ফিনিক্সের মঙ্গল অভিযান কেমন চলছে?

2008 সেপ্টেম্বর 12

০১

নাসার “ফিনিক্স ল্যান্ডার” মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করেছিল ২০০৮ সালের ২৫শে মে। ২৮শে মে “ফিনিক্সের মঙ্গল অভিযান” নামে একটি ব্লগ লিখেছিলাম। সেই ব্লগের বিষয় ছিল, ফিনিক্সের অবতরণ প্রক্রিয়া, তার অভিযানের উদ্দেশ্য এবং মঙ্গল সম্পর্কে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। এবার সেগুলো খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। যে উদ্দেশ্যে ফিনিক্সকে পাঠানো হয়েছিল তার কতটুকু সফল হয়েছে তা জানানোই এই লেখার উদ্দেশ্য।

আগের লেখায় ফিনিক্সের মূল লক্ষ্য হিসেবে লিখেছিলাম:
- মঙ্গলে অণুজীবের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা যাচাই করা
- সেখানে পানির ইতিহাস খতিয়ে দেখা
এই লক্ষ্যগুলো খুব একপেশে মনে হতে পারে। মঙ্গল নিয়ে গবেষণার তো আরও অনেক বিষয় আছে, শুধু এ কাজের জন্য পুরো নভোযান প্রেরণের দরকার কি? এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে মঙ্গলে ফিনিক্স ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি নভোযান কাজ করছে। এই নভোযানগুলোর মধ্যে ল্যান্ডার, অর্বিটার, রোভার, ফ্লাইবাই সবই আছে। ল্যান্ডার গ্রহের এক স্থানে অবতরণ করে এবং সেখানেই কাজ করে। অর্বিটার অবতরণ করে না, কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। রোভার গ্রহের পৃষ্ঠে চলাচল করে, যাত্রাপথেই প্রয়োজনীয় কাজগুলো সেরে নেয়। আর ফ্লাইবাই নভোযান অন্য কোন পথে আবর্তন করে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর গ্রহটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায়। কিংবা দূরের কোন লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে গমনকারী নভোযানও গ্রহটির কাছ দিয়ে একবার উড়ে যেতে পারে।

- মঙ্গলে বর্তমানে সক্রিয় অর্বিটারগুলো হচ্ছে: ২০০১ মার্স অডিসি, মার্স এক্সপ্রেস অর্বিটার ও মার্স রিকনিসন্স অর্বিটার।
- সক্রিয় ফ্লাইবাই নভোযান হচ্ছে: রোসেটা
- সক্রিয় একমাত্র ল্যান্ডার হল: ফিনিক্স
- রোভারগুলো হচ্ছে: স্পিরিট ও অপরচুনিটি

মঙ্গলীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান, মঙ্গলের ভূবিজ্ঞানসহ যাবতীয় বিষয় নিয়ে অর্বিটারগুলো কাজ করছে। আর ভূপৃষ্ঠের অন্যান্য বিশ্লেষণের জন্য তো রোভারগুলো রয়েছেই। ল্যান্ডারগুলো সাধারণত এ ধরণের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই অভিযানে নামে। সে হিসেবে ফিনিক্সের বর্তমান অভিযানের উদ্দেশ্য প্রকৃতপক্ষে একপেশে নয়। আর কিছুদিন এটা নিয়ে কাজ করার পর সে কক্ষপথে মূল নভোযানের সাথে মিলিত হবে। এরপর নতুন কোন মিশন নিয়ে হয়ত আবার মঙ্গল পৃষ্ঠে অবতরণ করবে।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। ফিনিক্সের সফলতা যাচাই করতে হলে আগে আমাদের জানা প্রয়োজন, তাকে কি ধরণের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। কোন নভোযানের নির্জীব যাত্রীদের সাধারণত পেলোড বলা হয়। তাই মঙ্গল গবেষণার জন্য প্রেরিত এই যন্ত্রপাতিগুলোকেও আমরা পেলোড বলতে পারি। ফিনিক্সের পেলোডগুলো হচ্ছে:

১। রোবোটিক বাহু - ভূপৃষ্ঠের ০.৫ মিটার পর্যন্ত খনন করতে পারে। এর কাজ মাটি ও ধূলির নমুনা সংগ্রহ করা।
২। রোবোটিক বাহুর ক্যামেরা - রোবোটিক বাহুর হাতার সাথে যুক্ত। এটা দিয়ে প্রথমেই নমুনা সংগ্রহের অঞ্চলের ছবি তোলা হয়, সেখান থেকে কি ধরণের নমুনা পাওয়া যাবে তা এই ছবির মাধ্যমেই বিশ্লেষণ করা হয়।
৩। সার্ফেস স্টেরিও ইমেজার - নভোযানের মূল ক্যামেরা। পাথফাইন্ডারের সাথে যুক্ত ক্যামেরার চেয়ে এর রিজলিউশন অনেক বেশী। এর মাধ্যমে মঙ্গলের আর্কটিক অঞ্চলের উচ্চ রিজলিউশন ছবি তোলা হয়।
৪। থার্মাল অ্যান্ড ইভল্‌ভ্‌ড গ্যাস অ্যানালাইজার - সংক্ষিপ্ত নাম টেগা (TEGA)। এতে উচ্চ তাপমাত্রার চুল্লীর সাথে ভর বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র যুক্ত আছে। এরকম আটটি ওভেন আছে। প্রতিটি ওভেন একটি করে নমুনা বিশ্লেষণ করতে পারে। বুঝতেই পারছেন, এর মাধ্যমে সংগৃহীত নমুনায় কি কি পদার্থ আছে তা খতিয়ে দেখা যাবে।
৫। মার্স ডিসেন্ট ইমেজার - সংক্ষিপ্ত নাম মার্ডি (MARDI)। এর মাধ্যমে অবতরণের সময় মঙ্গল পৃষ্ঠের ছবি তোলার কথা ছিল। কিন্তু কিছু তথ্য হারিয়ে যাওয়ার কারণে অবতরণের সাত মিনিটে সে কোন ছবিই তুলতে পারেনি।

৬। মাইক্রোস্কপি, ইলেকট্রোকেমিস্ট্রি অ্যান্ড কন্ডাক্টিভিটি অ্যানালাইজার - সংক্ষিপ্ত নাম মেকা (MECA)। এর মধ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র আছে:
- আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র: এর কাজ মঙ্গল থেকে সংগৃহীত নমুনায় উপস্থিত রেগোলিথের ছবি তোলা। ভূপৃষ্ঠে মৃত্তিকা স্তরের নিচেই রেগোলিথ স্তর থাকে, রেগোলিথ স্তরের নিচে থাকে অধিশিলার স্তর। তাই অধিশিলার উপরে অবস্থিত আলগা শিলাবস্তুর আচ্ছাদনকেই রেগোলিথ বলা যায়।
- পারমাণবিক বল অণুবীক্ষণ যন্ত্র: আলোক অণুবীক্ষণের কাছে প্রেরিত নমুনার সামান্য অংশ নিয়ে কাজ করতে পারে। সে আট সিলিকনের টিপ দিয়ে এই নমুনা স্ক্যান করে এবং সিলিকন টিপ থেকে নমুনার বিকর্ষণের পরিমাণ নির্ণয় করে।
- ওয়েট কেমিস্ট্রি গবেষণাগার: এখানে চারটি প্রকোষ্ঠে আছে। প্রতিটি প্রকোষ্ঠে মঙ্গলের নমুনার সাথে পৃথিবীর পানির মিশ্রণ ঘটানো হয়। এর ফলে মঙ্গলের মাটিতে উপস্থিত দ্রবণীয় উপাদানগুলো পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায়। এর মধ্যে প্রধানত ক্ষার ধাতুর আয়নগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয়। এর মাধ্যমে মঙ্গল জীবন বিস্তারের জন্য কতটা সহায়ক হতে পারে তা নির্ণয় করা সম্ভব।
- স্যাম্প্‌ল হুইল ও ট্রান্সলেশন স্টেজ: ৬৯টি নমুনা ধারকের মধ্যে ৬টি এখানে অবস্থিত। এগুলোর মাধ্যমে রোবটিক বাহুর কাছ থেকে নমুনা নিয়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রগুলোর কাছে পাঠানো হয়।

৭। থার্মাল অ্যান্ড ইলেকট্রিকেল কন্ডাক্টিভিটি প্রোব - সংক্ষিপ্ত নাম টিইসিপি (TECP)। এতে পাঁচটি সন্ধানী যন্ত্র আছে যা দিয়ে নিম্নলিখিত পরিমাপগুলো করা হয়:
- মঙ্গলীয় মাটির (রেগোলিথ) তাপমাত্রা
- তাপীয় পরিবাহিতা
- তড়িৎ পরিবাহিতা
- পরাবৈদ্যুতিক প্রবেশ্যতা (dielectric permittivity)
- বায়ুর দ্রুতি
- পরিবেশের তাপমাত্রা
৮। আবহাওয়বিজ্ঞান স্টেশন - নাম থেকেই এর কাজ বোঝা যাচ্ছে। এর সাথে বায়ু নির্দেশক এবং চাপ ও তাপ সেন্সর যুক্ত আছে। এগুলোর মাধ্যমে সে মঙ্গলের আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে চলে।

এবার আমরা ফিনিক্সের সফলতা আর ব্যর্থতা নিয়ে ভাবতে পারি। একটা ব্যর্থতার কথা ইতোমধ্যে বলে ফেলেছি। হ্যা, মার্ডি পরিকল্পনা মাফিক ছবি তুলতে পারেনি। এজন্যই অবতরণের যে ৭ মিনিটে ফিনিক্সের গতি ঘণ্টায় ২১,০০০ কিমি থেকে মাত্র ৮ কিমি-তে নামিয়ে আনতে হয়েছিল, সে সময় মঙ্গল পৃষ্ঠ ও নভোযানের ক্লোজ ছবি আমরা পাইনি। মার্স রিকনিসন্স অর্বিটারের হাইরাইজ ক্যামেরা দিয়েই কেবল অবতরণের ছবি তোলা গেছে। সফলতাগুলো নিয়ে পরবর্তী পর্বে লিখব। অবতরণের পর নাসা ফিনিক্স বিষয়ে যে খবরগুলো প্রকাশ করেছে সেগুলো সংক্ষেপে লিখে ফেললেই তার সফলতার সবকিছু জানা হয়ে যাবে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই ফিনিক্স সফল হয়েছে। কর্মদক্ষতার দিকে অধিক নজর দেয়া এবং যোগাশ্রয়ী প্রোগ্রামিং মেনে কাজ করাই এর কারণ।

এই পর্ব শেষ করছি ফিনিক্স ডিভিডি নিয়ে ছোট একটি কথা বলে। “মঙ্গলের ফিনিক্স অভিযান” ব্লগটিতে এই ডিভিডি’র কথা বলেছিলাম। ডিভিডিটিতে মঙ্গল নিয়ে লেখা সব সাহিত্যের সংকলন স্থান পেয়েছে। পৃথিবীবাসী অনেকেই নিজেদের নাম ও মন্তব্য পাঠিয়েছিল নাসার কাছে। নাসা সেগুলোও ডিভিডিতে পুরে দিয়েছে। এই প্রথম আর্থলিং-দের নাম অন্য কোন গ্রহে পৌঁছুল। আর্থলিং কথাটাও এতোদিন কেবল কল্পবিজ্ঞানে ব্যবহৃত হতো। নাসার ওয়েবসাইটেই মঙ্গলের সাপেক্ষে আমাদেরকে আর্থলিং বলা হয়েছে। এভাবেই আমাদের কল্পবিজ্ঞান ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। সন্দেহ নেই, মঙ্গলে বসতি স্থাপনকারী প্রথম জীবেরাও আর্থলিং হবে, কিন্তু অ্যামেরিকার মত তারাও হয়ত একদিন স্বাধীনভাবে গ্রহ পরিচালনা শুরু করবে। তখন হয়ত তাদেরকে আমরা মার্সলিং ডাকবো।

ফিনিক্স মঙ্গলের মাটিতে পানি আর জীবন নিয়ে গবেষণা করছে। আমরা মানুষেরা পৃথিবীতে বসে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছি, প্রয়োজনমত তাকে নিয়ন্ত্রণও করছি। মানবিক কৌতুহলের তুলনায় এ ধরণের অভিযান খুব বিস্ময়কর কিছু না। বরং বিস্মিত হই এই ভেবে, যে মানুষ ১৯৬৯ সালে চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিল সেই মানুষেরই আজ কেন এই বেহাল দশা। আমার মতে, মহাকাশ অভিযানে আমাদের আরও অনেক এগিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এতোদিনে আমাদের মঙ্গলে থাকার কথা ছিল। আর্থার সি ক্লার্কও কিন্তু ভেবেছিলেন ২০০১ সালের মধ্যে মানুষ মঙ্গলে যেতে শুরু করবে। তার ২০০১: আ স্পেস অডিসি উপন্যাস অন্তত সে কথাই বলে।

মানুষের কৌতুহলের সাথে তুলনা করার মত কিছু নেই। পৃথিবীর তাবৎ অভিযাত্রী আমাদের সে কথা মনে করিয়ে দেয়। জেম্‌স কুক বা রুয়াল আমুনসেনের অভিযানকে কি মহাকাশ অভিযানের সাথে তুলনা করা যায় না? আমার তো মনে হয়, তাদের অভিযাত্রায় আত্মত্যাগটা আমাদের থেকে বেশী ছিল। কারণ তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতেন, আমরা তো পৃথিবীতে বসে কেবল যন্ত্র পাঠাচ্ছি। তারপরও কেন এতো অনীহা?

আমুনসেন দুই মেরুই জয় করেছিলেন। উড়োজাহাজে করে উত্তর মেরু দেখতে বেরিয়েছিলেন আমুনসেন। সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু এই উত্তর মেরুই পরবর্তীতে তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়ায়। সঙ্গীদের খুঁজতে গিয়ে নিজেও নিখোঁজ হন। সেইসব অভিযাত্রীরা আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। আর মহাকাশের প্রতি আমাদের আকর্ষণ তো সেই আদ্যিকাল থেকে। সাগরের চেয়ে পুরনো সেই আকর্ষণ। তারপরও কি পিছিয়ে থাকা মানায়? মার্স সোসাইটির সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে তাই মঙ্গলে উপনিবেশ স্থাপনের পক্ষে আমি। সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহ-উপগ্রহে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপনের প্রস্তাবেও আমি আছি। যেতে না পারি, মানুষের অভিযাত্রার কাহিনী তো অন্তত শুনে যেতে পারব।

এই প্রেরণাই মঙ্গলের প্রতিটি অভিযান নিয়ে আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে। এই প্রেরণাই অভিযাত্রার কথা বলতে বাধ্য করে। আমুনসেনের উত্তর মেরু অভিযান নিয়ে যেমন লেখা হয়েছে, তেমনি ফিনিক্সের উত্তর মেরু অভিযান নিয়ে লিখছি। এই কয় মাস মঙ্গলের উত্তর মেরুতে বসে সে কি কি করল তা-ই লিখব। আর আশা করবো, যেন তার পরিণতি আমুনসেনের মত না হয়।

২৭শে মে

২৭শে মে রোবটিক বাহু দিয়ে খননকাজ শুরু করার কথা ছিল। পরিকল্পনামাফিক পৃথিবী থেকে মার্স রিকনিসন্স অর্বিটারে কমান্ড পাঠানো হল। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সময়মত তা ফিনিক্সে পৌঁছাল না। অগত্যা একদিন নিজ বুদ্ধিতে কাজ করল ফিনিক্স। তার বুদ্ধি খারাপ না। মালিকের কাছ থেকে হুকুম আসেনি দেখে সে ২৬শে মে’র কয়েকটা কমান্ড অনুযায়ী কিছু অতিরিক্ত কাজ করে রাখে। তার অতিরিক্ত কাজ কেবল ছবি তোলা। সেরকম কিছু ছবিই পরদিন অর্বিটারের মাধ্যমে পৃথিবীতে পৌঁছায়।

২৮শে মে

পৃথিবী থেকে কমান্ড পেল ফিনিক্স। হুকুমমাফিক আশপাশের কিছু ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠালো সে। ছবিগুলো বেশ আশাব্যঞ্জক। ফিনিক্স এমন এক স্থানে অবতরণ করেছে যেখানে বহুভুজাকৃতির গর্ত খনন করা খুব একটা কঠিন হবে না। ফিনিক্সের বর্তমান অবস্থান গ্রিন ভ্যালিতে যা উত্তর মেরুর বেশ কাছে। আরও জানা গেল এখানকার মাটি পৃথিবীর পার্মাফ্রস্টের মত। অর্থাৎ পানির ঘনীভবন তাপমাত্রার চেয়েও এখানকার মাটির তাপমাত্রা কম। এই মাটির একটু নিচেই বরফ থাকার কথা।

৩১শে মে

প্রথমবারের মত মঙ্গলের লাল মাটি স্পর্শ করল ফিনিক্সের রোবটিক বাহু। আবেগ থাকলে হয়তো আগে একটু ছুঁয়ে দেখতো। কিন্তু যন্ত্র বলে তেমনটি করেনি। একেবারে গোড়া থেকেই কাজ শুরু করে দিল। মঙ্গলের প্রথম নমুনা সংগৃহীত হল তখনই। মঙ্গলের দিনগুলোকে সল (sol) বলা হয়। ফিনিক্সের মঙ্গলে অবতরণের পঞ্চম সলে ল্যান্ডারের ঠিক নিচের মাটির ছবি তোলা হল। অবতরণের সময় তীব্র বেগে বাতাস নির্গমণের কারণে ল্যান্ডারের নিচে আলগা মাটিগুলো সরে গিয়েছিল। সে কারণেই নিচের স্তরটি ভেসে উঠেছে। অনেকে বললেন, এটাই বরফের স্তর হতে পারে।

১৯শে জুন

রোবটিক বাহুর খনন করা প্রতিটি গর্তের নাম রাখা হয়েছে। একটি গর্তের নাম “ডোডো-গোল্ডিলক্‌স”। এই গর্ত থেকে পাওয়া নমুনায় এক ধরণের উজ্জ্বল বস্তু ছিল যা মাত্র চারদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বাষ্পীভূত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বলেন, কেবল পানি বরফের পক্ষেই এভাবে বাষ্পীভূত হওয়া সম্ভব।

২৪শে জুন

নাসার বিজ্ঞানীরা বেশ তৎপর হয়ে উঠেন। রোবটিক বাহু পরপর তিনটি নমুনা সংগ্রহ করে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষকের কাছে পাঠায়। ২৯তম সলে (২৪শে জুন) মেকা-তে অবস্থিত ওয়েট কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরি নমুনা পায়। সাথে সাথেই কাজ শুরু করে।

২৬শে জুন

ওয়েট কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরির গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়। জানা যায়, মঙ্গলের মাটি সাধারণ ক্ষারীয়, পিএইচ ৮ থেকে ৯ এর মধ্যে। এতে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন আছে। লবণাক্ততা স্বাভাবিক। জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মঙ্গলের মাটির লবণাক্ততা ও পিএইচ মৃদু তথা বিনাইন।

৩১শে জুন

মঙ্গলে পানি বরফের উপস্থিতি নিশ্চিত হল। নাসা থেকে জানানো হল, এর আগে ২০০২ সালে মার্স অডিসি যে পানি বরফের সম্ভাবনার কথা বলেছিল ফিনিক্স তা-ই প্রমাণ করল। এই আবিষ্কারের কৃতিত্ব ফিনিক্সে অবস্থিত “টেগা” নামক যন্ত্রটির। টেগার মধ্যে একটা ভর বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্র আছে। নমুনার তাপমাত্রা বাড়াতে বাড়াতে ০° সেলসিয়াস হওয়ার পরই যন্ত্রে পানি বাষ্পের উপস্থিতি ধরা পরে। মঙ্গলের নিম্ন চাপের কারণেই এত কম তাপমাত্রায় বাষ্পীভূত পানির অস্তিত্ব থাকে। এহেন সংবাদে আর্থলিঙেরা আরও উৎসাহী হয়ে উঠে।

৭ই জুলাই

দ্বিতীয় নমুনাটি ওয়েট কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। প্রথম নমুনার বিশ্লেষণ সফল হয়েছিল। সেই বিশ্লেষণে মঙ্গলের মাটির নিচে পানি বরফের স্তর আবিষ্কৃত হয়।

১০ই জুলাই

প্রথমবারের মত ফিনিক্সের থার্মাল ও কন্ডাক্টিভিটি প্রোব মঙ্গলের মাটি স্পর্শ করেছে। মাত্র ১.৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ কাঁটা মাটিতে ঢুকবে। এর মাধ্যমে মাটির এক স্পাইক থেকে আরেক স্পাইকে কত সহজে তাপ ও তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই মাটির উপরের স্তরে ঘনীভূত বা তরল পানির সূক্ষ্ণ স্তর আছে কি-না তা বোঝা যাবে।

১৬ই জুলাই

পানি বরফ তো ইতোমধ্যে আবিষ্কৃত হয়ে গেছে। এখন এই পানি বরফের উপাদান বিশ্লেষণের জন্য সেরকম একটি নমুনা টেগা-তে পাঠাতে হবে। এরই রিহার্সেল হয়ে গেল। স্নো হোয়াইট গর্তের ভেতর ফুটো করে পানি বরফের স্তরে পৌঁছুল রোবটিক বাহুর র‌্যাস্প। রোবটিক বাহুর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার মাধ্যমে এই প্রাথমিক নমুনার গ্রহণযোগ্যতাও যাচাই করা হয়েছে।

১৭ই জুলাই

ফিনিক্সের সার্ফেস স্টেরিও ইমেজার মঙ্গলপৃষ্ঠের স্টেরিও তথা ত্রিমাত্রিক ছবি তুলেছে। বিজ্ঞানীরা এখন এগুলো নিয়েই গবেষণা করছেন। ইমেজারের ডান ও বাম চোখ থেকে তুলা পৃথক পৃথক ছবিগুলো সমন্বিত করার মাধ্যমেই এই ত্রিমাত্রিক ছবিগুলো তৈরী করা হয়েছে। মোট ১৪টি ছবি পৃথিবীতে পৌঁছেছে। এগুলো দেখার জন্য লাল ও নীল থ্রিডি চশমা লাগে।

২২শে জুলাই

ফিনিক্স সবচেয়ে বেশী সময়ে ধরে একটানা কাজ করল। দীর্ঘ ঘণ্টা একটানা পরীশ্রমের সমাপ্তি ঘটেছে। টেগায় কোন ধরণের নমুনা সরবরাহ করা হবে এবং সেগুলো কিভাবে আনা হবে তা নিয়েই দীর্ঘক্ষণ কাজ করেছে সে।

৩১শে জুলাই

নাসা ঘোষণা করেছে, ফিনিক্সের বর্তমান অভিযান সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত চলবে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ শেষ হলে বিজ্ঞানীরা সেগুলো বিশ্লেষণ শুরু করবেন। বিজ্ঞানীদের আদেশে মঙ্গলের পৃষ্ঠে বসেই ফিনিক্স সে কাজগুলো করে যাবে।

১লা আগস্ট

এভিয়েশন উইকের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসা ফিনিক্সের সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলে জীবনের সম্ভাবনার উপর একটি নতুন ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বলে হোয়াইট হাউজকে জানিয়েছে। এই সংবাদকে কেন্দ্র করে মঙ্গলে প্রাণ আবিষ্কার নিয়ে নতুন করে কানাঘুষা শুরু হয়। অনেকে বলে, মঙ্গলে নাকি পারক্লোরেট পাওয়া গেছে এবং এ কারণেই সেখানে কোন জীব বেঁচে থাকতে পারবে না। নাসা এই সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাই মঙ্গলে উপনিবেশ স্থাপনের আশা এখনও জেগে আছে।

৫ই আগস্ট

মঙ্গলের মাটিতে পারক্লোরেট পাওয়া গেছে। অনেকে গুজব ছড়িয়েছে যে, পারক্লোরেট থাকলে সেখানে জীবনের বিস্তার অসম্ভব। কিন্তু নাসা বলছে, পারক্লোরেট থাকাটা জীবনের জন্য ভালও নয় আবার খারাপও নয়। কিন্তু পারক্লোরেট থাকা মানে মঙ্গলের জীবন নিয়ে আমাদের অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে।
পারক্লোরেট একটি আয়ন। কেন্দ্রে একটি ক্লোরিন আয়ন এবং তার চারদিকে চারটি অক্সিজেন আয়ন নিয়ে এই আয়ন গঠিত। এটা জারক অর্থাৎ অক্সিজেন মুক্ত দান করতে পারে। পৃথিবীতে আতাকামার মত মরু অঞ্চলে এই আয়ন পাওয়া যায়। সাধারণ অবস্থায় তা অণুজীবের কোন ক্ষতি করে না। মাঝে মাঝে কিছু অণুজীবের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহায়তাও করে। মঙ্গলে কি পরিমাণ পারক্লোরেট আছে তা-ই এখানে বিবেচ্য বিষয়।

১৪ই আগস্ট

ফিনিক্সের অণুবীক্ষণ যন্ত্র মঙ্গলের সর্বব্যাপী ধূলির কেবল একটি কণার সূক্ষ্ণ ছবি তুলেছে। এ ধরণের ছবি ইতিহাসে এটাই প্রথম। কলাটির ব্যাস মাত্র ১ মাইক্রোমিটার। অন্য কোন বিশ্ব থেকে তোলা মঙ্গলের সবচেয়ে সূক্ষ্ণ ছবি এটাই। উল্লেখ্য, এই ধূলিকণাই মঙ্গলকে তার অনন্য লাল রঙ প্রদান করে। এবার এই লাল নিয়ে গবেষণা চলবে।

২১শে আগস্ট

মাঝামাঝি গভীরতা থেকে একটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তা ফিনিক্সের গবেষণাগারে পাঠানোও হয়েছে। “বার্ন অ্যালাইভ ৩” নামক গর্ত থেকে সংগৃহীত এই নমুনার নাম “বার্নিং কোল্‌স”। মঙ্গল পৃষ্ঠের তিন সেন্টিমিটার নিচ এবং এরও নিচে অবস্থিত পানি বরফ স্তরের এক সেন্টিমিটার উপর থেকে এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। টেগার ৭ নম্বর প্রকোষ্ঠে রাখা নমুনাকে তিন পর্যায়ে উত্তপ্ত করা হচ্ছে। প্রথমে নিম্ন তাপমাত্রায় (৩৫° সে), পরে মধ্যম তাপমাত্রায় (১২৫° সে) এবং সবশেষে উচ্চ তাপমাত্রায় (১০০০° সে)।
নিম্ন তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে পানি বরফ আছে কি-না দেখা হবে, মধ্যম তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করার মাধ্যমে নমুনাটিকে সম্পূর্ণ শুষ্ক করে ফেলা হবে। আর উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করার পর প্রাপ্ত গ্যাসকে ভর বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রে প্রেরণের মাধ্যমে নমুনার উপাদান বিশ্লেষণ করা হবে।

২৫শে আগস্ট

অবতরণের পর ৯০ সল তথা মঙ্গলের ৯০টি দিন পেরিয়ে গেছে। নমুনা সংগ্রহের কাজ এখনও চলছে। বিজ্ঞানীদের মূল উদ্দেশ্য মঙ্গলের উত্তর মেরু অঞ্চল বসবাসযোগ্য হতে পারে কি-না তা খতিয়ে দেখা। ইতোমধ্যে মাটিতে পানি বরফ পাওয়া গেছে। জানা গেছে মঙ্গলের মাটি ক্ষারীয়, এতে ক্ষার ধাতুর আয়নও পাওয়া গেছে। আর পাওয়া গেছে পারক্লোরেট। আবহাওয়াবিজ্ঞান স্টেশন তার কাজে সফল হয়েছে। পানি বরফের মেঘের সন্ধান পাওয়া গেছে, তাপমাত্রা নিরীক্ষণের মাধ্যমে ঋতু পরিবর্তনের উপর নহর রাখা হয়েছে।
মেকাতে রাখা নমুনা বাষ্পীভূত করার পর সে গ্যাস ভর বর্ণালীবীক্ষন যন্ত্রে প্রেরণের সময় একটু সমস্যা হচ্ছে। গ্যাসের চলাচলের পথে কিছু একটা ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা একটু বিস্মিত। তবে অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে।

১লা সেপ্টেম্বর

মঙ্গলে এ পর্যন্ত খননকৃত সবচেয়ে গভীর গর্তের নাম “স্টোন স্যুপ”। এই গর্ত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নমুনা মাটি সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে কোন পানি বরফের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সাথে ধারাবাহিকভাবে তোলা মঙ্গলের বাতাসের ১০টি ছবি সংযোজনের মাধ্যমে একটি মুভি তৈরী করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে আকাশে মেঘের চলাচল। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই মেঘের মধ্যে জলীয় বরফ আছে।

৪ঠা সেপ্টেম্বর

ফিনিক্সের পরিবাহিতা প্রোবটা কাঁটার মত। এই প্রোব দিয়ে ল্যান্ডারের আশেপাশের আর্দ্রতা কম-বেশী হতে দেখা যায়। কিন্তু মাটিতে গেঁথে রাখা প্রোবের হিসাবে দেখা যায়, মঙ্গলের মাটি সম্পূর্ণ শুষ্ক। নাসা এমিস রিসার্চ সেন্টারের গবেষক অ্যারন জেন্ট এর ব্যাখ্যা দেন এভাবে: যে বাতাসে জলীয় বাষ্প আছে সে বাতাসের সংস্পর্শে থাকা সকল তলের সাথেই কিছু চলমান পানির অণু সেঁটে থাকে। এমনকি ০° সেলসিয়াসের চেয়ে কম তাপমাত্রায়ও এই অণুগুলো থাকতে পারে।
পৃথিবীতে পার্মাফ্রস্ট বিশিষ্ট অঞ্চলে এই সেঁটে থাকা পানির অণুগুলো একটি স্তর সৃষ্টি করে যা জীবন বিস্তারের জন্যও সহায়ক হতে পারে। মঙ্গলেও এ ধরণের স্তর আছে কি-না তা পরীক্ষা করা দেখা শুরু হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়ে বাতাসে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকা সত্ত্বেও মাটির উপর কোনরকম আর্দ্র স্তরের সাক্ষাৎ মিলছে না। গবেষণা চলছেই।

৮ই সেপ্টেম্বর

ফিনিক্সের ক্যামেরায় ধূলি দানব ধরা পড়ে। ইংরেজিতে এদের নাম ডাস্ট ডেভিল। এগুলো প্রায় ২ মিটার থেকে ৫ মিটার ব্যাসের ঘূর্ণিবায়ু। সেকেন্ডে ৫ মিটার বেগে চলাচল করে। পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা অনেক দিন থেকেই ধূলি দানবের আশায় বসেছিল। এই সংবাদ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় পরদিন। অবশ্য এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ফিনিক্সের কারিগরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন স্পেস সিস্টেম্‌স বলেছে, ধূলি দানবের কথা মাথায় রেখেই ফিনিক্সকে তৈরী করা হয়েছে।
ধূলি দানব তৈরী হওয়ার কারণ দিন ও রাতের তাপমাত্রার বিশাল পার্থক্য। ফিনিক্স যেখানে আছে সেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা “- ৩০°” সেলসিয়াস আর রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা “- ৯০°” সেলসিয়াস।

৯ই সেপ্টেম্বর

রোবটিক বাহুর খনন করা একটা গর্তের নাম “স্নো হোয়াইট”। এই গর্ত থেকে সংগৃহীত নমুনা ওয়েট কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরির চারটি প্রকোষ্ঠের শেষটিতে পাঠানো হয়েছে। জুলাই মাসে এই গর্ত থেকে পাওয়া নমুনাতেই টেগা পানি বরফ সনাক্ত করেছিল।
টেগাতে মোট আটটি ওভেন আছে যার মধ্যে চারটিতে নমুনা পুরে দেয়া হয়েছে। নাসার বিজ্ঞানীরা ভাবছেন বাকি চারটি ওভেনে একই সাথে নমুনা দিয়ে দেবেন। আগে একটি নমুনা বিশ্লেষণ শেষ হওয়ার পরই কেবল অন্য ওভেনে নমুনা দেয়া হতো। এটা করা হচ্ছে খনন করার মত শক্তি থাকতে থাকতেই নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষ করে ফেলার জন্য। সূর্য ইদানিং সবসময় দিগন্তে থাকে না। এ কারণেই মে মাসের তুলনায় ফিনিক্সে শক্তি উৎপাদনের মাত্রা কমে গেছে।

পরিশেষে বলা যায়, এ পর্যন্ত ফিনিক্সের অভিযান সফল। প্রধান লক্ষ্য ছিল মঙ্গলের উত্তর মেরুতে মাটির সামান্য নিচে পানি বরফের স্তর আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা। সে উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। পারক্লোরেট আবিষ্কার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। মঙ্গলের ধূলিকণার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। মাটি কি উপাদান দিয়ে গঠিত এবং মাটির নিচের স্তরে যে পানি বরফ আছে তার মধ্যে কি কি আছে সেগুলোও আবিষ্কার করা হয়েছে। ওয়েট মেকা আর টেগা যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই অভিযান এতো সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পেরেছে। আর বেশিদিন নেই। সব ঠিক থাকলে এ মাসের ৩০ তারিখ সব কাজ শেষ করে কক্ষপথে মূল নভোযানের সাথে মিলিত হবে ফিনিক্স। তারপর নতুন কোন অভিযান নিয়ে আবার মঙ্গলের মাটিতে ফিরে আসবে হয়ত।

মঙ্গলের মাটিকে এখন আর ততটা রহস্যময় মনে হচ্ছে না। অনেক আগে আমরা মঙ্গল নিয়ে কল্পবিজ্ঞান রচনা করতাম। অনেকে মঙ্গলবাসীর কল্পনা করতেন। মঙ্গলের রূপ দেখে যারপরনাই হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু সেই পাথফাইন্ডার থেকে শুরু করে আজকের ফিনিক্স পর্যন্ত, প্রতিটি অভিযানই জনমনে ছাপ ফেলতে পেরেছে। পাথফাইন্ডারের জনপ্রিয়তা অবশ্যই সবচেয়ে বেশী ছিল, ফার্স্ট অফ আ কাইন্ড বলে কথা। এখন আমরা সবাই আশা করতে পারি, ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযান আরও অনেক সমৃদ্ধ হবে, তাতে মঙ্গলকে বাসযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনাও থাকবে।

আমি সেদিনের কথা ভাবছি, যেদিন মঙ্গলে একটি বেতার জ্যোতির্বিজ্ঞান মামন্দির স্থাপন করা হবে। সেই মানমন্দিরের মাধ্যমে একযোগে পৃথিবী, চাঁদ ও মঙ্গল থেকে বহির্জাগতিক প্রাণের সন্ধান পরিচালিত হবে। এটা হতেই হবে। কারণ বিশাল বিরান এই মহাবিশ্বে বড্ড একা একা লাগছে। নিঃসঙ্গতাকে ছাপিয়ে উঠছে যুক্তি। বারবার মনে হচ্ছে, বহির্জাগতিক প্রাণ না থেকে পারেই না। যদি আদৌ না থাকে, তাহলে তাকে বলতে হবে স্থানের ভয়ানক অপব্যবহার।

No comments yet

Leave a Reply

Note: You can use basic XHTML in your comments. Your email address will never be published.

Subscribe to this comment feed via RSS