আল মুকাদ্দিমা – পদার্থবিজ্ঞান
পদার্থবিজ্ঞান
চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ, ষষ্ঠ অধ্যায়, আল মুকাদ্দিমা
লেখক – আবদুর রাহমান বিন মুহাম্মাদ ইবন খালদুন
ইংরেজি অনুবাদক – ফ্রানৎস রোজেনথাল
বাংলা অনুবাদক – খান মুহাম্মদ (শিক্ষানবিস)
এটি এমন এক বিজ্ঞান যা বস্তুর সাথে সংযুক্ত গতি ও স্থিতি-র প্রেক্ষাপটে সেই বস্তুর অনুসন্ধান করে। এটি জ্যোতিষ্ক ও মৌলিক বস্তু এবং এসব থেকে সৃষ্ট মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও খনিজ পদার্থ নিয়ে গবেষণা করে। পৃথিবীতে নেমে আসা ভূমিকম্প এবং বসন্ত নিয়েও এটি গবেষণা করে, এছাড়া পরিবেশের মেঘ, বাষ্প, বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎ চমক, ঝড় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদিও এর গবেষণাক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। বস্তুর মাঝে প্রথমে কিভাবে গতির সঞ্চার হয়েছিল, এ বিষয়ক গবেষণার মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান তার ক্ষেত্র বিস্তার করে। অর্থাৎ মানুষ, প্রাণী এবং উদ্ভিদে বিভিন্ন রূপ নিয়ে আত্মার যে প্রকাশ ঘটে তার সূচনাও এই বিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়।
এই বিষয়ে এরিস্টটল এর লেখা বইগুলো একালের পণ্ডিতদের কাছে আছে। আল-মামুন এর সময় দার্শনিক বিজ্ঞান এর অন্যান্য সব বইয়ের সাথে এরিস্টটল এর বইগুলোও অনুবাদ করা হয়েছিল। এসব বইয়ের উপর নির্ভর করেই পরবর্তীতে পণ্ডিতরা অনেক বই লিখেছেন, এর সাথে যুক্ত করেছেন বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও মন্তব্য। এই বিষয়ে লেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই হচ্ছে ইবন সিনা-র “কিতাবুশ শিফা”। আগে আমরা যে সাতটি দার্শনিক বিজ্ঞানের উল্লেখ করেছিলাম তার সবগুলো নিয়েই ইবন সিনা এই বইয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি পরবর্তীতে আবার “কিতাবুন নাজাত” ও “কিতাবুল ইশারাত” বই দুটোতে পূর্বোক্ত গ্রন্থটিকে আরও পরিশীলিত করেছেন। একদিক থেকে বলা যায়, ইবন সিনা প্রায় সব ভৌত সমস্যার ক্ষেত্রেই এরিস্টটল এর বিরোধিতা করেছেন এবং নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, আবু রুশদ এরিস্টটল এর বইগুলোর পরিশীলিত সারাংশ তৈরি করে সেগুলোর সাথে মন্তব্য যোগ করেছেন, কিন্তু ইবন সিনা-র মত বিরোধিতা না করে তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এছাড়াও অনেক পণ্ডিত এ নিয়ে অনেক বই লিখেছেন।[১] কিন্তু বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞান অধ্যয়ণ করতে গেলে প্রধানত এই বইগুলোরই সাহায্য নেয়া হয়, এগুলোই এখন সবচেয়ে বিখ্যাত।
প্রাচ্যবাসীরা ইবন সিনা-র “কিতাবুল ইশারাত” কেই খুব আগ্রহের সাথে গ্রহণ করেছে। ইমাম ইবনুল খাতিব এর উপর খুব ভাল একটি ভাষ্য লিখেছেন। আল-আমিদ ও একটি ভাষ্য লিখেছেন।[২] এ সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্য হচ্ছে ইরাকী পণ্ডিত নাসিরউদ্দিন তুসি[৩] যিনি খাজা নামেও পরিচিত। তুসি ইশারাত এর অনেকগুলো সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তার সিদ্ধান্তের সাথে ইবন আল-খাতিব এর সিদ্ধান্তগুলোর তুলনা করেছেন। অবশ্য এ বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি খাতিব কেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।
“এবং তিনিই যেকোন পণ্ডিত এর চেয়ে অনেক বেশি জানেন”।[৪]
পাদটীকা
১। কথা থেকে মনে হচ্ছে সে সময় ইবন সিনা নয় বরং কেবল ইবন রুশদ এর বই নিয়ে গবেষণা হতো। কিন্তু ইবন খালদুন তার মুকাদ্দিমায় ইবন সিনা-র নাম এত বেশি বার ব্যবহার করেছেন যে, ইবন সিনা নিয়ে গবেষণা না হওয়ার কোন কারণ নেই। তাই এখানে মনে হয় ইবন খালদুন যা লিখেছেন তা দ্বারা অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছেন।
২। আল-আমিদি অবশ্য ফাখরুদ্দিন আল-রাজি র বিরোধিতা করেছিলেন। অর্থাৎ ইবন খাতিব এরও বিইরোধিতা করেছিলেন। তার ভাষ্যের নাম “কাশফ আত-তামভিহাত”
৩। তার ভাষ্যের নাম “হাল মুশকিলাত আল-ইশারাত”। এখানে ইরাকী বলতে খালদুন আসলে অ-আরবীয় ইরাকী বুঝিয়েছেন।
৪। কুরআন (১২:৭৬)