সময়
সময় কি? এই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কি ঝামেলাই না পোহাতে হচ্ছে বিজ্ঞানীদের। সেই ১৯২৭ সালেই আর্থার এডিংটন সময়ের তীর শব্দের প্রচলন করেছিলেন। তারপর থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের মাধ্যমে সময়ের অনেক ব্যাখ্যাই দাড় করানো হয়েছে। কিন্তু কোনটাই বিজ্ঞানী মহলের সার্বিক সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেনি। অনেকে বলেন, গত ২০ বছরে এই বিষয়ে তেমন কোন অগ্রগতিই হয়নি। অর্থাৎ বলার মত নতুন কিছু বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।
তাই বলে একদম ব্যর্থ বলা যাবে না আমাদেরকে। সময়কে অন্তত কিছুটা হলেও ব্যাখ্যা করতে পেরেছি আমরা। অনেকে বলেন, সময় একটা একমুখী রাস্তা ছাড়া কিছুই না। খুব সাধারণ উদাহরণ দিলে বলতে হয়, আপনার দাদা কখনও আপনার চেয়ে ছোট হতে পারে না। এমনই সেই রাস্তা যা দিয়ে কেবল সামনেই যাওয়া যায়, পেছনে যাবার কোন উপায় নেই। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রগুলো এই ব্যাখ্যার সাথে ঠিক মেলে না। কারণ এই বিজ্ঞানের প্রায় সব তত্ত্বই সময়ের সাপেক্ষে প্রতিসম। অন্য কথায়, তারা সময়ের দিকের উপর নির্ভর করে না। এ কারণেই পদার্থবিজ্ঞান বলে, অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সবই একসাথে অস্তিত্বশীল। বলা খুব সোজা, কিন্তু এর সাথে মিল রেখে একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা অনেক কঠিন। বিজ্ঞানীরা কখনও মনোবিজ্ঞান আবার কখনও বা ভৌত বিজ্ঞানের আশ্রয় নিয়েছেন এই সমস্যার সমাধান করার জন্য। মনোবিজ্ঞানের আশ্রয় নিয়ে বলেছেন, সময়ের প্রবাহ এক ধরণের ভ্রম। আবার ভৌত বিজ্ঞানের পটভূমিতে বলেছেন, কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের কিছু অজানা বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই এর সমাধান লুকিয়ে আছে।
সময়কে তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করার প্রথম কৃতিত্ব আর্থার এডিংটনের। ১৯২৭ সালে তিনি তো “সময়ের তীর” শব্দের প্রচলন করেছিলেনই, এর পাশাপাশি তীরটিকে এনট্রপির সাথে একীভূত করেছিলেন। সময়ের এনট্রপিকেন্দ্রিক ব্যাখ্যাটা হল: তাপগতিবিজ্ঞানের দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে মহাবিশ্বের বয়স যতই বাড়ছে তাতে বিশৃঙ্খলার পরিমাণও তত বাড়ছে। কিন্তু অতীত কেন ভবিষ্যতের চেয়ে কম বিশৃঙ্খল হবে তা কোন বিজ্ঞানীই ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন বিশ্বতত্ত্বের অনেক কিছু্কেই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। যেমন মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ আমাদের জানিয়ে দেয়, জন্মের ৩৮০,০০০ বছর পর মহাবিশ্ব সমভাবে বণ্টিত অতি উত্তপ্ত গ্যাসে ভরা ছিল। সেই অবস্থা থেকে হঠাৎ করে তা স্ফীত হতে শুরু করে। স্ফীতির সাথে সাথে এর বিশৃঙ্খলাও বাড়তে থাকে। কিন্তু আদি মহাবিশ্ব কেন এত সমসত্ত্ব ছিল, বাস্তবে তো তা হওয়ার কথা না। কিংবা মহাবিশ্ব কেন এমনই ছিল, অন্যরকমও তো থাকতে পারতো, অন্য কিছুও তো ঘটতে পারতো।
তার উপর এখন আবার মহাবিশ্বের ত্বরণ ঘটছে। একে স্ফীতির দ্বিতীয় পর্যায় বলা যেতে পারে। অর্থাৎ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে “গুপ্ত শক্তি” নামক এক তাত্ত্বিক শক্তিকে। ভাব দেখে মনে হচ্ছে মহাবিশ্ব এভাবে সম্প্রসারিত হতেই থাকবে এবং একসময় শীতল হয়ে তাপীয় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।
২০০৭ সালের অক্টোবরে নিউ ইয়র্ক একাডেমি অফ সাইন্সে সময় নিয় একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে প্রভাবশালী সব বিশ্বতত্ত্ববিদই এতে যোগ দেন। মতামত নিয়ে দেখা যায়, অনেকেই সময় সমস্যার সমাধানের জন্য বহুবিশ্বের ধারণাকে সমর্থন করেন। তারা মনে করেন, এটাই একমাত্র সম্ভাব্য সমাধান। আসলেই তাই। আদি মহাবিশ্ব কেন এতো সুষম ছিল, বহুবিশ্ব মেনে নিলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কারণ এই তত্ত্বে বলা হয়, আমাদের মহাবিশ্ব অসংখ্য মহাবিশ্বের একটি মাত্র। সম্ভাব্য সকল গড়নেই মহাবিশ্ব গঠিত হতে পারে। এর মধ্যে যেগুলো সমসত্ত্ব বা সুষম অবস্থা দিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারে সেগুলোতেই কেবল বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে। যেমন, আমাদেরটিতে ঘটেছে।
তাই বহুবিশ্ব মেনে নিলে আমাদের মহাবিশ্বে অতীত কেন সুষম আর ভবিষ্যৎ কেন বিশৃঙ্খল তা বোঝা যায়। কিন্তু এমন অনেক মহাবিশ্ব থাকতে পারে, যেখানে ভবিষ্যৎই সুষম আর অতীত বিশৃঙ্খল। এভাবে অতীত, ভবিষ্যৎ, সুষম বা সুশৃঙ্খল এই চারটির বিভিন্ন শতাংশের বিন্যাস-সমাবেশের মাধ্যমে যত ধরণের ফল পাওয়া যায় তত ধরণের মহাবিশ্বই থাকতে পারে। এমন মহাবিশ্বও থাকতে পারে যেখানে সময় সামনের দিকে না গিয়ে বরং পেছনের দিকে ধাবিত হয়। এভাবে সময় বোঝার পর, গাণিতিক মডেল দাড় করাতে পারলে আমরা বিশ্বতত্ত্ব ও পদার্থবিজ্ঞানের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারব। যেমন: অনন্য বিন্দুর (সিঙ্গুলারিটি) মধ্যে কি ঘটে, মহাবিশ্বের স্ফীতি কি কখনও উল্টো দিকে ধাবিত হতে পারে ইত্যাদি। তাই সময়ের রহস্য সমাধানের জন্য আমাদেরকে সময়ের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
এইসব আজেবাজে জিনিস তুমি কেন লিখতাছো, বুঝতাছি না। এর চাইতে মসজিদে আসো, নিয়মিত নামাজ পড়। আল্লাহ অবশ্যই তুমারে হেদায়েত করবো।
See this clip comparing Islam and Christianity in this link:
english.islamway.com/flashes/2/islamvschrist.swf
Good Luck!
too much poitali