিস্তৃতিকে বানিয়েছেন সম্প্রসারণ। জাকির নায়েক বলছেন, সরাসরি সমতল তো আর বলা হয়নি। আমি জানি কেন বলা হয়নি। “পৃথিবী সমতল” এটা বৈজ্ঞানিক স্বীকার্যের মত। বিজ্ঞানীরা কোন কিছু প্রমাণ করলে সরাসরি বলে দেন। তারা যদি বের করতেন পৃথিবী সমতল তাহলে সরাসরি বলে দিতেন, পৃথিবী সমতল। কুরআন কেন বিজ্ঞানের মত স্বীকার্য উল্লেখ করবে? তখন সবাই জানত, পৃথিবী সমতল। এটা বলার কোন প্রয়োজন পড়ে না। কুরআনে কেবল পৃথিবীর বিশালত্ব আর বিস্তৃতির বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ্‌র মহিমা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই বলি, “কুরআন বলেনি যে পৃথিবী সমতল, কিন্তু কুরআন একটি সমতল পৃথিবীর আকর্ষণীয় বর্ণনা দিয়েছে।”</p>
<p>৪. [৭৯: ৩০] আয়াতের মাধ্যমে নাকি সরাসরি বলে দেয়া হয়েছে, পৃথিবীকে আল্লাহ্‌ উটপাখির ডিমের মত করে তৈরী করেছেন। জাকির নায়েক এই আয়াতের অনুবাদ করেছেন:</p>
<p>“আমরা পৃথিবীকে উটপাখির ডিমের মত করে তৈরী করেছি”</p>
<p><strong>“দাহাহা” সমাচার</strong></p>
<p>জাকির নায়েকের অনুবাদ তো আমরা দেখলাম। এবার অন্যান্যদের অনুবাদগুলো দেখি:</p>
<p>মা’আরিফুল কুরআন – পৃথিবীকে এর পর বিস্তৃত (দাহাহা) করেছেন।<br />
ইউসুফ আলি – And the earth, moreover, hath He extended (to a wide expanse);<br />
পিকথাল – And after that He spread the earth,<br />
আর্বারি – and the earth-after that He spread it out,<br />
শাকির – And the earth, He expanded it after that.<br />
সারওয়ার – After this, He spread out the earth,<br />
হিলালি/খান – And after that He spread the earth;<br />
মালিক – After that He spread out the earth,[30]<br />
মাওলানা আলি – And the earth, He cast it after that.<br />
ফ্রি মাইন্ড্‌স And the land after that He spread out.</p>
<p>ফেইথ ফ্রিডমের ওয়াবসাইটে এ নিয়ে একটি সুন্দর পোস্ট আছে। সেটাই হুবহু অনুবাদ করে দিচ্ছি:[৫]</p>
<p>কুরআন বিস্তৃতি, কার্পেট, বিছানা এবং এ ধরণের অন্যান্য শব্দের মাধ্যমে সমতল পৃথিবীর ধারণা তুলে ধরেছে। বর্তমানে অনেক মুসলিম apologist এটা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তারা [৭৯: ৩০] আয়াতের “দাহাহা” শব্দের ভিত্তিতে এই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।</p>
<p>অনেক ইসলামবাদী “দাহাহা” শব্দের অর্থ করার চেষ্টা করেছেন, উট পাখির ডিম বা উট পাখির ডিমের মত আকৃতির। তারা বলেন, এই আয়াতে দাহাহা দ্বারা বিস্তৃত করা বোঝানো হয়নি (অন্য সব স্থানে কিন্তু বিস্তৃত করাই বোঝানো হয়েছে)। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, গোলাকার তথা উট পাখির ডিমের মত করে তৈরী করা।</p>
<p>অনেকে দাবী করবেন, দাহাহা শব্দের মূল হল দুহিয়া যার অর্থ উট পাখির ডিম। এখানে দাহাহা’র সাথে উট পাখির ডিমের সম্পর্ক করা যায় না। আরবি অভিধান ঘাটলে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।</p>
<p>তারপরও অনেকে ডিম নিয়ে পরে থাকতে চান। তাদের জন্য আরেকটি হতাশার কথা হল, পৃথিবীটা আসলে উট পাখির ডিমের মত না। জ্যামিতিতে উপগোলক দুই ধরণের হতে পারে: prolate (মেরু বরাবর প্রসারিত) এবং oblate (বিষুব বরাবর প্রসারিত)। সকল ডিমই প্রোলেট আকৃতির। অবলেট হল কমলালেবু। পৃথিবীটা অবলেট আকৃতির। কবে না জানি দাহাহা’র অর্থ হয়ে যায় “কমলালেবু”!</p>
<p>আরেকজন দাহাহা দিয়ে প্রাচীন আরবের একটি খেলার দিকে নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেন,</p>
<p>এই আয়াতের মূল শব্দ দাহাহা। আরবিতে “ইজা দাহাহা” নামে একটি বাগ্‌ধারা আছে যার অর্থ, “যখন সে ভূমির গর্তের উপর পাথরটি নিক্ষেপ করে”। এখানে “উযিয়াতুন” অর্থ গর্ত এবং “আল-মাদাহি” দ্বারা বোঝায়, একটি গোলাকার পাথর আছে যার উপর নির্ভর করে মাটিতে গর্ত করা হয়, এরপর গর্তে পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে একটি খেলা চলে। তার মানে দাহাহা শব্দের সাথে গোলের একটা সম্পর্ক আছে। অনেকে বলেন উটপাখির ডিমের আরবি শব্দ যেখান থেকে এসেছে দাহাহা শব্দটিও সেখান থেকে এসেছে। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, পৃথিবী গোলাকার না বরং এলিপসয়েড। আর উটপাখির ডিমও এলিপসয়েড। আরবিতে “সমতল” শব্দটির প্রতিশব্দ হচ্ছে “সাবি” এবং “আল-মুস্তাবি”। কুরআনের কোথাও পৃথিবীর বর্ণনায় এ শব্দ দুটি নেই। আছে ফারাশ, মাহ্‌দ, বাসাত, দাহাহা, তাহাহা, সুতিহাত ইত্যাদি যেগুলো বিস্তৃত হওয়াকে নির্দেশ করে।</p>
<p>এখানে তিনি দাহাহার সাথে উযিয়াতুন ও আল-মাদাহি শব্দ দুটির তুলনার মাধ্যমে যে গোলাকারের দিকে ইঙ্গিত করলেন তা সত্য না। কারণ, আল-মাদাহি ও উযিয়াতুন শব্দ দুটি কেবল দ্বিমাত্রিকের ক্ষেত্র প্রযোজ্য। আল-মাদাহি বলতে আরব রুটির মত বৃত্তকে বোঝায়, অর্থাৎ চাকতির মত। উযিয়াতুনও বৃত্ত বোঝায়, গোলক না। তাছাড়া, দাহাহা’র একটি অর্থ নিক্ষেপ করা। তাহলে, উপরের বাগ্‌ধারায় নিক্ষেপ করার আরবি হবে দাহাহা। পাথর বা গর্তের সাথে তার কোন সম্পর্কই নেই। আর মানে উযিয়াতুন ও আল-মাদাহি’র সাথেও তার কোন তুলনা নেই।</p>
<p>এর আরেকটি প্রমাণ আছে। অনেক মুসলিমই ফেইথ ফ্রিডম সাইটে লেইন লেক্সিকনের একটি পোস্ট থেকে উযিয়াতুন ও আল-মাদাহি’র কথা তুলে নিয়েছেন। কিন্তু তারা দ্বিমাত্রিকতার কথা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন।</p>
<p><strong>আরজ আলী মাতুব্বরের “সত্যের সন্ধান”</strong></p>
<p>“আমাদের বাঙালি কৃষক-দার্শনিক” আরজ আলী মাতুব্বর তার সত্যের সন্ধান বইয়ে কুরআনের অকেজো ধ্যান-ধারণা নিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন। নামায আদায়ের সময় নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিজিৎ রায় সহ অনেকেই তাদের নিজ নিজ প্রবন্ধে এর উল্লেখ করেছেন। আমিও সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:</p>
<p>কুরআন নামাযের জন্য সময় নির্দিষ্ট করেছে। নির্দিষ্ট সময় ছাড়া নামায আদায় করা যায় না। আবার কিছু সময়ে নামায আদায় নিষিদ্ধ। সূর্যাস্ত, সূর্যোদয়ের সময় নামায পড়া নিষেধ। এই নিয়মের কোন ধরণের ব্যতিক্রমের ইঙ্গিত কুরআনে নেই। কিন্তু সমস্যা হল, একই সময়ে পৃথিবীর এক স্থানে দুপুড় তো আরেক স্থানে মধ্য রাত হতে পারে। একই সময়ে হয়তো এক স্থানে সূর্য উঠছে এবং অন্য স্থানে এশার ওয়াক্ত চলছে। তার মানে একই সময়ে, এক স্থানে নামায পড়া সিদ্ধ কিন্তু অন্য স্থানে নিষিদ্ধ। প্রকৃতপক্ষে ইসলামে নামাযের সময় নির্দিষ্টকরণের ধারণাটি সে সময়ে প্রচলিত ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আরজ আলী মাতুব্বরের ভাষায়:</p>
<p>এক সময় পৃথিবীকে স্থির আর সমতল মনে করা হত। তাই পৃথিবীর সকল দেশে বা সকল জায়গায় একই রকম সময় সূচিত হবে, বোধহয় এইরকম ধারণা থেকে ওই সমস্ত নিয়ম-কানুন প্রবর্তিত হয়েছিল। কিন্তু এখন প্রমাণিত হয়েছে, পৃথিবী গোল ও গতিশীল।</p>
<p>তিনি আরও উদাহরণ দিয়েছেন। যেমন, ধারা যাক, এক লোক বাংলাদেশে ঠিক দেড়টায় জোহরের নামাজ পড়ে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে প্লেনে উঠলেন। ঘণ্টায় ৩০০০ মাইল বেগে সৌদি আরব গিয়ে দেখবেন এখনও দুপুড়ই হয়নি। তাকে কি আবার নামাজ আদায় করতে হবে? পৃথিবীর এমন অনেক স্থান আছে যেখানে দীর্ঘকাল দিন বা দীর্ঘকাল রাত থাকে। এমন স্থানও আছে যেখানে রাত হতে না হতেই আবার সূর্য উদিত হয়ে যায়। এশার নামাজ পড়ার সময় পাওয়া যায় না। যেখানে দীর্ঘকাল দিন বা রাত সেখানে ঘড়ি যদি নামাজ পড়াও যায়, রোযা কিভাবে রাখা হবে। সেখানে রমযান মাসকেই পৃথক করার উপায় নেই। দিনের সেহরি বা ইফতারের সময়ও পৃথক করার উপায় নেই।</p>
<p>এসব যুক্তিকে অনেকেই হেলা করেন। মুসলমানরা বলে, ইজমা-কিয়াসের মাধ্যমে এগুলোর সমাধান করা যায়। এজন্যই তো ইজমা-কিয়াসের দ্বার খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু আমি বলি, ইজমা-কিয়াস এজন্য আসেনি। কুরআন-হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ্‌ কস্মিনকালেও ধারণা করতে পারেননি যে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সময় নিয়ে এতো ঝামেলার সৃষ্টি হতে পারে। স্থানভেদে ইসলামের আইন এভাবে পরিবর্তন করতে হবে এটাও ভাবতে পারেননি। পৃথিবীর সব স্থানে একই সময় ভেবেই নিয়মগুলো স্থির করা হয়েছে। কুরআনের সব কিছু নির্দেশ করছে, পৃথিবী সমতল।</p>
<p>এবারে কেবল মরিস বুকাইলির কথা বাকি থাকে। বুকাইলিই এই অলৌকিকতার বিজ্ঞানকে উস্কে দিয়েছিলেন। তার ‘বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান’ বইয়ের মতামত শমসের আলীদের মতই। অর্থাৎ তিনি মনে করেন, কুরআনে পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে। কিন্তু, অপেক্ষাকৃত স্বল্প ক্ষেত্রের সাপেক্ষে।</p>
<p>একটা বিষয় নিয়ে অনেক কিছু লিখে ফেললাম। আমি আসলে সব কিছু পরিষ্কার করতে চাচ্ছিলাম। এজন্য পরিষ্কার বাংলায় “ছ্যাচরামি” পর্যন্ত করতে হয়েছে। এতোটা না করে আমি আমার বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে থাকলেও কাজের কয়েকটা জিনিস জানা হয়ে যেত। তারপরও এটাকে প্রয়োজন মনে করেছি। কারণ অন্য পক্ষ থেকে আমার কয়েক’শ গুণ “ছ্যাচরামি” করা হচ্ছে। কুরআনের আয়াতগুলোকে কানে ধরে বশ মানানো হচ্ছে। এমন সময়ে একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে আমাদের তো এমন কিছু লেখাই উচিত। কারণ আমরা চাই এমন একটি জাতি যার শিক্ষাব্যবস্থা হবে বিজ্ঞানকেন্দ্রিক। ছোটবেলায় পরবর্তী প্রজন্মের কাউকে যেন, ধমীয় সৃষ্টিতত্ত্ব পড়তে না হয় তা দেখা তো আমাদেরই দায়িত্ব। যতদিন বাবা-মা’রা ধর্মীয় অপজ্ঞানের কবল থেকে বেরিয়ে না আসবেন ততদিন ধর্মও টিকে থাকবে। বাবা-মা না পারি অন্তত শিক্ষাব্যবস্থা তো পরিবর্তন করতে পারি। এর একমাত্র উপায় হল, ধর্মীয় ধ্যান-ধারণাগুলোর অসারতা তুলে ধরা। আমি সেরকম কিছু অসারতা তুলে ধরলাম। কিছুটা হলেও দায়িত্ব পালন করলাম।</p>
<p>ধর্মে বিশ্বাস এখন পর্যন্ত খুবই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের শিক্ষিত মহলেও যে তা কতটা প্রকট, ভাবাই যায় না। কয়েকদিন আগে ভার্সিটির এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। আমি বললাম, কুরআন বলেছে পৃথিবী সমতল। সে বলল, কুরআন যদি সত্যি এ কথা বলে থাকে, তাহলে পৃথিবী অবশ্যই সমতল। প্রথমে বিস্মিত হয়ে গেলাম। দ্বিতীয় দফায় তার বিশ্বাসের প্রশংসা করলাম, তৃতীয় দফায় তাকে যুক্তি দেখালাম। তার বিশ্বাসের প্রশংসা আমি বেশিক্ষণ করতে পারিনি, কারণ সে প্রকৃত বিশ্বাসী না। শুধু সে না, আমার সহপাঠিদের অধিকাংশই প্রকৃত বিশ্বাসী না। প্রকৃত বিশ্বাসী হলে তারা দোযখের আগুনকেও বিশ্বাস করতো। আর দোযখের আগুনকে বিশ্বাস করলে তারা জীবনে অনৈসলামিক কিছুই করতে পারত না। অথচ আমার সহপাঠিরা ২৪ ঘণ্টা সময়ের প্রায় পুরোটাই অনৈসলামিক কাজ করে কাটায়। কুরআন তো বলেছে, তোমাকে ২৪ ঘণ্টাই ইবাদাত করতে হবে। তুমি যে কাজটি করছ তা ইসলাম অনুযায়ী করতে হবে। অথচ তারাও জানেও না, ইসলাম অনুযায়ী করা কাকে বলে? তাদের চেয়ে আমি বেশি জানি এবং একসময় বেশি পালন করতাম। তাহলে তাদের এই অন্ধ বিশ্বাসকে আমি কি বলতে পারি। হ্যা, আমি এই অন্ধ বিশ্বাসকে বংশীয় ধর্ম টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা বলতে পারি, অন্ধ প্রচেষ্টা, যুক্তিহীন প্রচেষ্টা। সংস্কার ধরে রাখার জন্যই সবকিছু। এই বিশ্বাস এক দিক থেকে ক্ষতিকর। কারণ তারা ধর্মের কিছু জানে না, কিন্তু ধর্ম নিয়ে আবেগীয় কিছু ঘটতে দেখলে জীবন দিয়ে দিতে দ্বিধা করবে না। ভবিষ্যতে যে কি আছে জানি না।</p>
<p>এখন কেউ যদি পরিপূর্ণভাবে ইসলাম পালন করে এবং আমার ঐ বন্ধুটির মত অন্ধ বিশ্বাস পোষণ করে তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই। আমি বলি, তুমি কুরআনে বিশ্বাস কর, যত ইচ্ছা কর। কুরআনে বিশ্বাস না করলে তো মুসলিমই হওয়া যাবে না। কিন্তু কুরআনের সাথে বিজ্ঞানকে মেলানোর চেষ্টা করো না। এই প্রচেষ্টা দেখেই আমার মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়েছে। পৃথিবীতে তো “ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি” নামে একটা সমাজই আছে। অনেকে দাবী করেন, সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি আবদুল্লাহ ইবন বাজ নাকি পৃথিবী সমতল বলে এক ফতোয়া জারি করেছিলেন। এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে দ্বিধা আছে বিধায় আমি বিস্তারিত লিখিনি। তারপরও বলি, বিশ্বাস করলে করেন, কিন্তু ধর্মের সাথে বিজ্ঞানকে মেলানোর চেষ্টা করবেন না। আর আধুনিক শিক্ষা যেহেতু বিজ্ঞানভিত্তিক তাই বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট সবকিছু আমাদের হাতে ছেড়ে দিয়ে ধর্ম নিয়ে আলাদা থাকুন।</p>
<p><strong>তথ্যসূত্র</strong></p>
<p>১. http://www.mukto-mona.com/Articles/avijit/Quran_miracle.htm<br />
২. http://www.mukto-mona.com/Articles/mumin_salih/myth_scientific_quran.htm<br />
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/Flat_Earth<br />
৪. জাকির নায়েকের লেকচার সিরিজ – ৫: কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান সামঞ্জস্যপূর্ণ নাকি অসামঞ্জস্যপূর্ণ<br />
৫. http://www.faithfreedom.org/forum/viewtopic.php?t=23751</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/710/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/710/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/710/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/710/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/710/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/710/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/710/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/710/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/710/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/710/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/710/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/710/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/710/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/710/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=710&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/09/islami-bigganer-pouranik-kahini/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>মহাজাগতিক স্ফীতি কি &#8216;মহা বিস্ফোরণ&#8217;-এর বিস্ফোরণ?- সমীকরণবিহীন সংস্করণ</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/09/cosmic-inflation-without-equations/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/09/cosmic-inflation-without-equations/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 09 Nov 2011 10:25:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=707</guid>
		<description><![CDATA[[চার খণ্ডে এই সুবর্ণরেখাতে প্রকাশ করা হয়েছিল। এখানে সবগুলো একসাথে করে একটি অখন্ড সংস্করণ প্রকাশ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন আরও অনুবাদ আসবে বলে আশা রাখি।] [মহাজাগতিক স্ফীতি তত্ত্বের জনক অ্যালান গুথ-এর "WAS COSMIC INFLATION THE 'BANG' OF THE BIG BANG?" &#8230; <a href="http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/09/cosmic-inflation-without-equations/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=707&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>[চার খণ্ডে এই সুবর্ণরেখাতে প্রকাশ করা হয়েছিল। এখানে সবগুলো একসাথে করে একটি অখন্ড সংস্করণ প্রকাশ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন আরও অনুবাদ আসবে বলে আশা রাখি।]</p>
<p>[মহাজাগতিক স্ফীতি তত্ত্বের জনক অ্যালান গুথ-এর "<a href="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Guth_contents.html">WAS COSMIC INFLATION THE 'BANG' OF THE BIG BANG?</a>" প্রবন্ধটির হুবহু বঙ্গানুবাদ]</p>
<p><strong>১. ভূমিকা</strong></p>
<p><em>লুক্রেটিয়াস ঘোষণা করেছিলেন, শূন্য থেকে কিছুই সৃষ্টি হতে পারে না। তার সেই দাবীর ২০০০ বছর পর আজ মহাজাগতিক স্ফীতি তত্ত্ব দাবী করছে, তিনি ভুল বলেছিলেন।</em><span id="more-707"></span></p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/06/lucretius-friedmann-guth.jpg"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/06/lucretius-friedmann-guth.jpg?w=640" alt="" title="lucretius-friedmann-guth"  class="aligncenter size-full wp-image-524" /></a><br />
<!--more--><br />
১৯২২ সালে যখন রাশিয়ার অজ্ঞাতনামা আবহাওয়াবিদ আলেকসান্দর ফ্রিদমান বললেন, মহাবিশ্ব সম্ভবত প্রসারিত হচ্ছে, তখন আইনস্টাইন নিশ্চিত ছিলেন যে ফ্রিদমান ভুল করেছেন। এর ৫ বছর আগে আইনস্টাইন একটি স্থির মহাবিশ্বের মডেল প্রকাশ করেছিলেন এবং তখন পর্যন্ত একেই সঠিক বলে মনে করছিলেন। নিজের তত্ত্বের উপর এতোই বিশ্বাস ছিল যে হিসাব ভুল করে আইনস্টাইন &#8220;ৎসাইটশ্রিফ্ট ফুর ফিজিক&#8221;-এ প্রকাশিত একটি চিঠিতে দাবী করে বসলেন, ফ্রিদমানের তত্ত্ব শক্তির নিত্যতা সূত্র লংঘন করে। এর ৮ মাস পর ফ্রিদমানের এক সহকর্মী আইনস্টাইনের সাথে দেখা করার পর তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে একটি পাল্টা চিঠি প্রকাশ করেন। এই চিঠিতে বলেন, সাধারণ আপেক্ষিকতা সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সম্ভাবনাকে সমর্থন করে।</p>
<p>ফ্রিদমানের ১৯২২ সালের গণনা থেকে যে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বের জন্ম হয়েছিল তা আজ বিশ্বতত্ত্বে সর্বজন স্বীকৃত। ১৯২০-এর দশকে ভিস্টো মেলভিন স্লাইফার প্রথম মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং ১৯২৯ সালে এডুইন হাবল একে একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যার নাম &#8220;হাবল নীতি&#8221;: গড়ে প্রতিটি ছায়াপথই আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং এই পশ্চাদপসরণের বেগ তাদের দূরত্বের সমানুপাতিক। ১৯৬৫ সালে আরনো পেনজিয়াস এবং রবার্ট উইলসন অণুতরঙ্গ বিকিরণের একটি পটভূমি আবিষ্কার করেন যা সব দিক থেকে সমানভাবে পৃথিবীতে আসছে। এটি হচ্ছে অত্যন্ত ঘন এবং উত্তপ্ত সেই আদিম অগ্নিগোলকের স্মারকচিহ্ন। বর্তমানে কোবে (COBE &#8211; Cosmic Background Explorer) উপগ্রহের তথ্য থেকে আমরা জানি, আদিম মহাবিশ্বের উত্তপ্ত পদার্থ থেকে আসা তাপীয় বিকিরণের বর্ণালী যেমন হওয়া উচিত এই পটভূমি বিকিরণের বর্ণালী ঠিক তেমনই, পার্থক্য খুব বেশি হলে ১% এর ৩০ ভাগের মাত্র ১ ভাগ। পাশাপাশি আদিম মহাবিশ্বে ঘটে যাওয়া কেন্দ্রীন সংশ্লেষের হিসাব থেকে দেখা গেছে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব মহাবিশ্বে উপস্থিত হালকা মৌলসমূহের কেন্দ্রীনের (নিউক্লিয়াস) প্রাচুর্য খুব ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। আদিম কেন্দ্রীন সংশ্লেষের সময় সৃষ্টি হওয়া এই হালকা কেন্দ্রীনগুলো হচ্ছে হাইড্রোজেন, ডিউটেরিয়াম, হিলিয়াম-৩, হিলিয়াম-৪ এবং লিথিয়াম-৭ এর। আমরা মনে করি, ভারী মৌলসমূহ আরও অনেক পরে তারার কেন্দ্রে উৎপন্ন হয়েছে এবং তাদের বিস্ফোরণের পর আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।</p>
<p>মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রমাণ হচ্ছে: হাবল নীতি, আদিম কেন্দ্রীন সংশ্লেষ এবং মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ। এত সফলতা সত্ত্বেও এটি অসম্পূর্ণ, অন্তত এর ধ্রুপদী ব্যাখ্যাটি অসম্পূর্ণ। নাম মহা বিস্ফোরণ হলেও আসলে এটি কোন বিস্ফোরণ বিষয়ক তত্ত্ব নয়। এর মাধ্যমে একটি বিস্ফোরণের ফলাফল ব্যাখ্যা করা যায়, কিন্তু বিস্ফোরণ নিয়ে সে কিছুই বলে না। আদি মহাবিশ্ব কিভাবে সম্প্রসারিত এবং শীতল হয়েছে, পদার্থ জড়ো হয়ে কিভাবে ছায়াপথ ও তারা গঠন করেছে এর সবকিছু এই তত্ত্বের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু প্রাক-আদিম সেই বিস্ফোরণের পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে সে সম্পূর্ণ নিরব। কিসের বিস্ফোরণ ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং বিস্ফোরণের আগে কি ঘটেছিল তা নিয়ে সে কিছুই বলে না।</p>
<p>অন্যদিকে স্ফীতিশীল মহাবিশ্ব স্বয়ং বিস্ফোরণের ব্যাখ্যা দেয় এবং অনেক সমাধানহীন প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর এনে দেয়।</p>
<p><strong>২. একটি অতি-অসাধারণ বিস্ফোরণ</strong></p>
<p><em>স্ফীতি একটি বুনো আগুন, কোনভাবে সৃষ্টি হতে পারলেই সে পুরো বন অধিকার করে নেবে।</em></p>
<p>কি হতে পারে মহা বিস্ফোরণের কারণ?- কোন বিশালকায় টিএনটি-র ঝলসে উঠা? কোন তাপ-নিউক্লীয় বিস্ফোরণ? কিংবা হয়ত পদার্থ ও প্রতিপদার্থের বিশাল পিণ্ডের ধাক্কায় এক মহাজাগতিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে অপরিমেয় শক্তির সৃষ্টি হয়েছিল।</p>
<p>প্রকৃতপক্ষে উপরের কোন প্রক্রিয়াই মহাজগতের মহা বিস্ফোরণ ব্যাখ্যা করতে পারে না। দুইটি বিশেষ কারণে মহা বিস্ফোরণ আমাদের ধারণা-জগতের সকল বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।</p>
<p>প্রথমত, মহা বিস্ফোরণ অনেক বড় স্কেলেও প্রচণ্ড সমসত্ত্ব ছিল, কোন সাধারণ বিস্ফোরণ যা ব্যাখ্যা করতে পারে না। আপাত দৃষ্টিতে অবশ্য মহাবিশ্বকে অসমসত্ত্ব মনে হয়: পেলো আল্টো থেকে সান ফ্রানসিস্কো অনেক আলাদা, তারা, ছায়াপথ এবং ছায়াপথ স্তবক মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে আছে, সর্বত্র সমানভাবে নেই। কিন্তু বিশ্বতত্ত্বের দৃষ্টিতে এই সব ভৌত গঠনই খুব ছোট, বড় স্কেলে মহাবিশ্ব প্রায় সমসত্ত্ব। উদাহরণ হিসেবে মহাবিশ্বকে অনেকগুলো ঘনকে ভাগ করা যাক যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১০০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ। হিসাব করলে দেখা যাবে বিভিন্ন ভৌত রাশির (যেমন ঘনত্ব, একক আয়তনে ছায়াপথের সংখ্যা, প্রভা ইত্যাদি) মান সবগুলো ঘনকেই সমান। ছায়াপথের জরিপ করলে এই সমসত্ত্বতা দেখা যায়, তবে এর পক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ তথা সিএমবি। কোবে উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য, যেগুলো পরে ভূকেন্দ্রিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, থেকে দেখা যায় সকল দিক থেকে আসা সিএমবি বিকিরণের তাপমাত্রা প্রায় সমান- সর্বোচ্চ পার্থক্য ১ লক্ষ ভাগের মাত্র ১ ভাগ।</p>
<p>সাধারণ বিস্ফোরণের মাধ্যমে এত সমসত্ত্ব কোন মহাবিশ্ব যে সৃষ্টি হতে পারে না তা বুঝতে হলে সিএমবি নিয়ে আরেকটু জানতে হবে। আদিম মহাবিশ্ব এত উত্তপ্ত ছিল যে পরমাণুর কক্ষপথ থেকে সকল ইলেকট্রন বের করে আনা সম্ভব ছিল। পরমাণুর কেন্দ্রিন এবং মুক্ত ইলেকট্রনের মাধ্যমে এ কারণেই আদিম প্লাজমা তথা আয়নিত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। প্লাজমা খুব অনচ্ছ হওয়ায় বর্তমানের সিএমবি সে সময় অবিরাম শোষিত ও বিকিরিত হচ্ছিল। তবে মহা বিস্ফোরণের ৩ লক্ষ বছর পর তাপমাত্রা বেশ নিচে নেমে যাওয়ায় ইলেকট্রন কেন্দ্রিনের সাথে মিলিত হয়ে নিরপেক্ষ পরমাণু গঠন করে। মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় গ্যাস হয়ে পরে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, সিএমবি-র ফোটন তাই শোষিত বা পুনঃবিকিরিত না হয়ে মুক্তভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সিএমবি সরলরেখা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। সুতরাং সিএমবি ৩ লক্ষ বছর বয়সী মহাবিশ্বের চিত্র তুলে ধরে, ঠিক যেমন সামনে ধরে রাখা একটি কাগজ থেকে প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখে আসলে আলো যে সময় কাগজের পৃষ্ঠ ছেড়েছিল সে সময়ের একটি চিত্র ভেসে উঠে। সিএমবি থেকে দেখা যায় ৩ লক্ষ বছর বয়সী মহাবিশ্বের এক স্থানের সাথে অন্য স্থানের তাপমাত্রা পার্থক্য ছিল খুবই কম, মাত্র ১ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ।</p>
<p>অনেক ক্ষেত্রেই সম-তাপমাত্রা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়, কারণ যথেষ্ট সময় পেলে এবং বাইরে থেকে কোন বল প্রয়োগ করা না হলে যেকোন ব্যবস্থার তাপমাত্রাই সাম্যাবস্থায় নেমে আসে। কিন্তু মহা বিস্ফোরণের প্রমিত মডেলে এই সময়েরই বড় অভাব, মহাবিশ্ব এত দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছিল যে সাম্যাবস্থায় আসার মত যথেষ্ট সময় ছিল না। আরও ভাল বোঝার জন্য ধরা যাক মহাবিশ্ব অসংখ্য রক্তবর্ণ জীবে ভর্তি যাদের প্রত্যেকের আছে একটি করে চুল্লী এবং রেফ্রিজারেটর। প্রত্যেকেরই উদ্দেশ্য হচ্ছে মহাবিশ্বকে সমতাপমাত্রায় নিয়ে আসা। কিন্তু মহা বিস্ফোরণের ৩ লক্ষ বছর পর যদি জীবগুলো এই কাজটি সত্যিই করতে চায় তাহলে তাদেরকে আলোর বেগের ১০০ গুণ বেগে পরষ্পরের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ডায়নামাইটের দণ্ড বা পদার্থ-প্রতিপদার্থের বল কেউই যেহেতু আলোর চেয়ে বেশি বেগে তথ্য স্থানান্তর করতে পারে না সেহেতু তাদের দ্বারা এই সাম্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সুতরাং মহা বিস্ফোরণের ধ্রুপদী মডেলে কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই ধরে নিতে হয়, একেবারে সূচনা থেকেই মহাবিশ্ব আদিম অগ্নি-প্লাজমায় পূর্ণ হয়ে ছিল। এই প্লাজমার সর্বত্র শুরু থেকেই তাপমাত্রা সমান ছিল- এটি ধরেই নিতে হয়, কোন ভৌত প্রক্রিয়া দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এই সমস্যাটিকে বলা হয় &#8220;দিগন্ত সমস্যা&#8221;, যেহেতু আলোর বেগের চেয়ে কোনকিছুর বেগ বেশি হতে পারে না এটা ধরে নিয়ে সর্বোচ্চ যে দূরত্ব পর্যন্ত তথ্যের আদান প্রদান ঘটতে পারে সেই দূরত্বকে দিগন্ত বলা হয়।</p>
<p>মহা বিস্ফোরণের দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে, স্বাভাবিক বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্টি হয় &#8220;সমতলের সমস্যা&#8221; বা ফ্ল্যাটনেস প্রবলেম। বর্তমান বাস্তবতার সাথে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বকে মেলাতে হলে, আদি মহাবিশ্বের পদার্থ ঘনত্ব ১ এর খুব কাছাকাছি হতে হবে। শুরুতেই কিভাবে ভরের ঘনত্ব রাশির মান ১ হল সেটাই বোধগম্য নয়।</p>
<p>এটি বুঝতে হলে প্রথমেই একটু শব্দজ্ঞান ঝালাই করে নিতে হবে। মহাবিশ্বের ঘনত্ব যদি একটি নির্দিষ্ট মানের (যাকে বলে ক্রান্তীয় ঘনত্ব) চেয়ে বেশি হয় তাহলে সে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ থামিয়ে দিতে পারবে এবং সংকোচন শুরু হবে, সংকুচিত হতে হতে মহাবিশ্ব এক আদি বিন্দুতে ফিরে যাবে যাকে অনেক সময় মহা ধ্বস বলা হয়। আবার মহাবিশ্বের ঘনত্ব যদি ক্রান্তীয় ঘনত্বের চেয়ে কম হয় তাহলে তা আজীবন সম্প্রসারিত হতে থাকবে। প্রকৃত ঘনত্ব এবং ক্রান্তীয় ঘনত্বের অনুপাতকে বিশ্বতত্ত্ববিদরা গ্রিত অক্ষর &#8220;Ω&#8221; দিয়ে চিহ্নিত করেন। এখানে ভরের ঘনত্ব রাশি বলতে আমি Ω কেই বুঝিয়েছি। সাধারণ আপেক্ষিকতা বলে মহাবিশ্বের জ্যামিতি ইউক্লিডীয় হবে কেবল যদি Ω-র মান ১ হয়, অর্থাৎ যদি মহাবিশ্বের ঘনত্ব ক্রান্তীয় ঘনত্বের সমান হয়।</p>
<p>Ω-র মান নির্ণয় করা খুব কঠিন, তবে এটা বলা যেতে পারে যে তা ০.১ ও ২ এর মধ্যে। প্রথম দৃষ্টিতে এই ব্যাপ্তি অনেক বড় মনে হতে পারে। কিন্তু সময়ের সাথে মহাবিশ্বের বিবর্তন ধর্তব্যের মধ্যে আনলে একেবারেই ভিন্ন একটি চিত্র ফুটে উঠে। Ω=১ মহাজাগতিক বিবর্তনের খুব অস্থিতিশীল একটি সাম্যাবস্থা, অনেকটা ধারালো মাথার উপরে একটি পেন্সিলকে দাঁড় করিয়ে রাখার মত। লক্ষ্যণীয় এখানে অস্থিতিশীল সাম্যাবস্থা বলা হচ্ছে, অর্থাৎ Ω-র মান একবার ১ হয়ে গেলে তা আজীবনই ১ থাকবে, অর্থাৎ মহাবিশ্ব সাম্যাবস্থায় থাকবে; ঠিক যেমন একবার পেন্সিলটিকে ধারালো মাথার উপর দাঁড় করাতে পারলে এবং পরবর্তীতে কোন বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে তা আজীবন সেই উল্লম্ব অবস্থায় থাকবে। আর অস্থিতিশীল বলার অর্থ হচ্ছে, Ω-র মান ১ থেকে একটু কমে বা বেড়ে গেলে তার প্রভাব খুব দ্রুত বাড়তে থাকবে। জন্মের সময় মহাবিশ্বের Ω যদি ১ থেকে একটু কম হত তাহলে সে খুব দ্রুত অসীমের দিকে সম্প্রসারিত হতে থাকতো, আর ১ থেকে একটু বেশি হলে তা খুব দ্রুত শূন্যের দিকে পতিত হতো। বর্তমানে মহাবিশ্বের Ω যদি ১ এর খুব কাছাকাছি হয় তাহলে একেবারে আদিতে তাকে ১ এর আরও অনেক কাছাকাছি হতে হবে। উদাহরণ হিসেবে মহা বিস্ফোরণের ১ সেকেন্ড পরের অবস্থা চিন্তা করা যাক যখন মহা বিস্ফোরণ কেন্দ্রীন সংশ্লেষ এর প্রক্রিয়াগুলো মাত্র শুরু হচ্ছিল। Ω-র মান বর্তমানে যত তা সত্যি হতে হলে আদি মহাবিশ্বে এর মান ১৫ দশমিক স্থান পর্যন্ত ১ এর সমান হওয়া উচিত ছিল।</p>
<p>একটি সাধারণ বিস্ফোরণ এই অতিমাত্রার ফাইন-টিউনিং কে কোনভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারে না। এবং সত্যি বলতে মহা বিস্ফোরণের ধ্রুপদী মডেল এর কোন ব্যাখ্যা দিতেও পারে না। ভর ঘনত্ব এবং সম্প্রসারণের হারের আদি মান এই তত্ত্বের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায় না বরং অনুমান করে নিতে হয়। আমরা যদি ধরে না নেই যে মহা বিস্ফোরণের ১ সেকেন্ড পরে ভর ঘনত্বের মান ক্রান্তীয় ঘনত্বের 0.999999999999999 গুণ থেকে 1.000000000000001 গুণের মধ্যে ছিল তাহলে তাহলে মহা বিস্ফোরণের ধ্রুপদী তত্ত্ব বর্তমান মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করতে পারবে না।</p>
<p><strong>৩. স্ফীতিশীল মহাবিশ্ব</strong></p>
<p>মহা বিস্ফোরণের প্রক্রিয়া খুবই ব্যতিক্রমী ধরণের হলেও বর্তমানে আমরা এমন এক ভৌত প্রক্রিয়ার কথা জানি যা দিয়ে তার অদ্ভুতুড়ে বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করা যায়। প্রক্রিয়াটির নাম মহাজাগতিক স্ফীতি।</p>
<p>স্ফীতি সম্ভব হয়েছে পদার্থের এক বিশেষ অবস্থার অস্তিত্বের কারণে। পদার্থ এই অবস্থায় থাকলে তার শক্তি ঘনত্ব হয় খুব বেশি এবং অল্প সময়ের মধ্যে সেই ঘনত্ব কমিয়ে আনার কোন উপায় থাকে না। এমন অবস্থার নাম &#8220;মেকি ভ্যাকুয়াম&#8221; বা ফলস ভ্যাকুয়াম (ভ্যাকুয়ামের বাংলা শূন্যতা বা শূন্যস্থান হলেও তা সঠিক অর্থ বহন করে না। তাই ইংরেজি শব্দটিই রেখে দেয়া হল)। এখানে &#8220;ভ্যাকুয়াম&#8221; দ্বারা সম্ভাব্য সর্বনিম্ন শক্তি ঘনত্বের অবস্থা বোঝানো হচ্ছে, আর &#8220;মেকি&#8221; অর্থ হচ্ছে অবস্থাটি ক্ষণস্থায়ী। আদি মহাবিশ্বে ১ সেকেন্ডই বিশাল সময়। এই প্রেক্ষাপটে বেশ দীর্ঘ একটি সময় ধরে মেকি ভ্যাকুয়াম ভান করতে থাকে যে, শক্তির ঘনত্ব কমানো সম্ভব নয়। কারণ আমরা জানি এই অবস্থায় শক্তি ঘনত্ব কমাতে অনেক সময় লাগে যা আদি মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।</p>
<p><strong>ক্রান্তীয় ভর ঘনত্ব এবং সমতলতা</strong></p>
<p>মহাবিশ্বের ক্রান্তীয় ভর ঘনত্ব তথা পদার্থের ক্রান্তীয় ঘনত্বকে একটি সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়:</p>
<p>ক্রান্তীয় ঘনত্ব = (৩ × হাবল ধ্রুবকের বর্গ) ÷ (৮ × পাই × মহাকর্ষীয় ধ্রুবক)</p>
<p>পদার্থের প্রকৃত ঘনত্বকে এই তাত্ত্বিক ক্রান্তীয় ঘনত্ব দিয়ে ভাগ করলে যা পাওয়া তাকে বলা যায় ওমেগা রাশি (গ্রিক বড় হাতের ওমেগা অক্ষর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়), যা বিশ্বতত্ত্বের অনেক সমীকরণে ব্যবহৃত হয়।</p>
<p>আইনস্টাইন যে মহাজাগতিক ধ্রুবক প্রস্তাব করেছিলেন অনেক সময় তাকে শূন্য ধরে নেয়া হয়। মহাজাগতিক ধ্রুবক শূন্য এবং ওমেগার মান ১-থেকে বেশি হলে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ একসময় থেমে যাবে এবং তা আবার সংকুচিত হতে শুরু করবে। কিন্তু মহাজাগতিক ধ্রুবকের মান শূন্য না হলে, পুনরায় সংকোচনের শর্ত অনেক জটিল হয়ে যায়। তবে সকল ক্ষেত্রেই ক্রান্তীয় ঘনত্বের সংজ্ঞা এক থাকে।</p>
<p>মহাবিশ্বে স্থানকালের জ্যামিতিক আকৃতি কেমন হবে তা একটি নির্দিষ্ট রাশি দ্বারা নির্ধারিত হয়। আলোচনার সুবিধার্থে রাশিটিকে জ্যামিতি নির্ধারক বলা যাক।</p>
<p>জ্যামিতি নির্ধারক = ওমেগা + {মহাজাগতিক ধ্রুবক ÷ (৩ × হাবল ধ্রুবকের বর্গ)}</p>
<p>এই রাশিটি ১ এর চেয়ে বেশি হলে মহাবিশ্ব নিজের উপর বেঁকে যাবে এবং সসীম আয়তনের একটি সীমানাবিহীন আবদ্ধ স্থান তৈরি করবে। এমন স্থানে ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি ১৮০ ডিগ্রির চেয়ে বেশি হবে এবং সরলরেখা বরাবর চলমান একটি নভোযান যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল নির্দিষ্ট সময় পর আবার সেখানেই ফিরে আসবে। কিন্তু জ্যামিতি নির্ধারকের মান ১ এর চেয়ে কম হলে মহাবিশ্বের স্থানিক জ্যামিতি হবে উন্মুক্ত, ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি হবে ১৮০ ডিগ্রির চেয়ে কম। আর রাশিটি একদম ১ হলে মহাবিশ্বের স্থান ইউক্লিডীয় তথা সমতল হবে।</p>
<p><strong>মেকি ভ্যাকুয়ামের পদার্থবিজ্ঞান</strong></p>
<p>স্কেলার ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করা হয় এমন যেকোন তত্ত্বে মেকি ভ্যাকুয়ামের উদ্ভব আবশ্যিক। স্কেলার ক্ষেত্র বলতে এমন ক্ষেত্র বোঝানো হয় যা তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্রের মত আচরণ করে কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে তার কোন দিক নেই। কণা পদার্থবিজ্ঞানের হিগস ক্ষেত্র বা অন্যান্য একীভূত তত্ত্বের অসংখ্য ক্ষেত্র স্কেলার ক্ষেত্রের উদাহরণ। উদাহরণ হিসেবে হিগস ক্ষেত্রের কথাই বলছি। এই ক্ষেত্রের মজার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ক্ষেত্রটি যখন ফুরিয়ে যায় তখন তার শক্তি ঘনত্বের মান সর্বনিম্ন হয় না, বরং শক্তি ঘনত্বের সর্বনিম্ন মান পাওয়া যায় এমন একটি সময় যখন ক্ষেত্রটি শূন্য হয়ে যায়নি। সাধারণ জ্ঞানের বিপরীতে এটি আমাদের বলছে: যখন ক্ষেত্রটির অস্তিত্ব থাকে না তখন তার ঘনত্ব অস্তিত্বশীল থাকাকালীন ঘনত্বের তুলনায় বেশি। নিচের চিত্রের মাধ্যমে পরিস্থিতিটি বোঝানো যেতে পারে।</p>
<p><img width="450" src="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Figures/figure1.jpeg" alt="" /></p>
<p>ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যখন <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=%5Cphi%3D%5Cphi_t+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='&#92;phi=&#92;phi_t ' title='&#92;phi=&#92;phi_t ' class='latex' /> তখন শক্তি ঘনত্বের মান শূন্য তথা সর্বনিম্ন, কিন্তু স্কেলার ক্ষেত্রের মান শূন্য নয় বরং <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=%5Cphi_t+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='&#92;phi_t ' title='&#92;phi_t ' class='latex' />. একে তবে বলতে হবে আসল ভ্যাকুয়াম। কিন্তু যখন স্কেলার ক্ষেত্রের মান শূন্য তখন তার ঘনত্বের মান <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=%5Cmu_t+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='&#92;mu_t ' title='&#92;mu_t ' class='latex' />. অস্তিত্বহীনার এই সসীম ঘনত্বের দশাকেই বলা হয় মেকি ভ্যাকুয়াম। এরপর ক্ষেত্রের মান যত বাড়তে থাকে ঘনত্ব একটি মালভূমি বেয়ে ততই আস্তে আস্তে কমতে থাকে। একটু পর ঘনত্ব উপত্যকা বেয়ে দ্রুত কমতে কমতে আসল ভ্যাকুয়ামের স্থানে শূন্যে নেমে আসে। তারপর আবার বাড়তে থাকে। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হলে স্কেলার ক্ষেত্র তার ঘনত্ব কমাতে চাইবে। কিন্তু মালভূমিটি যদি যথেষ্ট সমতল হয় তাহলে বোঝাই যাচ্ছে সেই ঘনত্ব কমাতে (মালভূমির চূড়া থেকে পর্বতের ঢাল বেয়ে উপত্যকায় নেমে আসতে) যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। স্বল্প সময়ের জন্য মেকি ভ্যাকুয়াম একটি ভ্যাকুয়াম হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ তার ঘনত্ব কমানো যায় না।</p>
<p>মেকি ভ্যাকুয়ামের এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণ তার ঋণাত্মক চাপ যার মান আবার অনেক বেশি। যন্ত্রকৌশলের দৃষ্টিতে ঋণাত্মক চাপ মানে হচ্ছে চোষণ। কিন্তু চোষণ ক্রিয়া তো মহাবিশ্বের দানবীয় সম্প্রসারণের কারণ হতে পারে না। তবে এও মনে রাখতে হবে, চোষণ তখনই সম্ভব যখন চাপের পার্থক্য থাকবে, চাপ মোটামোটি সমসত্ত্ব হলে তাই তা গুরুত্ব হারায়। ওদিকে আবার সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুসারে এ সময় একটি মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শক্তি ঘনত্বের মত চাপও মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র তৈরি করে, চাপ ধনাত্মক হলে মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র হয় আকর্ষণধর্মী। সুতরাং মেকি ভ্যাকুয়ামের ঋণাত্মক চাপ একটি বিকর্ষণধর্মী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের সৃষ্টি করে যা মহাজাগতিক স্ফীতি তথা অতি স্বল্প সময়ে অনেক বেশি সম্প্রসারণের চালিকাশক্তি হতে পারে।</p>
<p>স্ফীতি তত্ত্বের অনেক সংস্করণ আছে। তবে সাধারণভাবে সবগুলো তত্ত্বই ধরে নেয় আদি মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র অংশ কোন না কোনভাবে একটি মেকি ভ্যাকুয়াম দশায় পতিত হয়েছিল। এই দশায় আসার অনেক কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে: হয়ত আদি মহাবিশ্বে দশা পরিবর্তনের সময় হঠাৎ সবকিছু অতিমাত্রায় শীতল হতে শুরু করেছিল, অথবা হয়ত দৈব অস্থিতিশীলতা বা ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কাকতালীয় ভাবেই এই দশার জন্ম হয়েছে। দৈব অস্থিতিশীলতা সবচেয়ে যৌক্তিক মনে হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে স্ফীতিশীল অংশটি অনেক গুণ বড় হয়ে যাবে যেখানে স্ফীতিহীন অংশটি আণুবিক্ষণিক স্তরেই পরে থাকবে, যা ঘটার সম্ভাবনা বেশ কম। তবে মোদ্দা কথা হচ্ছে স্ফীতি একটি বুনো আগুন, কোন না কোনভাবে শুরু হতে পারলে সে নিশ্চিত পুরো বন অধিকার করে নেবে।</p>
<p>আদি মহাবিশ্বের একটি অংশ হঠাৎ মেকি ভ্যাকুয়াম দশায় পতিত হলে সে অংশটি বিকর্ষণধর্মী মহাকর্ষীয় বলের কারণে সূচকীয় হারে সম্প্রসারিত হতে থাকবে। মহা বিস্ফোরণের বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্ট্য মেনে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে গেলে এ সময় মহাবিশ্বকে পূর্বের তুলনায় অন্তত <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=10%5E%7B25%7D+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='10^{25} ' title='10^{25} ' class='latex' /> গুণ বড় হতে হবে, এই সম্প্রসারণের আবার কোন উর্ধ্বসীমা নেই। একসময় মেকি ভ্যাকুয়ামের ক্ষয় হবে, তার ভেতর যে শক্তি জমা ছিল তা বেরিয়ে আসবে। এই নিঃসৃত শক্তি কণাগুলোর একটি উত্তপ্ত ও সমসত্ত্ব স্যুপ তৈরি করবে, যা মহা বিস্ফোরণের প্রথাগত তত্ত্বসমূহের সূচনা বিন্দু। এখানেই স্ফীতি-তত্ত্ব প্রথাগত মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বের সাথে মিলিত হয়ে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে পূর্ণতা দেয়।</p>
<p>স্ফীতি-তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্ব অতি ক্ষুদ্র অবস্থা থেকে উৎপন্ন হয়েছে, যার ব্যস ছিল প্রায় <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=10%5E%7B-24%7D+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='10^{-24} ' title='10^{-24} ' class='latex' /> সেন্টিমিটার অর্থাৎ একটি প্রোটনেরও বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ। এরপর সম্প্রসারণ শুরু হয় এবং মেকি ভ্যাকুয়াম শক্তি ঘনত্বকে কমতে দেয় না। শক্তির ঘনত্ব সমান রেখে আয়তন বাড়াতে থাকলে মোট শক্তির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। স্ফীতির সময় মহাবিশ্বের ব্যস যদি <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=10%5E%7B25%7D+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='10^{25} ' title='10^{25} ' class='latex' /> গুণ বাড়ে তাহলে শক্তি বাড়বে <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=10%5E%7B75%7D+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='10^{75} ' title='10^{75} ' class='latex' /> গুণ। একে আপাতদৃষ্টিতে শক্তির নিত্যতা সূত্রের লংঘন মনে হলেও আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান প্রকৃতপক্ষে একেই বৈধতা দিচ্ছে।</p>
<p>শক্তির নিত্যতা নিয়ে এই হেঁয়ালীর সমাধান লুক্কায়িত আছে মহাকর্ষের ব্যবহারের মাঝে। অনেকে ব্যাপারটি গ্রহণ করতে না পারলেও বাস্তবতা হচ্ছে, নিউটন এবং এমনকি আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুযায়ী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের শক্তি সব সময় ঋণাত্মক। স্থির তড়িৎ ক্ষেত্রের শক্তি ঘনত্বের সমীকরণ যেভাবে প্রতিপাদন করা হয় ঠিক সেভাবেই নিউটনের মহাকর্ষ ক্ষেত্রের শক্তির রূপ বের করা সম্ভব, কেবল পার্থক্য হচ্ছে মহাকর্ষের ক্ষেত্রে মানটি ঋণাত্মক হবে। কারণ দুটি ধনাত্মক আধান পরষ্পরকে বিকর্ষণ করলেও দুটি ধনাত্মক ভর করে আকর্ষণ। মহাকর্ষের ঋণাত্মক শক্তি যে পদার্থের ধনাত্মক শক্তির বিপরীতে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে এই ধারণা ১৯৩২ সালে রিচার্ড টলম্যান প্রথম ব্যক্ত করেন। কিন্তু শক্তি স্থানান্তরের কোন যুৎসই প্রক্রিয়া তখন জানা ছিল না।</p>
<p>স্ফীতির সময় যখন পদার্থের শক্তি ঘনত্ব <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=10%5E%7B75%7D+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='10^{75} ' title='10^{75} ' class='latex' /> গুণ বা তারও বেশি বেড়ে যায় তখন একে ভারসাম্যে রাখার জন্য মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের শক্তিও ঋণাত্মক দিকে প্রায় একই হারে বাড়তে থাকে। পদার্থ ও মহাকর্ষের মোট শক্তি তাই সবসময় সমান থাকে, এই সামষ্টিক শক্তির মান হয় খুবই কম, অনেকের মতে একেবারে শূন্যও হতে পারে। সুতরাং শক্তির নিত্যতা সূত্র মহাজাগতিক স্ফীতির কোন উর্ধ্বসীমা বেঁধে দিতে পারে না, কারণ উল্টো দিকে মহাকর্ষীয় শক্তি বৃদ্ধিরও কোন সীমা-পরিসীমা নেই।</p>
<p>মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র থেকে শক্তি ধার করার এই প্রক্রিয়া মহাজাগতিক স্ফীতির জন্য এনে দেয় এক বিশাল সুযোগ। মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব বলতো, মহাবিশ্বের সকল পদার্থ-কণা বা তাদের পূর্বসূরীরা আদি থেকেই অস্তিত্বশীল ছিল, তবে প্রথমে তারা একটি ক্ষুদ্র স্থানে আবদ্ধ ছিল। স্ফীতিশীল মহাবিশ্বে এই ধারণা পোষণের কোন প্রয়োজন পড়ে না। স্ফীতি এমন এক প্রক্রিয়ার বাণী শোনায় যার মাধ্যমে এই পুরো মহাবিশ্ব মাত্র কয়েক আউন্স আদিম পদার্থ থেকে গঠিত হতে পারে। দেমোক্রিতোস এবং লুক্রেটিয়াসের প্রাচীন ধারণা, &#8220;শূন্য থেকে কিছুই সৃষ্টি হতে পারে না&#8221;- এর সাথে স্ফীতি-তত্ত্ব মিলে না। স্ফীতি-তত্ত্ব ঠিক হলে বলতে হয়, শূন্য (বা অন্তত সামান্য কিছু) থেকেই সবকিছুর সৃষ্টি হওয়া সম্ভব, তখন এই মহাবিশ্বকে বলা যাবে &#8220;দি আল্টিমেট ফ্রি লাঞ্চ&#8221;।</p>
<p><strong>মেকি ভ্যাকুয়ামের চাপ</strong></p>
<p>শক্তির নিত্যতা সূত্রের সরল ধারণা থেকে খুব সহজেই মেকি ভ্যাকুয়ামের চাপ নির্ণয় করা সম্ভব। নিচের চিত্রের মত ধরে নেয়া যাক, একটি বাক্সে মেকি ভ্যাকুয়াম আছে।</p>
<p><img width="450" src="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Figures/figure2.jpeg" alt="" /></p>
<p>হিসাব সহজ করার জন্য আরও ধরে নেয়া যাক বাক্সটি খুব ছোট এবং তথাপি মহাকর্ষ বলের প্রভাব অতি নগণ্য। মেকি ভ্যাকুয়ামের শক্তি ঘনত্ব সবসময় স্থির। তাহলে বাক্সের ভেতর মোট শক্তির পরিমাণ হবে,</p>
<p>মোট শক্তি = মেকি ভ্যাকুয়ামের শক্তি ঘনত্ব × বাক্সের আয়তন</p>
<p>বাক্সের সাথে একটি পিস্টন লাগানো আছে। ধরা যাক পিস্টনটি বাইরের দিকে টেনে বাক্সের আয়তন একটু বৃদ্ধি করা হল। বাক্সের ভেতর সাধারণ পদার্থ থাকলে এক্ষেত্রে তার ঘনত্ব কমার কথা। কিন্তু মেকি ভ্যাকুয়াম এত কম সময়ে নিজের ঘনত্ব কমাতে পারে না, সুতরাং আয়তন বাড়লেও শক্তির ঘনত্ব সমান থাকে, অর্থাৎ মোট শক্তির পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু শক্তির নিত্যতা সূত্র অনুযায়ী শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ সম্ভব নয়, কেবল এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় রূপান্তর সম্ভব। তাহলে অতিরিক্ত যে শক্তির সৃষ্টি হল তা সরবরাহ করতে হবে সেই শক্তিকে যে পিস্টনটি বাইরের দিকে টেনেছে। অর্থাৎ নিত্যতা বজায় রাখতে হলে পিস্টনের উপর একটি বল প্রয়োগ করতে হবে, মেকি ভ্যাকুয়ামের সাপেক্ষে সেই বলের দিক হবে ঋণাত্মক। কারণ কাজটি মেকি ভ্যাকুয়ামের শক্তি পরিবর্তনের কারণে হয়নি। অর্থাৎ মেকি ভ্যাকুয়াম একটি ঋণাত্মক চাপ বা চোষণের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। সমীকরণের মাধ্যমে বলা যায়,</p>
<p>শক্তি পরিবর্তনের পরিমাণ = শক্তির ঘনত্ব × বাক্সের আয়তন বৃদ্ধির পরিমাণ<br />
সাধিত কাজের পরিমাণ = &#8211; চাপ × বাক্সের আয়তন বৃদ্ধির পরিমাণ<br />
শক্তি পরিবর্তনকে কাজের সমান হতে হবে, উপরের দুটি সমীকরণের বামপক্ষ তাই সমান। তাহলে ডানপক্ষকেও সমান হতে হবে, অর্থাৎ,</p>
<p>চাপ = &#8211; মেকি ভ্যাকুয়ামের শক্তি ঘনত্ব</p>
<p>চাপ ঋণাত্মক এবং মানের দিক দিয়ে অনেক বেশি। সাধারণ আপেক্ষিকতা বলে, যে মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের বেগ কমিয়ে দেয় তা (শক্তি ঘনত্ব + ৩ × চাপ)-এর সমানুপাতিক। তাহলে দেখা যাচ্ছে, মেকি ভ্যাকুয়ামের ঋণাত্মক চাপ এই ধনাত্মক শক্তি ঘনত্বকে অতিক্রম করে একটি সামষ্টিক বিকর্ষণধর্মী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের জন্ম দেয় যা সূচকীয় সম্প্রসারণের চালিকাশক্তি।</p>
<p><strong>৪. স্ফীতি এবং বিশেষ ধরণের বিস্ফোরণের</strong></p>
<p>আমরা প্রথমে বিশেষ ধরণের বিস্ফোরণ ব্যাখ্যা করেছিলাম, এরপরে ব্যাখ্যা করলাম স্ফীতি। এখন নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে স্ফীতির মাধ্যমে খুব সহজেই সেই বিশেষ ধরণের বিস্ফোরণ তৈরি করা সম্ভব।</p>
<p>প্রথমে দিগন্ত সমস্যার কথা ভাবা যাক। অনেক বড় স্কেলেও মহাবিশ্ব কিভাবে এত সমসত্ত্ব প্রথাগত মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব তার ব্যাখ্যা দিতে পারছিল না। সিএমবি আবিষ্কারের পর তা আরও অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল। সিএমবি প্রচণ্ড সমসত্ত্ব এবং সবদিকে একইরকম। দৃষ্টিসীমা বরাবর সিএমবি পর্যবেক্ষণ করলে ঘনত্ব এবং চাপের যে মান পাওয়া যায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে তথা সম্পূর্ণ বিপরীত দিকেও সেই একই মান পাওয়া যায়। কিন্তু মহা বিস্ফোরণের পর এতো দূরের দুটি স্থানের মধ্যে কিভাবে যোগাযোগ হয়েছিল এবং সেই যোগাযোগের মাধ্যমে কিভাবে সমসত্ত্বতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার কোন ব্যাখ্যা স্ফীতি তত্ত্বের জন্মের আগে দেয়া সম্ভব ছিল না। বর্তমানে মহাবিশ্বের ব্যসার্ধ্য প্রায় ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। মহা বিস্ফোরণের দিকে পেছাতে শুরু করলে এক সময় আমরা স্ফীতির সমাপ্তি বিন্দুতে উপনীত হব এবং সে পর্যন্ত স্ফীতি তত্ত্বের সাথে মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বের কোনই বিরোধ হবে না। কারণ স্ফীতি শেষ হওয়ার পর যা ঘটেছে তা মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব যেভাবে ব্যাখ্যা করে স্ফীতি-তত্ত্বও ঠিক সেভাবে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু আরেকটু পেছালে স্ফীতির যুগে চলে যাই আমরা যখন স্ফীতি-তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের আকস্মিক এবং দানবীয় সম্প্রসারণ ঘটেছিল। স্ফীতির পূর্বে মহাবিশ্বের আকার ছিল খুবই ছোট, মহা বিস্ফোরণ তত্ত্ব যতোটা ছোট বলে তার চেয়েও প্রায় <img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=10%5E%7B25%7D+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='10^{25} ' title='10^{25} ' class='latex' /> গুণ ছোট। তবে মনে রাখতে হবে এখানে কেবল পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের কথা বলা হচ্ছে। স্ফীতি-তত্ত্ব কখনোই সমগ্র মহাবিশ্ব নিয়ে কথা বলে না, পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব সে সময় এত ছোট থাকলেও সমগ্র মহাবিশ্ব অসীম বা যেকোন আকারের হতে পারে।</p>
<p>নিচের ছবিতে স্ফীতি তত্ত্ব এবং প্রথাগত মহা বিস্ফোরণ তত্ত্বের আলোকে মহাবিশ্বের আকারের একটি তুলনা দেখানো হয়েছে। প্রমিত তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্বের আকার যত হওয়ার কথা স্ফীতি (ইনফ্লেশন) তত্ত্ব অনুযায়ী তার তুলনায় অনেক কম আকার পাওয়া যাচ্ছে। ছোট্ট ফালির মাঝের সময়টুকুতে মহাবিশ্বের সূচকীয় সম্প্রসারণও দেখানো হয়েছে। স্ফীতির পূর্বে দুটি তত্ত্বের ফলাফল একেবারে ভিন্ন হলেও স্ফীতির পর দুজনে মহাবিশ্বকে ঠিক একইভাবে ব্যাখ্যা করে।</p>
<p><img width="450" src="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Figures/figure3.jpeg" alt="" /></p>
<p>প্রমিত বা প্রথাগত তত্ত্ব অনুযায়ী এত বড় মহাবিশ্বের সব জায়গা কিভাবে একই তাপমাত্রায় আসল তা ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না। কিন্তু স্ফীতি-তত্ত্ব সেই আকারটিই কমিয়ে এনে সমঘনত্ব ও তাপমাত্রা প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিল। এক কাপ কফি ঢাকনা ছাড়া কিছুক্ষণ রেখে দিলে যেভাবে কক্ষ তাপমাত্রায় নেমে আসে ঠিক সেভাবেই স্ফীতির পূর্বে ছোট্ট মহাবিশ্বের সব স্থানের তাপমাত্রা সমান হয়েছিল। অর্থাৎ স্ফীতি-তত্ত্ব অনুসারে সমতাপমাত্রা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্ফীতি শুরু হওয়ার আগে। এরপর স্ফীতি সেই ছোট্ট এবং সমসত্ত্ব মহাবিশ্বকে টেনে এত বড় করল যে তা পুরো মহাবিশ্বের জায়গা দখল করে নিল। এই সম্প্রসারণের সময় সমরূপতা সংরক্ষিত থাকল কারণ আমরা ধরে নেই পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো সব স্থান-কালে একই রকম।</p>
<p>স্ফীতি-তত্ত্ব সমতলের সমস্যারও একটি সহজ সমাধান দেয়। বর্তমানে মহাবিশ্বের ভর ঘনত্ব ক্রান্তীয় ঘনত্বের খুব কাছাকাছি, অর্থাৎ দুয়ের অনুপাত প্রায় ১। কিন্তু আমরা জানি &#8220;ওমেগা = ১&#8221; খুবই অস্থিতিশীল একটি অবস্থা। মহাজাগতিক বিবর্তনের পথ ধরে ওমেগা সবসময়ই ১ থেকে দূরে সরে যেতে চায়, তা সে যেদিকেই হোক। তারপর যদি বর্তমানে এর মান ১ এর এত কাছাকাছি হয় তাহলে শুরুতে তা প্রায় ১ ছিল বলেই ধরে নেয়া যায়। কিন্তু কিভাবে মহাবিশ্ব ওমেগার মান প্রায় ১ নিয়ে জন্ম নিল? ওমেগার মান ১ হওয়ার অর্থ হচ্ছে স্থান-কাল সমতল। অর্থাৎ শুরুতে মহাবিশ্ব সমতল ছিল যার কারণ আমরা বুঝতে পারছিলাম না। এজন্যই একে বলে সমতলের সমস্যা।</p>
<p>কিন্তু স্ফীতির যুগে মেকি ভ্যাকুয়াম দশার অদ্ভুত আচরণের কারণে মহাবিশ্বের বিবর্তন ব্যাখ্যাকারী সমীকরণগুলোতে বেশ কয়েকবার ধনাত্মক-ঋণাত্মক চিহ্নের পরিবর্তন ঘটে। ইতিমধ্যে বলেছি এ সময় মহাকর্ষ বল সবকিছু আকর্ষণ করে স্থান-কালের মন্দন ঘটানোর বদলে ত্বরণ ঘটায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওমেগার বিবর্তন যে সমীকরণ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় স্ফীতির সময় তাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন-পরিবর্তন ঘটে। স্ফীতি-যুগে মহাবিশ্বের ঘনত্ব খুব দ্রুত ও কার্যকরীভাবে ক্রান্তীয় ঘনত্বের সমান হতে শুরু করে। সাধারণ আপেক্ষিকতায় ক্রান্তীয় ভর ঘনত্ব ও স্থানের জ্যামিতিক সমতলতার যে সম্পর্ক রয়েছে তা মেনে নিলে এই আচরণ খুব সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। পৃথিবী গোলাকার হওয়া সত্ত্বেও আমরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে তাকে সমতল দেখি, কারণ তার আকার অনেক বড়, এত বড় যে আমাদের দৃষ্টিসীমা গোল আকৃতিটি বুঝতে পারে না। স্ফীতির সময় মহাবিশ্বের সমতল হয়ে যাওয়ার কারণও অনেকটা এমন। একটি ছোট বক্র স্থানকে টেনে অনেক বড় করা হলে তা সবসময়ই সমতল দেখায়, অর্থাৎ সীমিত স্কেলে তার বক্রতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পায়। নিচের ছবিতে সমাধানটি তুলে ধরা হয়েছে। গোলকটি যত বড় হতে থাকে তার পৃষ্ঠের বক্রতা তত হ্রাস পায়। একইভাবে স্ফীতি মহাবিশ্বের বক্রতা কমিয়ে আনে।</p>
<p><img width="450" src="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Figures/figure4.jpeg" alt="" /></p>
<p>সুতরাং যে অবস্থায়ই মহাবিশ্বের জন্ম হোক না কেন একটি ছোট স্ফীতি-যুগ তাকে প্রায় সমতল করে তার ওমেগার মান ১ এর খুব কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। দেখা যাচ্ছে, স্ফীতি তত্ত্ব মেনে নিলে মহাবিশ্ব ওমেগার মান ১ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে তা ধরে নিতে হয় না।</p>
<p>উপরন্তু ওমেগা ১ করার এই প্রক্রিয়া আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী করে: প্রক্রিয়াটিতে ওভারশুটিং হয়, যা থেকে বোঝা যায় বর্তমানেই ওমেগার মান ১ এর খুব কাছাকাছি হওয়া উচিত। উল্লেখ্য, আইনস্টাইনের মহাজাগতিক ধ্রুবকের মান শূন্য না হলে এই ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে ওমেগা নয় বরং জ্যামিতি নির্ধারক রাশির মান বর্তমানে ১ এর খুব কাছাকাছি হবে। এই রাশির প্রকৃত মান নির্ণয় করা গেলে স্ফীতির মডেলগুলো প্রমাণ করা যেতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় মহাবিশ্বে পদার্থের ঘনত্ব নির্ণয় অতোটা সোজা নয় কারণ অধিকাংশ পদার্থই গুপ্ত যাকে ইংরেজিতে ডার্ক ম্যাটার বলে। গুপ্ত পদার্থ সনাক্ত করা যায় না, অন্য পদার্থের উপর তাদের মহাকর্ষীয় টানই প্রমাণ করা যায় কেবল। সাম্প্রতিক ফলাফল অনুযায়ী ওমেগার মান ০.২ থেকে ১.১ এর মধ্যে হতে পারে। তবে নিকট ভবিষ্যতে সঠিক মানটি পাওয়া যাবে। ২০০১ সালে &#8220;মাইক্রোওয়েভ অ্যানাইসোট্রপি প্রোব&#8221; মহাকাশে যাচ্ছে মহাজাগতিক অনুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের মানচিত্র তৈরি করতে। এই মিশন ওমেগার মান ৫% সঠিকতার সাথে নির্ণয় করতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। (উল্লেখ্য &#8220;উইলকিনসন মাইক্রোওয়েভ অ্যানাইসোট্রপি প্রোব&#8221; সাফল্যের সাথে কাজ করেছে এবং বর্তমানে আমরা নিশ্চয়তার সাথে জানি ওমেগার মান প্রায় ১ এবং স্থান-কালের জ্যামিতিক আকৃতি প্রায় সমতল। তবে এর মানে এই নয় যে পুরো মহাবিশ্ব সমতল- আমরা মহাবিশ্বের যেটুকু পর্যবেক্ষণ করতে পারি সেটুকু সমতল, প্রকৃত মহাবিশ্ব আরও অনেক বড় এবং এমনকি বক্রও হতে পারে। ঠিক যেমন মাটিতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত বুদ্ধির সাহায্যে পৃথিবীকে আমাদের সমতলই মনে হবে, তার মানে এই নয় যে পৃথিবী সমতল, বরং বলা যাবে পৃথিবীর বক্রতার আমাদের পর্যবেক্ষণ-ক্ষমতার বাইরে।)</p>
<p><strong>৫. বর্তমান চিত্র</strong></p>
<p>স্ফীতি-তত্ত্ব প্রমাণিত হয়ে গেছে তা বলার সময় এখনও আসেনি, কিন্তু আমি বলতে চাই এর সত্য প্রমাণিত হওয়ার ভাল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান মহাবিশ্বের প্রকৃতি ও জন্মের ইতিহাস ব্যাখ্যা করার জন্য বিকল্প কোন তত্ত্ব উত্থাপনের কথা চিন্তাও করা যায় না। স্ফীতি-তত্ত্ব বিশেষ ধরণের বিস্ফোরণের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করে মহাবিশ্বের বর্তমান চিত্র স্পষ্ট করতে পারে, পাশাপাশি স্ফীতির সময় কোয়ান্টাম ব্যত্যয় বা ফ্লাকচুয়েশনের মাধ্যমে সৃষ্ট অসমসত্ত্বতা দিয়ে মহাজাগতিক কাঠামোর (ছায়াপথ স্তবক, ছায়াপথ, তারা) উৎপত্তিও ব্যাখ্যা করা যায়। সিএমবি-তে এসব অসমসত্ত্ব স্থান পর্যবেক্ষণও করা যায় যদিও তাদের আকার খুব ছোট। সিএমবিতে অ্যানাইসোট্রপি বা অসমরূপতার পরিমাণ প্রতি এক লক্ষ ভাগে মাত্র এক ভাগ। এখন পর্যন্ত সিএমবির বর্ণালী স্ফীতি-তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে খাপ খাচ্ছে, তবে অস্বীকার করার উপায় নেই মহাজাগতিক সূতা বা স্ট্রিং দিয়েও তা ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু মহাজাগতিক সূতা বড় স্কেলে সমঘনত্ব এবং সমতলতা ব্যাখ্যা করতে পারে না।</p>
<p>স্ফীতির পক্ষে অনেক ভাল যুক্তি থাকলেও স্বীকার করতে হবে এটি কোন সম্পূর্ণ তত্ত্ব নয় বরং একটি নমুনা। স্ফীতির মাধ্যমে মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছে, এটি সত্য হলে সৃষ্টিতত্ত্বের সবকিছু আমাদের জানা হয় যাবে এমন নয়, বরং তখন কেবল আমরা সূচনার কাছাকাছি পৌঁছাব। স্ফীতি-তত্ত্বের বিস্তারিত বর্ণনা পুরোপুরি নির্ভর করছে কণা-পদার্থবিজ্ঞানের পরবর্তী আবিষ্কারগুলোর উপর। তাই বিশ্বতত্ত্ব ও কণা-পদার্থবিজ্ঞান ভবিষ্যতে একেবারে জড়িয়ে যাবে। বিকল্প কোন ব্যাখ্যার কথা ভাবতে না পারলেও আমি মনে করি, স্ফীতি-তত্ত্বকে পূর্ণতা দিতে হলে এখনও অনেকদূর যেতে হবে। ভবিষ্যতে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারার জন্ম হতে পারে বলেও সন্দেহ হয় আমার।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/707/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/707/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/707/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/707/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/707/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/707/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/707/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/707/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/707/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/707/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/707/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/707/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/707/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/707/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&amp;blog=2921791&amp;post=707&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2011/11/09/cosmic-inflation-without-equations/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/06/lucretius-friedmann-guth.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">lucretius-friedmann-guth</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Figures/figure1.jpeg" medium="image" />

		<media:content url="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Figures/figure2.jpeg" medium="image" />

		<media:content url="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Figures/figure3.jpeg" medium="image" />

		<media:content url="http://ned.ipac.caltech.edu/level5/Guth/Figures/figure4.jpeg" medium="image" />
	</item>
	</channel>
</rss>
