ডারউইনের বিগল যাত্রা

দ্বিজেন শর্মা তার “ডারউইনঃ বিগ্‌ল্‌-যাত্রীর ভ্রমণকথা” বইয়ের ভূমিকায় বলেছেন:

শতাধিক বছর আগের এই ভ্রমণকাহিনী পাঠকসমক্ষে হাজির করার জন্য কিছু একটা যৌক্তিকতা দেখানো আবশ্যক মনে করি। The Voyage of the Beagle কোন মামুলি ভ্রমণবৃত্তান্ত নয়, একটি বৈজ্ঞানিক সন্ধান-সফর, যার ফলে সৌখিন প্রকৃতিপ্রেমী তরুণ চার্লস ডারউইন শেষ পর্যন্ত পাকাপোক্ত বিজ্ঞানী হয়ে ওঠেন। বিগ্‌ল্‌-যাত্রীর এই রোজনামচা পাঠ ব্যতীত ডারউইন-পাঠ সম্পূর্ণ হওয়ার নয়। এই ধরণের সফরে কতোটা সাহস, ধৈর্য্য ও শ্রম বিনিয়োগ এবং অনুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ আবশ্যক, কা সর্বকালের শিক্ষণীয় বিষয়। বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্যের অনবদ্য বর্ণনা এবং নানা দেশের তৎকালীন সামাজিক অবস্থার আকৃষ্টকর উপস্থাপনাও বইটির অতিরিক্ত সম্পদ। বিজ্ঞান আর সাহিত্যের মিশেল হিসেবেও কাহিনীটি মূল্যবান।

বিগলের কারিগরী চিত্রকর কনরাড মার্টেন্সের আঁকা জলরঙ চিত্র। এখানে দেখানো হয়েছে, বিগল জাহাজটি টিয়েরা ডেল ফুয়েগোতে জরীপ চালাচ্ছে।

বিগলের কারিগরী চিত্রকর কনরাড মার্টেন্সের আঁকা জলরঙ চিত্র। এখানে দেখানো হয়েছে, বিগল জাহাজটি টিয়েরা ডেল ফুয়েগোতে জরীপ চালাচ্ছে।


আরো পড়ুন »

লুনার রিকনিসন্স অর্বিটার

রোমান্টিক সাহিত্যের সাবজেক্ট থেকে চাঁদ এখন আমাদের ঔপনিবেশিক সাবজেক্টে পরিণত হয়েছে। চাঁদ নিয়ে গবেষণা তো হচ্ছেই, সেই সাথে চাঁদে বসে গবেষণারও চেষ্টা চলছে। তবে এই গোলগাল অপার্থিব বস্তুটাকে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে সাহিত্যই বড় ভূমিকা রেখেছে। সাহিত্য বলতে অবশ্যই এখানে কল্পবিজ্ঞান বুঝতে হবে। সবচেয়ে চমৎকার বোধহয় কেপলারের লেখা কল্পবিজ্ঞান গল্পটি যেখানে দেখানো হয়েছিল এক ডাইনি বুড়ি চন্দ্রগ্রহণের সময় ছায়া বেয়ে পৃথিবী থেকে চাঁদে চলে গেছে। তবে উনবিংশ শতকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন ছিল জুল ভার্নের ফ্রম আর্থ টু দ্য মুন। আরো পড়ুন »

৫১ পেগাসি বি নিয়ে লিখতে চাচ্ছিলাম

মহাবিশ্বে যদি পৃথিবীর মত আর একটি গ্রহও না থাকে তাহলে সেটাকে বলতে হবে স্থানের বিশাল অপব্যবহার- অবশ্য যদি কেউ ব্যবহারকারীর কথা না ভেবেই ব্যবহার শব্দটি ব্যবহার করতে চান। আর যদি পৃথিবীর মত গ্রহ থাকে তাহলেও সেখানে বুদ্ধিমান প্রাণ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী না। কারণ সেই বুদ্ধিমানকে আমাদের সাথে ফেইজে থাকতে হবে। out of phase এ থাকার সম্ভাবনাই কিন্তু বেশী। আউট অভ ফেইজ বাক্যটি আমি চয়ন করি নাই, প্রখ্যাত গ্রহ শিকারী অ্যালান বস এক টিভি বক্তৃতায় বলেছিলেন, অধিকাংশ বুদ্ধিমানেরাই হয়ত আমাদের সাথে আউট অভ ফেইজে আছে। এই আউট অভ ফেইজ বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যাক- আরো পড়ুন »

অ্যালান বসের সাক্ষাৎকার

অ্যালান বসের সাথে প্রথম পরিচয় হিস্টরি চ্যানেলের ডকুমেন্টারি সিরিজ “দি ইউনিভার্স” এর মাধ্যমে। সিরিজের “এলিয়েন প্ল্যানেটস” পর্বে প্রথম দেখি। গ্রহ শিকারী হিসেবে অ্যালান বসের সমকক্ষ বিজ্ঞানী যে পৃথিবীতে খুব বেশী নেই সেটা না বললেও চলে। সম্প্রতি আবার শুনলাম, কেপলার মিশনে কাজ করছেন তিনি। কেপলার মিশনের মাধ্যমে অচিরেই আশাকরি আমাদের আবিষ্কৃত বহির্গ্রহের সংখ্যা ২০০ থেকে বেড়ে ২০০০ হয়ে যাবে। আরো পড়ুন »

ফিনিক্সের মঙ্গল অভিযান

মঙ্গলে অবতরণ

২০০৮ সালের ২৫শে মে, রোজ সোমবার, ইউটিসি সময় ২৩:৪৬; মঙ্গল পৃষ্ঠে আলতোভাবে অবতরণ করলো ফিনিক্স ল্যান্ডার। বাংলাদেশ সময় ধরলে ২৬শে মে সকাল ৫:৪৬-এর ঘটনা এটা। ১৯৯৭ সালে মার্স পাথফাইন্ডার যখন মঙ্গলে অবতরণ করে তখনই সাধারণ্যে বিপুল উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ পাথফাইন্ডার মঙ্গলের সুন্দর সুন্দর ছবি পাঠাচ্ছিল। ফিনিক্স সেই পাথফাইন্ডার থেকে অনেক অনেক সমৃদ্ধ। আরো পড়ুন »

ডারউইন দিবসের প্রস্তুতি

১২ই ফেব্রুয়ারি এসে যাচ্ছে। এবারের ১২ই ফেব্রুয়ারিকে একটু অন্যভাবে পালন করা হচ্ছে। এখানে অন্যভাবে বলতে কিন্তু উৎকর্ষ বুঝাচ্ছি। ডারউইন ও তার বিবর্তনবাদ নিয়ে এবার যত প্রচারণা হচ্ছে এবং হবে অতীতে কখনই এমনটি হয়নি। কারণ আমাদের সবারই জানা। এবারের ১২ই ফেব্রুয়ারি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের ২০০তম জন্মবার্ষিকী এবং তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ “অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস” এর ১৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এবারের ডারউইন দিবস তাই রীতিমত আরাধ্যের বিষয়। তবে ডারউইনবাদীরা অবশ্যই ডারউইন বা বিবর্তনবাদকে আরাধনা করেন না। আরাধনা করলে তো আর বিজ্ঞানী থাকা যায় না। যে কোন বিষয়ে সংশয় পোষণ এবং অপেক্ষাকৃত ভাল তত্ত্ব দিয়ে সেটাকে প্রতিস্থাপিত করা মানেই তো বিজ্ঞান। আরো পড়ুন »

বহির্জাগতিক প্রাণের সন্ধানে আরও এক ধাপ

উপরে মাউস নিলে এটা দেখা যাবেবেশিদিন আগের কথা না। এই ২০০৫ সালের ৫ই অক্টোবর আমাদের থেকে ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এক তারার চারপাশে ঘূর্ণনরত একটি গ্রহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তারাটির নাম ছিল এইচডি ১৮৯৭৩৩। তারার সঙ্গী গ্রহগুলোর নাম যে নিয়মে রাখা হয় সেই নিয়ম মেনেই এই গ্রহের নাম রাখা হয়েছিল এইচডি ১৮৯৭৩৩ বি

এই তারার একটি বিশেষ গুণ ছিল। গুণ না বলে বিশিষ্টতা বলা যায়। প্রথম যে দুটি গ্রহকে সরাসরি বর্ণালিবীক্ষণের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল তার মধ্যে এটি একটি। আরো পড়ুন »

সভ্যতা শুরুর আগে

মূল গ্রন্থ: Guns, Germs and Steel: The Fates of Human Societies
লেখক: Jared Diamond
অধ্যায় ১: Up to the starting line (সভ্যতা শুরুর আগে)

বিভিন্ন মহাদেশে ঐতিহাসিক উন্নতি সমান তালে ঘটেনি। মোটামুটি খ্রিস্টপূর্ব ১১,০০০ অব্দকে মহাদেশগুলোর এই ঐতিহাসিক উন্নয়নের তুলনা করার জন্য উপযুক্ত বছর হিসেবে বেছে নেয়া যায়। এই সময় থেকেই বিশ্বের কিছু অংশে গ্রামীণ জীবনের উদ্ভব ঘটে, আমেরিকায় প্রথমবারের মত মানব বসতি স্থাপিত হয়, প্লাইস্টোসিন ও শেষ বরফ যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং ভূতত্ত্ববিদরা যে যুগকে “সাম্প্রতিক যুগ” বলে অভিহিত করেন সে যুগের সূচনা ঘটে। এই বছরের আনুমানিক কয়েক হাজার বছরের মধ্যে বিশ্বের কিছু অংশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর লালন-পালন শুরু হয়। অর্থাৎ তখন থেকে আমরা গৃহপালিত উদ্ভিদ ও প্রাণী পেতে শুরু করি। এমন কি হতে পারে, সেই ১১,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দেই কিছু মহাদেশ অন্য মহাদেশের তুলনায় এগিয়ে ছিল? সেক্ষেত্রে প্রশ্ন করতে হয়, শুরুতেই কি কেউ অন্যদের তুলনায় বেশী সুবিধা ভোগ করেছিল? আরো পড়ুন »

আইইউটি’র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং – ২

বিটিসিএল এ প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা থেকেই বিজ্ঞানপুরীতে একটা ব্লগ লিখে ফেলেছিলাম। দ্বিতীয় দিনের অভিজ্ঞতা প্রথম দিনের চেয়ে ভালো ছিলো। কারণ টেকনিকেল জিনিসের পাশাপাশি ব্যবসায়র হাল হকিকতও কিছু জেনেছিলাম। এ নিয়ে সচলায়তনে লিখলাম। কিছু জিনিসে গোলমাল ছিল, সেগুলোও পরিষ্কার হয়ে গেল। তৃতীয় দিন তুলনামূলক খারাপ কেটেছে। তবে চতুর্থ দিন অর্থাৎ আজকের দিনটা ছিল সবচেয়ে ভালো। কোন দিন কি দেখলাম সেটাই প্রথমে বলে ফেলি আরো পড়ুন »

আইইউটি’র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং – ১

আইইউটিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জানি থার্ড ইয়ার শেষে একটা এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং হয়। পরে এ সম্বন্ধে আরও অনেক কিছু জেনেছি। বড় ভাইরা বলেন, এই সময় নাকি সেই রকম মজা হয়, বিশেষত ঘোড়াশালের এক সপ্তাহ। কয়েকদিন আগে আইইউটি থেকে এবার পাশ করে যাওয়া আমাদের কলেজের (মির্জাপুর) বড় ভাইদের ফেয়ারওয়েল দিতে গিয়ে শুনলাম, তিন বছর আইইউটি নিয়ে কোন ফিলিংস না হলেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং শেষে নাকি মনে হয়, আইইউটিতে আর মাত্র এক বছর আছি। তখন নাকি খারাপ লাগা শুরু হয়। তাই অনেক দিক দিয়েই ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং আইইউটিয়ানদের কাছে অনন্য। আরো পড়ুন »