<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
	>

<channel>
	<title>বিজ্ঞানপুরী</title>
	<atom:link href="http://bigganpuri.wordpress.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://bigganpuri.wordpress.com</link>
	<description>প্রকৃতির কারণ অনুসন্ধান</description>
	<lastBuildDate>Thu, 05 Nov 2009 06:55:08 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.com/</generator>
	<language>bn</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<cloud domain='bigganpuri.wordpress.com' port='80' path='/?rsscloud=notify' registerProcedure='' protocol='http-post' />
<image>
		<url>http://www.gravatar.com/blavatar/4cb6ca2df42610c3f297a1cd4f5bd0ed?s=96&#038;d=http://s.wordpress.com/i/buttonw-com.png</url>
		<title>বিজ্ঞানপুরী</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com</link>
	</image>
			<item>
		<title>হেডার সমগ্র</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/05/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/05/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 04 Nov 2009 18:23:30 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[ছবি ব্লগ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=350</guid>
		<description><![CDATA[সচলায়তন থেকে অনেক কিছু শিখেছি। হেডার পরিবর্তন করার ব্যাপারটা বেশ মজার। ভাবছি বিজ্ঞান জগতের সাথে তাল মিলিয়ে এখন থেকে নিয়মিতই পরিবর্তন করবো। আর সবগুলো হেডার ইমেজ এর ছবির লিংক দেয়া থাকবে এই পোস্টটিতে। এখন পর্যন্ত মোট চারটি হেডার ইমেজ যোগ করা হয়েছে। সেগুলো দিয়েই শুরু করলাম:

মহাবিজ্ঞানীদের ছবি নিয়ে করেছিলাম। বাম থেকে যথাক্রমে: গ্যালিলিও, নিউটন, ম্যাক্স [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=350&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p>সচলায়তন থেকে অনেক কিছু শিখেছি। হেডার পরিবর্তন করার ব্যাপারটা বেশ মজার। ভাবছি বিজ্ঞান জগতের সাথে তাল মিলিয়ে এখন থেকে নিয়মিতই পরিবর্তন করবো। আর সবগুলো হেডার ইমেজ এর ছবির লিংক দেয়া থাকবে এই পোস্টটিতে। এখন পর্যন্ত মোট চারটি হেডার ইমেজ যোগ করা হয়েছে। সেগুলো দিয়েই শুরু করলাম:</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/03/scientists.jpg"><img width="600" src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/03/scientists.jpg?w=600" alt="1" /></a></p>
<p>মহাবিজ্ঞানীদের ছবি নিয়ে করেছিলাম। বাম থেকে যথাক্রমে: গ্যালিলিও, নিউটন, ম্যাক্স প্লাংক, আইনস্টাইন এবং ডারউইন।</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/01/header.jpg"><img width="600" src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/01/header.jpg?w=600" alt="2" /></a></p>
<p>সেরা নারী বিজ্ঞানীদের নিয়ে এটা করা। বাম থেকে যথাক্রমে: হাইপেশিয়া, মারি কুরি, বারবারা ম্যাকক্লিন্টক, লিজে মাইটনার, মারিয়া গোপার্ট মায়ার এবং রোজালিন্ড ফ্রাংকলিন</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/11/moon-landing.jpg"><img width="600" src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/11/moon-landing.jpg?w=600" alt="3" /></a></p>
<p>অবশ্যই মানুষের চন্দ্রাবতরণ</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/11/claude-levi-strauss1.jpg"><img width="600" src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/11/claude-levi-strauss1.jpg?w=600" alt="4" /></a></p>
<p>৩০শে অক্টোবর মারা গেলেন আধুনিক নৃবিজ্ঞানের জনক ক্লোদ লেভি-স্ত্রোস (Claude Lévi-Strauss)। তার স্মরণেই করা এই হেডারটি।</p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/350/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/350/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/350/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/350/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/350/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/350/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/350/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/350/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/350/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/350/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=350&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/05/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/03/scientists.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/01/header.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">2</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/11/moon-landing.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">3</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/11/claude-levi-strauss1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">4</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>সত্যেন্দ্রনাথ বসু-র পৌত্র ফাল্গুনী সরকারের সাক্ষাৎকার</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/03/falguni-on-s-n-bose/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/03/falguni-on-s-n-bose/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 03 Nov 2009 07:43:40 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<category><![CDATA[সাক্ষাৎকার]]></category>
		<category><![CDATA[সত্যেন্দ্রনাথ বসু]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=338</guid>
		<description><![CDATA[২০০৭ সালের ২৯শে জুন থেকে ১লা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠিত ২৭তম &#8220;নর্থ অ্যামেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স&#8221; উপলক্ষে প্রকাশিত ব্রোশারে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়েছিল। (পৃষ্ঠা: ৭৭-৭৯)

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম যেন বিজ্ঞানের জগতে একটি সৌধ হয়ে আছে, বিশেষত কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের জগতে। মৌলিক কণা &#8220;বোসন&#8221;, বোসনের ক্রিয়াকর্ম ব্যাখ্যায় সক্ষম &#8220;বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান&#8221; এবং &#8220;বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট&#8221;- সবগুলো নামই এই মহান [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=338&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p>২০০৭ সালের ২৯শে জুন থেকে ১লা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠিত ২৭তম &#8220;নর্থ অ্যামেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স&#8221; উপলক্ষে প্রকাশিত ব্রোশারে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়েছিল। (পৃষ্ঠা: ৭৭-৭৯)</p>
<hr />
<p><img class="alignright" src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/a/ac/AatyenBose1925.jpg" width="200" alt="sb" />সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম যেন বিজ্ঞানের জগতে একটি সৌধ হয়ে আছে, বিশেষত কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের জগতে। মৌলিক কণা &#8220;বোসন&#8221;, বোসনের ক্রিয়াকর্ম ব্যাখ্যায় সক্ষম &#8220;বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান&#8221; এবং &#8220;বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট&#8221;- সবগুলো নামই এই মহান বিজ্ঞানীর নামে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট গবেষণাগারে তৈরী করে দেখানোর জন্যই ২০০১ সালে এরিক কর্নেল ও কার্ল ওয়াইম্যানকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। আলবার্ট আইনস্টাইন বসুর গবেষণাপত্রকে বলেছিলেন, &#8220;প্রগতির দিকে একটি অনিন্দ্য সুন্দর পদক্ষেপ&#8221;।</p>
<p>বাংলায় সত্যেন বসু যেন এক পৌরাণিক কিংবদন্তি। একটি বিখ্যাত বাংলা সাময়িকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, রবি শংকরের মত বিশ্বনন্দিত বাঙালি থাকা সত্ত্বেও সত্যেন বসুকে &#8220;শতাব্দীর বাঙালি&#8221; হিসেবে স্বীকৃত দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তার লেখা একমাত্র বিজ্ঞান গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে। বসু সম্পর্ক তিনি লিখেছিলেন, &#8220;a man of genius with a taste for literature and who is a scientist as well.&#8221;<span id="more-338"></span></p>
<p>তারপরও সত্যেন্দ্রনাথ বসুর প্রকৃত ব্যক্তিসত্ত্বা সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানে। বাংলা এবং ইংরেজিতে অনেক লেখা এবং জীবনীগ্রন্থ থাকা সত্ত্বেও তার জীবনের উপর সুগভীর আলোকপাতের অভাব প্রকট। এই অভাববোধ থেকেই সত্যেন্দ্রনাথ বসুর এক পৌত্র শুরু করেছিলেন বসু জীবন চরিত অনুসন্ধান। বসুর জীবন, কর্ম এবং তার শিল্পপ্রীতিকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসাই তার লক্ষ্য।</p>
<p>ফাল্গুনী সরকার অধ্যাপক বসুর ছোট মেয়ের ছেলে। তিনি তার বিখ্যাত পিতামহকে নিয়ে একটি বই লিখছেন। ফাল্গুনী বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রে, এ সম্পর্কে তাকে বলতে শোনা যায়, &#8220;আমার এই প্রখ্যাত পূর্বপুরুষের ছায়া থেকে আমি অনেক দূরেই ছিলাম&#8221;। এ কারণেই বসু সম্পর্কে প্রথম জীবনে খুব বেশি কিছু জানার সৌভাগ্য তার হয়নি, বাবা-মা ও পরিবারের অন্যদের কাছ থেকে টুকিটাকি যা শুনেছিলেন তা-ই ছিল সম্বল। এখন তিনি ভারতে ফিরে এসেছেন, সেই পিতামহের সন্ধানে যাকে তিনি খুব কমই চিনেন। তার মুখ থেকেই শোনা যাক এই অভিনব অভিযান ও তার অনুভূতির কথা&#8230;</p>
<p><strong>সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: আপনি কিভাবে সত্যেন বসুর প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠলেন?</strong></p>
<p>ফাল্গুনী: আসলে সান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়াতে বড় হওয়ায় আমার বিখ্যাত দাদুর কথা সবসময়ই শুনেছি। কিন্তু আমার কোন বন্ধুর বাবা-মা-ই তার নাম শুনেননি, এমনকি বোসন কাকে বলে সেটাও তারা জানতেন না। তাই ভেবেছিলাম, দাদু হয়ত অতো বিখ্যাত না। কিন্তু ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসের একদিনে একটি ফোন কল আমার চিন্তাভাবনা পাল্টে দেয়, সেদিন আমার এক বন্ধু ফোন করে বলে, আমার দাদুর ছবি নাকি নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রচ্ছদে এসেছিল। ৭০ বছর আগেই বিজ্ঞানীরা বোস পরিসংখ্যান ব্যবহার করে আইনস্টাইনের করা একটি ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণ করেছিলেন। আইনস্টাইন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, কিছু কণাকে (বোসন) ঠাণ্ডা করে অনেক কম তাপমাত্রায় নিয়ে আসলে নতুন ধরণের একটি বিদঘুটে পদার্থ তৈরী হতে পারে। এই নতুন পদার্থেরই নাম &#8220;বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট&#8221; (Bose-Einstein Condensates &#8211; BEC)। এরা ফোটন তথা আলোর সম্ভাব্যতা সূত্র মেনে চলে যা আমার দাদু আবিষ্কার করেছিলেন। আইনস্টাইন সেই আবিষ্কারকে আরও পরিবর্ধন করেন এবং বিইসি-র বিস্তারিত ভবিষ্যদ্বাণী করেন। বর্তমানে এটি নিম্ন তাপমাত্রার আণবিক পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, অতিপরিবাহিতা এবং আণবিক লেজারের মত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে বিইসি গবেষণার বিশেষ গুরুত্ব আছে। গবেষণাগারে বিইসি তৈরীর জন্য ২০০১ সালে দুজন পদার্থবিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এসব তথ্যের প্রেক্ষিতেই আমি ১২ বছর আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সত্যেন বসু সম্পর্কে আরও জানবো।</p>
<p><strong>সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: আপনি তো ভারতে চলে গেছেন। এর মধ্যে নতুন কি কি জানতে পেরেছেন? হাতে কি পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত ও মিডিয়া এসেছে?</strong></p>
<p>ফাল্গুনী: হ্যাঁ, আমি এর আগে কখনোই কয়েক মাসের বেশি একটানা ভারতে থাকিনি। থাকার অভিজ্ঞতা বেশ মজার, নতুন নতুন অনেক ঘটনা ঘটে সেখানে। আমার গবেষণা কাজ প্রসঙ্গে প্রথমেই বসুর অগোছালো প্রকৃতির কথা বলতে হয়। তিনি গবেষণাপত্রের ব্যাপারে কখনও তেমন গোছালো ছিলেন না। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির মধ্যেই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবার যে প্রবণতা দেখা যায় সেটা তার মধ্যে ছিল না। ব্যাপারটা যেন এমন যে, তিনি নিজের খ্যাতি নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। তবে, আমি প্রচুর পরিমাণ ছবি ও চিঠি জোগাড় করেছি। তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন এমন মানুষদের সাক্ষাৎকারও নিয়েছি। যেমন, আমার চাচা, চাচী, তার ছাত্ররা এবং অবশ্যই আমার মা, অপর্ণা।</p>
<p><strong>সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: উনাদের সাথে কথা বলে নতুন কি জানলেন?</strong></p>
<p>ফাল্গুনী: আমার নেয়া সবচেয়ে চমৎকার সাক্ষাৎকারগুলো এমন লোকদের যারা বসুকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। তাদের সাথে কথা বলা, তাদের কণ্ঠস্বর কান পেতে শোনা, বসুকে স্মরণ করতে গিয়ে তাদের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি দেখে আমি প্রচণ্ড আবেগী হয়ে পড়েছি। এছাড়া আমার পরলোকগত বাবা বিমল সরকারের লেখা কিছু চিঠি ও নোটও কাজে দিয়েছে। এখানে এসে জানতে পেরেছি, আমার বাবাও বসুকে নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং লিখেছেন। তাই আমার প্রচেষ্টাকে বলা যায় এক ধরণের বংশানুক্রমিক গবেষণা।</p>
<p>সত্যেন বসু কেবল মেধাবী বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদই ছিলেন না, ছিলেন ভারতের জাতীয় অধ্যাপক, শান্তনিকেতনের উপাচার্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহেরু এবং জামিনী রায় ও বিষ্ণু দের মত শিল্পীদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। এছাড়া স্বাধীনতা-পূর্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রাক্তন ছাত্রদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার লেকচার শোনার জন্য এত ছাত্র জড়ো হতো যে পুরো ফ্লোরটাই ভরে যেতো, যদিও তারা লেকচারের খুব কম অংশই বুঝতো। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি বিপ্লবীদের সমর্থন জুগিয়েছেন। সংস্কৃতসহ বেশ কিছু ভাষা তার জানা ছিল, ফরাসি সাহিত্য ভালবাসতেন, গৌতম বুদ্ধের দর্শনের সাথে পরিচিত ছিলেন এবং চমৎকার এস্রাজ বাজাতে পারতেন। এমনকি নিজে একটি রাগও রচনা করেছিলেন! এসব দেখে খুব সহজেই বোঝা যায় তিনি জীবদ্দশায়ই কিভাবে মানুষের কাছে কিংবদন্তী হয়ে উঠেছিলেন।</p>
<p><strong>সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: কি কি ধরণের চিঠি পেয়েছেন?</strong></p>
<p>ফাল্গুনী: আমার মা&#8217;র কাছে লেখা কিছু চিঠি আছে, তখন আমি ছোট ছিলাম। এছাড়া ব্যক্তিগত এবং পেশাগত ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য লেখা চিঠি পেয়েছি। যেমন, এই চিঠিটি লিখেছিলেন ১৯২৬ সালে। তখন বার্লিনে আইনস্টাইনের সাথে গবেষণা করছিলেন। এখানে তাকে ইতিহাসের খুব উত্তেজনাকর একটি সময় নিয়ে লিখতে দেখা যাচ্ছে:</p>
<p>&#8220;পদার্থবিজ্ঞানের জগতে যেসব ঘটনা ঘটছে সে সম্পর্কে বার্লিনের সবাইকে (সব পদার্থবিজ্ঞানীকে) খুব উত্তেজিত মনে হচ্ছে। কয়েকদিন আগে কলোকুইয়াম থেকে ফেরার পথে আইনস্টাইন আমাদের সাথে এক কম্পার্টমেন্টে উঠলেন। এইমাত্র আমরা যেসব কথা শুনে এসেছি সেগুলো নিয়েই তিনি কথা বলতে শুরু করলেন। তিনিও নতুন নতুন চিন্তাধারার বিশালত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হলেন, বললেন এসব তত্ত্ব পরস্পরের সহায়তায় কত কি যে ব্যাখ্যা করতে পারবে তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে যে অযৌক্তিকতা নিহিত আছে সে সম্পর্কে তাকে উদ্বিগ্ন মনে হল। আমরা সবাই চুপ করে থাকলেও তিনি প্রায় পুরো সময় কথা বলে গেছেন, অন্যান্য যাত্রীদের মনে সে কথার কি রকম ছাপ পড়ছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করেননি।&#8221;</p>
<p>এখন আমরা সবাই জানি, আইনস্টাইন বিশ্বের পরিসাংখ্যিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে পারেননি, আমৃত্যু তিনি এ ব্যাপারে অবিচল ছিলেন। এ নিয়ে তো তার একটি বিখ্যাত উক্তিই আছে: &#8220;ঈশ্বর মহাবিশ্ব নিয়ে পাশা খেলেন না&#8221;। কিন্তু তার প্রকৃত সাংঘর্ষিক অবস্থা এবং কোয়ান্টাম তত্ত্বের সেই স্বর্ণযুগে সবাই যে পরিমাণ উত্তেজিত ছিল তা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পেরে বিস্মিত হয়েছি। হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙার, আইনস্টাইন, বোর, দিরাক, প্লাংক সবাই এই গল্পে উপস্থিত। ভারতবর্ষের বিজ্ঞান আচার্যরাও অনুপস্থিত নেই- মেঘনাদ সাহা, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, প্রশান্ত মহালনবীশ, স্যার প্রফুল্লচন্দ্র রায়, স্যার জগদীশচন্দ্র বসু সবাই আছেন।</p>
<p>সবাই ভাবতে ভালোবাসে যে, পশ্চিমা বিজ্ঞানের ইতিহাস সবচেয়ে মহান। কিন্তু আমাদের তথা বাঙালিদের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসও কোন অংশে কম নয়। এক দিক দিয়ে চিন্তা করলে বাঙালিদের অর্জন আরও বেশি। কারণ আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে কেবল স্বাধীনভাবে জ্ঞানার্জনের অধিকার অর্জনের জন্যই দীর্ঘকাল সংগ্রাম করতে হয়েছে।</p>
<p><strong>সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: বাঙালিদের কাছে সত্যেন বসুর গুরুত্ব কিভাবে গড়ে উঠেছে?</strong></p>
<p>ফাল্গুনী: বসু এক অনন্য বাঙালি চরিত্র। তিনি ২৫ বছর কাটিয়েছেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। আমি ঢাকা গিয়ে দেখেছি সেখানে বসু সবার কাছে নায়ক, অনেক দিক দিয়ে কলকাতার চেয়েও বেশি। ঢাকার মানুষেরা বুদ্ধিজীবীদেরকে এখনও খুব শ্রদ্ধা করে, তাছাড়া বসুই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে দিয়েছিলেন। সত্যেন বসু এমন একটি চরিত্র যে আমাদেরকে দুই বাংলার সীমা ভুলিয়ে দেয়, আমাদেরকে সেই সময়ে নিয়ে যায় যখন সংগ্রাম হতো পুরো বাংলার জন্য।</p>
<p><strong>সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: এসব উপাত্ত নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?</strong></p>
<p>ফাল্গুনী: আসলে আমরা চাই, সকল স্তরের মানুষ বিশেষত তরুণরা সত্যেন বসু সম্পর্কে আরও জানুক। এটা তাদের নিজেদেরই ইতিহাস এবং হতে পারে তাদের আত্মপরিচয়ের একটি বড় উৎস। তাছাড়া যেসব বর্ষীয়ান বাঙালি পশ্চিমা দেশগুলোতে গিয়ে সফলতা অর্জন করেছেন তাদের কাছেও এসব তথ্য পৌঁছে দিতে চাই যাতে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের অর্জন সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে, এ সচেতনতা যেন তাদের বংশধরদের মাঝেও প্রবাহিত হয়। আমরা চাই তারা যেন নিজেদের সন্তানদের সাথে এসব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারে। আর পশ্চিমারাও যেন এ অঞ্চলের বিজ্ঞানীদের অবদান জানতে পারে এবং তাদের বন্ধুবান্ধবের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে।</p>
<p><strong>সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: এ নিয়ে আরও তথ্য কোথা থেকে জানা যাবে?</strong></p>
<p>ফাল্গুনী: আন্তর্জালেই অনেক তথ্য আছে। আর আমরা এস এন বোস প্রজেক্টের ওয়েবসাইটে অনেক কিছু প্রকাশ করেছি। সেখানে আছে: বসুর জীবনের একটি ঘটনাপঞ্জি, আন্তর্জালে সংশ্লিষ্ট লিংক, নোবেল পুরস্কার বিষয়ক তথ্য এবং একটি সুদীর্ঘ জীবনী। এছাড়া আমরা একটি বই প্রকাশ করছি যার নাম হবে &#8220;Satyendra Nath Bose in His Own Words and Pictures&#8221;, আগামী বছরের মধ্যে এটি প্রকাশিত হওয়ার কথা। বইটি খুব সুন্দরভাবে সাজানো থাকবে, এতে বসুর নিজের লেখা, বক্তৃতা, সাক্ষাৎকার এবং ছবির মাধ্যমেই তার জীবন তুলে ধরা হবে। এছাড়া এস এন বোস জীবনী প্রকল্পের ভূমিকা তুলে ধরার জন্য আমরা একটি ব্রোশারও তৈরী করেছি। ব্রোশারটিতে প্রকাশিতব্য বই সম্পর্কেও কিছু তথ্য আছে।</p>
<p>কলকাতা বইমেলাতেই বইটি প্রকাশের ইচ্ছা আছে। ২০০৮ সালের বসন্তের মধ্যে সব বড় বড় বইয়ের দোকানে যাতে বইটি পাওয়া যায় সে চেষ্টাও করা হচ্ছে কারণ ঠিক তখনই এনএবিসি ২০০৮ শুরু হচ্ছে।</p>
<p><strong>সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: দেখে মনে হচ্ছে এ কাজটি একেবারে হৃদয় দিয়ে করছেন।</strong></p>
<p>ফাল্গুনী: হ্যা, অবশ্যই। বসুকে বলা হয়ে থাকে &#8220;সমন্বিত ব্যক্তিত্ব&#8221;, &#8220;বহুবিষয়ে পণ্ডিত&#8221; এবং সর্বোপরী একজন &#8220;পরিপূর্ণ মানুষ&#8221;। একালের খুব কম ব্যক্তি সম্পর্কেই এমন উক্তি করা চলে। কিন্তু বসুকে নিয়ে লিখতে বা বলতে গেলে এই উপমাগুলোই বেরিয়ে আসে। বসু গবেষণার ব্যাপারে নৈর্ব্যক্তিক থাকতে চাইলেও আবেগ এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কিন্তু এটাকে ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি। কারণ নৈর্ব্যক্তিক তথ্যের জন্য আমি অভিধান পড়তে বলবো (বিজ্ঞান অভিধান আর কি!)। কিন্তু বসু সম্পর্কে অভিধান ধরণের লেখার চেয়ে মানুষ ব্যক্তিগত গল্পই বেশি পছন্দ করবে। বাস্তবের মানুষ সম্পর্কে বাস্তব গল্পেই মানুষের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। আর বাঙালিদের ক্ষেত্রে এটা আরও প্রকট, কারণ এই বাস্তবতা তাদের ইতিহাসেরই অংশ।</p>
<hr />
<p>ফাল্গুনী সরকারের পেশা &#8220;তথ্যপ্রযুক্তি মার্কেটিং&#8221;। সর্বশেষ কাজ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার &#8220;সান মাইক্রোসিস্টেমস&#8221;-এ। দাদু সম্পর্কে গবেষণা এবং লেখার জন্যই চাকরি ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন। তার গবেষণা সম্পর্কে আরও জানার জন্য তিনি সবাইকে &#8220;এস এন বোস বায়োগ্রাফি প্রজেক্ট&#8221; এর ওয়েবসাইটে যেতে উৎসাহিত করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা পরামর্শ দিয়ে করা মেইলগুলো তিনি গুরুত্বের সাথে পড়েন। এছাড়া বসু এবং তার বাঙালি জীবন নিয়ে কারও কাছে কোন ছবি বা কাহিনী থাকলেও মেইলের মাধ্যমে তা পাঠাতে উৎসাহিত করেছেন।</p>
<p>উৎসাহীদের জন্য ওয়েবসাইটটির ঠিকানা দেয়া হল:<br />
- <a href="http://snbose.org/">www.snbose.org</a></p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/338/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/338/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/338/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/338/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/338/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/338/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/338/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/338/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/338/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/338/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=338&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/03/falguni-on-s-n-bose/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/a/ac/AatyenBose1925.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">sb</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>মগজ মাথায় বুদ্ধিমত্তা কোথায়?</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/02/%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a6%9c-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%8b/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/02/%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a6%9c-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%8b/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 02 Nov 2009 11:59:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>arafatac</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[জীববিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=329</guid>
		<description><![CDATA[আমাদের একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে মেয়েদের মাথায় ঘিলু কম, তাই তারা অঙ্ক বা বিজ্ঞান বোঝে কম। মেয়েদের মস্তিষ্কের গড়পড়তা ওজন হলো এগারোশ হতে বারোশ গ্রাম, যেখানে ছেলেদের মস্তিষ্কের গড় ওজন পনেরোশ গ্রাম প্রায়। তাহলে বুদ্ধিমত্তা মেয়েদের &#8220;সাইন্টিফিক&#8221;-ভাবেই কম, কি বলেন?
আমাদের আরো একটি ধারণা আছে যে, প্রাণী জগতে মানুষের মগজই সবচেয়ে বড়। তাই মানুষই সবচাইতে [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=329&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p>আমাদের একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে মেয়েদের মাথায় ঘিলু কম, তাই তারা অঙ্ক বা বিজ্ঞান বোঝে কম। মেয়েদের মস্তিষ্কের গড়পড়তা ওজন হলো এগারোশ হতে বারোশ গ্রাম, যেখানে ছেলেদের মস্তিষ্কের গড় ওজন পনেরোশ গ্রাম প্রায়। তাহলে বুদ্ধিমত্তা মেয়েদের &#8220;সাইন্টিফিক&#8221;-ভাবেই কম, কি বলেন?</p>
<p>আমাদের আরো একটি ধারণা আছে যে, প্রাণী জগতে মানুষের মগজই সবচেয়ে বড়। তাই মানুষই সবচাইতে বুদ্ধিমান প্রাণী।</p>
<p>আসলেই কি তাই? বুদ্ধিমত্তা কি কেবল ঘিলুর ওজনের উপরেই নির্ভর করে?</p>
<p><img class="alignnone" title="The Brain" src="http://www.ipmc.cnrs.fr/~duprat/neurophysiology/images/brain2.jpg" alt="" width="383" height="310" /></p>
<p>একটা মজার তথ্য দেই। প্রাণী জগতে সবচাইতে বড় মগজ হলো নীল তিমির। মানুষের মগজের চাইতে তা প্রায় সাড়ে ছয় গুণ বড়! প্রায় আট কেজি তার মগজের ওজন! হাতির মগজের ওজন প্রায় সাড়ে চার কেজি। ডলফিনের হলো পনেরশ গ্রাম, প্রায় আমাদের সমান। তথ্যসূত্র  <a title="ব্রেন, ফ্যাক্টস এন্ড ফিগার" href="http://faculty.washington.edu/chudler/facts.html">ব্রেন, ফ্যাক্টস এন্ড ফিগার।<br />
</a></p>
<p>এখন, বড় মস্তিষ্কই যদি বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি হতো, তাহলে আমরা দেখতাম তিমি আর ডলফিনদের নিজস্ব, উন্নত সভ্যতা। তারা আজ সমগ্র প্রাণীজগতে খবরদারি করে বেড়াতো। আমরা হতাম তাদের ইচ্ছার খেলনা!!  মূল ব্যাপারটা কিন্তু অন্য জায়গায়। আসলে, একটা বড় প্রাণীর শরীরকে নিয়ন্ত্রণ<span id="more-329"></span> করতে তুলনামুলক ভাবে একটা বড় মস্তিষ্কের দরকার হয়। তাই বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্র দেখার বিষয় হলো মগজ আর শরীরের ওজনের অনুপাত। বিজ্ঞানীরা দেখলেন যে এই অনুপাত যে প্রাণীর যত বেশী, সে প্রাণীও তত উন্নত। মানুষের ক্ষেত্রে এই অনুপাত হলো সবচাইতে বেশি। তাই মানুষই পৃথিবীতে সভ্যতা গড়ে তুলেছে, তিমি বা হাতি নয়।<br />
পুরুষদের যেমন মগজের ওজন বেশি, তেমনই তাদের শারীরিক ওজনও মেয়েদের তুলনায় বেশি। মগজ-দেহের অনুপাত পুরুষ ও মেয়েদের মাঝে গড়পড়তাভাবে একই।</p>
<p>আবার নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক আনাতোলী ফ্রান্সের মগজের ওজন ছিল মাত্র এগারোশ গ্রাম, যেখানে কবি বায়রনের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় বাইশশো! আইনস্টাইনের মগজের ওজন গড়পড়তা মানুষের চাইতে বেশি ছিল না (এটা নিয়ে সাধারণের মাঝে কুসংস্কার আছে যে তার মস্তিষ্ক  অন্যরকম)। একজন মানুষের মস্তিষ্কের গড়পড়তা ওজন যত হওয়া উচিত, তার চেয়ে একশ বা দুইশ গ্রাম কম-বেশি হলে কিন্তু খুব বেশি ক্ষতি বা লাভ হয় না।</p>
<p>এবার তাহলে আবার আগের প্রশ্নে আমরা ফিরে যাই। মানুষের বুদ্ধিমত্তা আসলে কিসের উপর নির্ভর করে?</p>
<p>প্রয়া আড়াই হাজার বছর আগে ইউরোপে স্পার্টা নামে একটি নগররাষ্ট্র ছিল।  সেখানে রাজবংশের সাইকারগাস নামের একজন এক কুকুরছানা নিয়ে গিয়েছিলেন একটি গভীর গর্তে। গর্তে কেউ নামতো না। দড়ি দিয়ে কেবল খাবার আর পানি দেয়া হতো। অন্য একটি কুকুরছানাকে তিনি বড় হয়ে উঠতে দিয়েছিলেন স্বাভাবিকভাবে। দুইটিই যখন বড় হয়ে গেল, তখন তাদেরকে এক মাঠে এনে সামনে ছেড়ে দেয়া হলো এক খরগোশ। স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠা কুকুরছানা খরগোশকে তাড়া করে মেরে ফেললো। কিন্তু অপর কুকুরটি, খরগোশকে দেখেই দিল উল্টো দিকে দৌড় &#8211; শিকার করা তো দূরে থাক!</p>
<p>ল্যাবরেটরীতে বিজ্ঞনীরা বিভিন্ন প্রাণী নিয়ে গবেষণা করে দেখতে পেয়েছেন যে কোন প্রাণীকে যদি কোন সাদামাটা পরিবেশে রাখা হয় তাহলে তার বুদ্ধিমত্তাও হয় সাদামাটা। আর যদি তাকে উত্তেজনাময়, ঘটনাপূর্ণ পরিবেশে রাখা হয় তাহলে তার নতুন নতুন চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি হয়, আচরণেও দেখা যায় ইতিবাচক পরিবর্তন।</p>
<p>তাই বুদ্ধিমত্তা বলতে যদি আমরা চিন্তাভাবনা, বিশ্লেষণ কিংবা উদ্ভাবনী ক্ষমতা বুঝি তাহলে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় শিখে, চর্চা করে আমরা যে কেউই বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে পারি। আমাদের দেশে একটা ছেলে আর একটা মেয়ের বড় হওয়ার মাঝে, তাদের প্রাপ্ত পরিবেশ আর সুযোগ-সুবিধার মাঝে, তাদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে আকাশ পাতাল তফাত। তাই আমাদের দেশে মেয়েদের বিজ্ঞানের বিষয় নিতে নিরুৎসাহিত করতে দেখি। এমন কি একটা ছেলেও যে পড়াশুনার বাইরে অন্য কিছু চর্চা করবে, সে সুবিধাও সে পায় না। তাই আমরা ভিন্ন ভাবে ভাবতে পারি না, ভিন্ন ভাবে দেখতে পারি না।</p>
<p>তথ্যসূত্র:শারীরতত্ত্ব সবাই পড়, একটুখানি বিজ্ঞান, ইন্টারনেট</p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/329/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/329/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/329/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/329/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/329/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/329/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/329/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/329/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/329/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/329/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=329&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/11/02/%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a6%9c-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a7%8b/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/2bd1a120d91eb68cf24c11d5af28a25c?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">arafatac</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://www.ipmc.cnrs.fr/~duprat/neurophysiology/images/brain2.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">The Brain</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/10/nobel-prize-science-2009/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/10/nobel-prize-science-2009/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 09 Oct 2009 21:30:56 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[জনপ্রিয়করণ]]></category>
		<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<category><![CDATA[নোবেল পুরস্কার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=321</guid>
		<description><![CDATA[পরীক্ষা চলছে। বিএসসি জীবনের শেষ পরীক্ষা। কিন্তু পড়তে একদমই ইচ্ছা করছে না। দুইটা পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। শুধু আগের দিন কোনভাবে পড়াশোনা শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে আসার সিস্টেমটা তো আগে থেকেই আয়ত্তে ছিল। এই দুই পরীক্ষায় সেটা দুইবার ঝালিয়েও নিয়েছি। তাই চিন্তা নাই, ভাবলাম এই সুযোগে একটা ব্লগ নামিয়ে ফেলি। আদতে পরীক্ষার মত ফ্যাসিস্ট একটা [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=321&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p>পরীক্ষা চলছে। বিএসসি জীবনের শেষ পরীক্ষা। কিন্তু পড়তে একদমই ইচ্ছা করছে না। দুইটা পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। শুধু আগের দিন কোনভাবে পড়াশোনা শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে আসার সিস্টেমটা তো আগে থেকেই আয়ত্তে ছিল। এই দুই পরীক্ষায় সেটা দুইবার ঝালিয়েও নিয়েছি। তাই চিন্তা নাই, ভাবলাম এই সুযোগে একটা ব্লগ নামিয়ে ফেলি। আদতে পরীক্ষার মত ফ্যাসিস্ট একটা জিনিসের চেয়ে ব্লগিং তো অনেক অনেক উত্তম।</p>
<p>বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ব্রেকিং নিউজ এবং হট টপিক হচ্ছে বারাক ওবামা-র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া। নিঃসন্দেহে কোনকিছু না করেই নোবেল পেয়ে গেছেন ওবামা। আমাদের মত ওবামা-ও যে সমান হারে বিস্মিত হয়েছেন এতে আমার কোনই সন্দেহ নেই। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়ার জন্য নরওয়ে-র আইনসভা-র ৫ জন সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হয়। এই সদস্যরা আবার সিদ্ধান্তের জন্য আইনসভার কাছে দায়ী থাকে না। তাই এই বিচারক নির্বাচনের উপর যে নোবেল পুরস্কারটা অনেক নির্ভর করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনও হতে পারে এই ৫ জন খুব বেশি কষ্ট করতে চান নি। হাতে যা ডেটা আছে তা থেকে খুব দ্রুত একটা সুবিধাজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন, দ্বিতীয়বার চিন্তা না করেই, যদিও এর সম্ভাবনা খুব কম। হাজার হোক নোবেল পুরস্কার বলে কথা।<span id="more-321"></span></p>
<p>যাহোক ঐসব নিয়ে তেমন কিছু জানি না। তাই হাইপোথেটিক্যাল কথাও বলছি না। ভাবলাম আমি বরং অন্যান্য বিষয়ে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তদের সাথে সিসিবি-র পাঠক মহলকে পরিচয় করিয়ে দেই, যদিও জানি বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে তাদের সাথেও পরিচিত হয়ে গেছেন। তারপরও নোবেল পুরস্কার নিয়ে লেখার একটা পাট আছে না। তাছাড়া নোবেল পুরস্কার জিনিসটা আমার খুব পছন্দের। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান এ নোবেল পুরস্কারগুলো আমি সবসময় অনুসরণ করি। বিংশ শতকের সেরা পদার্থবিজ্ঞানীদের নাম এবং তাদের জীবনী নিয়ে জানার জন্য এই নোবেল সাহেবের মহাকীর্তিকেই অনুসরণ করেছিলাম। একসময় টার্গেট নিয়েছিলাম বাংলা উইকিপিডিয়া-তে নোবেল পুরস্কার পাওয়া সকল বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিকের জীবনী লিখবো। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সাহিত্যে যারা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাদের তালিকাও তৈরি করেছিলাম (অবশ্যই অন্যান্য উইকিপিডিয়ানদের সাহায্য নিয়ে)। সাহিত্য ও পদার্থবিজ্ঞানে বেশ কিছুটা এগিয়েও গিয়েছিলাম। আমাদের করা তালিকাগুলো নিচে দিচ্ছি। প্রত্যেকের নামে ক্লিক করলে তাদের জীবনী চলে আসবে, যদি থাকে আর কি!-</p>
<p>- <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">পদার্থবিজ্ঞান</a><br />
- <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">রসায়ন</a><br />
- <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%BE_%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">চিকিৎসাবিজ্ঞান</a><br />
- <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87_%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2_%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">সাহিত্য</a></p>
<p><strong>পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</strong></p>
<p>মোট তিনজন কে দেয়া হয়েছে। একটি অবদানের জন্য এক জনকে, এবং আরেকটি অবদানের জন্য দুজন কে। তার মানে পুরস্কার ভাগ করা হয়েছে দুই ভাগে। অর্ধেক দেয়া হয়েছে প্রথম জনকে। বাকি অর্ধেক-কে আরও দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তাই বাকি দুজন পেয়েছে এক চতুর্থাংশ করে। নিচের ছবিতে তিন জনের নাম, কর্মস্থল, জন্ম তারিখ এবং জন্ম স্থান উল্লেখ করা আছে:</p>
<p><em>&#8220;for groundbreaking achievements concerning the transmission of light in fibers for optical communication&#8221;</em></p>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="left"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/kao.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Charles_K._Kao">চার্লস কে কাও</a> (Charles K. Kao)<br />
স্ট্যান্ডার্ড টেলিকমিউনিকেশন ল্যাবরেটরিস, হার্লো, যুক্তরাজ্য<br />
চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অফ হংকং, হংকং, চীন<br />
জন্ম: ১৯৩৩, সাংহাই, চীন</td>
</tr>
</table>
<p>চীনা বিজ্ঞানী চার্লস কে কাও-কে বলা হয় &#8220;অপটিক্যাল ফাইবার&#8221; যোগাযোগ ব্যবস্থার জনক। ফাইবার অপটিক্স এ অসামান্য অবদানের জন্য তাকে পুরস্কারের অর্ধেক দেয়া হয়েছে। বাকি দুজন পেয়েছেন এক চতুর্থাংশ করে। তাদের ছবি পাওয়ার কারণ এবং সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে:</p>
<p>&#8220;for the invention of an imaging semiconductor circuit – the CCD sensor&#8221;</p>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/boyle.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Willard_S._Boyle">উইলার্ড এস বয়েল</a> (Willard S. Boyle)<br />
বেল ল্যাবরেটরিস, মুরে হিল, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র<br />
জন্ম: ১৯২৪, অ্যামহার্স্ট, কানাডা</td>
</tr>
</table>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/smith.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/George_E._Smith">জর্জ ই. স্মিথ</a> (George E. Smith)<br />
বেল ল্যাবরেটরিস, মুরে হিল, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র<br />
জন্ম: ১৯২৪
</td>
</tr>
</table>
<p>সিসিডি (Charge-coupled device) সেন্সর নিয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। তবে আধুনিক ডিজিটাল ইমেজিং এর ক্ষেত্রে এর যে কোন বিকল্প নেই তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এর প্রাথমিক কাজটা অনেকটা শিফ্ট রেজিস্টার এর মত।</p>
<p><strong>রসায়নে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</strong></p>
<p>এখানে একই অবদানের জন্য তিন জন পেয়েছেন। তার মানে প্রত্যেকে পেয়েছেন এক তৃতীয়াংশ করে।</p>
<p><em>&#8220;for studies of the structure and function of the ribosome&#8221;</em></p>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/ramakrishnan.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Venkatraman_Ramakrishnan">রামকৃষ্ণ ভেংকট রমন</a> (Venkatraman Ramakrishnan)<br />
এমআরসি ল্যাবরেটরি অফ মলিকুলার বায়োলজি, কেমব্রিজ, যুক্তরাজ্য<br />
জন্ম: ১৯৫২, চিদাম্বরম, তামিল নাড়ু, ভারত</td>
</tr>
</table>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/steitz.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Thomas_A._Steitz">টমাস এ. স্টিট্‌জ</a> (Thomas A. Steitz)<br />
ইয়েল ইউনিভার্সিটি, নিউ হেভেন, যুক্তরাষ্ট্র<br />
হাওয়ার্ড হিউস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট<br />
জন্ম: ১৯৪০</td>
</tr>
</table>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/yonath.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Ada_E._Yonath">আডা ই ইয়োনাথ</a> (Ada E. Yonath)<br />
ভাইজম্যান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, রেহোভোত, ইসরায়েল<br />
জন্ম: ১৯৩৯, ইসরায়েল</td>
</tr>
</table>
<p>আরও একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেলেন। এর আগে পদার্থবিজ্ঞানে দুজন ভারতীয় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন: চন্দ্রশেখর ভেংকট রমন এবং উনার ভাতিজা সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর। এবার যিনি পেলেন তার নাম &#8220;রামকৃষ্ণ ভেংকট রমন&#8221;। মহাবিজ্ঞানী রমন এর সাথে তার কোন সম্পর্ক আছে মনে করেছিলাম। কিন্তু নেট ঘেটে এখন পর্যন্ত তেমন কোন সম্পর্ক পাই নি। কেউ পেলে জানিয়েন।</p>
<p><strong>চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</strong></p>
<p>এখানেও একই অবদানের জন্য তিন জন পেয়েছেন।</p>
<p><em>&#8220;for the discovery of how chromosomes are protected by telomeres and the enzyme telomerase&#8221;</em></p>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/blackburn.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Elizabeth_H._Blackburn">এলিজাবেথ এইচ ব্ল্যাকবার্ন</a> (Elizabeth H. Blackburn)<br />
ব্ল্যাকবার্ন ও গ্রিডার মিলেই টেলোমেয়ারেজ আবিষ্কার করেছিলেন। এই এনজাইম টিই টেলোমেয়ার পুনরায় ভরে তোলার কাজ করে।<br />
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ফ্রানসিস্কো, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র<br />
জন্ম: ১৯৪৮, হোবার্ট, তাসমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া</td>
</tr>
</table>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/greider.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Carol_W._Greider">ক্যারল ডব্লিউ গ্রিডার</a> (Carol W. Greider)<br />
জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, বাল্টিমোর, যুক্তরাষ্ট্র<br />
জন্ম: ১৯৬১</td>
</tr>
</table>
<table cellspacing="1" cellpadding="0" border="0">
<tr>
<td align="right"><img alt="নোবেল" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/szostak.jpg" /></td>
<td><a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Jack_W._Szostak">জ্যাক ডব্লিউ জোস্টাক</a> (Jack W. Szostak)<br />
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, বস্টন<br />
হাওয়ার্ড হিউস মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট<br />
জন্ম: ১৯৫২, লন্ডন, ইংল্যান্ড</td>
</tr>
</table>
<p>বাংলাদেশেও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে মেয়েদের আধিক্য লক্ষণীয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারেও দেখি তাদের আধিক্য। এর আগেও বারবারা ম্যাকক্লিন্টক এর মত বিজ্ঞানীরা চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।</p>
<p>নোবেল পুরস্কারগুলোর বণ্টন দেখে একটা বিষয় মনে হলো। রসায়ন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়া সব বিজ্ঞানীর বয়সই পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল প্রাপ্তদের তুলনায় কম। আর লক্ষ্য করলে দেখা যায় পদার্থবিজ্ঞানে যারা নোবেল পান তারা জীবনের সেরা আবিষ্কারটি করেছিলেন অন্তত ৩০-৪০ বছর আগে। যেমন জর্জ স্মুট ১৯৬৫ সালের আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান ২০০০-এর দশকে।</p>
<p><strong>সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ২০০৯</strong></p>
<p>সাহিত্যে বরাবরের মত এবারও নোবেল পুরস্কার কেবল একজনই পেয়েছেন। সাহিত্যের ক্ষেত্রে এটাই খুব স্বাভাবিক।</p>
<p><img class="alignright" src="http://nobelprize.org/nobel_prizes/literature/laureates/2009/muller.jpg" alt="10" /><br />
<a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Herta_M%C3%BCller">হার্টা ম্যুলার</a> (Herta Müller)<br />
নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জার্মান হিসেবে<br />
জন্ম: ১৯৫৩, Nitzkydorf, Banat, রোমানিয়া</p>
<p>সাহিত্যে ইদানিং যারা নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন তাদের নাম আমরা পুরস্কার প্রাপ্তির পরই জানি। এটাকে অবশ্য আমি সাহিত্যিকের অযোগ্যতা নয় বরং আমাদের সাহিত্যবিমুখতার পরিচায়ক হিসেবেই দেখি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, এক ভাষার সাহিত্যিকের অন্য ভাষায় পরিচিতি পেতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। এজন্যই হয়তো এই রুমানীয় সাহিত্যিকের নাম আগে কখনও শুনি নি। তবে নোবেল পুরস্কার অনেক মানবতাবাদী ও মহান সাহিত্যিকের সাথে বিশ্ববাসীর পরিচয় করিয়ে দেয়। ওরহান পামুক নোবেল পাওয়ার পরই কিন্তু তার বই বাংলায় অনূদিত হতে শুরু করেছিল। এতে আক্ষেপের কিছু নেই। অবশ্য জীবনে কোনদিন ডোরিস লেসিং এর নাম শুনি নি ভেবে আমার এক সময় খুব আক্ষেপ হয়েছিল। এই ইংরেজ সাহিত্যিক জীবনের ৯০ টা বছর কাটিয়ে দিলেন বাংলায় অপরিচিত থেকেই। এখন কিন্তু তার কিছু কবিতা ঠিকই বাংলাদেশেও সমাদৃত হচ্ছে।</p>
<p>এই রুমানীয় সাহিত্যিকের চরিত্রটা বোধহয় খানিকটা বিপ্লবী। রোমানিয়ায় একসমসয় গোঁড়া কম্যুনিস্ট শাসন ছিল যেটা আদতে ফ্যাসিস্ট রূপ ধারণ করেছিল। এই যুগ নিয়ে করা একটা অনবদ্য রুমানীয় সিনেমাও দেখেছিলাম- &#8220;৪ মাস, ৩ সপ্তাহ ও ২ দিন&#8221; (4 Months, 3 Weeks and 2 Days)। এই সিনেমাগুলো হয়ত হার্টা ম্যুলার-এর সাহিত্যকর্ম দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। যথারীতি নোবেল এর মাধ্যমে সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত হওয়ার পরই তার লেখা বাংলায় অনূদিত হতে শুরু করেছে। তার লেখা একটি গল্পের বঙ্গানুবাদ পড়তে চাইলে এখানে যান:<br />
- <a href="http://arts.bdnews24.com/?p=2501">অন্ত্যেষ্টির বয়ান (অনুবাদ করেছেন &#8216;শুভাশীষ দাশ&#8217;)</a></p>
<p>হার্টা ম্যুলার এর সাক্ষাৎকার:<br />
- <a href="http://arts.bdnews24.com/?p=2495">নিজের একটি বই নিয়ে হার্টা ম্যুলার (অনুবাদক &#8216;শুভাশীষ দাশ&#8217;)</a></p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/321/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/321/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/321/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/321/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/321/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/321/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/321/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/321/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/321/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/321/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=321&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/10/nobel-prize-science-2009/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/kao.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/boyle.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/2009/smith.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/ramakrishnan.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/steitz.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/chemistry/laureates/2009/yonath.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/blackburn.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/greider.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/medicine/laureates/2009/szostak.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">নোবেল</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://nobelprize.org/nobel_prizes/literature/laureates/2009/muller.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">10</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>আমাদের পূর্বপুরুষ: আর্ডিপিথেকাস র‌্যামিডাস</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/05/ardipithecus-ramidus/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/05/ardipithecus-ramidus/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 05 Oct 2009 07:53:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রজাতি]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[আর্ডি]]></category>
		<category><![CDATA[আর্ডিপিথেকাস]]></category>
		<category><![CDATA[মানব বিবর্তন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=319</guid>
		<description><![CDATA[আমাদের চেয়েও উন্নত কোন বহির্জাগতিক সভ্যতার সাথে যোগাযোগ হলে তাদের করা প্রথম প্রশ্নটিই হতে পারে, &#8220;তোমাদের কিভাবে জন্ম হয়েছে সেটা কি বের করতে পেরেছ?&#8221; আর ২০০ বছর আগে হলেও এই প্রশ্ন শুনে আমাদের লজ্জায় পড়ে যেতে হতো। ডারউইন এসে আমাদেরকে রক্ষা করলেন আর কি! ডারউইন-এর আগেও যে অনেকে বিবর্তন নিয়ে তত্ত্ব দেয়ার চেষ্টা করেন নি [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=319&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p><img class="alignleft" src="http://blogs.discovermagazine.com/loom/files/2009/09/ardi-recon440.jpg" width="300" alt="1" />আমাদের চেয়েও উন্নত কোন বহির্জাগতিক সভ্যতার সাথে যোগাযোগ হলে তাদের করা প্রথম প্রশ্নটিই হতে পারে, &#8220;তোমাদের কিভাবে জন্ম হয়েছে সেটা কি বের করতে পেরেছ?&#8221; আর ২০০ বছর আগে হলেও এই প্রশ্ন শুনে আমাদের লজ্জায় পড়ে যেতে হতো। ডারউইন এসে আমাদেরকে রক্ষা করলেন আর কি! ডারউইন-এর আগেও যে অনেকে বিবর্তন নিয়ে তত্ত্ব দেয়ার চেষ্টা করেন নি তা না। কিন্তু তত্ত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত ও পর্যবেক্ষণের দরকার ছিল তা কেবল ডারউইন-ই জোগাড় করতে পেরেছেন। আসলে প্রকৃতির পরিবর্তনশীলতা দেখে বিবর্তনের বাস্তবতা বুঝতে পেরেছিলেন, এমন অনেক পণ্ডিতই ইতিহাসে গত হয়েছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচনের মত একটি শক্তিশালী তত্ত্ব দিয়ে সেই বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করাটাই ছিল বৈপ্লবিক।</p>
<p>ডারউইন পর্যবেক্ষণ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, ডারউইনের তত্ত্ব প্রকৃতপক্ষে জীবকূলের ইতিহাস বর্ণনা করে। আর ইতিহাস প্রমাণ করার জন্য এমন কিছু প্রয়োজন যা দিয়ে ইতিহাসের গতিধারাটি চোখের সামনে তুলে ধরা যায়, সচিত্র প্রতিবেদনের মত। এভাবে ইতিহাস উদঘাটনের উপকরণগুলো তখন ছিল না। কিন্তু আজ বিবর্তনের ঐতিহাসিক প্রমাণের সবচেয়ে বড় দুটি উপকরণ আমাদের হাতের মুঠোয়- এক. বংশগতিবিজ্ঞান, দুই. জীবাশ্ম। বংশগতিবিজ্ঞান সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হলেও এটা আমাদেরকে ভিজ্যুয়ালাইজ করতে সাহায্য করে না। কিন্তু জীবাশ্ম একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই ১লা অক্টোবর যখন ৪৪ লক্ষ বছর বয়সী <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Ardipithecus">আর্ডিপিথেকাস র‌্যামিডাস</a> (আর্ডি) এর চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে টিম হোয়াইট-এর দল ১১টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করল তখন আমি যেন ঠিক একটা ভিডিওচিত্রের মতই মানবজাতির ইতিহাসটা চোখের সামনে দেখতে পেলাম।<span id="more-319"></span></p>
<p>আদম-হাওয়া র পৌরাণিক কাহিনীর বিপরীতে ডারউইন স্থাপন করেছিলেন তার &#8220;জীবনবৃক্ষ&#8221;। বলেছিলেন, পৃথিবীর সকল প্রাণ সূতোয় বাঁধা। অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সকল জীবকে একটি গাছের সাথে তুলনা করলে গাছের গুড়িটিকে বলতে হবে প্রাণের আদিতম পূর্বপুরুষ। এই গুড়ি থেকে কাণ্ড জুড়ে বড় হয়েছে গাছ, তৈরি হয়েছে একের পর এক শাখা-প্রশাখা। আমরা জীবনবৃক্ষের যে শাখায় আছি, নিজেদের ইতিহাস জানতে হলে সেই শাখা বেয়ে রওয়ানা করতে হবে গুড়ির অভিমুখে। এ অভিযাত্রায় আমাদের বড় সহায় হবে জীবাশ্ম। ১৯৭৪ সালে লুসি (অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যাফারেনসিস) আবিষ্কারের পরই জীবাশ্ম বিবর্তনকে সর্বসাধারণের চোখের সামনে মেলে ধরতে শুরু করে। হাটুতে জ্ঞান নিয়ে মহাবিশ্বের কথা বলা জাকির নায়েক বা আত্মপরিচয়হীন হারুন ইয়াহিয়া-রা ২৪/৭ ব্যস্ত থাকে ত্রিশূল দিয়ে মানুষের চোখ অন্ধ করে দেয়ার কাজে। আর্ডি বা লুসি-রা সেই অন্ধত্ব নিরসনে আমাদের সাহায্য করে। তাই অন্ধ-দর্শনক্ষম নির্বিশেষে আসুন সবাই শুরু করি সেই মহান অভিযাত্রা-</p>
<p><strong>গন্তব্য: গাছের গুড়ি</strong></p>
<p>বর্তমানে জীবাশ্ম-নৃবিজ্ঞানী দের দেওয়া তথ্য অনুসারে আজ থেকে ৭০ লক্ষ বছর আগে মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স) এবং শিম্পাঞ্জিরা তাদের সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে আলাদা হয়েছিল। তাই আমাদের প্রথমেই বুঝে নিতে হবে- আমরা শিম্পাঞ্জি থেকে বিবর্তিত হই নি, শিম্পাঞ্জি এবং আমরা উভয়েই বরং একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছি যারা মানুষও ছিল না আবার শিম্পাঞ্জিও ছিল না। তার মানে ৭০ লক্ষ বছর আগে গাছের একটি শাখা দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল- শিম্পাঞ্জিরা বিবর্তিত হয়েছে একটি শাখা ধরে আর আমরা বিবর্তিত হয়েছি অন্যটি ধরে। এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানুষ ও শিম্পাঞ্জির সেই সাধারণ পূর্বপুরুষটিকে খুঁজে বের করা।</p>
<p>১৯৭৪ সালে লুসি নামের একটি মেয়েকে আমরা মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করি যার বয়স ছিল ৩৩ লক্ষ বছর। অনেক গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা একমত হন যে, সে আমাদেরই পূর্বপুরুষ, কিংবা পূর্বপুরুষদেরই কোন নিকটাত্মীয়। তার মানে লুসি আবিষ্কারের পর মানুষ-শিম্পাঞ্জির সাধারণ জয়েন্ট থেকে আমাদের দূরত্ব থাকে ৩৭ লক্ষ বছর। লুসির সবচয়ে বড় দুটি বৈশিষ্ট্য ছিল:<br />
- সে দুই পায়ে ভর করে হাটতে পারতো যা শিম্পাঞ্জিরা পারে না<br />
- তার মস্তিষ্ক শিম্পাঞ্জিদের থেকে একটু বড় ছিল</p>
<p>এই আবিষ্কার থেকে সহজেই বোঝা যায়, লুসির আগে পৃথিবীতে আমাদের যেসব পূর্বপুরুষ বাস করে গেছে তাদের দুই পায়ে হাটার ক্ষমতা লুসি-র চেয়ে কম হবে, তাদের মস্তিষ্কও হবে অপেক্ষাকৃত ছোট, তবে খুব বেশি ছোট না কারণ এই বিবর্তনটা অনেক ধীরে ঘটেছে। আর্ডিপিথেকাস র‌্যামিডাস আমাদের সেই প্রকল্পকেই সত্য প্রমাণ করল। ২০০৯ সালের ১লা অক্টোবর &#8220;নেচার&#8221; পত্রিকায় প্রকাশিত ১১টি গবেষণাপত্রের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি,<br />
- আর্ডি-ও একটি মেয়ে যার বয়স ৪৪ লক্ষ বছর<br />
- সে দুই পায়ের উপর ভর করে খুব কম দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে<br />
- আবার গাছে গাছেও আনাড়িভাবে ঝোলাঝুলি করতে পারে</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/hominin.jpg"><img alt="" src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/hominin.jpg?w=460" title="2" class="aligncenter" width="460" /></a></p>
<p>এই মহা আবিষ্কারের পর সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে আমাদের দূরত্ব থাকল আর মাত্র ২৬ লক্ষ বছর। লুসি আবিষ্কৃত হয়েছিল ইথিওপিয়া-তে। আর্ডিও ইথিওপিয়ার। ইথিওপিয়া-ই বোধহয় আমাদেরকে নিয়ে যাবে সেই পূর্বপুরুষের কাছে। উপরের ছবিটিতে (ছবির উপর ক্লিক করলে বড় হবে) জীবাশ্মের আলোকে ৭০ লক্ষ বছর পূর্ব থেকে শুরু করে একেবারে বর্তমান পর্যন্ত মানুষের ইতিহাস দেখানো হয়েছে। কোন প্রজাতিটি কোন সময়ের এবং সেই প্রজাতির কী কী অঙ্গের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেটাও ছবির মাধ্যমে বোঝা সম্ভব। বুঝতেই পারছেন- একমাত্র লুসি এবং আর্ডি-রই প্রায় পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল নির্মাণ করা গেছে। বাকিদের মাথা বা দেহের বিভিন্ন অংশের কিছু হাড় পাওয়া গেছে কেবল। ছবিতে ৭০ লক্ষ বছর আগেরও একটি জীবাশ্ম দেখা যাচ্ছে, নাম &#8220;সাহেলানথ্রোপাস চাদেনসিস&#8221;। এর মাধ্যমে মানুষ-শিম্পাঞ্জির সাধারণ পূর্বপুরুষ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যেতো, কিন্তু এর কেবল মাথার খুলিটাই পাওয়া গেছে। মস্তিষ্কের আকার এবং খাবার গ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় ছাড়া তাই আর তেমন কিছুই জানা যায় নি।</p>
<p><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/human.jpg?w=460" width="460" alt="3" /></p>
<p>পাশের তালিকায় আরেকটু সূক্ষ্ণভাবে আমাদের ইতিহাস দেখানো হল। হোমো স্যাপিয়েন্স পর্যন্ত পাওয়া প্রজাতিগুলোর নাম এবং কোন সময় তারা পৃথিবী বাস করে গেছে সেটা দেখানো হয়েছে।</p>
<p><strong>আবিষ্কারের কাহিনী</strong></p>
<p>১৯৭৪ সালে লুসি আবিষ্কারকারী দলের একজন বিজ্ঞানী ছিলেন <a href="http://www.isepp.org/Pages/03-04%20Pages/White.html">টিম হোয়াইট</a>, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে-র জীবাশ্ম-নৃবিজ্ঞান গবেষক। ইথিওপিয়া-র আফার নিম্নভূমিতে হোমিনিনি গোত্রের এত জীবাশ্ম পাওয়া গেছে যে, টিম হোয়াইট রীতিমত এই জায়গার প্রেমে পড়ে যান। সাধে কি আর সারাটা জীবন ইথিওপিয়ার এক বিরান সাভানা-য় কাটিয়ে দিলেন! ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা-র অদূরে &#8220;আফার&#8221; নামে এক বিরাট নিম্নভূমিতেই লুসি থেকে শুরু করে হোমিনিনি গোত্রের সবগুলো জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। শিম্পাঞ্জি, মানুষ সবাই এই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।</p>
<p><img class="alignright" src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/white.jpg?w=300" width="300" alt="টিম হোয়াইট" />১৯৯২ সালের ১৭ই ডিসেম্বর টিম হোয়াইটের প্রাক্তন ছাত্র Gen Suwa হঠাৎ করে আফার এর নিকটবর্তী আরামিস গ্রামের পাশে এক টুকরো হাড় দেখতে পান। দেখার সাথে সাথেই বুঝে গিয়েছিলেন, এটা হোমিনিনি গোত্রেরই কোন একটি প্রজাতির জীবাশ্ম। সেই এলাকা ঘিরেই হোয়াইট দলের অনুসন্ধান শুরু হয়। পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে পাওয়া যায় একটি শিশুর নিম্ন চোয়ালের কিছু জীবাশ্ম। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে শ্রোণীচক্র, মাথার খুলি, পা এবং মুখের অনেকগুলো খণ্ডাংশ পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হল সবগুলো হাড়ের অবস্থাই ছিল শোচনীয়। তাই এগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রকৃত গবেষণা বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এ কারণেই তাৎক্ষণিকভাবে বিজ্ঞানীরা সাংবাদিক বা বিজ্ঞানী মহলকে তেমন কিছুই জানায়নি। এরই মধ্যে সর্বমোট ১১০ টিরও বেশি খণ্ডাংশ একত্রিত করে সেগুলোর বিশুদ্ধায়ন চলেছে, তারপর শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল তৈরির কাজ। উল্লেখ্য, এছাড়া অন্যান্য প্রাণী বা উদ্ভিদের প্রায় ১৫০,০০০ নমুনাও যুগিয়েছে আফার-এর এই সাইট।</p>
<p>ইথিওপিয়ায় কঙ্কাল গঠনের পাশাপাশি টোকিও এবং ওহাইয়ো তেও আর্ডি গবেষণা চলেছে সমান তালে। ওহাইয়ো-তে বিজ্ঞানী <a href="http://dept.kent.edu/anthropology/lovejoy.html">সি ওয়েন লাভজয়</a> আর্ডির ভৌত মডেল তৈরির কাজ করেছেন আর টোকিওতে Gen Suwa কম্পিউটার মডেল বানিয়েছেন। এই দুই গবেষণাকেন্দ্রেই মাঝেমাঝে কঙ্কালের বিভিন্ন অংশ পাঠানো হয়েছে সিটি স্ক্যান এবং অন্যান্য পরীক্ষার জন্য। ৯ বছরের কাজ শেষে Suwa গর্বভরে বলতে পেরেছেন, &#8220;৪৪ লক্ষ বছর আগে ইথিওপিয়া-তে ঠিক এরকম এক আর্ডিপিথেকাস র‌্যামিডাস-ই ঘুরে বেড়াতো।&#8221;</p>
<p>কম্পিউটার মডেলিং হয়ে যাওয়ার পর Suwa ও Asfaw সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়িয়েছেন আর্ডির সাথে মানুষ এবং শিম্পাঞ্জির সকল প্রজাতির মিল-অমিল খুঁজে বের করার জন্য। কারণ মানবেতিহাসের ঠিক কোন জায়গায় আর্ডির জায়গা হবে সেটা ডেটিং এর মাধ্যমে জানা গেলেও, এর সাথে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের সব তথ্য মিলিয়ে দেখার দরকার ছিল। দেখেশুনে আপাতত এই সিদ্ধান্তেই এসেছেন যে, আর্ডি অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যানামেনসিস দের পূর্বপুরুষ। উল্লেখ্য এর আগে অ্যানামেনসিস এর জীবাশ্ম ছিল প্রাচীনতম। উপরের ছক থেকেই সেটা দেখা যাচ্ছে। তবে অ্যানামেনসিস এর খুব কম জীবাশ্মই পাওয়া গেছে।</p>
<p>মজার ব্যাপার হচ্ছে আফার নিম্নভূমির যে জায়গায় হোমিনিনি সন্ধান করা হয়েছে তার এক ইঞ্চি মাটিও আর অক্ষত নেই। বিজ্ঞানী ও পেশাদার জীবাশ্ম শিকারীরা প্রতিটা ইঞ্চি খুটিয়ে দেখেছেন। এক সাংবাদিক তো লিখে দিয়েছেন, &#8220;They sucked the bones out of Afar.&#8221;</p>
<p><strong>আর্ডি-র বৈশিষ্ট্যসমূহ</strong></p>
<p><em>শ্বদন্ত</em></p>
<p><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/ardi-1.jpg?w=460" width="460" alt="5" /></p>
<p>মানুষের উপরের চোয়ালে দুটি এবং নিচের চোয়ালে দুটি তীক্ষ্ণ দাঁত আছে যেগুলোকে শ্বদন্ত বলে। শিম্পাঞ্জিরও এরকম শ্বদন্ত আছে। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে শিম্পাঞ্জিরটা মানুষের চেয়েও তীক্ষ্ণ ও ধারালো। সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে আলাদা হয়ে যাবার পর প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের দিকে বয়ে চলা শাখার প্রজাতিগুলোতে শ্বদন্ত দিন দিন ভোঁতা হয়েছে। আর্ডির শ্বদন্ত হচ্ছে একেবারে মাঝামাঝি। পাশের ছবিতে, একেবারে বামের চোয়াল মানুষের, ডানেরটা শিম্পাঞ্জির আর মাঝেরটা আর্ডির। শিম্পাঞ্জির শ্বদন্তের সাথে অনায়াসেই ছুরির ফলার তুলনা দেয়া যেতে পারে।</p>
<p>আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, মানুষের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের শ্বদন্তের আকার প্রায় একই রকম। কিন্তু এমন অনেক প্রাইমেট প্রজাতি আছে যাদের ক্ষেত্রে পুরুষের শ্বদন্ত নারীর তুলনায় অনেক বড়। এর কারণ পুরুষে-পুরুষে প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার কারণ যথারীতি নারী, খাদ্য এবং জমি। বিজ্ঞানীদের মতে শিম্পাঞ্জি ও আমাদের সাধারণ পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রে নারীর তুলনায় পুরুষের শ্বদন্ত অনেক বড় ছিল। কিন্তু মানুষের শাখা বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর অর্থাৎ হোমিনিড-দের মাঝে শ্বদন্ত ভোঁতাকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। কারণ মানুষের পূর্বপুরুষরা সন্তান বড় করার ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রাখতে শুরু করে। মা-কে একা ফেলে না দিয়ে বাবা-রাও সন্তান প্রতিপালনে অংশ নেয়। এ কারণে স্বভাবতই তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমে আসে আর প্রাকৃতিক নির্বাচন শ্বদন্তকে নির্বাচন করা বাদ দিয়ে দেয়। আর্ডি যখন পৃথিবীতে ছিল তখন এই বাদ দেয়ার প্রক্রিয়াটাই চলছিল।</p>
<p><em>শ্রোণীচক্র</em></p>
<p>লাভজয় ও তার দল আর্ডির শ্রোণীচক্র নিয়ে অনেক গবেষণা করে দেখেছেন এর সাথে লুসি-র বেশ ভাল মিল আছে। যেমন লুসি-র মতই আর্ডির শ্রোণীচক্র তার দেহের উর্ধ্বাংশকে বহন করতে পারে। অর্থাৎ শ্রোণীচক্রে ভর দিয়ে দুই পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম ছিল আর্ডি। কিন্তু সে খুব ভালভাবে হাঁটতে পারতো না, আর দৌঁড়াতে পারতো না বললেই চলে। এদিক থেকে সে লুসির চেয়ে ভালই পিছিয়ে। এসব দেখে মনে হয়, আর্ডির সময় থেকে আমাদের পূর্বপুরুষদের বিবর্তন ঘটেছে খুব দ্রুত, মাত্র ১০ লক্ষ বছরের মধ্যেই অস্ট্রালোপিথেকাস এর মত প্রায়-মানুষ প্রজাতির জন্ম দেয়ার জন্য যা আবশ্যক ছিল। উপরের ছবিতে আর্ডি ও লুসির শ্রোণীচক্রও দেখানো হয়েছে। বামে আর্ডি আর ডানে লুসির শ্রোণীচক্রের মধ্যে মিলটা লক্ষ্যণীয়।</p>
<p><em>পায়ের পাতা ও আঙুল</em></p>
<p><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/toe-hand.jpg?w=460" width="460" alt="6" /></p>
<p>আর্ডির পায়ের পাতাকে বলা যায় opposable কিন্তু rigid. অপোজেবল বলতে বোঝানো হচ্ছে, গাছে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরার জন্য ডাল-পালার সাথে পায়ের ঠেক দেয়ার যে পদ্ধতি থাকা দরকার ছিল তার কিছুটা হলেও আর্ডির মাঝে আছে। পায়ের পাঁচটি আঙুলের প্রথমটি অর্থাৎ বৃদ্ধাঙ্গুলি এই ঠেক দেয়ার কাজটি করতো। কিন্তু বাকি চার আঙুলের গঠন খুব শক্ত। দেখে মনে হয় এই আঙুলগুলো মাটিতে সমান্তরালভাবে রেখে তার পক্ষে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব। আর্ডিরা এভাবেই হাটতো। একাধারে মাটিতে হাটতে এবং গাছে চড়তে সক্ষম এমন প্রজাতির সন্ধান আমরা এই প্রথম পেলাম। এরকম আরও কিছু প্রজাতির খণ্ডাংশ আগে পাওয়া গেলেও সেগুলো থেকে এত তথ্য পাওয়া সম্ভব ছিল না।</p>
<p><em>হাতের তালু ও আঙুল</em></p>
<p>আর্ডির পায়ের সাথে মানুষের পায়ের মিল বেশি হলেও হাতের সাথে বেশি মিল শিম্পাঞ্জির। শিম্পাঞ্জির মতই তার হাত খুব নমনীয় তথা ফ্লেক্সিবল যা গাছে ঝুলে থাকার জন্য আবশ্যক। আঙুল গুলো বেশ লম্বা লম্বা এবং সহজেই বাঁকানো যায়। হাত, পা এবং শ্রোণীচক্রের গড়ন থেকেই বোঝা গেছে যে আর্ডি একাধারে মাটিতে হাঁটতে পারতো এবং গাছে ঝুলতে পারতো, কিন্তু কোনটাতেই সে বিশেষ দক্ষ ছিল না। মনে হতে পারে তার জীবন ধারণ করতে এতে খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু সেটা তো প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিরোধী। সে সময় ইথিওপিয়ার আরামিস অঞ্চলটা কেমন ছিল তা বুঝলেই আর বিরোধ থাকে না। এ অঞ্চলে তখন বন জঙ্গল ছিল, তবে গাছগুলো খুব বড় বড় ছিল না, আর বনের মাঝে মাঝে ঘাসে ভরা ছোটখাট সমভূমিও ছিল। তাই দুটোতেই চলার চেষ্টা করাটা তার জন্য ছিল স্বাভাবিক।</p>
<p><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/aramis.jpg?w=460" width="460" alt="7" /></p>
<p>এখন কিন্তু আফার অঞ্চলের সেই বন নেই। একসময় এটা হয়ত বিস্তীর্ণ সাভানায় পরিণত হয়েছিল। এখনও অনেকটা সাভানা-র মত, তবে ঘাসের পরিমাণও বেশ কমে গেছে। উপরের ছবিতে কেনিয়ার Kibwezi বন (বামে) এবং আফার নিম্নভূমির (ডানে) ছবি দেখানো হয়েছে। আর্ডি যখন জীবিত ছিল তখন আফার অঞ্চলটিও ছিল Kibwezi-র মত। বনের মাঝে মাঝে অল্প বিস্তর তৃণভূমি। এরকম একটা অঞ্চলেই মানুষের বিবর্তন নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছিল।</p>
<p>১৯৭৪ সালে লুসি আবিষ্কারের পর অনেকদিন জীবাশ্ম মহলের খুব বড় কোন অর্জন ছিল না। এবারের অর্জন লুসি-কেও ছাড়িয়ে গেছে। মানুষের বিবর্তন কিভাবে হয়েছে তার তাত্ত্বিক ভিত্তি তো ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা অনেকটা তৈরি করে ফেলেছেন। তবে সেটার প্রামাণ্য ভিত্তি দাঁড় করাতেও এখন কোন বাঁধা নেই। কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান চলে সংশয়ের ভিত্তিতে। যেমন, এই ১১টি গবেষণাপত্র প্রকাশের পরই জীবাশ্ম-নৃবিজ্ঞানী মহল অনেক ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন। বিভিন্ন জন বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এটা দেখছেন। মোটকথা আগামী ১৫ বছর আর্ডিকে নিয়ে মুখর থাকবে বিজ্ঞানী মহল। বাকবিতণ্ডা চলতেই থাকবে। এখনই অনেকে বলছেন, আর্ডিকে সরাসরি অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যানামেনসিস এর পূর্বপুরুষ বলে দেয়ার সময় এখনও আসে নি। জীবাশ্মগুলো আরও পরীক্ষা করার পরই কেবল এ বিষয়ে শতকরা ৯৯ ভাগ নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব, আর এটা তো আমাদের সবারই জানা যে, বিজ্ঞানে ৯৯% নিশ্চয়তাই সর্বোচ্চ।</p>
<p>ডারউইন বিশ্বের তাবৎ জীবকে এক সূতোয় বাঁধতে চেয়েছিলেন, যতটা প্রমাণ থাকলে এই বন্ধনটা অন্যকে বোঝানো সম্ভব ততটা প্রমাণ তিনি জোগাড়ও করেছিলেন। কিন্তু মুখরোচক কিছু না হলে সাধারণ মানুষ সাড়া দেয়। বিজ্ঞানের চেয়ে জনপ্রিয় সংস্কৃতি-র দিকে মানুষের ঝোঁক অনেক বেশি। এবার সেই জনপ্রিয় সংস্কৃতিরও অংশ হতে শুরু করবে আমাদের পূর্বপুরুষেরা। আমরা আর অদৃশ্য পূর্বপুরুষদের প্রার্থনা করবো না, বরং দৃশ্যমান পূর্বপুরুষদের নিরীক্ষণ করে ইতিহাসের ধ্যান করবো। এই ধ্যান একদিন সত্যিকার অর্থেই এক সূত্রে গেঁথে দেবে আমাদের সবাইকে। তখনও আমরা বেটোফেন এর নাইন্থ সিম্ফনি গাইবো, তবে সে গান কেবল মানুষের নয়, বরং পুরো জীবকূলের প্রতিনিধিত্ব করবে:</p>
<p><strong>ডাইনে ৎসাউবার বিন্ডেন ভিডার<br />
ভাস ডি মোডে স্ট্রেং গেটাইল্ট;<br />
আলে মেনশেন ভের্ডেন ব্রুডার,<br />
ভো ডাইন সাফটার ফ্লুগেল ভাইল্ট।</strong></p>
<p><em>Your magic binds again<br />
What custom strictly divided.<br />
All men become brothers,<br />
Where your gentle wing rests.</em></p>
<p>বিবর্তন তত্ত্ব আবার একত্রিত করবে পুরো মহাবিশ্বকে। অ্যাডাম-ইভ এর পুরাণ যে বিশ্বকে একাধিপত্য ভিত্তিক স্বৈরতন্ত্র বানিয়ে দিয়েছিল। যে বিশ্বের মানুষ প্রকৃতি থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছিল, নিজেদেরকে ভাবতে শুরু করেছিল অতিপ্রাকৃত বা অতিপ্রাকৃতের প্রতিনিধি।<br />
প্রকৃতির স্রোত অতিপ্রাকৃত নয় বরং প্রাকৃতের দিকেই ধাবমান। প্রকৃতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে, প্রকৃতির মধ্যে যেসব প্রকৃতিবিরোধী প্রাকৃতিক সত্তার বাস তাদের অন্ধত্ব ঘুচিয়ে তবেই সে শান্ত হবে, ডানা মেলে বিশ্রাম করবে&#8230;</p>
<p><strong>তথ্যসূত্র:</strong></p>
<p>- <a href="http://www.sciencemag.org/ardipithecus/">Ardipithecus ramidus &#8211; অ্যান গিবন্স, সায়েন্স ম্যাগাজিন</a><br />
- <a href="http://blogs.discovermagazine.com/loom/2009/10/01/ardipithecus-we-meet-at-last/">Ardipithecus: We Meet At Last &#8211; কার্ল জিমার</a></p>
<p><em>ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা</em> &#8211; অ্যান গিবন্স এবং কার্ল জিমার</p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/319/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/319/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/319/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/319/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/319/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/319/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/319/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/319/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/319/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/319/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=319&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/05/ardipithecus-ramidus/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://blogs.discovermagazine.com/loom/files/2009/09/ardi-recon440.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/hominin.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">2</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/human.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">3</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/white.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">টিম হোয়াইট</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/ardi-1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">5</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/toe-hand.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">6</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/10/aramis.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">7</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>আল মুকাদ্দিমা &#8211; পদার্থবিজ্ঞান</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/02/al-mukaddima-physics/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/02/al-mukaddima-physics/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Oct 2009 19:40:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[পদার্থবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[আল মুকাদ্দিমা]]></category>
		<category><![CDATA[ইবন খালদুন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=307</guid>
		<description><![CDATA[পদার্থবিজ্ঞান
চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ, ষষ্ঠ অধ্যায়, আল মুকাদ্দিমা
লেখক &#8211; আবদুর রাহমান বিন মুহাম্মাদ ইবন খালদুন
ইংরেজি অনুবাদক &#8211; ফ্রানৎস রোজেনথাল
বাংলা অনুবাদক &#8211; খান মুহাম্মদ (শিক্ষানবিস)

এটি এমন এক বিজ্ঞান যা বস্তুর সাথে সংযুক্ত গতি ও স্থিতি-র প্রেক্ষাপটে সেই বস্তুর অনুসন্ধান করে। এটি জ্যোতিষ্ক ও মৌলিক বস্তু এবং এসব থেকে সৃষ্ট মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও খনিজ পদার্থ নিয়ে গবেষণা করে। [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=307&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p><strong>পদার্থবিজ্ঞান</strong></p>
<p>চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ, ষষ্ঠ অধ্যায়, আল মুকাদ্দিমা<br />
লেখক &#8211; <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Ibn_Khaldun">আবদুর রাহমান বিন মুহাম্মাদ ইবন খালদুন</a><br />
ইংরেজি অনুবাদক &#8211; <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Franz_Rosenthal">ফ্রানৎস রোজেনথাল</a><br />
বাংলা অনুবাদক &#8211; খান মুহাম্মদ (শিক্ষানবিস)</p>
<hr />
<p>এটি এমন এক বিজ্ঞান যা বস্তুর সাথে সংযুক্ত গতি ও স্থিতি-র প্রেক্ষাপটে সেই বস্তুর অনুসন্ধান করে। এটি জ্যোতিষ্ক ও মৌলিক বস্তু এবং এসব থেকে সৃষ্ট মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও খনিজ পদার্থ নিয়ে গবেষণা করে। পৃথিবীতে নেমে আসা ভূমিকম্প এবং বসন্ত নিয়েও এটি গবেষণা করে, এছাড়া পরিবেশের মেঘ, বাষ্প, বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎ চমক, ঝড় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদিও এর গবেষণাক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। বস্তুর মাঝে প্রথমে কিভাবে গতির সঞ্চার হয়েছিল, এ বিষয়ক গবেষণার মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান তার ক্ষেত্র বিস্তার করে। অর্থাৎ মানুষ, প্রাণী এবং উদ্ভিদে বিভিন্ন রূপ নিয়ে আত্মার যে প্রকাশ ঘটে তার সূচনাও এই বিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়।<span id="more-307"></span></p>
<p>এই বিষয়ে এরিস্টটল এর লেখা বইগুলো একালের পণ্ডিতদের কাছে আছে। আল-মামুন এর সময় দার্শনিক বিজ্ঞান এর অন্যান্য সব বইয়ের সাথে এরিস্টটল এর বইগুলোও অনুবাদ করা হয়েছিল। এসব বইয়ের উপর নির্ভর করেই পরবর্তীতে পণ্ডিতরা অনেক বই লিখেছেন, এর সাথে যুক্ত করেছেন বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও মন্তব্য। এই বিষয়ে লেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই হচ্ছে ইবন সিনা-র &#8220;কিতাবুশ শিফা&#8221;। আগে আমরা যে সাতটি দার্শনিক বিজ্ঞানের উল্লেখ করেছিলাম তার সবগুলো নিয়েই ইবন সিনা এই বইয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি পরবর্তীতে আবার &#8220;কিতাবুন নাজাত&#8221; ও &#8220;কিতাবুল ইশারাত&#8221; বই দুটোতে পূর্বোক্ত গ্রন্থটিকে আরও পরিশীলিত করেছেন। একদিক থেকে বলা যায়, ইবন সিনা প্রায় সব ভৌত সমস্যার ক্ষেত্রেই এরিস্টটল এর বিরোধিতা করেছেন এবং নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, আবু রুশদ এরিস্টটল এর বইগুলোর পরিশীলিত সারাংশ তৈরি করে সেগুলোর সাথে মন্তব্য যোগ করেছেন, কিন্তু ইবন সিনা-র মত বিরোধিতা না করে তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এছাড়াও অনেক পণ্ডিত এ নিয়ে অনেক বই লিখেছেন।[১] কিন্তু বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান অধ্যয়ণ করতে গেলে প্রধানত এই বইগুলোরই সাহায্য নেয়া হয়, এগুলোই এখন সবচেয়ে বিখ্যাত।</p>
<p>প্রাচ্যবাসীরা ইবন সিনা-র &#8220;কিতাবুল ইশারাত&#8221; কেই খুব আগ্রহের সাথে গ্রহণ করেছে। <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Ibn_al-Khatib">ইমাম ইবনুল খাতিব</a> এর উপর খুব ভাল একটি ভাষ্য লিখেছেন। <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Sayf_al-Din_al-Amidi">আল-আমিদ</a> ও একটি ভাষ্য লিখেছেন।[২] এ সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্য হচ্ছে ইরাকী পণ্ডিত <a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Nasiruddin_Tusi">নাসিরউদ্দিন তুসি</a>[৩] যিনি খাজা নামেও পরিচিত। তুসি ইশারাত এর অনেকগুলো সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তার সিদ্ধান্তের সাথে ইবন আল-খাতিব এর সিদ্ধান্তগুলোর তুলনা করেছেন। অবশ্য এ বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি খাতিব কেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।</p>
<p>&#8220;এবং তিনিই যেকোন পণ্ডিত এর চেয়ে অনেক বেশি জানেন&#8221;।[৪]</p>
<p><strong>পাদটীকা</strong></p>
<p>১। কথা থেকে মনে হচ্ছে সে সময় ইবন সিনা নয় বরং কেবল ইবন রুশদ এর বই নিয়ে গবেষণা হতো। কিন্তু ইবন খালদুন তার মুকাদ্দিমায় ইবন সিনা-র নাম এত বেশি বার ব্যবহার করেছেন যে, ইবন সিনা নিয়ে গবেষণা না হওয়ার কোন কারণ নেই। তাই এখানে মনে হয় ইবন খালদুন যা লিখেছেন তা দ্বারা অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছেন।<br />
২। আল-আমিদি অবশ্য ফাখরুদ্দিন আল-রাজি র বিরোধিতা করেছিলেন। অর্থাৎ ইবন খাতিব এরও বিইরোধিতা করেছিলেন। তার ভাষ্যের নাম &#8220;কাশফ আত-তামভিহাত&#8221;<br />
৩। তার ভাষ্যের নাম &#8220;হাল মুশকিলাত আল-ইশারাত&#8221;। এখানে ইরাকী বলতে খালদুন আসলে অ-আরবীয় ইরাকী বুঝিয়েছেন।<br />
৪। কুরআন (১২:৭৬)</p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/307/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/307/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/307/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/307/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/307/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/307/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/307/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/307/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/307/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/307/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=307&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/02/al-mukaddima-physics/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>চন্দ্রযান-এর চন্দ্রজল</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/01/water-on-moon/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/01/water-on-moon/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Oct 2009 15:10:43 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[খবর]]></category>
		<category><![CDATA[জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[জ্যোতির্জীববিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[মহাকাশ অভিযান]]></category>
		<category><![CDATA[চন্দ্রযান-১]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=304</guid>
		<description><![CDATA[কোন ক্লাস এর বইয়ে যেন আর্মস্ট্রং-অলড্রিন-কলিন্স এর চন্দ্রাভিযানের বর্ণনা পড়েছিলাম। সেখানেই প্রথম &#8220;শান্তির সাগর&#8221; নামটার সাথে পরিচয়। অ্যাপোলো ১১ চাঁদে &#8220;শান্তির সাগর&#8221; নামে একটা জায়গায় অবতরণ করেছিল। প্রথমবার পড়ার পর অন্য অনেকের মত আমিও ভেবে বসেছিলাম, এটা বোধহয় পৃথিবীর মত কোন সাগর। কিছুতেই মাথায় ঢুকছিল না, মাটি বাদ দিয়ে নভোযান কেন সমুদ্রের মাঝখানে অবতরণ করবে। [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=304&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p>কোন ক্লাস এর বইয়ে যেন আর্মস্ট্রং-অলড্রিন-কলিন্স এর চন্দ্রাভিযানের বর্ণনা পড়েছিলাম। সেখানেই প্রথম &#8220;শান্তির সাগর&#8221; নামটার সাথে পরিচয়। অ্যাপোলো ১১ চাঁদে &#8220;শান্তির সাগর&#8221; নামে একটা জায়গায় অবতরণ করেছিল। প্রথমবার পড়ার পর অন্য অনেকের মত আমিও ভেবে বসেছিলাম, এটা বোধহয় পৃথিবীর মত কোন সাগর। কিছুতেই মাথায় ঢুকছিল না, মাটি বাদ দিয়ে নভোযান কেন সমুদ্রের মাঝখানে অবতরণ করবে। সেসব কনফিউশন এর কথা মনে হলে আজও হাসি পায়। কনফিউশন দূর হতে অবশ্য বেশিদিন লাগে নি। একসময় বুঝেছিলাম, এসব নাম নাসা বিজ্ঞানীদের রসিক মন আর ল্যাটিন-প্রীতিরই পরিচায়ক।</p>
<p>অনেকদিন পর হঠাৎ এই কথা মনে হওয়ার কারণ একটা ব্রেকিং নিউজ। বর্তমানে মহাকাশ অভিযান এবং গ্রহ বিজ্ঞানের গবেষকদের জন্য সবচেয়ে উত্তেজনাকর খবর হচ্ছে, চন্দ্রপৃষ্ঠে পানির সন্ধান লাভ। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায় এই ২৪শে সেপ্টেম্বর চাঁদের পৃষ্ঠতলে হাইড্রক্সিল (OH-) এবং পানির (H2O) অণু আবিষ্কৃত হল। চাঁদে অবশ্যই কোন পানির সাগর নেই, তাত্ত্বিকভাবেই সেটা অসম্ভব। সেখানে পানির বিচ্ছিন্ন অণু মিশে আছে পৃষ্ঠতলীয় পদার্থগুলোর সাথে। যত মেরুর দিকে যাওয়া যায় এই পানির পরিমাণ তত বাড়ে। তবে কমবেশি সব জায়গাতেই পানির অস্তিত্ব আছে বলে মনে করা হচ্ছে। চন্দ্র গবেষকরা এই আবিষ্কারে একেবারে মহাকাশ থেকে পড়েছেন, কারণ ৪০ বছর আগে অনেকে চন্দ্রজলের ভবিষ্যদ্বাণী করলেও গত কয়েক দশকের পশ্চিমা অভিযানগুলো তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ইসরো (ISRO) এবং নাসা-র এই যুগান্তকারী আবিষ্কার তাই সবাইকে বেশ ভালভাবেই চমকে দিয়েছে।<span id="more-304"></span></p>
<p>ছোট ছোট কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে একবিংশ শতকের জ্যোতির্বজ্ঞান জগতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কারটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক, কিছু অন্তর্দৃষ্টি এবং দূরদৃষ্টি অর্জন করতে পারলে লাভ বৈ ক্ষতি তো নেই&#8230;</p>
<p><strong>কারা আবিষ্কার করল চন্দ্রজল?</strong></p>
<p>চাঁদে সাক্ষাৎ পানির সন্ধান লাভের মূল কৃতিত্ব আমরা কাদেরকে দেব? একটু চিন্তার বিষয়। পত্রিকা পড়লে দ্বিধায় পড়ে যেতে হয়। পশ্চিমা খবরগুলোতে বেশি ফিচার করা হয় নাসা-র বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র এবং তথ্য বিশ্লেষণ, আর প্রাচ্যের খবর জুড়ে থাকে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মহাবিষ্কার। আমি এখানে তৃতীয় পক্ষ হিসেবেই থাকছি। কারণ সবকিছু ছাপিয়ে এটা আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ব এবং সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবেই টিকে থাকবে। এভাবেই একে একে প্রমাণিত হচ্ছে যে, মহাকাশ বিজ্ঞান গবেষণাই সবচাইতে বেশি আন্তর্জাতিক চরিত্র অর্জন করতে পেরেছে।</p>
<p>ভারতের সরকারি মহাকাশ সংস্থা &#8220;ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন&#8221; (ইসরো) চাঁদে প্রথম নভোযান পাঠিয়েছিল ২০০৮ সালের অক্টোবরে। নভোযানের নাম &#8220;চন্দ্রযান-১&#8221;। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই সিরিজে আরও নভোযান পাঠানোর ইচ্ছা তাদের ছিল। কিন্তু মর্ত্যে অনাহারী মানুষ রেখে স্বর্গারোহনের চিরন্তন ইউটোপিয়ান যুক্তি তাদের যে পরিমাণ ভুগিয়েছিল, তাতে চন্দ্রযান-২ যে অক্কা পেতে বসেছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। চাঁদের পানি এসে তাকে শেষ মুহূর্তে বাঁচিয়ে দিল আর কি!</p>
<p>নভোযানে গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য যেসব যন্ত্রপাতি থাকে সেগুলোকে বলে পেলোড। চন্দ্রযান-১ এ মোট ১১টি পেলোড ছিল, বিভিন্ন দেশের। এর মধ্যেই একটি পেলোড &#8220;মুন মিনারেলোজি ম্যাপার&#8221; (M3 &#8211; এম টু দ্য পাওয়ার থ্রি), নাসার তৈরি। এটা অতি উন্নতমানের একটি স্পেকট্রোমিটার তথা বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র যা দিয়ে বিভিন্ন তরঙ্গের বর্ণালী বিশ্লেষণ করা হয়, এই বিশ্লেষণের মাধ্যমেই যে উৎস থেকে তরঙ্গটি এসেছে সেই উৎস কি পদার্থ দিয়ে গঠিত তা বের করে ফেলা যায়।</p>
<p>২০০৯ এর অগাস্টে চন্দ্রযান বিকল হয়ে যায়, অর্থাৎ রেডিও সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয়। কিন্তু বিকল হওয়ার আগেই তার পেলোডগুলো পৃথিবীর তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রে অনেক অনেক তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছিল। সেসব তথ্যের বিশ্লেষণ এখনও চলছে। তেমনই একটি বিশ্লেষণের ফলাফল হিসেবে &#8220;চন্দ্রপৃষ্ঠে পানির সন্ধান&#8221; এল। চন্দ্রযান-১ এর এম৩ বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্রের সব তথ্যের বিশ্লেষণ চলছিল নাসাতে, বিশ্লেষণ দলের প্রধান ছিলেন ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপিকা &#8220;কার্ল এম পিটার্স&#8221;। পিটার্সই বিশ্ববাসীকে প্রথম তথ্যটি জানিয়েছেন। তারপর থেকে ভারতীয় মহাকাশপ্রেমী মহলে উৎসব চলছে। তবে সবার নিশ্চয়ই খেয়াল আছে, এটা একটি আন্তর্জাতিক অর্জন, আমরা চাই মহাকাশের প্রতিটি অর্জন যেন হয় আন্তর্জাতিক, ভুলক্রমেও যেন কোন একটি অর্জন জাতীয়তাবাদী লেবেল না পেয়ে যায়।</p>
<p>ইসরো-র চন্দ্রযান-১ + নাসা-র এম৩ = চন্দ্রজলের সন্ধান লাভ</p>
<p>এই তথ্য পরর্ব্তীতে নাসার আরও দুটি বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র নিশ্চিত করেছে:<br />
- Visual and Infrared Mapping Spectrometer (VIMS), ক্যাসিনি নভোযানের পেলোড<br />
- High-Resolution Infrared Imaging Spectrometer (HIRIS), ইপক্সি নভোযানের পেলোড</p>
<p><strong>আবিষ্কারটি কিভাবে হল?</strong></p>
<p>বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র কিভাবে কাজ করে তা বুঝলেই এই প্রশ্নের উত্তর বোঝা যাবে। বর্ণালিবীক্ষণ বলতে কোন তরঙ্গের বর্ণালীগুলো ভেঙে ভেঙে বিশ্লেষণ করাকে বোঝায়। এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে অবলোহিত তরঙ্গ। চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত হয়ে অবলোহিত তরঙ্গ এম৩ তে পৌঁছেছে। কিন্তু চাঁদের পৃষ্ঠে বিভিন্ন পদার্থ সেই তরঙ্গের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য ইতিমধ্যেই শোষণ করেছে। এই শোষণের ফলে তরঙ্গের স্থানে স্থানে বিশোষণ রেখা (absorption line) পাওয়া যায়। তরঙ্গে বিশোষণ রেখার সজ্জা এবং তীব্রতা থেকেই বলে দেয়া সম্ভব সেটা কোন পদার্থের কারণে হয়েছে। এম৩ থেকে পাওয়া বর্ণালী বিশ্লেষণের সাথে পানি এবং হাইড্রক্সিল অণুর বর্ণালী প্যাটার্ন হুবহু মিলে গেছে। এভাবেই পানি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।</p>
<p>এম৩ এর নামের মধ্যে মিনারেলোজি শব্দটি আছে। তার মানে সে প্রধানত খনিজ পদার্থ নিয়ে গবেষণা করেছে। চাঁদের খনিজ পদার্থের মধ্যেই পানির অণুগুলো পাওয়া গেছে। নাসা থেকে প্রকাশিত এই ছবিটিতেই খনিজ পদার্থে পানির অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে। নীল রং এর মাধ্যমে পানি বোঝানো হয়েছে:</p>
<p><img width="450" src="http://www.nasa.gov/images/content/388844main_green-d-20090923-516.jpg" alt="1" /></p>
<p><strong>চাঁদে কী পরিমাণ পানি আছে?</strong></p>
<p>বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন চাঁদের পুরো পৃষ্ঠ জুড়েই কমবেশি পানির অণু আছে। কিন্তু তরল পানির তুলনায় এই পরিমাণ খুব বেশি না। সূক্ষ্ণভাবে পরিমাণটা এখনও বের করা যায় নি। তবে অনুমান হচ্ছে, চাঁদের মাটিতে প্রতি ১০ লক্ষ অণুতে পানির অণু আছে ১,০০০। বিষয়টা আমাদের স্বজ্ঞার সাথে মিলিয়ে বললে এমন হয়, চাঁদের উপরি পৃষ্ঠের এক টন মাটি প্রক্রিয়াজাত করলে সেখান থেকে ৩২ আউন্স পানি পাওয়া যাবে।</p>
<p><strong>পানির অণুগুলো কোথায় আছে?</strong></p>
<p>জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশি বিস্মিত। তারা এতদিনের গবেষণায় ধারণাই করতে পারেননি যে, চাঁদের পুরো পৃষ্ঠ জুড়ে এত পানি থাকতে পারে। তবে আগেই বলেছি, কমবেশি। বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যাবে চাঁদের পানি অণুর ঘনত্ব ততই বাড়তে থাকবে। মেরু অঞ্চলে থাকবে সবচেয়ে বেশি। এটা অবশ্য আমাদের পর্যবেক্ষণ এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে মিলে যাচ্ছে। কারণ সৌর জগতে গ্রহগুলোর মেরু অঞ্চলে সূর্যের আলো সবচেয়ে কম পৌঁছায় বলে সেখানেই বরফ থাকে সবচেয়ে বেশি। চাঁদের ক্ষেত্রেও পানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি সেখানে। ভূগোলের ভাষায় বলা যায়, অক্ষাংশ যত বাড়বে সেখানে পানির পরিমাণও তত বাড়বে। বিষুবরেখার অক্ষাংশ ০।</p>
<p><strong>চাঁদে কিভাবে পানি জমেছে, বণ্টিতই বা হচ্ছে কিভাবে?</strong></p>
<p>বিষয়টা নতুন। তাই এখনই শেষ কথা বলা যাচ্ছে না। তবে অনেকে বিভিন্ন প্রকল্প হাজির করেছেন। যেমন কিংস্টন ইউনিভার্সিটি-র ডঃ ক্রিস ওয়েল্চ বলছেন সৌর বায়ুর কথা। সূর্য থেকে আসা বিভিন্ন পদার্থের নিরন্তর স্রোতকেই সৌর বায়ু বা সোলার উইন্ড বলা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণ হাইড্রোজেন থাকে। সৌর বায়ু চাঁদ এবং পৃথিবীতেও এসে পৌঁছায়। চাঁদের নিজস্ব কোন বায়ুমণ্ডল নেই, এমনকি কোন পদার্থকে বেঁধে রাখার জন্য চৌম্বক ক্ষেত্রও নেই, যা পৃথিবীর আছে। তাই চাঁদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে তা হল, সৌর বায়ুর হাইড্রোজেন চন্দ্রপৃষ্ঠের খনিজ পদার্থে থাকা অক্সিজেন এর সাথে মিলে পানি এবং হাইড্রক্সিল তৈরি করেছে। এভাবেই পানির মোড়কে চাঁদের বুকে বন্দি হয়েছে হাইড্রোজেন। অবশ্য এটা কেবলই একটি প্রকল্প তথা হাইপোথিসিস।</p>
<p>সৌর বায়ুর প্রভাব যে চাঁদের মেরুতে বেশি তা কিন্তু না। তাহলে প্রায় সব পানিই মেরু অঞ্চলে কেন? এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর এখনও পাওয়া যায় নি। তবে এবারও প্রকল্পের অভাব নেই। কোন প্রকল্পই অবশ্য খুব একটা জোড়ালো না। কিন্তু এ নিয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই যে, বিষুবীয় অঞ্চল ও এর আশপাশ থেকে পানির অণুগুলো মেরু অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেখানে বরফ আকারে সংরক্ষিত হয়েছে, খনিজ পদার্থের মধ্যেই। অর্থাৎ চাঁদের মেরুতে আছে বরফ। অনেকে বলছেন, কোন মহাজাগতিক সংঘর্ষের কারণে মেরু অঞ্চলে বেশি পানি চলে গেছে। সূর্যের আলো এবং অবলোহিত বিকিরণ দিয়ে দেখা চাঁদের দুটি ছবি থেকেই বিষয়টা বোঝা যায়: মেরু অঞ্চলে সূর্যের আলো সবচেয়ে কম এবং অবলোহিত বিকিরণের মাধ্যমে সেখানেই পানি পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি।</p>
<p><img width="450" src="http://www.nasa.gov/images/content/388842main_green-c-20090923-516.jpg" alt="2" /></p>
<p><strong>এই আবিষ্কার থেকে আমরা কি পেলাম?</strong></p>
<p>ডঃ ক্রিস ওয়েল্চ বলছেন, চাঁদের মাটিতে পানি আবিষ্কার মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। অ্যাপোলো অভিযানের পর দীর্ঘ ৪০ বছর নাসা নিষ্ক্রিয় ছিল। সম্প্রতি আবার লুনার রিকনিসন্স অর্বিটার এর মাধ্যমে কাজ শুরু করা হয়েছে। ভারতের চন্দ্রযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের লুনার রিকনিসন্স ই হয়ত ভবিষ্যতে চাঁদভিত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সবচেয়ে ভাল অবদান রাখতে পারবে।</p>
<p>পানি অনেক ভারী এবং নভোযানে করে পৃথিবী থেকে চাঁদে পানি নিয়ে যাওয়া একটা লস প্রজেক্ট। কিন্তু চাঁদের পানিকে ঠিকমত কাজে লাগানো গেলে চাঁদে উপনিবেশ স্থাপন খুব কঠিন কিছু হবে না। চাঁদে অবশ্যই তরল পানি নেই, কিন্তু মাটি থেকে পানির অণুগুলোকে আলাদা করে বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন সম্ভব। একসময় বলা হচ্ছিল সেখানে ৩০০ মিলিয়ন টন পানি আছে, বর্তমান হিসেবে এই পরিমাণ আরও অনেক বাড়বে। পানির পাশাপাশি, এই অণু থেকে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আলাদা করে সেটাকে রকেটের প্রপেল্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া শ্বসনের জন্য চাঁদের অক্সিজেন ব্যবহার করতে পারার সুবিধা তো আছেই। অনেকে বলছেন, চাঁদের ১ ঘনমিটার মাটি থেকে ১ লিটার পানি পাওয়া সম্ভব। এমনটি হলে ভবিষ্যতে চাঁদে উপনিবেশ স্থাপনে আর কোন বাঁধাই নেই। তবে অবশ্যই সে উপনিবেশ হবে কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য।</p>
<p>এই আবিষ্কার ভারতের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ১৯৯৯ সালে যখন চন্দ্রযান প্রকল্প উত্থাপিত হয় তখন উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণের কথা বলে অনেক রাজনীতিবিদ ও বিজ্ঞানীই এর বিরোধিতা করেছিলেন। এর পেছনে অনেক যুক্তিও ছিল। এসব মানবতাবাদী যুক্তির সাথে যুদ্ধ করেই ইসরো অসাধ্য সাধন করেছে। তারপরও পদে পদে হোচট খেতে হয়েছে। অবশেষে কাজ শেষ না করেই যখন ২০০৯ এর অগাস্টে চন্দ্রযান বিকল হয়ে যায় তখন ইসরো রীতিমত বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এই আবিষ্কারের পর তারা আবার বুক উঁচিয়ে বলতে পারছে, ইসরো-র চন্দ্রযান প্রকল্প পুরোপুরি সফল হয়েছে। আমারও সেরকমই মনে হচ্ছে।</p>
<p>আমি নিজেও চাঁদের প্রতি বেশ দুর্বল। গত কয়েক মাস ধরেই এমন একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছিলাম, চাঁদে জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির স্থাপিত না হলে যে প্রজেক্ট সফল হওয়া সম্ভব না। মহাবিশ্বের ইতিহাস নিয়ে আমি অনেক আগে থেকেই আগ্রহী। মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ নিয়ে সচলায়তনে আগে লিখেছিও। কিন্তু এখন বেশি আগ্রহী কয়েক বিলিয়ন বছর আগে থেকে আসা ২১ সেন্টিমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একটি সংকেত নিয়ে। এই সংকেত এতই দুর্বল যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং রেডিও ব্যতিচারের কারণে ঠিকভাবে সনাক্ত করা সম্ভব না। কিন্তু চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে একটি রেডিও দুরবিন স্থাপন করতে পারলেই কেল্লা ফতে। মহাবিশ্বের ইতিহাস তখন আমাদের হাতের মুঠোয় এসে যাবে। এছাড়া মঙ্গলকে যদি দ্বিতীয় পৃথিবী বানাতে চাই তাহলে চাঁদকে ডেমো হিসেবে ব্যভহার করার বিকল্প নেই। নাসা-র অবশ্য এরকম পরিকল্পনা রয়েছে। এই সব পরিকল্পনার নতুন চালিকাশক্তি হবে এবার চন্দ্রজল।</p>
<p>নিল আর্মস্ট্রং ও এডুইন অলড্রিন এর চন্দ্রাবতরণের পর চাঁদ নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন এই পানির সন্ধান লাভ। আর্মস্ট্রং এর অমর বাণীর সূত্র ধরে টাইমস অফ ইন্ডিয়া যে শিরোনাম ছেপেছে তার সাথে তাই আমি একমত:<br />
One big step for India, a giant leap for mankind.</p>
<p><strong>তথ্যসূত্র:</strong></p>
<p>- <a href="http://www.sachalayatan.com/shikkhanobish/27538">চন্দ্রযান-এর চন্দ্রজল, সচলায়তন</a> [সচলায়তনে আমি লিখেছিলাম, এখানেও প্রকাশ করলাম।]</p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/304/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/304/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/304/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/304/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/304/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/304/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/304/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/304/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/304/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/304/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=304&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/10/01/water-on-moon/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://www.nasa.gov/images/content/388844main_green-d-20090923-516.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://www.nasa.gov/images/content/388842main_green-c-20090923-516.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">2</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>প্রাকৃতিক নির্বাচনের পরীক্ষা</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/testing-natural-selection/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/testing-natural-selection/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 15 Sep 2009 12:03:37 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[নেচারাল সিলেকশন]]></category>
		<category><![CDATA[প্রাকৃতিক নির্বাচন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=291</guid>
		<description><![CDATA[বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কারই সময়ের প্রয়োজন বুঝেনি, এসেছে প্রয়োজনের অনেক পরে। জটিলতা, দুর্বোধ্যতা, সূক্ষ্ণতা ইত্যাদি অনেক কিছুকেই এর জন্য দায়ী করা যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মধ্যে এর কোনটিই ছিল না। তারপরও অন্যান্য অনেক বিপ্লবের তুলনায় এটি বেশ দেরিতে শুরু হয়েছে। এই ১৮৫৮ সালে চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে প্রথম [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=291&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p>বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কারই সময়ের প্রয়োজন বুঝেনি, এসেছে প্রয়োজনের অনেক পরে। জটিলতা, দুর্বোধ্যতা, সূক্ষ্ণতা ইত্যাদি অনেক কিছুকেই এর জন্য দায়ী করা যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মধ্যে এর কোনটিই ছিল না। তারপরও অন্যান্য অনেক বিপ্লবের তুলনায় এটি বেশ দেরিতে শুরু হয়েছে। এই ১৮৫৮ সালে চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে প্রথম লিখেছেন, আর বিপ্লব সৃষ্টিকারী &#8220;অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস&#8221; প্রকাশিত হয়েছে মাত্র ১৮৫৯ সালে। সব দেখে তাই মনে হয়, অতিরিক্ত সরল হওয়ার কারণেই এটি বুঝতে আমাদের এতো দেরি হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট পরিবেশের সাথে কিছু নির্দিষ্ট জীবই খাপ খাইয়ে নিতে পারে। অভিযোজনের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা এই জীবগুলোর বংশধরের সংখ্যা তুলনামূলক বেশী হয়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর তাই তারা উক্ত পরিবেশে আধিপত্য বিস্তার করে। অন্যভাবে বলা যায়, পরিস্থিতির সাথে যারা সবচেয়ে বেশী খাপ খাইয়ে নিতে পারে, পরিবেশ নিজেই তাদেরকে &#8220;নির্বাচিত&#8221; করে। সময়ের স্রোতে পরিবেশের শর্ত পরিবর্তিত হয়, আরোপিত এই নতুন শর্তগুলোর সাথে যারা মানিয়ে নিতে পারে তারাই দিন দিন আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে, বাকিরা পিছিয়ে পড়ে। ডারউইনবাদ কিন্তু জীববিজ্ঞানের কোন জটিল রহস্যের সমাধান করার মাধ্যমে বিপ্লবের জন্ম দেয়নি। প্রকৃতির মৌলিক যুক্তিটি যে একেবারে সাধারণ হতে পারে, সেটা বোঝানোর মাধ্যমেই সে বিপ্লবের সূচনা ঘটিয়েছে।<span id="more-291"></span></p>
<p>তত্ত্বটি খুব সরল, অথচ তার গ্রহণযোগ্যতার ইতিহাস খুব জটিল। জটিল বলছি এইজন্যে যে, মানুষ সহজে এটা মেনে নিতে পারেনি, যার ফলে অনেক অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রজাতি বিবর্তিত হয়, এটা জীববিজ্ঞানীরা সহজেই মেনে নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচনের বিশাল ভূমিকার বিষয়টি প্রথমদিকে কেউই মেনে নেয়নি। অনেকদিন এই অবস্থা বিরাজমান ছিল। প্রাকৃতিক নির্বাচনের সাবর্জনীন গ্রহণযোগ্যতা এসেছে এই বিংশ শতকে।</p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে আজ আর কোন দ্বিধা নেই। এটা প্রমাণ করার মত যথেষ্ট উপাত্ত এখন আমদের হাতে আছে। কিন্তু এ নিয়ে গবেষণা কখনই থেমে থাকবে না। কারণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কাজ করে সেটাই এখন মুখ্য হয়ে উঠেছে। এর দুটি কারণ হতে পারে: গবেষণার জন্য বর্তমানে অনেক সূক্ষ্ণ যন্ত্রপাতি উদ্ভাবিত হয়েছে এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যাটি নতুন নতুন অনেক পরীক্ষার জন্ম দিয়েছে। এখন এই প্রক্রিয়া জীববিজ্ঞানের সকল ক্ষেত্রকে যতটা প্রভাবিত করছে আর দুই দশক আগেও সেটা ভাবা যেত না। প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে বতর্মানে যেসব গবেষণা হচ্ছে সেগুলোর সাধারণত তিনটি প্রধান লক্ষ্য থাকে: এটা কত ঘন ঘন ঘটে, প্রাকৃতিক নির্বাচন যে অভিযোজন ঘটায় তার কারণে জিনের মধ্যে কি কি পরিবতর্ন ঘটে এবং বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান সমস্যা তথা নতুন প্রজাতির উৎপত্তিতে এটা ঠিক কতটুকু ভূমিকা রাখে সেগুলো বের করা।</p>
<p><strong>প্রাকৃতিক নির্বাচন: সাধারণ ধারণা</strong></p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচন বোঝার জন্য প্রথমেই আমাদেরকে এমন একটি প্রজাতি নিতে হবে যাদের আয়ুষ্কাল খুব কম, কারণ সেক্ষেত্রে তাদের অনেকগুলো প্রজন্ম পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কিছু ব্যাক্টেরিয়া আছে যারা প্রতি আধা ঘণ্টায় নতুন প্রজন্মের জন্ম দিতে পারে। তাহলে এই ব্যাক্টেরিয়াকেই উদাহরণ হিসেবে নেয়া যাক। প্রথমেই এই ব্যাক্টেরিয়ার এমন দুটি পপুলেশন নেই যাদের জিনের গঠন ভিন্ন। দুই পপুলেশনেই ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা সমান হতে হবে। আরও একটি শর্তের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: দুই পপুলেশনের ব্যাক্টেরিয়ার বংশধরেরাই যেন বিশুদ্ধ হয়; অর্থাৎ প্রথম ধরণের ব্যাক্টেরিয়ারা কেবল প্রথম ধরণের ব্যাক্টেরিয়াই জন্ম দেবে আর দ্বিতীয় ধরণেরগুলো কেবল দ্বিতীয় ধরণের ব্যাক্টেরিয়া জন্ম দেবে, কোন মিশ্র ব্যাক্টেরিয়ার জন্ম হবে না। এখন ধরা যাক পরিবেশে পরিবতর্ন আসল। এমন এক এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হল, প্রথম ধরণের ব্যাক্টেরিয়াগুলো যার সাথে মানিয়ে নিতে পারে, কিন্তু দ্বিতীয় ধরণের গুলো পারে না। এই নতুন পরিবেশে তাই প্রথম ধরণের গুলো বেশী উপযোগী, তারা বেশি সুবিধা পাবে এবং অপেক্ষাকৃত বেশি সন্তান-সন্ততির জন্ম দেবে।</p>
<p>﻿এখান থেকেই বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানে &#8220;ফিটনেস&#8221; ধারণাটি এসেছে। একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে কোন পপুলেশনের বেঁচে থাকা এবং বংশবিস্তারের সম্ভাব্যতাকেই ফিটনেস বলা হয়। প্রকৃতিতে আমরা এই ফিটনেসেরই খেলা দেখি। তবে অবশ্যই ব্যাপারটা এত সরল না। ফিটনেস অবশ্যই কাজ করে, কিন্তু সেটা এমন নয় যে- তুমি ফিট না তাই তোমাকে মরতে হবে। এর সাথে অনেক খুটিনাটি জড়িয়ে আছে এবং এটা অনেক সময়েরও ব্যাপার।</p>
<p>বিবর্তনবাদী জিনবিজ্ঞানীরা এই ফিটনেস সম্পর্কে আরও অনেক খুটিনাটি তথ্য আবিষ্কার করতে পেরেছেন। এই আবিষ্কার বুঝতে হলে প্রথমেই পরিব্যক্তি (mutation) কাকে বলে তা জেনে নেয়া প্রয়োজন। ডিএনএ-র ভেতরে মূলত চারটি ক্ষার (এদের সংক্ষিপ্ত রূপ A, G, C এবং T) দিয়ে গঠিত এক ধরণের তন্তু থাকে যার নাম নিউক্লিউটাইড। এরাই জীবদেহের জিনোমের ভাষা তৈরী করে। নিউক্লিউটাইডের ক্রমবিন্যাসে দৈব পরিবর্তন ঘটাকেই পরিব্যক্তি বলে। সহজ কথায় বলা যায়, ডিএনএ-র জিনোম ভাষার একটি বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়াকেই পরিব্যক্তি বলে। পরিব্যক্তি ঘটার সম্ভাব্যতা কত তাও আমরা জানি: প্রতি প্রজন্মের প্রতিটি জননকোষের ১ বিলিয়ন নিউক্লিউটাইডের মধ্যে মাত্র একটিতে পরিব্যক্তি ঘটতে পারে। অধিকাংশ দৈব পরিব্যক্তিই ফিটনেসের জন্য খুব ক্ষতিকর। এটাই স্বাভাবিক, যে পরিবর্তন নিয়ন্ত্রিত নয় অর্থাৎ দৈব তার কারণে গঠনমূলক কিছু না হওয়াই স্বাভাবিক। ঠিক যেমন, একটি কম্পিউটার কোডে টাইপো কেবল ক্ষতিই করে।</p>
<p>তাই বলা যায়, অভিযোজনমূলক বিবর্তন দুই ধাপে ঘটে- একটি ধাপের চালিকাশক্তি থাকে পরিব্যক্তি, আর অন্য ধাপের চালিকাশক্তি থাকে নির্বাচন। প্রতি প্রজন্মেই পরিব্যক্তির মাধ্যমে নতুন জিন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক নির্বাচন এই নতুন জিনগুলোকে পরীক্ষা করে। এভাবে খারাপ (তুলনামূলক আনফিট) জিনগুলোর পরবর্তীতে আসার সম্ভাবনা কমে যায় এবং ভাল (অপেক্ষাকৃত ফিট) জিনগুলোর আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। (অবশ্য একটি পপুলেশন তার মধ্যে সব ধরণের জিনই রেখে দিতে পারে এবং পরে সময়-সুযোগ মত সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। এরকম হলেই আসলে পপুলেশনের জন্য বেশী ভাল হয়। একটু আগে দেয়া ব্যাক্টেরিয়ার উদাহরণটাই এখানে টানা যায়। প্রথম ধরণের ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে এন্টিবায়োটিক থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে জিনটি ছিল সেটা কিন্তু তার আগে কাজে লাগেনি। কারণ, এর আগে সে এন্টিবায়োটিক-মুক্ত পরিবেশে ছিল। কিন্তু নতুন পরিবেশে সেই জিনটিই তার কাজে লেগে গেছে- ভাগ্যিস সে সেটা জমা করে রেখেছিল।)</p>
<p>পপুলেশন জিনবিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিক নির্বাচনের এই প্রভাবটিকে গাণিতিকভাবে ব্যাখ্যা করে আমাদের আরও চমকে দিয়েছেন। তারা অংক কষে দেখিয়েছেন, একটি পপুলেশনের মধ্যে যে যত ফিট তার বেড়ে উঠা ও বংশবিস্তারের সম্ভাবনাও তত বেশী; এমনকি তারা এই বৃদ্ধির হারও বের করেছেন। কিন্তু যে জিনিসটি স্বয়ং জিনবিজ্ঞানীদেরকেও চমকে দিয়েছে, তা হল প্রাকৃতিক নির্বাচনের শকুনের মত চোখ। সত্যি কথা, প্রাকৃতিক নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ শক্তি এতই বেশী যে সে বিভিন্ন ধরণের জিনের ফিটনেসে অতি সূক্ষ্ণ পার্থক্যও ধরে ফেলে। সে ১০ লক্ষ জীবের একটি পপুলেশনের ফিটনেসে ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ পরিবর্তনও চিহ্নিত করতে পারে।</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/1.jpg"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/1.jpg?w=460" alt="1" title="1" width="460" class="aligncenter" /></a><br />
[ছবি: প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং মিউটেশন বা পরিব্যক্তি। কৃতজ্ঞতা- সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান]</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/2.jpg"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/2.jpg?w=460" alt="1" title="1" width="460" class="aligncenter" /></a><br />
[ছবি: প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং জেনেটিক ড্রিফ্ট। কৃতজ্ঞতা- সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান]</p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা একটি সম্পূর্ণ প্রজাতি থেকে শুরু করে জিন পর্যন্ত প্রতিটি জীববৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটেই সমানভাবে কাজ করতে পারে। প্রতিটি প্রেক্ষাপটেই তার কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ডারউইন থেকে শুরু করে সব জীববিজ্ঞানী একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির বিভিন্ন জীবের মধ্যে ফিটনেসের পার্থক্য নিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু টিকে থাকার সংগ্রামে একের সাথে অন্যের পার্থক্য, পুনর্জনন এবং আরও অনেক বিষয়ের উপরই প্রাকৃতিক নির্বাচনের কাজ করতে পারার কথা, মূলনীতি থেকে অন্তত তা-ই বোঝা যায়। উদাহরণ হিসেবে দুটি প্রজাতি নেয়া যায় যাদের একটির বাসযোগ্য এলাকা ছোট এবং অন্যটির বাসযোগ্য এলাকা অনেক বড়। হিসেব মতে, বড় এলাকার প্রজাতির টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশী। কারণ ছোট ছোট কয়েকটি এলাকায় তারা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও অসুবিধা নেই, অন্য এলাকা দিয়ে পুষিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু ছোট এলাকার প্রজাতি একবার বিলুপ্ত হলেই শেষ। এ থেকে তাই ধারণা করে নেয়া যায়, সময়ের সাথে সাথে বড় এলাকার প্রজাতি সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে।</p>
<p>এই যুক্তি এমনিতে শুনতে বেশ মানানসই মনে হয়। আর এত উঁচু স্তরেও প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করতে পারে বলে বিবর্তনবাদীরা মনে করেন। কিন্তু অধিকাংশ জীববিজ্ঞানীরাই মনে করেন, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রধানত একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন জীব বা জিনের ধরণের উপর বেশী কাজ করে। এর একটি কারণ হতে পারে, একটি জীবের আয়ুষ্কাল সমগ্র প্রজাতিটির আয়ুষ্কালের চেয়ে অনেক কম। যার ফলে, জীবেদের উপর প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাব প্রজাতির তুলনায় অনেক বেশী।</p>
<p><strong>প্রাকৃতিক নির্বাচন কতটা স্বাভাবিক?</strong></p>
<p>এ বিষয়ে যে প্রশ্নটি আমাদের মনে সবচেয়ে বেশী জাগে সেটার উত্তর দেয়াই সবচেয়ে কঠিন। প্রশ্নটা হল: একটি পপুলেশনের সামগ্রিক জিন গড়নের পরিবর্তনে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ভূমিকা কতটুকু?﻿ ﻿জীবদেহের অধিকাংশ ভৌত বৈশিষ্ট্যের বিবর্তনই প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে হয়। ঠোঁট, বাইসেপ ও মস্তিষ্কের মত বড় বড় অঙ্গগুলোর বিবর্তন প্রাকৃতিক নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনভাবেই ব্যাখ্যা করা যায় না। ﻿কিন্তু আণবিক স্কেলে সংঘটিত বিভিন্ন পরিবর্তনে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ভূমিকা কতটুকু তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। গত কয়েক লক্ষ্য বছরে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় ডিএনএ-র মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ কি প্রাকৃতিক নির্বাচনই নাকি আরও কারণ আছে সেটা এখন ভেবে দেখার বিষয়।</p>
<p>১৯৬০ এর আগে জীববিজ্ঞানীরা মনে করত, সব পরিবর্তনের কারণই প্রাকৃতিক নির্বাচন। কিন্তু জাপানী গবেষক মোতু কিমুরার নেতৃত্বে একদল পপুলেশন জিনবিজ্ঞানী এই ধারণার বিরোধিতা করেন। তারা বলেছিলেন, আণবিক বিবর্তনের প্রধান কারণ ইতিবাচক প্রাকৃতিক নির্বাচন (যারা বেশী ফিট পরিবেশ তাদেরকে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে) হতে পারে না। এর বিপরীতে তাদের ব্যাখ্যাটা ছিল এরকম- জিনের সবগুলো পরিব্যক্তির মধ্যে যেগুলো টিকে থাকে সেগুলো নির্বাচনের দিক দিয়ে নিরপেক্ষ। অর্থাৎ তারা ফিটনেস বিবেচনা করে টিকে থাকে না। ক্ষতিকর পরিব্যখ্তি সম্পর্কে তারা বলেছিলেন, এগুলো হরহামেশাই ঘটে কিন্তু বর্ধিষ্ণু পপুলেশনের মধ্যে খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। সুবিধা করতে পারলে তো আরা পপুলেশনটি বর্ধিষ্ণু হতো না। এই নতুন ব্যাখ্যায় বিবর্তনের যে চিত্রটি পাওয়া যায় তা এরকম: আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য পরিবেশে নিরপেক্ষ পরিব্যক্তির প্রভাব বোঝা যায় না। সবার অন্তরালেই এরা প্রভাব বিস্তার করতে থাকে এবং অনেক সময়ের ব্যবধানে জিনের গড়নে বিশাল কোন পরিবর্তন নিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়ার নাম &#8220;দৈব জিনতাত্ত্বিক বিচ্যুতি&#8221; (random genetic drift)। একে আণবিক বিবর্তনের নিরপেক্ষ তত্ত্বের প্রাণ বলা যায়।</p>
<p>১৯৮০-র দশকের মধ্যে অনেক বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীই নিরপেক্ষ তত্ত্বটি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলছিল না, সব প্রমাণই ছিল পরোক্ষ। দুটি ক্ষেত্রে বিরাট উন্নতির কারণে প্রমাণের সমস্যা মিটে গেছে। প্রথমত, পপুলেশন জিনবিজ্ঞানীরা জিনোমের অভিযোজিত পরিবর্তন থেকে নিরপেক্ষ পরিবর্তন আলাদা করার জন্য বিশেষ ধরণের পরিসাংখ্যিক পরীক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। দ্বিতীয়ত, নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রজাতির অসংখ্য জিনোমের তথ্য ধারণ করা সম্ভব হয়েছে, এই ধারণকৃত তথ্যগুলোর মাধ্যমেই আবার পরিসাংখ্যিক পরীক্ষাগুলো করা যাচ্ছে। এভাবে প্রাপ্ত নতুন উপাত্তগুলো আমাদের বলছে, প্রাকৃতিক নির্বাচনকে নিরপেক্ষ তাত্ত্বিকেরা যত তুচ্ছ মনে করছেন এটা আসলে ততটা তুচ্ছ না।</p>
<p>ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিস-এর একটি গবেষক দল (ডেভিড জে বিগান ও চার্লস এইচ ল্যাংলি-র নেতৃত্বে) ড্রসোফিলা গণের দুটি প্রজাতি নিয়ে কিছু তুলনামূলক পরীক্ষা করেছে। তারা প্রতি প্রজাতি থেকে ৬,০০০ টি করে জিন নিয়েছিলেন, এরপর পরীক্ষা করে দেখেছিলেন সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার পর এদের কোন কোন জিনগুলোতে পরিবর্তন এসেছে। পরিসাংখ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তারা দেখলেন, শতকরা ১৯ ভাগ জিনের পরিবর্তনে নিরপেক্ষ বিবর্তনের কোন ভূমিকা নেই। অর্থাৎ পাঁচ ভাগের এক ভাগ জিনের বিবর্তন প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে ঘটেছে। (এই পরিসাংখ্যিক পদ্ধতি বেশ রক্ষণশীল ছিল, প্রকৃত অনুপাত তাই আরও বড় হতে পারে।) তাই নিরপেক্ষ বিবর্তনকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। বাকি ৮১% পরিবর্তন তো দৈব বিচ্যুতি প্রক্রিয়াও ঘটে থাকতে পারে। এ সম্বন্ধেনিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও এটা বলা যায় যে, বিবর্তনে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এরকম আরও অনেক পরীক্ষা করেও দেখা গেছে, প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনে বিশাল ভূমিকা রাখে, এমনকি ডিএনএ-র নিউক্লিউটাইডে পরিবর্তনের জন্যও প্রাকৃতিক নির্বাচনকে দায়ী করা যায়।</p>
<p><strong>প্রাকৃতিক নির্বাচনের জিনতত্ত্ব</strong></p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীরা হিমশিম খাচ্ছেন। ঠোঁট বা মস্তিষ্কের মত বড় বড় ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলো যে প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত এ নিয়ে সন্দেহ নেই, কিন্তু এর প্রক্রিয়াও আমরা পুরোপুরি জানি না। কিন্তু সম্প্রতি এই প্রক্রিয়া সমস্যার সমাধানে জিনতত্ত্ব এগিয়ে এসেছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, জিনতত্ত্ব প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। প্রমাণ পাওয়ার পর বিজ্ঞানীরা এখন নির্বাচন বিষয়ক কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন। যেমন, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যশে যখন কোন নতুন পরিবেশে একটি জীবের অভিযোজন ঘটে তখন তার গুটিকয়েক জিন বদলে যায় নাকি অণেকগুলো বদলে যায়? এই বদলে যাওয়া জিনগুলো কি চিহ্নিত করা সম্ভব? একটি পরিবেশে অভিযোজনের সময় যে জিনগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে অন্য স্থানে বা অন্য সময়ে সেই একই পরিবেশ তৈরী হলে কি ঠিক সেই জিনগুলোই পরিবর্তিত হবে নাকি এক্ষেত্রে ভিন্ন কিছু হবে?</p>
<p>এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া বেশ কঠিন। হতে পারে, একটি উপকারী পরিব্যক্তির জন্য ফিটনেস সামান্য বাড়লো, এতই সামান্য যে সহজে বোঝা যায় না। সেক্ষেত্রে বিবর্তন হবে খুব ধীরে, আমরা বুঝতেই পারব না। কিন্তু জীববিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করেছেন। তারা দ্রুত বংশবিস্তারকারী জীবের কয়েকটি পপুলেশন নিয়ে তাদের একেকটিকে একেক পরিবেশে স্থাপন করেছেন। এই পরিবেশগুলোর মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশী হওয়ায় বিবর্তন ত্বরান্বিত হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিব্যক্তি যে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে তাহলে তো কথাই নেই। অণুজীব নিয়ে আরও কিছু পরীক্ষা হয়েছে। যেমন, বিজ্ঞানীরা একেবারে অভিন্ন কিছু অণুজীবকে একটি সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে অভিযোজন করতে দিয়েছেন। তাদের সবার ডিএনএ ক্রম যেহেতু অভিন্ন সেহেতু, পরিব্যক্তির মাধ্যমে আসা নতুন ডিএনএ ক্রমগুলোর উপরই কেবল প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করবে। এরপর পর্যবেক্ষকরা সময়ের সাথে কিভাবে ফিটনেস পরিবর্তিত হচ্ছে তার লেখ তৈরী করতে পারবেন, নতুন পরিবেশে পুনর্জননের হারই ফিটনেসের পরিমাপক।</p>
<p>বিবর্তনের সবচেয়ে ভাল পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে ব্যাক্টেরিওফাজ দিয়ে। এরা এত ছোট যে ভাইরাস যে স্বয়ং ব্যাক্টেরিয়াই এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। এদের জিনোমও খুব সংক্ষিপ্ত। বিজ্ঞানীরা প্রথমেই তার পুরো জিনোম রেকর্ড করেন, পরীক্ষা শেষে আবার রেকর্ড করেন। আর পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও যতবার ইচ্ছা রেকর্ড করা সম্ভব। এর ফলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের খুব সূক্ষ্ণ প্রভাবগুলোও বোঝা যায়।</p>
<p>ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস, অস্টিন-এর K. Kichler Holder এবং জেম্‌স জে বুল এরকম একটি পরীক্ষা করেছেন। তাদের পরীক্ষার সাবজেক্ট ছিল ব্যাক্টেরিওফাজের দুটি পরস্পর সম্পর্কিত প্রজাতি: ফাইএক্স১৭৪ ও জি৪। এই দুই ভাইরাসই Escherichia Coli বাক্টেরিয়াকে আক্রান্ত করে। তারা প্রজচাতি দুটোকে উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে অবিযোজিত হতে দেন। নতুন উষ্ণ পরিবেশে দুই প্রজাতির ফিটনেসই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আর দুই প্রজাতির ক্ষেত্রেই বিবর্তনের প্রক্রিয়াটা ছিল একরকম:পরীক্ষার শুরুতে ফিটনেস দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শেষটায় এসে প্রায় স্থির হয়ে যায়। এমনকি হোল্ডার ও বুল এই অভিযোজনের জন্য দায়ী ডিএনএ পরিব্যক্তিগুলোও চিহ্নিত করেছিলেন।</p>
<p><strong>বন-বাদাড়ে প্রাকৃতিক নির্বাচন</strong></p>
<p>পরীক্ষণমূলক বিবর্তনবাদের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল, এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক নির্বাচনের ভূমিকা আমাদের কাছে দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই সবগুলো পরীক্ষাই গবেষণাগারে বসে করতে হয়, কারণ বনে-বাদাড়ে জীব-জন্তু ধরে তাদের সম্পূর্ণ জিনোম ধারণ করা প্রায় অসম্ভব। তবে অনেকে আশা করছেন, অচিরেই পরীক্ষা পদ্ধতি নতুন মোড় নেবে। এর মাধ্যমে আরও প্রাকৃতিক তথা আরও স্বাভাবিক পরিবেশে প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে গবেষণা রা যাবে। তবে এর জন্য আমাদেরকে অবশ্যই একটি নতুন উপায় বের করতে হবে।</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/5.jpg"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/5.jpg?w=400" alt="1" title="1" width="400" class="aligncenter" /></a><br />
[ছবি: নতুন প্রজাতির সৃষ্টি বা স্পেসিয়েশন। কৃতজ্ঞতা- সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান]</p>
<p>এর জন্য বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীরা প্রথমেই এমন প্রজাতিগুলোকে নির্দেশ করেন যারা অনেক আগে থেকেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তাদের মধ্যে অভিযোজনের কারণে যত পরিবর্তন এসেছে তার সবই অনন্য বিধায় সেগুলো নিয়ে পরীক্ষা করে ভাল ফল পাওয়া যায়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া এই প্রজাতিগুলোর জিনোম তথ্য ধারণ করাই বিজ্ঞানীদের পরবর্তী কাজ। উদাহরণ হিসেবে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির Douglas W. Schemske এবং ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের এইচ ডি ব্র্যাডশ-র গবেষণার কথা বলা যায়। তারা মাংকিফ্লাওয়ারের দুটি প্রজাতিতে প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। প্রজাতি দুটো খুব কাছাকাছি হলেও একটিতে (Mimulus lewisii) পরাগায়ণ ঘটে ভ্রমরের মাধ্যমে এবং অন্যটিতে (M. cardinalis) পরাগায়ণ ঘটে হামিংবার্ডের মাধ্যমে। অন্যান্য প্রজাতি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, Mimulus গণের পাখিদের পরাগায়ণ মৌমাছির পরাগায়ণ থেকে বিবর্তিত হয়েছে।</p>
<p>পরাগায়ণে সাহায্যকারীর প্রকৃতি অনুযায়ী প্রজাতি দুটোতে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। যেমন, M. lewisii-র ফুলের রং গোলাপী, কিন্তু M. cardinalis এর ফুলের রং লাল। Schemske ও ব্র্যাডশ প্রজাতি দুটোর সংকর করে দেখিয়েছেন, মিশ্র প্রজন্মগুলোতে ফুলের রঙে যে পরিবর্তন আসে তা একটিমাত্র জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। জিনটির নাম ইয়েলো আপার (YUP)। এই আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে তারা দুই ধরণের সংকর তৈরী করেন যাদের একটিতে YUP জিন আসে M. cardinalis থেকে এবং বাকি সবগুলো জিন আসে M. lewisii থেকে। এই ধরণের সংকরে ফুলের রং হয় কমলা। দ্বিতীয় ধরণের সংকর প্রথমটির বিপরীত, অর্থাৎ এর YUP জিন এসেছে M. lewisii থেকে এবং বাকি সবগুলো এসেছে M. cardinalis থেকে। এই সংকরে ফুলের রং গিয়ে দাড়ায় গোলাপীতে।</p>
<p>এরপর তারা সংকর উদ্ভিদগুলোকে বনাঞ্চলে রোপণ করেন, আর পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। তারা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন সংকরগুলো পরাগরেণু বহনকারীর উপর YUP জিনের ব্যাপক প্রভাব আছে। সাধারণ M. lewisii উদ্ভিদের কাছে যত হামিংবার্ড আসতো M. cardinalis থেকে YUP জিন পাওয়া সংকর M. lewisii উদ্ভিদগুলোর কাছে তার তুলনায় ৬৮ গুণ বেশী হামিংবার্ড আসে। আর সাধারণ M. cardinalis উদ্ভিদের কাছে যত হামিংবার্ড আসতো M. lewisii থেকে YUP জিন পাওয়া সংকর M. cardinalis উদ্ভিদগুলোর কাছে তার তুলনায় ৭৪ গুণ বেশী ভ্রমর আসে। এরপর আর কোন সন্দেহই রইল না যে, M. cardinalis ও M. lewisii এর পরাগায়ণে যে বিবর্তন ঘটেছে তার মূল চালিকাশক্তি YUP জিন। এই পরীক্ষা থেকেই প্রমাণিত হল, আপাতদৃষ্টিতে একেবারে সাধারণ জিনতাত্ত্বিক পরিবর্তনও প্রাকৃতিক নির্বাচনের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করতে পারে।</p>
<p><strong>প্রজাতির উৎপত্তি</strong></p>
<p>প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উৎপত্তি হয়- এটাই ছিল প্রাকৃতিক নির্বাচন সম্পর্কে ডারউইনের সবচেয়ে বলিষ্ঠ দাবী। তার বইয়ের নামই রেখেছিলেন &#8220;অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস&#8221; (প্রজাতির উৎপত্তি সম্পর্কে)। কিন্তু আসলেই কি এমনটি হয়? একটিমাত্র বংশধারা ভেঙে পৃথক পৃথক দুটি ধারা তৈরীতে প্রাকৃতিক নির্বাচন কতটা ভূমিকা রাখে? এই প্রশ্নগুলোই বর্তমানে বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞান গবেষণার প্রধান বিষয়।</p>
<p>এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে হলে প্রথমেই জীববিজ্ঞানীরা &#8220;প্রজাতি&#8221; বলতে কি বুঝেন তা জেনে নিতে হবে। ডারউইনের প্রজাতির ধারণা এখন খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। এর বদলে সাধারণ জীববৈজ্ঞানিক প্রজাতির ধারণাটিই এক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধারণার সারকথা হচ্ছে, এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির পুনর্জনন সম্ভব না- যারা নিজেদের মধ্যে পুনর্জননে সক্ষম তাদেরকেই একটি প্রজাতি বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, একটি প্রজাতির মধ্যে এমন কিছু জিনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য থাকে যার কারণে সে অন্য প্রজাতির সাথে জিন বিনিময় করতে পারে না। অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন জিনতাত্ত্বিক ধারা থাকে।</p>
<p>একটি প্রজাতি ভেঙে একাধিক প্রজাতি হওয়ার অর্থই তাদের মধ্যে পুনর্জনন অসম্ভব হয়ে পড়া। এটা হওয়ার আগে তাদেরকে অবশ্যই ভৌগলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে হবে। এক স্থানে বসবাসকারী এক প্রজাতির কিছু জীব যদি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অন্য একটি স্থানে চলে যায় তবেই তাদের মধ্যে পুনর্জননকেন্দ্রিক বিভাজন তৈরী হওয়া শুরু হবে, অন্যথায় না। আর এই বিভাজনই কালক্রমে ভিন্ন প্রজাতির জন্ম দিতে পারে। ডারউইন গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপে ফিঞ্চের বিভিন্ন প্রজাতি দেখেছিলেন। এরা কিন্তু প্রজাতি হিসেবে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার আগেই ভৌগলিকভাবে বিভক্ত হয়েছিল।</p>
<p>তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নতুন প্রজাতি উৎপত্তির প্রথম ধাপ একই প্রজাতির এক অংশের সাথে অন্য অংশের পুনর্জনন অসম্ভব হয়ে পড়া। এর পর প্রজাতি সৃষ্টির প্রক্রিয়া বিভিন্নভাবে এগোতে পারে। যেমন, একই প্রজাতি মনে করে পুরুষ জীবটি হয়ত নতুন প্রজাতির কোন স্ত্রী জীবের সাথে যৌন জননে অংশ নিতে চাইবে আর স্ত্রীটি তাতে অসম্মতি জানাবে। অবশ্য এক্ষেত্রে আগেই প্রজাতি দুটিকে ভৌগলিক সংস্পর্শে আসতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Pieris occidentalis প্রজাতির স্ত্রী প্রজাপতিরা কখনই P. protodice প্রজাতির পুরুষ প্রজাপতির সাথে যৌন জননে অংশ নেবে না। প্রজাতি দুটো খুব কাছাকাছি, কিন্তু কিছু পার্থক্য আছে, দুই প্রজাতির পুরুষ প্রজাপতিদের পাখার গঠন ভিন্ন। এই ভিন্ন পাখার গঠন দেখেই বোধহয় স্ত্রী প্রজাপতিরা যৌন সঙ্গী নির্বাচন করে। আর এমন দুই প্রজাতির দুটি প্রাণী যদি হঠাৎ মিলিত হয়েই যায়, তাহলে যে নতুন বংশধরের জন্ম হবে তার বিকাশ স্বাভাবিক হবে না, বন্ধ্যাত্বও দেখাদিতে পারে। তবে এই যৌন মিলনের মাধ্যমে নতুন একটি প্রজাতি সৃষ্টির প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে। দুই প্রজাতির সকল সংকরই যদি বন্ধ্যা হয় বা মারা যায় তাহলে তাদের মধ্যে আর কখনই জিন বিনিময় সম্ভব হবে না। আধুনিক যুগে তাই জীববিজ্ঞানীদের কাছে পুরনো প্রশ্নই নতুন রূপে দেখা দিয়েছে। আগে প্রশ্ন ছিল, প্রাকৃতিক নির্বাচন নতুন প্রজাতির উৎপত্তিতে ভূমিকা রাখে কি-না। আর বর্তমান প্রশ্ন হচ্ছে, প্রাকৃতিক নির্বাচন পুনর্জননের বিভাজন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে কি-না।</p>
<p>বিংশ শতকের অধিকাংশ সময় জুড়েই বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তরে না বলেছেন। তারা এর কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের বদলে দৈব বিচ্যুতিকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন। কিন্তু সম্প্রতি হওয়া একটি গবেষণা আমাদের বলছে, প্রজাতির উৎপত্তি সম্পর্কে দৈব জিনতাত্ত্বিক বিচ্যুতি নামে যে প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছিল তা সম্ভবত ভুল। প্রজাতির উৎপত্তির ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নির্বাচনই মুখ্য ভূমিকা রাখে।</p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/4.jpg"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/4.jpg?w=400" alt="1" title="1" width="400" class="aligncenter" /></a></p>
<p>একটু আগে মাংকিফ্লাওয়ারের প্রজাতি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তাদের বিবর্তনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলেই দৈব বিচ্যুতির বদলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাব প্রকট হয়ে উঠে। এক প্রজাতির পরাগরেণু বাহক যেহেতু প্রায় কখনই অন্য প্রজাতির পরাগরেণু বহন করে না, সেহেতু দুটি প্রজাতিকে পুনর্জননের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ পৃথক বলে ধরে নেয়া যায়। দক্ষিণ আমেরিকার একই অঞ্চলে এই দুই প্রজাতির ফুল জন্মাতে পারে। কিন্তু যে ভ্রমর M. lewisii ফুল থেকে পরাগরেণু বয়ে নিয়ে যায় সে কখনই M. cardinalis এর কাছে যায় না। আবার যে হামিংবার্ড M. cardinalis এর ফুল থেকে পরাগরেণু নিয়ে যায় সে কখনই M. lewisii এর কাছে যায় না। তাই এক প্রজাতির পরাগরেণু কখনই অন্য প্রজাতির ফুলে যেতে পারে না। এমনকি Schemske ও তার সহকর্মীরা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, দুই প্রজাতির মধ্যে জিন বিনিময় বন্ধের পেছনে ৯৮% অবদানই এই ভিন্ন পরাগরেণু বাহকদের। তাই এক্ষেত্রে সন্দেহের কোন অবকাশই থাকে না যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন ভিন্ন প্রজাতি দুটোকে ভিন্ন ভিন্ন পরাগরেণু বাহকের কাছে আকৃষ্ট করে তুলছে এবং এভাবে তাদের অভিযোজনে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। পুনর্জননের এই বিভাজনও প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে হয়েছে।</p>
<p>প্রজাতি পৃথিকীকরণে প্রাকৃতিক নির্বাচনই যে মুখ্য ভূমিকা রাখে তার আরেকটি প্রমাণ এসেছে একেবারে অদ্ভুত একটি উৎস থেকে। গত কয়েক দশকে জিনবিজ্ঞানীরা কয়েকটি সংকর প্রজাতিতে বন্ধ্যাত্ব ও বিকলাঙ্গতার জন্য দায়ী জিনগুলো সনাক্ত করেছেন। তারা মূলত ড্রসোফিলা গণের অন্তর্ভুক্ত ফলের মাছি নিয়ে গবেষণা করেছেন। সনাক্তকৃত জিনগুলো আবার বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। যেমন: কেউ উৎসেচকের মর্মোদ্ধার করে, কেউ গাঠনিক প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে, কেউ বা আবার ডিএনএ-র সাথে সংযুক্ত প্রোটিন সংশ্লেষণ করে।</p>
<p>এই জিনগুলো নিয়ে গবেষণা করে দুটি আশ্চর্যজনক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমত, সংকর প্রজাকিগুলোর বংশধরদের মাঝে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী জিনগুলো খুব কম সময়ে অনেক পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এবং দ্বিতীয়ত, তাদের এই দ্রুত পরিবর্তনের জন্য প্রাকৃতিক নির্বাচন দায়ী। পপুলেশন জিনবিজ্ঞানীদের গবেষণায় এই তথ্যগুলো বেরিয়ে এসেছে।</p>
<p>মাংকিফ্লাওয়ার এবং সংকর প্রজাতির বংশবিস্তার নিয়ে যে গবেষণাগুলো করা হচ্ছে তার ফলাফল প্রাকৃতিক নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যথে নতুন প্রজাতির উৎপত্তিতে প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে, কারণ এ বিষয়খ পরীক্ষার ক্ষেত্রে দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান কালের জীববিজ্ঞানীরা তো একরকম মেনেই নিয়েছেন যে, প্রাকৃতিক নির্বাচন একই প্রজাতির মধ্যে বিভিন্ন পরিবর্তন আনয়নের পাশাপাশি নতুন প্রজাতির উৎপত্তিতেই মুখ্য ভূমিকা রাখে। কিছু অকর্মা লোক প্রাকৃতিক নির্বাচনকে যতই অমূলক ও ভূয়া বলুক না কেন, তারা নিজেরাই এটা অস্বীকার করতে পারবে না যে, গত কয়েক দশক ধরে বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।</p>
<p><strong>বিবর্তনের প্রত্যক্ষ কিছু প্রমাণ</strong></p>
<p><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/3.jpg"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/3.jpg?w=460" alt="1" title="1" width="460" class="aligncenter" /></a><br />
[ছবি: কিছু প্রাণীতে বেশ দ্রুত অভিযোজনগত বিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।]</p>
<p>১. অস্ট্রেলিয়ার বুনো খরগোশ &#8211; ইউরোপ থেকে এদেরকে অস্ট্রেলিয়াতে আনা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে এদের দেহের আকার, কানের আকার এবং ওজন পরিবর্তিত হয়েছে।</p>
<p>২. হাওয়াইয়ের স্কারলেট হানিক্রিপার &#8211; এর মধুর উৎস ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর অন্য কোন স্থানে মধুর সন্ধান শুরু করে। সে জায়গার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিতে তার ঠোঁট গিয়েছে ছোট হয়ে ।</p>
<p>৩. নিউ ইংল্যান্ডের জলচর শামুক &#8211; কাঁকড়ার আক্রমণ থেকে টিকে থাকার সংগ্রামে এদের খোলস পরিবর্তিত হয়েছে, আগের চেয়ে অনেক পুরু হয়েছে।</p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/291/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/291/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/291/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/291/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/291/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/291/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/291/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/291/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/291/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/291/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=291&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/testing-natural-selection/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/1.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/2.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/5.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/4.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2009/09/3.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">1</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>একবিংশ শতকের ডারউইন</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/darwin-living-legacy/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/darwin-living-legacy/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 15 Sep 2009 11:50:47 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[অনুবাদ]]></category>
		<category><![CDATA[জীবনী]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[চার্লস ডারউইন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=289</guid>
		<description><![CDATA[আগামী ১২ই ফেব্রয়ারি সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের ২০০তম জন্মবার্ষিকী এবং তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ &#8220;অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস&#8221; এর ১৫০তম প্রকাশবার্ষিকী। বিবর্তনবাদ নিয়ে আজ পৃথিবীর কোন জীববিজ্ঞানীর মধ্যেই সংশয় নেই। তবে এর প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় আছে। সেটা নিয়েই বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীরা এখন সবচেয়ে বেশী গবেষণা করছেন। এই প্রেক্ষিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞান [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=289&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p><img class="alignright" width="300" src="http://photos-e.ll.facebook.com/photos-ll-snc1/v2067/170/13/1154584194/n1154584194_30303884_9409.jpg" alt="চার্লস ডারউইন" />আগামী ১২ই ফেব্রয়ারি সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের ২০০তম জন্মবার্ষিকী এবং তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ &#8220;অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস&#8221; এর ১৫০তম প্রকাশবার্ষিকী। বিবর্তনবাদ নিয়ে আজ পৃথিবীর কোন জীববিজ্ঞানীর মধ্যেই সংশয় নেই। তবে এর প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় আছে। সেটা নিয়েই বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীরা এখন সবচেয়ে বেশী গবেষণা করছেন। এই প্রেক্ষিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা &#8220;সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান&#8221; তাদের জানুয়ারি ২০০৯ সংখ্যাটি বিবর্তনবাদ নিয়ে করেছে। প্রথম প্রবন্ধটির অনুবাদ করে সচলায়তনে প্রকাশ করেছিলাম। মুক্ত-মনা ১২ই ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে বিশেষ ওয়েবপেইজ করছে যেখানে প্রবন্ধটি থাকবে। এর পাশাপাশি সিসিবি-তেও লেখাটি প্রকাশ করলাম।<span id="more-289"></span></p>
<p>১৮৩৫ সালে বিগল জাহাজে চড়ে চার্লস ডারউইন গালাপাগোস দ্বীপে গিয়েছিলেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছর। দ্বীপের বেশ কিছু পাখি তার নজর কেড়েছিল। সেই পাখিগুলোর নামের সাথে তাই ডারউইনের নাম জড়িয়ে আছে। এখনও এগুলোকে ডারউইনের ফিঞ্চ (finch) নামে ডাকা হয়। প্রকৃতিবিদরা এ ধরণের অনেকগুলো ফিঞ্চকে আগে গ্রসবিক (grosbeak) ভেবে ভুল করতেন। বর্তমানে সে ধরণের সংশয় অনেকটাই দূর হয়েছে। এই ফিঞ্চগুলোর আবিষ্কারের কাহিনীও বেশ মজার। ডারউইনের সময় ইংল্যান্ডে জন গুল্ড নামে একজন পক্ষীবিশারদ ও চিত্রকর ছিলেন। ডারউইনরা অনেক ধরণের পাখির নমুনা নিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছিলেন। গুল্ড এই সংরক্ষিত নমুনাগুলো থেকে কয়েকটির ছবি আঁকা শুরু করেন। ছবি আঁকতে গিয়ে লক্ষ্য করেন, এগুলো সবই ফিঞ্চের বিভিন্ন প্রজাতি।</p>
<p>আমাদের স্বশিক্ষিত প্রকৃতিবিদ ডারউইন গুল্ডের ছবিগুলো দেখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে পেরেছিলেন: প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ফিঞ্চদের ঠোঁটের আকার পরিবর্তিত হয়েছে। বিভিন্ন দ্বীপের ফিঞ্চরা বিভিন্ন আকারের দানা ও পোঁকা খেত। খাদ্যের আকার অনুযায়ীই তাদের ঠোঁটের আকার পরিবর্তিত হয়েছে। এই বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে ডারউইন তার &#8220;দ্য ভয়েজ অফ দ্য বিগল&#8221; (১৮৩৯) বইয়ে লিখেছেন, &#8220;নিবিঢ়ভাবে সম্পর্কিত এক শ্রেণীর পাখির মধ্যে এই গঠনগত ক্রমবিন্যাস ও বৈচিত্র্য দেখে যে কেউ বিস্মিত হবেন। অনেকের মনে হতে পারে, এই দ্বীপপুঞ্জের স্বল্পসংখ্যক পাখি প্রজাতির কোন একটিকে নির্বাচন করা হয়েছে এবং সেই প্রজাতির বিভিন্ন পাখিকে বিভিন্নভাবে বদলানো হয়েছে।&#8221;</p>
<p>এর ২০ বছর পর ডারউইন ফিঞ্চদের অভিযোজন প্রক্রিয়ার একটি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন যা &#8220;বিবর্তনবাদ&#8221; হিসেবে পরিচিত। এতে বলা হয়েছিল, ভিন্ন ভিন্ন দ্বীপে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের কারণেই এক প্রজাতির একেক পাখি একেক ভাবে অভিযোজিত হয়েছে। প্রাকৃতিক নির্বাচনের শক্তিই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে কেবল পরিবেশ উপযোগী বৈশিষ্ট্যগুলোকে টিকিয়ে রেখেছে। ডারউনের তত্ত্ব বিজ্ঞানী ও ধার্মিক উভয় সমাজের কঠোর সমালোচনার শিকার হয়েছে। কিন্তু এই তত্ত্ব একটি অতি সমৃদ্ধ গবেষণাক্ষেত্রের সূচন-বিন্দু মাত্র, সেই গবেষণা আজ অব্দি চলছে, এর যেন কোন শেষ নেই। বর্তমানকালের বিজ্ঞানীরাও সেই তত্ত্ব দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। জীববিজ্ঞানীরা এখনও আণবিক জগতে বিবর্তনের কার্যক্রিয়া নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বোঝার চেষ্টা করছেন, ঠিক কিভাবে আণবিক স্কেলে প্রাকৃতিক নির্বাচন ঘটে এবং তার মাধ্যমে কিভাবেই বা নতুন প্রজাতির জন্ম হয়।</p>
<p>ডারউইনের সেই বিখ্যাত ফিঞ্চ পাখিরা এখনও বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। গবেষকরা ধারণা করে নিয়েছেন, বিবর্তন প্রক্রিয়া খুব ধীরে ঘটে, এতই ধীরে যে মানুষের জীবদ্দশায় তার প্রমাণ পাওয়ার কল্পনাও করা যায় না। কোন মানব পর্যবেক্ষকের পক্ষে তাই বিবর্তন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু ফিঞ্চদের নিয়ে উৎসাহ কমেনি, এমনকি এদেরকে আদর্শ গবেষণা বস্তু বানিয়ে ফেলা হয়েছে। কারণ এই প্রজাতির পাখিরা অপেক্ষাকৃত দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং তারা সচরাচর এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যায় না।</p>
<p>১৯৭০-এর দশকে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী পিটার আর গ্র্যান্ট ও বি রোজম্যারি গ্র্যান্ট গালাপাগোস দ্বীপকে এক জান্তব গবেষণাগার বানিয়ে ফেলেছিলেন। দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ২০,০০০ ফিঞ্চ পাখি ছিল তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু। তারা দেখেছিলেন, এল নিনো আসে আর যায়, এর সাথে পরিবেশ এক সময় সিক্ত হয়, অন্য সময় আবার শুষ্ক হয়ে উঠে। আর এরই সাথে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মে ফিঞ্চদের ঠোঁট ও দেহের আকার পরিবর্তিত হয়। এমনকি তারা ভবিষ্যত প্রজন্মের ফিঞ্চদের আকার-আকৃতি কেমন হবে তার সফল ভবিষ্যৎবাণীও করেছিলেন।</p>
<p>গ্র্যান্টদের মত আরও অনেক বিজ্ঞানী বাস্তব পরিবেশে বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ ধরণের গবেষণাগুলোতে সবসময়ই ইয়নের বদলে বছর দিয়ে বিবর্তনের সীমারেখা টানা হয়েছে। কিন্তু এটা ডারউইনের ধীর-স্থির বিবর্তন বিষয়ক মূল স্বীকার্যের পরিপন্থী। এ ধরণের পরীক্ষাগুলো অনেক প্রাণীর উপরই করা হয়েছে। যেমন, আফ্রিকার গ্রেট লেকের সিকলিড মাছ, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ার Eleutherodactylus ব্যাঙ ইত্যাদি।</p>
<p>মানুষ কিন্তু অনেক আগে থেকেই বিবর্তন নিয়ে চিন্তা করত। এমনকি সক্রেটিসেরও আগে থেকে তারা যোগ্যতমের টিকে থাকার প্রক্রিয়া নিয়ে ভেবে আসছে। অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকে জীবনের বেড়ে ওঠা নিয়ে অনেক ধারণার জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে ডারউইনের পিতামহ ইরাসমাস ডারউইনের (১৭৩১-১৮০২) ধারণাগুলোও উল্লেখযোগ্য।</p>
<p>কিন্তু ডারউইনীয় বিবর্তনবাদই প্রথমবারের মত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। উনবিংশ শতকের পর থেকে শুরু হয়ে আজ অব্দি সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে পরীক্ষা হচ্ছে সূক্ষ্ণ সব যন্ত্রপাতি দিয়ে। ক্যামেরা, কম্পিউটার আর ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণের মত সূক্ষ্ণ যন্ত্র আজ বিজ্ঞানীদের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। বিগল জাহাজের কুঠুরীর সাথে কি আর এর তুলনা চলে। কিন্তু এতসব যন্ত্র দিয়ে করা সুনিপুণ পরীক্ষাগুলো দিন দিন সেই বিগল যাত্রীর পক্ষেই সাক্ষ্য দিচ্ছে। জৈব প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ফরেনসিক মেডিসিন পর্যন্ত সকল ব্যবহারিক বিজ্ঞানই আজ বিবর্তনের পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে। আজ তাই ডারউইন দিবস উদ‌যাপনের জন্য নব উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ১২ই ফেব্রুয়ারি ডারউইনের ২০০তম জন্মবার্ষিকী এবং তার জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ &#8220;On the Origin of Species by Means of Natural Selection, or the Preservation of Favored Races in the Struggle for Life.&#8221; এর ১৫০তম প্রকাশবার্ষিকী। বিশ্বের সব বিজ্ঞানী একাট্টা হয়েছেন, ধুমধামের সাথে এই দিবসটি পালন করার জন্যে।</p>
<p>ডারউইনের তত্ত্ব আধুনিক বিজ্ঞানের একটি প্রধান খুঁটি। বিজ্ঞানের মূলভিত্তির কথা চিন্তা করলে তাই বিবর্তনবাদ আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের সাথেই থাকবে। কোপের্নিকুস যেমন সৌরকেন্দ্রিক মতবাদের মাধ্যমে পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্র থেকে বিতাড়িত করেছিলেন, ঠিক তেমনি ডারউইন তার তত্ত্বের মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু থেকে মানুষকে বিতাড়িত করেছেন। তিনি এর জন্য প্রাকৃতিক নির্বাচনকে দায়ী করেছেন, একেই চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। &#8220;ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিন&#8221;-এর বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী ফ্রান্সিস্কো জে আয়ালা এই চালিকাশক্তিকে বলেছেন &#8220;design without a designer&#8221;। এখনও যেসব ধর্মতাত্ত্বিকেরা বিবর্তনবাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন, আয়ালা এ কথাটি তাদের উদ্দেশ্য করেই বলেছেন। ২০০৭ সালে আয়ালা আরও বলেন, &#8220;ডারউইন কোপের্নিকুসীয় বিপ্লবকে পূর্ণতা দিয়েছেন। তিনি জীববিজ্ঞানে এক নবতরঙ্গের সূচনা ঘটিয়েছেন যেখানে প্রকৃতিকে একটি ন্যায়সঙ্গত শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তিনি এমন এক ন্যায়সঙ্গত শক্তির সন্ধান দিয়েছেন যাকে ব্যাখ্যা করার জন্য মানুষকে কোন অতিপ্রাকৃত শক্তির দ্বারস্থ হতে হয় না।&#8221;</p>
<p>এই বার্ষিকীতে ডারউইন গবেষণার বন্যা বয়ে যাবে। সবগুলো গবেষণার সূচন-বিন্দু হবে স্বয়ং ডারউইনের রচনা। এই বছর আমরা আবার ভেবে দেখব, গত ১৫০ বছরে কিভাবে বিবর্তনবাদ পরিশোধিত ও বিকশিত হয়েছে। আমরা দেখব, কিভাবে ডারউইনের মৌলিক তত্ত্বের সাথে আধুনিক জিনতত্ত্বের সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। যে জিন সম্পর্কে ডারউইনের জ্ঞান প্রাচীন বিজ্ঞানীদের মতই ছিল, সেই জিন কিভাবে মানবতার খোলস উন্মোচন করেছে, কিভাবে শৌখিন বিজ্ঞানী ডারউইনকে আধুনিক সভ্যতার নায়ক বানিয়েছে তা দেখে আমরা আবারও বিস্মিত হব।</p>
<p>বিবর্তনবাদ নিয়ে আমাদের সাধারণ প্রশ্নগুলো এরকম: প্রাকৃতিক নির্বাচন কতটা স্বাভাবিক? জিনের আণবিক স্তরে প্রাকৃতিক নির্বাচন কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে? যে জিন বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করে তার উৎপত্তি কোত্থেকে? প্রাণী, উদ্ভিদ বা অণুজীবের বিচ্ছিন্ন জিন, পুরো একটা অঙ্গ বা পুরো একটা শ্রেণীর মধ্যেই কি ফিটনেস টেস্ট চলে, নাকি কোন বাছবিচার আছে? মানুষ যদি পরিবেশ বা নিজেদের দেহের উপর এক ধরণের অকাট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তবে কি তাদের ক্ষেত্রেও এরকম বিবর্তন ঘটবে?</p>
<p><strong>একজন স্বভাবজাত প্রকৃতিবিদ</strong></p>
<p>আলবার্ট আইনস্টাইন এবং এরকম অনেক বিজ্ঞানীর মত ডারউইনও জন্মসূত্রে মেধাবী ছিলেন। প্রকৃতিবিজ্ঞান বিষয়ে তার কোন উঁচুমানের ডিগ্রি ছিল না। ইংল্যান্ডের এক মফস্বলের বেশ সচ্ছল পরিবারের তার জন্ম। ছাত্র হিসেবে মাঝারি গোছের ছিলেন, সবসময়ই প্রথাগত শিক্ষাকে ঘৃণা করতেন। শিক্ষাক্রমে ক্লাসিক সাহিত্য ও সাধারণ জ্ঞানের আধিক্য তার মোটেই ভাল লাগতো না। (আইনস্টাইনও ডানপিটে ছাত্র ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনার দিকে তার খুব বেশী মনোযোগ ছিল না।) বাবার ইচ্ছায় মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু লাশ ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে মেডিক্যালের উপর তার সব আগ্রহ চলে যায়, সে পড়াশোনা আর শেষ করেননি। কিন্তু শিকারের সময় পাখি ও ছোট ছোট প্রাণীগুলোকে মেরে ফেলত তার তেমন কোন কষ্টই হতো না। এমনকি জীবজন্তু পর্যবেক্ষণ আর ছোট ছোট প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করা তার শখের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।</p>
<p>এক সময় বাবা রবার্ট ডারউইন বুঝতে পারলেন তার এই ছেলেকে দিয়ে বিশেষ কিছু হবে না। তাই তাকে ধর্মবেত্তা হওয়ার জন্য ইউনিভার্সিটি অফ ক্যামব্রিজে ভর্তি হতে আদেশ করলেন। মজার বিষয়, যার কাজকে অনেক ধর্মবেত্তা ধর্মের চূড়ান্ত অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেই ব্যক্তিই স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছিলেন ধর্মতত্ত্বে। অবশ্য তিনি কোনক্রমে সেই ডিগ্রি পেয়েছিলেন, পরীক্ষার ফলাফল মোটেই ভাল ছিল না।</p>
<p>একসময় বাবার অসম্মতি সত্ত্বেও ডারউইন বিগল জাহাজে প্রকৃতিবিদ হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। বিগল ছিল ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জরিপ জাহাজ যা দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে জরিপ কাজ চালাতো। এই নৌ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে পরবর্তীতে ডারউইন বলেছেন, &#8220;আমার প্রথম প্রকৃত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ&#8221;। পাঁচ বছর তিনি জাহাজে চড়ে পৃথিবী চষে বেড়িয়েছেন। তখন তার হাতে চিন্তা করার মত যথেষ্ট সময়ও ছিল। এসময়ই প্রাকৃতিক বিশ্ব ডারউইনের সামনে উন্মোচিত হয়ে পড়ে। এই অভিজ্ঞতাই তার সকল গবেষণাকর্মের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।</p>
<p>বিগল জাহাজের ৫ বছরের যাত্রাপথে অনেকগুলো স্থানের পরিবেশ ও প্রাণীকূল ডারউইনের পরবর্তী গবেষণায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ক্রান্তীয় ব্রাজিলের বৈচিত্র্যময় প্রজাতিসমূহ, বুয়েনোস আইরেসের ৪০০ মাইল দক্ষিণে একটি বিশাল শ্লথের জীবাশ্ম আবিষ্কার (এছাড়াও বেশ তিনি বেশ কিছু জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছিলেন)। জীবাশ্ম আবিষ্কারের পর তিনি এই প্রাণীগুলোর বিলুপ্তির কারণ নিয়ে ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলেন। আর্জেন্টিনার প্যাম্পাস অঞ্চলে গাউচোদের হাতে সেখানকার আদিবাসীদের হত্যার ঘটনা জানার পর তিনি মানুষ নামক প্রাণীটির ভৌগলিক প্রভাব বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেন। আদ্যিকালে মানুষ নতুন ভূমিতে গিয়ে কি করত সেটাও তিনি এর মাধ্যমে আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির কথা আসে, সেই গালাপাগোস দ্বীপ যেখানে ডারউইন পাঁচ সপ্তাহ ছিলেন। এই দ্বীপে যখন বিগল পৌঁছুল তখন সেখানে প্রচণ্ড গরম ছিল। ডারউইনের মন অবশ্য শীতলই ছিল। তিনি কচ্ছপ ও হরবোলা পাখির দুটি পরস্পর সম্পর্কিত প্রজাতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে লক্ষ্য করলেন, এই দুটি প্রজাতিই আশপাশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে এমনভাবে উপনিবেশ স্থান করেছে যাতে মনে হয়, তারা একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়ে এই পর্যায়ে এসেছে।</p>
<p>পানিতে থাকার সময়ও ডারউইন বই পড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। জাহাজে বসেই তিনি চার্ল লায়েলের &#8220;Principles of Geology&#8221; বইটি পড়ছিলেন। এই বইয়ে উল্লেখ ছিল, বর্তমানে যে হারে ভূমিক্ষয় ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে এবং পলি জমছে অতীতেই ঠিক একই হারে হতো। এই ধারণাকে বলা হয় &#8220;uniformitarianism&#8221;। এই বইয়েই লায়েল &#8220;catastrophism&#8221; প্রকল্পকে অস্বীকার করেছিলেন। এই প্রকল্পে বলা হতো, আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাত বা কোন অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভাবেই পৃথিবীর ভূভাগ গঠিত হয়েছে। আন্দিসের একেবারে অভ্যন্তরভাগে অভিযাত্রীরা একটি সুপ্রাচীন সামুদ্রিক তলানি উদ্ধার করেছিল, যা প্রাকৃতিক কোন কারণে মাটির ৭,০০০ ফুট নিচ থেকে উপরে উঠে এসেছে। এই আবিষ্কারই লায়েলের তত্ত্বকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।</p>
<p>ডারউইন ধারণাও করতে পারেননি যে, তার এই অভিযান জৈব বিজ্ঞানে আমূল পরিবর্তন এনে দেবে। ৫৭ মাসের এই অভিযানে কিন্তু আকাশের চাঁদ হাত পেয়ে যাওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন যেমন তার &#8220;annus mirabilis&#8221; গবেষণাপত্রে হঠাৎ করেই বিশেষ আপেক্ষিকতা, ব্রাউনীয় গতি ও এ ধরণের আরেকটি ধারণার জন্ম দিয়ে রাতারাতি বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী বনে গিয়েছেন, তেমন কিছু ডারউইনের ভাগ্যে জোটেনি। এই অভিযানকে তাই ক্ষণিকের বিস্ফোরণ না বলে পাঁচ বছরের এক অমূল্য তথ্যভাণ্ডার বলতে হয়। এই তথ্যভাণ্ডারে ছিল: প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ক উপলব্ধি নিয়ে লেখা ৩৬৮ পৃষ্ঠা, ৭৭০ পৃষ্ঠার একটি ব্যক্তিগত ডায়রি- এর সাথে ছিল অ্যালকোহল ভর্তি বোতলে ১,৫২৯টি প্রজাতির নমুনা, ৩,৯০৭টি শুষ্ক নমুনা- আর গালাপাগোস দ্বীপ থেকে ধরে আনা জীবন্ত কচ্ছপের কথা তো না বললেই নয়।</p>
<p>১৮৩৬ সালের অক্টোবরে বিগল ইংল্যান্ডে ভিড়ার আগেই ডারউইনের লেখা চিঠিগুলো সেখানকার বিজ্ঞানী মহলে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিঠিগুলোর সুবাদে তিনি ইতিমধ্যেই পণ্ডিত বনে গিয়েছিলেন। এই খ্যাতি তার বাবার ধর্মবেত্তা বানানোর ইচ্ছাকেও দমিয়ে দিয়েছিল। এর কয়েক বছরের মধ্যেই ডারউইন তার আপন চাচাতো বোন এমা ওয়েজউডকে বিয়ে করে শহরের বাইরে একটি এস্টেটে চলে যান। এই বাড়ির সাথে লাগোয়া বাগান ও গ্রিনহাউজকে তিনি জীবন্ত গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিশাল সম্পত্তির কারণেই তিনি এভাবে জীবনযাপন করতে পেরেছিলেন। বিগল অভিযান থেকে ফেরার পরই ডারউইন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ১৮৮২ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্তই তিনি অসুস্থ ছিলেন, যদিও এর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। মাথা ব্যথা থেকে শুরু করে হৃদরোগ, মাংসপেশীর খিঁচুনি ইত্যাদি সব ধরণের লক্ষণই তার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। এসব কারণেই ডারউইন পরবর্তীতে আর কোন অভিযানে বেরোতে পারেননি।</p>
<p><strong>একটি তত্ত্বের উৎপত্তি</strong></p>
<p>১৮৩০-এর দশকের শেষার্ধেই ডারউইন তার তত্ত্ব প্রস্তুত করে ফেলেছিলেন। প্রকাশ করেছেন আরও দুই দশক পর, তাও প্রতিযোগী বিজ্ঞানী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের চাপাচাপিতে। এত পরে প্রকাশ করার কারণ, তিনি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে, তার তথ্য ও স্বীকার্যে কোন খুঁত নেই।</p>
<p>এই তত্ত্বে পৌঁছাতেও তিনি কোন তাড়াহুড়ো করেননি। লায়েলের বই থেকেই প্রথমে জেনেছিলেন যে, পৃথিবীর স্থলভূমি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে এই পর্যায়ে এসেছে, কোন অতিপ্রাকৃতিক শক্তিতে নয়। এখান থেকে তিনি ভাবলেন, তবে জীবকূলেরও তো ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে এই পর্যায়ে আসার কথা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, জীবকূলের এক প্রজাতিই অন্য প্রজাতির জন্ম দেয়। জীববিজ্ঞানের এ ধরণের পরিব্যক্তির ধারণা সে সময় আরও কয়েকজন বিপ্লবী চিন্তাবিদের মাথায় ছিল। কিন্তু তারা একে &#8220;scala naturae&#8221; তথা &#8220;জীবকূলের মহাশিকল&#8221; আকারে কল্পনা করতেন। এই মহাশিকল প্রকল্পে বলা হতো, পৃথিবীর সকল প্রাণী বা উদ্ভিদের ভিন্ন ভিন্ন পূর্বপুরুষ আছে এবং প্রত্যেকে তার পূর্বপুরুষ থেকে নির্দিষ্ট পথে বিকশিত হয়েছে। এই প্রকল্পে আরও বলা হতো, প্রত্যেক প্রজাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্নিহিত পদার্থগুলোকে গ্রহণ করেছে এবং দিন দিন অপেক্ষাকৃত জটিল ও নিপুণ হয়েছে।</p>
<p>ডারউইন এই সহজ-সরল বিকাশ প্রকল্পকে বর্জন করলেন এবং আমাদের সুপরিচিত শাখাসমৃদ্ধ বিবর্তন তত্ত্ব গ্রহণ করলেন। এই শাখা-প্রশাখা তত্ত্বে বলা হয়, পৃথিবীর সকল প্রজাতিই একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিকশিত হয়েছে, বিভিন্ন প্রজাতি বিভিন্ন স্থানে এসে বিকাশের ভিন্ন পথ গ্রহণ করেছে। কিন্তু মহাশিকল প্রকল্পে বলা হতো, কে কোন প্রজাতি থেকে বিকশিত হবে তার একটা সীমা আছে। সকল প্রজাতি কেবল একটি পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হতে পারে না। এক্ষেত্রে ডারউইন গালাপাগোস দ্বীপে দেখা হরবোলা পাখির তিনটি প্রজাতিকে স্মরণ করলেন। এই তিনটি পাখি প্রজাতিই লাতিন আমেরিকার একটিমাত্র প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে। &#8220;অরিজিন অফ স্পিসিস&#8221; বইয়ে কেবল একটি ছবি ছিল, &#8220;জীবনবৃক্ষ&#8221; নামের সেই ছবির মাধ্যমে ডারউইন বিবর্তনের শাখাসমৃদ্ধ চিত্রটি আমাদের সামনে তুলে ধরেছিলেন।</p>
<p>এই জীবনবৃক্ষ প্রবর্তনের পরই কিন্তু ঝামেলা শুরু হয়। কারণ এই বৃক্ষ সৃষ্টির পেছনে কোন কারণ দেখাতে না পারলে তো চলবে না। কারণ সন্ধান করতে গিয়েই ডারউইন &#8220;প্রাকৃতিক নির্বাচন&#8221; নামক বিপ্লবী ধারণার জন্ম দিলেন। তিনি টমাস ম্যালথাসের বইয়ে পড়েছিলেন, বরাদ্দকৃত সম্পদ সীমিত থাকা সত্ত্বেও জনসংখ্যা খুব দ্রুত বেড়ে চলে। এছাড়া প্রাণী ও উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি নিয়ে তার আগ্রহ ছিল, কৃষি বাজারে গিয়ে নিয়মিতই উদ্ভিদ তালিকা সংগ্রহ করতেন।</p>
<p>১৮৩৮ সালে ডারউইন একটি মজার বিষয় বুঝতে পেরেছিলেন: গবাদি পশুর বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আমরা ইচ্ছা করেই কেবল উপযোগী বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রাধান্য দেই, কিন্তু বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে জীবজগতের একটি নিজস্ব পন্থা আছে যা একটু ভিন্ন। একটি বাস্তুতান্ত্রিক সাম্যাবস্থা যখন কোন কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তখনই কেবল এই পন্থাটি সক্রিয় হয়ে উঠে। এ অবস্থায় প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়া এমন জীবগুলোকে ছেটে ফেলে যেগুলোর অভিযোজনক্ষম বৈশিষ্ট্য অপেক্ষাকৃত কম। অর্থাৎ একই প্রজাতির অপেক্ষাকৃত অনুপযোগী জীবগুলো ঝরে পড়ে। এটিই প্রকৃতপক্ষে আয়ালার &#8220;design without a designer&#8221;। এমনকি, একই প্রজাতির দুটি জীবের একটিকে মরু অঞ্চলে এবং আরেকটিকে পর্বতাঞ্চলে রেখে দিলে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তারা সম্পূর্ণ পৃথক দুটি প্রজাতির জন্ম দিতে পারে- এমন দুটি প্রজাতি যাদের মধ্যে যৌন জননও সম্ভব হবে না।</p>
<p>১৮৫৯ সালে ডারউইন তাড়াহুড়ো করে &#8220;অরিজিন অফ স্পিসিস&#8221; ছাপিয়ে দিলেন। কারণ, তিনি শুনতে পেয়েছিলেন, ওয়ালেস নাকি একই ধরণের সিদ্ধান্তে এসেছেন এবং তার পাণ্ডুলিপিটি অচিরেই প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। বইয়ের মুখবন্ধ ছিল ১৫৫,০০০ শব্দের। এই বিশাল মুখবন্ধের ১,২৫০ কপি খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ডারউইনের বক্তব্য ছিল বেশ সহজ এবং পরিষ্কার। এ নিয়ে তাই কোন সরস সংলাপের জন্ম হয়নি, আইনস্টাইনের তত্ত্ব প্রকাশের পর যেমন বলা হচ্ছিল- আইনস্টাইন ছাড়া পৃথিবীর আর মাত্র তিন জন এই তত্ত্ব বুঝে।</p>
<p>ডারউইনের বাড়ি ছিল লন্ডন শহর থেকে ১৬ মাইল দক্ষিণে Downe নামক স্থানে। অরিজিন অফ স্পিসিস প্রকাশের পর তিনি বাড়ির আঙিনায় অর্কিড অন্যান্য গাছের মাধ্যমে সরাসরি প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে গেছেন। মৃত্যুর পর অন্যদের কাছে তার এই গবেষণার তদারকির ভার ন্যাস্ত করে গিয়েছিলেন। বইটি প্রকাশের পর যে বিতর্কের জন্ম হয়েছিল তা আজও চলছে। সৃষ্টিবাদী নামে পরিচিত কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আজও ডারউইনীয় বিবর্তনবাদকে মিথ্যা আখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছে, স্কুলের পাঠ্যবইকেও তারা প্রভাবিত করেছে। ১৮৬০ সালের ১১ই আগস্ট সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান এর একটি প্রবন্ধে এক সম্মেলনের কথা বলা হয়েছিল, &#8220;ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস&#8221; এর সম্মেলন। সেই সম্মেলনে &#8220;স্যার বি ব্রডি&#8221; নামক এক ব্যক্তি এই বলে ডারউইনের প্রকল্পকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যে, &#8220;মানুষের আত্ম-সচেতনতা বলে একটি শক্তি আছে- বস্তুজগতে অন্য কোন কিছুর মধ্যেই এটা নেই। নিম্ন শ্রেণীর প্রাণীতে কিভাবে এই চেতনা তৈরী হতে পারে তা ডারউইন খেয়ালই করেননি। মানুষের এই একক অনন্য ক্ষমতা কেবল স্বর্গীয় বুদ্ধিমত্তার সাথেই তুলনীয়।&#8221; কিন্তু তখনও বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেকে ডারউইনের হয়ে কথা বলেছিলেন। সেই একই সম্মেলনে বিখ্যাত ব্যক্তিতব জোসেফ হুকার একটি সাময়িকী প্রকাশের প্রেক্ষিতে অক্সফোর্ডের বিশপকে বলেছিলেন, &#8220;এই ধর্মবেত্তার ডারউইনের লেখা সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই।&#8221;</p>
<p>অরিজিন অফ স্পিসিস বইয়ে মানুষের বিবর্তন নিয়ে কিছু লেখা হয়নি। কিন্তু ডারউইন &#8220;The Descent of Man, and Selection in Relation to Sex&#8221; নামে একটি সম্পূর্ণ বই-ই লিখেছেন। এই বইয়ে মানুষের পূর্বপুরুষ হিসেবে আদ্যিকালের বানরদের নাম করা হয়েছে। এই বই অনেকের মর্মমূলে আঘাত করেছে এবং এ নিয়ে ডারউইনকে অনেক ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ সহ্য করতে হয়েছে, অনেক পত্র-পত্রিকায় মানুষকে অর্ধেক বানর-অর্ধেক মানুষ হিসেবে আঁকা হয়েছে। এমনকি ১৮৬০-এর দশকেও ডারউইনের চাচাতো ভাই ফ্রান্সিস গাল্টন অন্যদের সাথে মিলে বলা শুরু করেছিল, &#8220;আধুনিক সমাজ তার অযোগ্য সদস্যদেরকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের কবল থেকে রক্ষা করে&#8221;। আর নাৎসি আদর্শচ্যুত আদর্শবাদী থেকে শুরু করে নব্য-উদারতাবাদী অর্থনীতিবিদ হয়ে জনপ্রিয় সাহিত্য- সর্বত্র ডারউইনবাদের যে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা তো বলাই বাহুল্য। মার্কিন ঔপন্যাসিক কুর্ট ভনেগাট একবার বলেছিলেন, &#8220;ডারউইন আমাদের শিখিয়েছেন, যারা মারা যায়, মৃত্যুবরণ করাই তাদের জন্য উপযুক্ত ছিল। তিনি আমাদের বুঝিয়েছেন, মরদেহ উৎকর্ষের প্রতীক।&#8221;</p>
<p>বর্তমান পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় প্রজাতিগুলো যে একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে শাখা-প্রশাখা বিস্তারের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে, এই ধারণা মানুষ বেশ দ্রুতই গ্রহণ করেছে। কিন্তু এর কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বিজ্ঞানী সমাজেও অনেক দেরিতে তৈরী হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিধারও যথেষ্ট কারণ ছিল। ডারউইন তার গবেষণায় উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর সঞ্চারণ নিয়ে কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। তিনি অনুমান করে নিয়েছিলেন, মানব দেহে &#8220;gemmules&#8221; নামে এক ধরণের বস্তু আছে যা প্রতিটি কোষ থেকে নিসৃত হয়ে যৌন অঙ্গে যায় এবং সেখানে সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই বস্তুগুলোই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তথ্য বহনের কাজ করে। এই অনুমান প্রথমে খুব বেশী সমর্থন পায়নি। তাই ১৯৩০-৪০ এর দশকের আগে প্রাকৃতিক নির্বাচন কেবলই একটি প্রকল্প হিসেবে নড়বড়ে কাঠামোর উপর দাড়িয়ে ছিল। কিন্তু ৩০-৪০ এর দশকেই প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে চলে আসা সংশয়ের অবসান ঘটে।</p>
<p>এরপর আধুনিক সংশ্লেষণ পদ্ধতি বিকশিত হতে শুরু করে। ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদকে গ্রেগর মেন্ডেল প্রবর্তিত জিনতত্ত্বের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে পরীক্ষা করা হয়। ১৯৫৯ সালে যখন অরিজিন অফ স্পিসিস বইয়ের ১০০তম প্রকাশবার্ষিকী পালিত হয়, ততদিনে প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোন সংশয় অবশিষ্ট ছিল না।</p>
<p>কিন্তু এর পরের বছরগুলোতে বিবর্তনবাদের যতটা প্রসার হওয়ার কথা ছিল, কিছু প্রশ্নের কারণে ততটা প্রসার হয়নি। বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীদের জন্য এই প্রশ্নগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নগুলো এরকম: বিবর্তন প্রক্রিয়া কি সবসময়ই সমভাবে চলমান নাকি অনেকদিন নিশ্চল থাকার পর হঠাৎ জোরেশোরে শুরু হয়? দৈব পরিব্যক্তি কি হরহামেশাই ঘটতে থাকে নাকি কখনও কখনও বিকাশ বা বিলয় বাদ দিয়ে বংশানুগতিক বিচ্যুতি (genetic drift) প্রক্রিয়ায় অদৃশ্য হয়ে যায়। প্রতিটি জৈব বৈশিষ্ট্যই কি বিবর্তনমূলক অভিযোজনের ফল নাকি কিছু বৈশিষ্ট্য নিছক বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উপজাত হিসেবে তৈরী হয়?</p>
<p>আরেকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, মাঝে মাঝে একটি জীবগোষ্ঠীর সবার মাঝে কিছু পরার্থবাদী বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যেগুলোকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে খুব ভালভাবেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আর প্রজাতির উৎপত্তিতে বংশানুগতিক বিচ্যুতি কি ভূমিকা রাখে সেটা চেখে দেখার তো কোন বিকল্পই নেই। আরেকটি সমস্যা আছে: এককোষী জীবগুলো অনেক সময় একে অন্যের সাথে জিন বিনিময় করে, দুয়েকটি জিন না, বরং সবগুলো জিনই তারা বদল করে। এই জিন বিনিময়ের ঘটনা প্রজাতির মৌলিক সংজ্ঞাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। একই প্রজাতির এক জীব অন্য জীবের সাথে যৌন জনন ঘটাতে পারে। ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এ ধরণের জিন বিনিময় তাই নতুন সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু, এ নিয়ে বিতর্ক যতই তীব্র হচ্ছে, বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞান ততই বিকশিত হচ্ছে, সেই সাথে ডারউইনের যুগান্তকারী আবিষ্কারের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে চলেছে।</p>
<p><strong>বিবর্তনবাদ: ডারউইনের আগে ও পরে</strong></p>
<p>৬১০-৫৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ &#8211; দার্শনিক আনাক্সিমান্দ্রোস বলেন, সকল জীব সামুদ্রিক মাছ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু স্থলে আসার পর তাদের গুণগত পরিবর্তন হয়েছে।<br />
১৭৩৫ &#8211; কার্ল লিনিয়াস &#8220;Systema Naturae&#8221; বইয়ের প্রথম খণ্ড প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যার সূচনা ঘটে। পরে তিনি বলেছিলেন উদ্ভিদ একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিকশিত হয়েছে।<br />
১৮০৯ &#8211; ইংল্যান্ডের শ্রুসবারিতে ডারউইন জন্মগ্রহণ করেন।<br />
১৮৩০ &#8211; চার্লস লায়েল &#8220;Principles of Geology&#8221; নামক বইটি প্রকাশ করেন। এই বই দ্বারা ডারউইন প্রভাবিত হয়েছিলেন। প্রকৃতির সবকিছু ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে এসেছে বলে যে ধারণার জন্ম তিনি দিয়েছিলেন তা এই বই থেকেই অনুপ্রাণিত। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ক্রমান্বয়িক পরিবর্তন তার নজর কেড়েছিল।<br />
১৮৩১ &#8211; ডারউইন পাঁচ বছরের সমুদ্রে ভ্রমণে বেরোন। বিগল জাহাজে চড়ে তার বিশ্ব ভ্রমণ শুরু হয়।<br />
১৮৩৮ &#8211; চার্লস ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচনের তত্ত্ব প্রণয়ন করেন যা আরও ২০ বছর পর জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়।<br />
১৮৫৯ &#8211; &#8220;অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস&#8221; প্রকাশিত হয়।<br />
১৮৬৫ &#8211; চেক সন্ন্যাসী গ্রেগর মেন্ডেল উত্তরাধিকারের উপর করা গবেষণা প্রকাশ করেন। কিন্তু আরও ৩৫ বছর পর্যন্ত তার গবেষণা স্বীকৃতি পায়নি।<br />
১৮৭১ &#8211; &#8220;দ্য ডিসেন্ট অফ ম্যান&#8221; বইয়ে ডারউইন মানুষের পূর্বপুরুষ হিসেবে প্রাইমেটদের নাম করেন। এ কারণে তিনি প্রচণ্ড বিতর্কিত হন।<br />
১৮৮২ &#8211; ডারউইন মৃত্যুবরণ করেন।<br />
১৯২৫ &#8211; &#8220;দ্য স্কোপ্‌স মাংকি ট্রায়াল&#8221; এর মাধ্যমে স্বর্গীয় সৃষ্টিতত্ত্বকে অস্বীকার করে এমন কোন কিছু স্কুলে পড়ানো যাবে না বলে আইন পাশ করা হয়।<br />
১৯৩৬-৪৭ &#8211; আধুনিক সংশ্লেষণ পদ্ধতিতে ডারউইনের বিবর্তনবাদকে মেন্ডেলীয় জিনতত্ত্বের সাথে মেলানো হয়।<br />
১৯৫৩ &#8211; জেম্‌স ডি ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ডিএনএ-র গঠন আবিষ্কার করেন। এর মাধ্যমে বিবর্তনের আণবিক জীববিজ্ঞান অধ্যয়ন সম্ভব হয়।<br />
বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় &#8211; জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে কয়েক হাজার বছর আগেও মানুষের বিবর্তন হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।<br />
২০০৯ &#8211; এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের মহান প্রকৃতিবিদ ডারউইনের ২০০তম জন্মবার্ষিকী এবং তার সবচেয়ে বিখ্যাত বইটির ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বিশ্বব্যাপী জাঁকজমকের সাথে এ দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।</p>
<hr />
<p>মূল প্রবন্ধ &#8211; Darwin&#8217;s Living Legacy<br />
লেখক &#8211; Gary Stix<br />
সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান, জানুয়ারি ২০০৯<br />
বাংলা শিরোনাম &#8211; একবিংশ শতকের ডারউইন</p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/289/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/289/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/289/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/289/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/289/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/289/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/289/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/289/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/289/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/289/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=289&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/darwin-living-legacy/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://photos-e.ll.facebook.com/photos-ll-snc1/v2067/170/13/1154584194/n1154584194_30303884_9409.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">চার্লস ডারউইন</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>প্রকৃত ফিঞ্চ</title>
		<link>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a/</link>
		<comments>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 15 Sep 2009 11:42:08 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রজাতি]]></category>
		<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[ফিঞ্চ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://bigganpuri.wordpress.com/?p=286</guid>
		<description><![CDATA[[ছবি: চ্যাফিঞ্চ পাখি। কৃতজ্ঞতা: উইকিপিডিয়া]
বাংলা নাম &#8211; ফিঞ্চ
ইংরেজী নাম &#8211; Finch
বৈজ্ঞানিক নাম &#8211; Fringillidae
ফিঞ্চ (ইংরেজি ভাষায়: Finch) ফ্রিঞ্জিলিডি (fringillidae) পরিবারভুক্ত এক ধরণের ছোট গায়ক পাখি। গায়ক হওয়ায় যথারীতি তাদেরকে প্যাসারাইন পাখি হিসেবে অভিহিত করা হয়। ফিঞ্চ কিন্তু কোন প্রজাতির নাম নয়। ফ্রিঞ্জিলিডি পরিবারের গায়ক পাখিদেরই ফিঞ্চ ডাকা হয়। তাই ফিঞ্চকে বলা যায় এক ধরণের পরিবার [...]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=286&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<div class='snap_preview'><br /><p><img class="alignright" width="340" src="http://www.nature.com.bd/sites/default/files/imagecache/large/424px-Fringilla_coelebs_chaffinch_male_edit2.jpg" alt="i" />[ছবি: চ্যাফিঞ্চ পাখি। কৃতজ্ঞতা: উইকিপিডিয়া]</p>
<p>বাংলা নাম &#8211; ফিঞ্চ<br />
ইংরেজী নাম &#8211; Finch<br />
বৈজ্ঞানিক নাম &#8211; Fringillidae</p>
<p>ফিঞ্চ (ইংরেজি ভাষায়: Finch) ফ্রিঞ্জিলিডি (fringillidae) পরিবারভুক্ত এক ধরণের ছোট গায়ক পাখি। গায়ক হওয়ায় যথারীতি তাদেরকে প্যাসারাইন পাখি হিসেবে অভিহিত করা হয়। ফিঞ্চ কিন্তু কোন প্রজাতির নাম নয়। ফ্রিঞ্জিলিডি পরিবারের গায়ক পাখিদেরই ফিঞ্চ ডাকা হয়। তাই ফিঞ্চকে বলা যায় এক ধরণের পরিবার বা ফ্যামিলি।</p>
<p><strong>বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস</strong></p>
<p>রাজ্য: Animalia<br />
পর্ব: Chordata<br />
শ্রেণী: Aves<br />
উপশ্রেণী: Neornithes<br />
ইনফ্রাশ্রেণী: Neognathae<br />
মহাবর্গ: Neoaves<br />
বর্গ: Passeriformes<br />
উপবর্গ: Passeri<br />
ইনফ্রাবর্গ: Passerida<br />
মহাপরিবার: Passeroidea<br />
পরিবার: Fringillidae<span id="more-286"></span></p>
<p><strong>পরিবারের নামকরণ</strong></p>
<p>ফিঞ্চদের প্রায় সব প্রজাতিই ফ্রিঞ্জিলিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ফ্রিঞ্জিলিডি নামটি এসেছে লাতিন শব্দ ফ্রিঞ্জিলা থেকে। লাতিন ভাষায় চ্যাফিঞ্চ-কে (ফিঞ্চের একটি প্রজাতি Fringilla coelebs) ফ্রিঞ্জিলা নামে ডাকা হয়। ইউরোপে এই প্রজাতির ফিঞ্চ হরহামেশাই দেখা যায়।</p>
<p><strong>প্রাপ্তিস্থান</strong></p>
<p>এদের মূল আবাসস্থল দক্ষিণ গোলার্ধ। দক্ষিণ গোলার্ধের সব স্থানেই হয়ত এদের দেখা যায়, তবে কিছু উপ-পরিবার সব স্থানে পাওয়া যায় না। যেমন একটি উপ-পরিবার কেবল নিওট্রপিক অঞ্চলে দেখা যায়, একটি দেখা যায় শুধু হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে এবং আরেকটি উপ-পরিবার শুধুই প্যালিআর্কটিক অঞ্চলে পাওয়া যায়।</p>
<p>অবশ্য ফ্রিঞ্জিলিডি পরিবারের বাইরেও কিছু প্রজাতিকে সাধারণভাবে ফিঞ্চ নামে ডাকা হয়। যেমন অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীন ক্রান্তীয় অঞ্চলে এস্ট্রিলডিডি (Estrildidae) নামে একটি পরিবার আছে যারা দেখতে অনেকটাই ফিঞ্চের মত, এদেরকেও তাই ফিঞ্চ বলা হয়। এ ধরণের পাখিগুলো ফিঞ্চ না হলেও সাদৃশ্যের কারণে অনেকে এদেরকে ফিঞ্চ বলে থাকেন। এ ধরণের পাখির একটি বড় উদাহরণ ডারউইনের ফিঞ্চ। চার্লস ডারউইন গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে ১৪ প্রজাতির ফিঞ্চ (তথাকথিত) সনাক্ত করেছিলেন এবং এগুলো তার প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছিল। এই ফিঞ্চগুলোকে বর্তমানে অদ্ভুত ট্যানেজার পরিবারের সদস্য হিসেবে ধরা হয় যদিও ঐতিহাসিকতার কারণে অনেকে এখনও তাদের ফিঞ্চ বলে থাকেন। এ কারণে ডারউইনের ফিঞ্চ নামটিও পরিবর্তন করা হয়নি।</p>
  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/286/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/286/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/286/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/286/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/286/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/286/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/286/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/286/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/286/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/286/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=bigganpuri.wordpress.com&blog=2921791&post=286&subd=bigganpuri&ref=&feed=1" /></div>]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://bigganpuri.wordpress.com/2009/09/15/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9a/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://www.nature.com.bd/sites/default/files/imagecache/large/424px-Fringilla_coelebs_chaffinch_male_edit2.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">i</media:title>
		</media:content>
	</item>
	</channel>
</rss>