সেগুয়ে ১: গুপ্ত পদার্থের দ্বারা সবচেয়ে প্রভাবিত ছায়াপথ
বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত জানা মতে, গুপ্ত পদার্থ দ্বারা সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছেন।
এই ছায়াপথের নাম “সেগুয়ে ১” (Segue 1)। এই বামন ছায়াপথটি আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
ইয়েল ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি গবেষণাপত্রে এই ফলাফল লিপিবদ্ধ করেছেন। গবেষণাপত্রটি “অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল” এর পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে। গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক হলেন, ইয়েলের মার্লা গেহা (Marla Geha)।
বামন ছায়াপথ বলতে এমন ছায়াপথকে বোঝায় যাদের তারার সংখ্যা তুলনামূলক কম। সাধারণ তারার সংখ্যাক কয়েক বিলিয়ন হলে বামন বলা হয়। আমাদের ছায়াপথে তারার সংখ্যা যেখানে ২০০-৪০০ বিলিয়ন সেখানে বামন ছায়াপথে তারার সংখ্যা কয়েক শ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বিলিয়নের মত হতে পারে। যেমন, “লার্জ ম্যাজেলানীয় মেঘ” কে অনেকে বামন বলেন যাতে তারার সংখ্যা ৩০ বিলিয়ন।
সেগুয়ে ১ এ দৃশ্যমান তারার সংখ্যা খুব কম, মাত্র কয়েক শত। সে হিসেবে তার ভরও কম হওয়ার কথা। কিন্তু গেহা ক্যালটেকে তার সহকর্মী জশ সাইমনের সাথে মিলে এর ভর নির্ণয় করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন। এর ভর আশার চেয়ে প্রায় হাজার গুণ বেশী।
উল্লেখ্য গেহা ও সাইমনই আকাশগঙ্গার চারদিকে আবর্তনরত বস্তুসমষ্টিগুলোকে নিবিঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছিলেন। আগে এদেরকে তারা স্তবক মনে করা হতো। কিন্তু তারা হাওয়াইয়ের কেক দুরবিনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, এরাও ছায়াপথ। বর্তমানে আকাশগঙ্গাকে আবর্তনকারী প্রায় ১৪টি বামন ছায়াপথের সন্ধান পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে স্লোয়ান ডিজিটাল স্কাই সার্ভেকেও ধন্যবাদ দিতে হয়। কারণ এই জরিপের কারণেই গত দুই বছরে আকাশগঙ্গাকে আবর্তনকারী জানা বামন ছায়াপথের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হওয়াটা সম্ভব হয়েছে।
সেগুয়ে ১ এর দৃশ্যমান বস্তুর ভর যোগ করলে যা হয়, নির্ণেয় ভর তার প্রায় হাজার গুণ। স্বভাবতই বাকিটা গুপ্ত পদার্থ দিয়ে ঠাসা। কোন ছায়াপথে আনুপাতিক হারে এতো গুপ্ত পদার্থের পরিমাণ আগে কখনও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, কোন ছায়াপথের এতোটা ভরের জন্য আগে গুপ্ত পদার্থকে দায়ী করা যায়নি। সুতরাং, এটাই বর্তমানে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বেশী গুপ্ত পদার্থ প্রভাবিত ছায়াপথ।
অন্য ছায়াপথে হয়ত গুপ্ত পদার্থের পরিমাণ বেশী, কিন্তু দৃশ্যমান পদার্থের তুলনায় গুপ্ত পদার্থের অনুপাত এতো বেশী আর কোথাও নেই।
এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের ছায়াপথ ও গুপ্ত পদার্থ গবেষণায় কাজে লাগবে। আর এমনিতেই, বামন ছায়াপথ ছায়াপথের গঠন সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছু বলতে পারে। খুঁজতে থাকরে বিজ্ঞানীরা এরকম আরও ছায়াপথ খুঁজে পাবেন বলে গেহা আশা করেন। তিনি বলেন,
The galaxies I now consider bright used to be the least luminous ones we knew about,… It’s a totally new regime. This is a story that’s just unfolding.
এই আকর্ষণীয় গবেষণাপত্র রচনায় যারা অংশ নিয়েছেন তারা হলেন:
- Marla Geha (ইয়েল ইউনিভার্সিটি)
- Beth Willman (হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স)
- Joshua D. Simon (ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি)
- Louis E. Strigari (ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিন)
- Evan N. Kirby (ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান্টা ক্রুজ এবং লিক অবজারভেটরি)
- David R. Law (ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি)
- Jay Strader (হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স)
তথ্যসূত্রঃ Astronomers Discover Most Dark Matter-dominated Galaxy In Universe – সায়েন্স ডেইলি