৫১ পেগাসি বি নিয়ে লিখতে চাচ্ছিলাম
মহাবিশ্বে যদি পৃথিবীর মত আর একটি গ্রহও না থাকে তাহলে সেটাকে বলতে হবে স্থানের বিশাল অপব্যবহার- অবশ্য যদি কেউ ব্যবহারকারীর কথা না ভেবেই ব্যবহার শব্দটি ব্যবহার করতে চান। আর যদি পৃথিবীর মত গ্রহ থাকে তাহলেও সেখানে বুদ্ধিমান প্রাণ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী না। কারণ সেই বুদ্ধিমানকে আমাদের সাথে ফেইজে থাকতে হবে। out of phase এ থাকার সম্ভাবনাই কিন্তু বেশী। আউট অভ ফেইজ বাক্যটি আমি চয়ন করি নাই, প্রখ্যাত গ্রহ শিকারী অ্যালান বস এক টিভি বক্তৃতায় বলেছিলেন, অধিকাংশ বুদ্ধিমানেরাই হয়ত আমাদের সাথে আউট অভ ফেইজে আছে। এই আউট অভ ফেইজ বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যাক-
আজ থেকে বিশ লাখ বছর আগেও যদি কোন এলিয়েন পৃথিবীর খোঁজ পেত তবেও সে কোন বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধান পেত না। কারণ খুব সোজা। তখনও এই গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণীর জন্ম হয়নি। এখন ধরা যাক একটি বুদ্ধিমান এলিয়েনওয়ালা গ্রহ আমাদের থেকে ২০ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে আছে। তার মানে পৃথিবী থেকে সেখানে সকল ধরণের তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ পৌঁছাতে ২০ লক্ষ বছর লাগে। এখন সেই গ্রহের বুদ্ধাওয়ালা এলিয়েনরা যদি খুব উন্নত ধরণের কোন ডিটেকশন পদ্ধতি দিয়ে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করে তাহলেও কোন লাভ হবে না। কারণ তারা ২০ লক্ষ বছর আগের পৃথিবীর খোঁজ পাবে, যে পৃথিবীতে প্রাণ আছে কিন্তু সেই প্রাণের সৌন্দর্য্য উপলব্ধির যোগ্যতা নেই কারও।
১৪ বিলিয়ন বছরের এই মহাবিশ্বে তাই বুদ্ধিমান প্রাণ খুঁজে পেলেও তাদের সাথে রিয়েল টাইম যোগাযোগ স্থাপন করার সম্ভাবনা এখনও খুব কম। বর্তমানে SETI (Search for Extra-terrestrial Intelligence) নামে এক বিশাল প্রকল্পের কাজ চলছে, বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে। এটা কাজ করে মহাবিশ্বে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ এবং মহাবিশ্ব থেকে আসা রেডিও তরঙ্গ গ্রহণের মাধ্যমে। রেডিও ছাড়া বর্ণালীর আরও কয়েকটি ব্যান্ড নিয়ে সামান্য কাজ হচ্ছে। কিন্তু এখানেও আউট অভ ফেইজের ঝামেলা আছে। আমরা যদি ২০ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের কোন গ্রহ থেকে পরিকল্পিত রেডিও সংকেত পাই তার মানে, আজ থেকে ২০ লক্ষ বছর আগেই সে গ্রহের প্রাণীরা রেডিও সংকেত তৈরীর ক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছিল। এখানে আবার আশার দিকও আছে। ধরি ১ কোটি আলোকবর্ষ দূরের কোন গ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেল। তার মানে ১ কোটি বছর আগে সে গ্রহে এরকম প্রাণ ছিল। জৈব বিবর্তনের মাধ্যমে সেই প্রাণ থেকে আজকে যে আমাদের চেয়েও বুদ্ধিমান কোন প্রাণীর উদ্ভব ঘটেনি সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। হয়ত এখন সেখানে বিশাল মাথার কোন প্রাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তার পরও ঘুরে ফিরে আবার হতাশা। কারণ, আমরা যদি এরকমটি ধরে নিয়ে সেই গ্রহের উদ্দেশ্যে আলোর বেগে রওয়ানা দেই তবে এক কোটি বছর পর সেখানে গিয়ে পৌঁছাবো। এই এক কোটি বছরে যে সে প্রাণ বিলুপ্ত হয়ে যায়নি তা কি নিশ্চিত করে বলা যায়? হয়ত আমরা গিয়ে দেখলাম সেটা মঙ্গলের মতই নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে, সবকিছুই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর আলোর বেগ অর্জনের সম্ভাবনাটাও তো এখন পর্যন্ত অলীক।
তার মানে যোগাযোগের চিন্তা আর করা যাচ্ছে না। সেটা এখনও কল্পবিজ্ঞানের ডোমেইনে। কিন্তু আমরা যদি বুদ্ধিমান প্রাণীর বদলে কেবল প্রাণ খোঁজা শুরু করি তাহলে নিরাশ হবার কোন কারণ নেই। এই প্রাণ খোঁজার আরেকটি ভাল দিক হচ্ছে, যে গ্রহে প্রাণ পাওয়া যাবে সে গ্রহ কিছুটা হলেও আমাদের বসবাসর উপযোগী হবে। তাই দ্বিতীয় বাড়ি এবং দ্বিতীয় প্রাণের সন্ধান একসাথেই চলছে। এটা আর কল্পবিজ্ঞানের ডোমেইনে নেই বরং হার্ডকোর জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিষয়। আমার এলিয়েন চরিত তাই বুদ্ধিমান এলিয়েন নিয়ে না, নির্বোধ এলিয়েন নিয়ে। নির্বোধ এলিয়েন আবিষ্কারের প্রথম ধাপ অবশ্যই পৃথিবীর মত গ্রহ খুঁজে বের করা।