ভার্টিগো: রজার ইবার্টের রিভিউ

“Did he train you? Did he rehearse you? Did he tell you what to do and what to say?”

আহত ও বেদনার্ত একটি চরিত্রের মুখে সিনেমার একেবারে শেষদিকে এই কথাগুলো শোনা যায়। ততক্ষণে আমরা চরিত্রটির প্রতি পুরোপুরি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েছি। সে এমন এক নারীর প্রেমে পড়েছে যার কোন অস্তিত্ব নেই, এবং এই অস্তিত্বহীনাকে যে অস্তিত্ব দিয়েছিল সেই বাস্তব নারীর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েই সে কথাগুলো বলছে। কিন্তু কাহিনী আরও স্পর্শকাতর। বাস্তবের নারীটি তার প্রেমে পড়ে গেছে, তাকে ফাঁদে ফেলতে গিয়ে নিজেই ফাঁদে পড়ে গেছে। আর পুরুষটি নিজের স্বপ্নকে রক্তমাংসের একজনের উপরে স্থান দিতে গিয়ে দুটোই হারিয়েছে।

এর উপরে আছে আরেক স্তর। আলফ্রেড হিচকক ইতিহাসের সবচেয়ে নিয়ন্ত্রণকাতর চলচ্চিত্রকারদের একজন, বিশেষ করে নারী চরিত্রগুলোর প্রতি। তার সব সিনেমাতেই ঘুরেফিরে নারী চরিত্রগুলোর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে: তাদের চুল সোনালী, তারা বরফ শীতল ও দূর দ্বীপবাসিনী, তারা এমন কিছু পোশাকের কারাগারে বন্দী যা কেতাদুরস্ত এবং বিশেষ করে কামনাব্যঞ্জক, তারা পুরুষদের পুরোপুরি সম্মোহিত করে ফেলে যে পুরুষদের আবার অধিকাংশ সময়ই কোন শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা থাকে, এবং এক সময় না এক সময় অবশ্যই হিচকক নারীরা লাঞ্ছিত হয়।

ভার্টিগো (১৯৫৮) হিচককের করা সেরা দুই বা তিনটি সিনেমার একটি এবং নিঃসন্দেহে এটিই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্বীকারোক্তিমূলক সিনেমা। কারণ তার আর্টকে যে বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতো সেগুলো নিয়ে এখানে খুব খোলাসাভাবে কাজ করেছেন। হিচকক কিভাবে নারীদের ব্যবহার, ভয় ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতেন তা নিয়ে ভার্টিগো। তার প্রতিনিধিত্ব করে স্কটি (জেমস স্টুয়ার্ট) যার মানসিক ও শারীরিক দুই দুর্বলতাই রয়েছে, যে একটি নারীর ছবিকে ভালবেসে ঘোরের মধ্যে পড়ে গেছে, যেন তেন নারী নয়, একেবারে হিচকক নারী। যখন সে তাকে পায় না তখন অন্য এক নারীকে তার মত পোশাক-মেকআপ পড়িয়ে, চুল রাঙিয়ে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে এমন রূপ দেয়ার চেষ্টা করে যাতে তাকে হুবহু সেই রমণীর মত লাগে। এই পুতুল নারীর প্রতি তার কোন দয়া নেই, তাকে সে একটুও গ্রাহ্য করে না, নিজের স্বপ্নের বেদিতে তাকে অনায়াসে উৎসর্গ করতে পারে।

কিন্তু অবশ্যই যে নারীকে সে রচনা করছে এবং যাকে সে কামনা করে তারা একই। মেয়েটির নাম জুডি (কিম নোভাক); তাকে স্বপ্নের নারী, অর্থাৎ ম্যাডেলিনের ভূমিকায় অভিনয় করতে ভাড়া করা হয়েছিল এমন একটি খুনের মঞ্চ সাজানোর জন্য যা সম্পর্কে স্কটির মনে একটুও সন্দেহ জাগেনি। ভয়ংকর ফাঁদের শিকার হওয়ার বিষয়টি জানার পর সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, যদিও সব হিচকক পুরুষের মতোই তার মধ্যে কেবল এক ধরণের সুশীতল উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশই ঘটে। সে চিৎকার করে বলে: “Did he train you?…”- প্রতিটি অক্ষর তার হৃদয়ে একেকটি ছুরিকাঘাত, তারপরও পুরো কথাটা বের না করে থাকতে পারে না- সে যে নারীর আদলে জুডিকে গড়ে তুলতে চাচ্ছিল সেই স্বপ্নের নারীই আরেকজন পুরুষের সৃষ্টি। সেই পুরুষ কেবল স্কটির নারীই কেড়ে নেয়েনি, তার স্বপ্নও কেড়ে নিয়েছে।

এটা ভার্টিগোর একেবারে কেন্দ্রে একটি নৈতিক আপাতস্ববিরোধিতার জন্ম দেয়। অন্য পুরুষটি অর্থাৎ গেভিন (টম হেলমোর) এই নারীর প্রতি যা করেছে সে নিজেই তো তা করতে চেয়েছিল। এই পুতুল খেলার মধ্যবিরতিতে মেয়েটি গেভিনের বদলে স্কটির প্রতি অনুগত হয়ে পড়ে, এবং শেষদিকে টাকার জন্য নয় বরং ভালবাসার জন্য অভিনয় করতে থাকে।

এই সব সুতো একত্রিত হয় হিচককের চলচ্চিত্র জীবনের সেরা দৃশ্যে। স্যান ফ্রান্সিস্কো পুলিশ বিভাগের প্রাক্তন গোয়েন্দা স্কটিকে তার বন্ধু গেভিন ভাড়া করেছিল তার স্ত্রী ম্যাডেলিনকে অনুসরণ করার জন্য। তা করতে গিয়ে স্কটি মেয়েটির প্রতি ভয়ানক আসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর মনে হয় ম্যাডেলিন মারা গেছে। এ আপাত মৃত্যুর পর একদিন কাকতালীয়ভাবে স্কটি জুডিকে দেখে; সে দেখতে ম্যাডেলিনের মত, যেন তার আরও কামনাময়ী ও স্বল্প মার্জিত একটি সংস্করণ। অবশ্যই সে বুঝতে পারে না যে দুজন একই নারী। সে তাকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানায় এবং জুডি বেশ অপরিণামদর্শীর মতই রাজি হয়ে যায়। তাদের স্বল্পস্থায়ী অদ্ভূত ও আড়ম্বরপূর্ণ অভিসারের সময় মেয়েটি স্কটির প্রতি করুণা ও মায়া অনুভব করে। সুতরাং স্কটি যখন তাকে ম্যাডেলিনের মত করে সাজানোর প্রস্তাব দেয়ে তখন আহত হলেও দ্বিতীয়বারের মত একই চরিত্রে অভিনয় করতে সম্মত হয়।

সেরা দৃশ্যটি ঘটে হোটেলের ঘরে, নিয়ন আলোর আবেশে। জুডি পার্লার থেকে ঘরটিতে ফিরে আসে। স্কটি সন্তুষ্ট হয় না কারণ তাকে হুবহু ম্যাডেলিনের মত দেখাচ্ছে না, একই পোশাক পড়লেও তার নির্দেশনা মত চুল সাজানো হয়নি। জুডির চোখ ঈর্ষায় জ্বলে উঠে। সে বুঝতে পারে তার প্রতি স্কটি নির্বিকার, তাকে সে কেবলই একটি বস্তু হিসেবে দেখে যাকে ইচ্ছামত গড়ন দেয়া যাবে। কিন্তু ভালবাসে বলে সে সব মেনে নেয়। স্নানঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে চুলের সাজ পাল্টায়, তারপর দরজা খুলে যখন স্কটির দিকে হেঁটে আসে তখন মনে হয় সে যেন একটি অলক্ষুণে সবুজাভ ধোঁয়াশার মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসছে। নিয়ন আলো দিয়েই এই অদ্ভুতুড়ে ধোঁয়াশা ব্যাখ্যা করা যায়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি একটি স্বপ্নদৃশ্য।

হিচকক এ সময় স্কটি ও জুডির মুখ একের পর এক দেখাতে থাকেন। জুডির মুখে দেখা যায় অসীম বেদনা ও দুঃখের মাঝেও সন্তুষ্ট করার বাসনা, আর স্কটির মুখে পরম লালসা ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হওয়ার আনন্দ। তবে আমরা দুজনেরই হৃদয় ভেঙে যাওয়ার বেদনা অনুভব করি: তারা দুজনেই একটি ছবির দাসে পরিণত হয়েছে, যে ছবি এমন এক ব্যক্তি তৈরি করেছে যে এই ঘরেও নেই। গেভিন “ম্যাডেলিন”-কে তৈরি করেছিল নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে পার পাওয়ার জন্য।

স্কটি যখন “ম্যাডেলিন”-কে জড়িয়ে ধরে তখন এমনকি পটভূমিও পরিবর্তিত হয়ে যায়, ঘরটি বাস্তব দৃশ্যের পরিবর্তে স্কটির একান্ত ব্যক্তিগত স্মৃতিতে ভরে ওঠে। বার্নার্ড হারমানের সুর এক ধরণের ভয়কাতর ও অস্থির ব্যাকুলতার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এবং ক্যামেরা হতাশাজনকভাবে তাদেরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে, অনেকটা স্কটির স্বপ্নে দেখা কাগজের চরকার মত। ক্যামেরার ঘূর্ণন চলতেই থাকে যতক্ষণ না দৃশ্যটির বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে মানুষের কামনা-বাসনার নিরর্থকতা। জীবনকে আমাদেরকে সুখী করতে বাধ্য করা যে সম্ভব নয়- সেই সত্যই তখন মুখ্য হয়ে ওঠে। মনস্তাত্ত্বিক, শৈল্পিক ও কারিগরি দিক দিয়ে প্রচণ্ড জটিল এই দৃশ্য বোধহয় হিচককের সমগ্র ক্যারিয়ারের একমাত্র মুহূর্ত যখন তিনি নিজেকে পুরোপুরি প্রকাশ করেছেন, তার বিষাদ ও আসক্তির পুরোটাই। (এটা কি কেবলই কাকতালীয় যে মেয়েটির নাম ম্যাডেলিন- একটি ফরাসি বিস্কুটের নাম- যা বিখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক মার্সেল প্রুস্তের গল্পে শৈশবের স্মৃতি ও ব্যাকুলতাকে বানের জলের মত উঠিয়ে আনে?)

আলফ্রেড হিচকক সর্বজনীন অনুভূতি যেমন ভয়, অপরাধবোধ, লালসা ইত্যাদি একেবারে সাধারণ কিছু চরিত্রের মধ্যে স্থাপন করেছেন এবং তাদের সেই অনুভূতিগুলোকে শব্দের চেয়ে ছবির মাধ্যমে বেশি প্রকাশ করেছেন। তার সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত চরিত্র- ভুলক্রমে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নিরপরাধ ব্যক্তি- আসলে অনেক গভীর আত্মপরিচয়বোধ থেকে উৎসারিত; এ যুগের বাগাড়ম্বরপূর্ণ অগভীর সুপারহিরো অ্যাকশন সিনেমাগুলো যার ধারেকাছেও যেতে পারবে না।

হিচকক দুই দিক থেকে একজন বিশাল ভিজ্যুয়াল শিল্পী: তিনি খুব অবশ্যম্ভাবী কিছু ছবি নিয়ে খুব সূক্ষ্ণ প্রেক্ষাপট স্থাপন করেন। যেমন জেমস স্টুয়ার্টের চরিত্রের ভার্টিগো অর্থাৎ উচ্চতাভীতি খুব স্বাভাবিক একটি দৃশ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে। শুরুর একটি দৃশ্যে একটি ছোট মইয়ের মত চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে তাকে নিচের রাস্তার দিকে তাকাতে দেখা যায়। তাকানোর মুহূর্তটিতে ফ্ল্যাশব্যাকে আমরা তার পুলিশের চাকরি ছাড়ার কারণটি দেখতে পাই। একটি খ্রিস্টান মিশনের ঘণ্টার টাওয়ার তাকে ভীত সন্ত্রস্ত করে।

হিচকক একটি বিখ্যাত দৃশ্যের মাধ্যমে স্কটির দৃষ্টিভঙ্গি দেখান, আমাদেরকে টাওয়ারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে। তিনি ক্যামেরার লেন্স জুম করেন এবং একইসাথে পুরো ক্যামেরাটিকে পেছনের দিকে টানেন, এতে মনে হয় দেয়াল একইসাথে সামনে ও পেছনের দিকে যাচ্ছে। হিচকক সৃজিত এই স্থান কেবল দুঃস্বপ্নের যুক্তি দিয়েই সিদ্ধ হতে পারে। কিন্তু একইসাথে লক্ষ্যণীয় কিভাবে তিনি খুব সূক্ষ্ণভাবে অনেকটা লুকিয়ে লুকিয়ে সিনেমার মধ্যে পতনের অনুভূতিগুলো গেঁথে দিয়েছেন। যেমন, স্কটির গাড়ি সবসময় স্যান ফ্রান্সিস্কোর পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নামে, কখনও উপরে ওঠে না; এবং দেখার বিষয় কিভাবে স্কটি সত্যিকার অর্থেই ভালবাসায় “পতিত” হয়।

আরও একটি উপাদান ভার্টিগো সিনেমাকে মহান করেছে যা নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়। শুরুতে সিনেমাটি কেবলই ম্যাডেলিনকে নিয়ে ছিল, কিন্তু যে মুহুর্তে আমরা গোপন সত্যটি জানতে পারি তখন থেকে তা একই পরিমাণ জুডিকে নিয়ে: তার বেদনা, তার হানি, যে ফাঁদে সে পতিত তার সবকিছু নিয়েই। হিচকক পুরো গল্পটাকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে দুটি চরিত্র যখন মিশন টাওয়ারের সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠে, তখন আমরা দুজনের সাথেই নিজিদের যুক্ত করতে পারি, দুজনের জন্যই আমাদের ভয় হয়, এবং একদিক থেকে চিন্তা করলে জুডিকে স্কটির তুলনায় কম অপরাধী মনে হয়।

তবে নোভাক অভিনীত জুডি চরিত্রটিকে স্কটি যেমন বস্তু হিসেবে দেখে অনেক দর্শকও সেভাবে দেখে ফেলতে পারেন যা বেশ বিপদের কথা। আসলে জুডি হিচককের সব সিনেমার মধ্যে সবচেয়ে সহানুভূতিশীল চরিত্রগুলোর একটি।

হিচকক বারংবার তার সিনেমার নারী চরিত্রগুলোকে আক্ষরিক এবং আলঙ্কারিক অর্থে অপদস্ত করেছেন, তাদেরকে মাটিতে দলেছেন, তাদের চুল এবং কাপড় নষ্ট করেছেন; এসবের মাধ্যমে অনেকটা যেন নিজের ফেটিশগুলোকেই কশাঘাত করেছেন। ভার্টিগোর জুডির মাধ্যমে তিনি নিজের গল্পের বলি হওয়া কোন নারীর প্রতি সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশী সহানুভূতি দেখিয়েছেন। আর নোভাক, জুডির চরিত্রটি বেশি অনমনীয় ভাবে করার জন্য প্রথমে যার সমালোচনা করা হয়েছিল, আসলে অভিনয়ের ক্ষেত্রে ঠিক সিদ্ধান্তগুলোই নিয়েছিলেন। নিজেকে জিজ্ঞাস করুন আপনি অসহনীয় কষ্টের মধ্যে থাকলে কিভাবে চলতেন, কিভাবে কথা বলতেন, তারপর আবার জুডির দিকে তাকান।

লেখক – রজার ইবার্ট
অনুবাদ – শিক্ষানবিস
প্রথম প্রকাশ – চলচ্চিত্র উইকি

Posted in থ্রিলার | মন্তব্য দিন

ম্যাজেলানীয় মেঘের রহস্য উন্মোচন

আমাদের গ্যালাক্সির নাম আকাশগঙ্গা। এর ব্যাস যেকোন সাধারণ সর্পিল গ্যালাক্সির মতোই, প্রায় ১ লক্ষ আলোকবর্ষ, আর এতে তারার সংখ্যা ২০ থেকে ৪০ হাজার কোটি। আমাদের স্থানীয় গ্যালাক্সি জগতের অন্য সব গ্যালাক্সিই কোন না কোনভাবে আকাশগঙ্গার মহাকর্ষের টান অনুভব করে। আনুমানিক দুই ডজন ছোটখাটো গ্যালাক্সির ওপর আমাদের টান এতোই বেশি যে তাদেরকে আমাদের গ্যালাক্সির স্যাটেলাইট বলা হয়। স্যাটেলাইটের বাংলা উপগ্রহ, কিন্তু শব্দটি গ্রহের সাথে এতো বেশি সংযুক্ত যে স্যাটেলাইট গ্যালাক্সির ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা বেশ ঝামেলার, তাই ‘স্যাটেলাইট’ নামটিই এখানে প্রনিধানযোগ্য।

আকাশগঙ্গার স্যাটেলাইট গ্যালাক্সিগুলোকে মোটামোটি চারভাগে ভাগ করা যায়: ম্যাজেলানীয় মেঘ, উপবৃত্তাকার স্যাজিটারিয়াস, বামন গ্যালাক্সি এবং অন্যান্য। নামেই পরিচয়, যেমন ম্যাজেলানীয় মেঘ পৃথিবীর আকাশে দেখতে অনেকটা কোন সুদূর মেঘের মতো, স্যাজিটারিয়াস তারামণ্ডলে অবস্থিত গ্যালাক্সিগুলো প্রায় উপবৃত্তাকার আর অপেক্ষাকৃত ছোটগুলো বামন। এদের মধ্যে একটি বিশেষ কারণে ম্যাজেলানীয় মেঘ সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ম্যাজেলানীয় মেঘ মূলত দুইটি গ্যালাক্সির সমন্বয়ে গঠিত, বৃহৎ ও ক্ষুদ্র এবং তাদেরকে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে দেখা যায়। এরা আকর্ষণীয় কারণ, আকাশগঙ্গার মহাকর্ষীয় টানে একমাত্র এই স্যাটেলাইটগুলো ছাড়া অন্য সবাই তাদের সব গ্যাস হারিয়ে ফেলেছে। গ্যাসহীন গ্যালাক্সিতে নতুন তারার জন্ম অসম্ভব, কারণ গ্যাস ঘনীভূত হয়েই তারা তৈরি করে। তাই একমাত্র ম্যাজেলানীয় মেঘেই নতুন, অতি-উজ্জ্বল তারার দেখা মেলে।

বৃহৎ এবং ক্ষুদ্র ম্যাজেলানীয় মেঘ

প্রশ্ন হচ্ছে, অন্য সবাগুলোর মত ম্যাজেলানীয় মেঘ থেকেও কেন আকাশগঙ্গা সব গ্যাস বের করে আনতে পারল না? এর উত্তর জানার মত ক্ষমতা আমাদের তৈরি হয়েছে অতি সাম্প্রতিক সময়ে। অনুমান করা হয়েছিল, ম্যাজেলানীয় মেঘ আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দূরত্বে থেকে আকাশগঙ্গাকে আবর্তন করে। অতীতে আমাদের ধারণা ছিল এই মেঘদ্বয়ের কক্ষপথ আমাদের থেকে ১০০-২০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। কিন্তু ২০০৬ সালে হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স-এর বিজ্ঞানী নিটিয়া কালিভায়ালিলের (Nitya Kallivayalil) নেতৃত্বে একটি গবেষক দল প্রস্তাব করেন, এই কক্ষপথ অন্তত ৪০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটা সত্যি হলে ম্যাজেলানীয় মেঘের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হতো। কারণ কক্ষপথ দূরে হলে তার ওপর আমাদের মহাকর্ষীয় টান কম হবে এবং তথাপি তার গ্যাস হারানোর সম্ভাবনাও অনেক কমে যাবে।

নিটিয়া প্রস্তাবটি করেছিলেন হাবল মহাকাশ দুরবিন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাবলের নতুন তথ্য আরও ভালভাবে বিশ্লেষণ করে নিটিয়া তার পূর্ব অনুমানকেই সত্য প্রমাণ করেন। ম্যাজেলানীয় মেঘ যে আমাদেরকে অন্তত ৪০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে থেকে আবর্তন করে তা নিয়ে এখন কোন সন্দেহ নেই বললেই চলে। তার বদলে এখন তৈরি হওয়া নতুন সন্দেহটি হচ্ছে, এই গ্যালাক্সি দুটি আসলেই আমাদেরকে আবর্তন করছে কিনা। আবর্তন করলেও তাদের কক্ষপথ যে ভয়ানক উপবৃত্তীয় তা নিশ্চিত। অর্থাৎ কোন সময় ম্যাজেলানীয় মেঘ আমাদের থেকে অনেক দূরে সরে যায়, আবার কখনও বা খুব কাছে চলে আসে। মহাবিশ্বের ইতিহাসে সম্ভবত মাত্র একবারই এরা আমাদের কাছে আসার সুযোগ পেয়েছে, এবং সেই সময়টা এখন। এ কারণেই তাদের তারাগুলোকে পৃথিবী থেকে এতো উজ্জ্বল দেখায়।

কক্ষপথ এতো উপবৃত্তীয় এবং দূরত্ব এতো বেশি হওয়ার কারণেই ম্যাজেলানীয় মেঘ গ্যাস হারায়নি এবং এখনও উজ্জ্বল নবীন তারা তৈরি করতে পারছে। তবে ক্ষুদ্র মেঘটির অবস্থা এতো ভাল নয়, বেশ করুণই বলতে হবে। আকাশগঙ্গার চেয়ে তার উপর বৃহৎ ম্যাজেলানীয় মেঘের আকর্ষণ অনেক বেশি, সেই আকর্ষণে সে বেশ দ্রুত গ্যাস হারাচ্ছে এবং অচিরেই হয়তো সব গ্যাস হারিয়ে একটি ভুতুড়ে বামন উপগোলকীয় (spheroidal) গ্যালাক্সিতে পরিণত হবে। বামন উপগোলকীয় গ্যালাক্সিতে গ্যাস এবং তথাপি কোন নবীন তারা থাকে না, যে কারণে তাদেরকে ভুতুড়ে দেখায় বললে ভুল হবে না।

Reference: Ken Croswell, Unraveling a Magellanic Mystery, Scientific American, April 2013

Posted in আকাশগঙ্গা | মন্তব্য দিন

রেনেসাঁর জ্যোতির্বিদগণ


রেনেসাঁ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্মস্থান এবং কর্মস্থল দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন রঙের মাধ্যমে কে কোন কোন জায়গায় থেকেছেন তাও দেখানো হয়েছে।

Posted in Uncategorized | 3 টি মন্তব্য

টলেমির ভূকেন্দ্রিক মডেল

টলেমির মডেল ব্যাখ্যার একটা চেষ্টা করলাম। আরও অনুশীলন করলে আরও ভাল হতো সন্দেহ নেই, কিন্তু ধৈর্য্যের অভাব।

http://www.shikkhok.com/2012/10/astronomy-101-01-02/

Posted in ইতিহাস, গ্রহবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ১০১ | মন্তব্য দিন

হিগস কণা

আমার মাস্টার্স থিসিসের কারণে অন্যদিকে মন দেয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। তারপরও ভাবলাম হিগস নিয়ে একটা আলোচনা শুরু হতে পারে। সেই সাথে একটা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা যেতে পারে: দেখি কে কতক্ষণ হিগস কণাকে সেই “ফালতু নামটিতে” ডাকা থেকে বিরত থাকতে পারে… :D

এক বন্ধু কি আবিষ্কৃত হয়েছে জানতে চেয়ে মেইল করেছিল তার উত্তর দিতে গিয়ে আমি বেশ কিছুটা লিখে ফেলেছি। সেটাই ভাবলাম এই নোটে পোস্ট করে রাখি। আমি আসলে গতকালের ঘোষণার ডিটেল কিছু জানি না, তাদের প্যারামিটার, কনফিডেন্স লেভেল সম্পর্কেও বিস্তারিত খবর নেইনি। থিসিস শেষ হলে নেব, মানে ২০ তারিখের পর। তবে হিগস বুঝতে সেই ফলাফলের ডিটেল না জানলেও চলবে। তাই সংক্ষিপ্ত বয়ান শুরু হোক:

প্রকৃতির সকল জানা পদার্থ এবং শক্তি যেসব মৌলিক কণা দিয়ে গঠিত তাদের শ্রেণীবিন্যাসের নাম স্ট্যান্ডার্ড মডেল, মৌলিক পদার্থের যেমন পর্যায় সারণী, মৌলিক কণাদের তেমন স্ট্যান্ডার্ড মডেল। এই মডেলের স্থায়ী কণাগুলোর সার্বিক শ্রেণীবিন্যাস এমন:

কণা দুই ধরণের: ফার্মিয়ন (পদার্থের গাঠনিক উপাদান) এবং বোসন (শক্তির গাঠনিক উপাদান)। তো সব ফার্মিয়নেরই ভর আছে। কিছু বোসনেরও আবার ভর আছে। স্ট্যান্ডার্ড মডেল দিয়ে কোনভাবেই ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না এই ভরের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে। মানে স্ট্যান্ডার্ড মডেল কণাগুলোর ভরের উপর নির্ভর করতো না, ভর না থাকলে সমীকরণ যা ভর থাকলেও তা।

এই প্রেক্ষিতে পিটার হিগস ষাটের দশকে ভরের উৎপত্তির একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করান। তিনি বলেন প্রকৃতির সর্বত্র একটা ফিল্ড বা ক্ষেত্র আছে, যাকে পরবর্তীতে হিগস ক্ষেত্র নাম দেয়া হয়। সকল কণাকেই এই ক্ষেত্রের মধ্যে দিয়ে চলতে হয়। যে যত সহজে চলতে পারে তার ভর তত কম। মানে ভরকে সে হিগস ফিল্ডে চলনক্ষমতা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে: এই ক্ষেত্রটা কি দিয়ে গঠিত? বলা হল, একটা কণা থাকতে হবে যা দিয়ে এই ফিল্ড গঠিত, নাম দেয়া হল হিগস কণা। সেদিক দিয়ে হিগস কণাই হবে সকল কণার ভর প্রদায়ক।

হিগস আবার সবচেয়ে মৌলিক কণাও বটে, যার ভর এবং শক্তি সবচেয়ে বেশি (এখানে অবশ্য ভর-শক্তির মধ্যে কোন পার্থক্য নাই)। LHC তে প্রোটনের সাথে প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটানোর মাধ্যমে মৌলিক কণা তৈরি করা হয়। গ্লাস মেঝেতে ফেললে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, যত জোড়ে ফেলা হবে তত বেশি টুকরো হবে। তেমনি প্রোটনের সাথে প্রোটনের যত শক্তিশালী সংঘর্ষ ঘটানো হবে তত মৌলিক কণার সন্ধান পাওয়া যাবে। হিগসের শক্তি তাত্ত্বিকভাবে হিসাব করা হয়েছিল। প্রোটন-প্রোটন কে যদি তার চেয়ে বেশি শক্তিতে সংঘর্ষ করানো না যায় তাহলে হিগস পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নাই।

গত ২ বছর ধরে তেমন শক্তিতেই প্রোটন-প্রোটন সংঘর্ষ ঘটানো হয়েছে। ফলাফল হিসেবে এমন একটা কণা পাওয়া গেছে যার শক্তি ১২৫ গিগা ইলেকট্রন ভোল্টের (আলোর গতির এককে) কাছাকাছি। হিগসের শক্তিও এমন হওয়ার কথা। উল্লেখ্য আর কোন কণার ভরই এমন হওয়া সম্ভব না। আমার কথা বিশ্বাস না হলে নিচের ছবিটা দেখেন: গতকালই এই গ্রাফ প্রকাশ করা হয়েছে। ১২৫ জিইভি-র কাছাকাছি একটা টিলা চোখে পড়ে কি?

Mass distribution for the two-photon channel. The strongest evidence for this new particle comes from analysis of events containing two photons. The smooth dotted line traces the measured background from known processes. The solid line traces a statistical fit to the signal plus background. The new particle appears as the excess around 126.5 GeV. The full analysis concludes that the probability of such a peak is three chances in a million.

হিগসের পরিচয় খুব সুন্দর ও সহজভাবে পেতে চাইলে পিএইচডি কমিক্স এর এই ভিডিওটি দেখা যেতে পারে,

The Higgs Boson Explained from PHD Comics on Vimeo.

হিগস কণা বিষয়ক অন্যান্য লিংক:
: হ্যাড্রন সংঘর্ষপীঠে নতুন কণা আবিষ্কার
: হ্যাড্রন সংঘর্ষপীঠে হিগসের ছটা
: Live-Blogging the Higgs Seminar
: Latest Results from ATLAS Higgs Search
: CERN Higgs Boson July 4th 2012 press conference (full video)
: Higgs boson-like particle discovery claimed at LHC
: সার্ন থেকে হিগ্‌স বোসন – প্রলয়-নাচন নাচলে যখন আপন ভুলে!, অভিজিৎ রায়

Posted in কণা পদার্থবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান | 6 টি মন্তব্য

দ্য থার্টি নাইন স্টেপস

হিচকক অধিকাংশ সিনেমা যুক্তরাষ্ট্রে বানিয়েছেন দেখে আমরা ভুলেই যাই যে তিনি আসলে ব্রিটিশ এবং ইংল্যান্ড বানানো সিনেমাগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেমন দ্য থার্টি-নাইন স্টেপস এ হিচককীয় সিনেমার প্রধান সব বৈশিষ্ট্যই পূর্ণরূপ পেয়ে গিয়েছিল। হিচককীয় থ্রিলারের মূল বৈশিষ্ট্য- গতি, পরম সুন্দরী ব্লন্ড নায়িকা, নির্দোষ নায়কের গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যাওয়া। এই তিনটি বৈশিষ্ট্যই ৩৯ স্টেপসে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়ে নায়কের পালিয়ে বেরানো পরবর্তীতে হিচককের অনেক সিনেমায় এসেছে- স্ট্রেঞ্জারস অন আ ট্রেইন, দ্য রং ম্যান, ভার্টিগো, নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট এবং দ্য ম্যান হু ন্যু টু মাচ। তবে গতির দিক দিয়ে এই সিনেমা একেবারে অনন্য। এত চমৎকারভাবে কাজটা করেছেন যে অনেক সময় নির্বাক ও সবাক সিনেমার সীমারেখা ধূসর হয়ে যায়।

স্পয়লার অ্যালার্ট শুরু

রিচার্ড হ্যানে নামক এক কানাডীয় নাগরিক বর্তমানে লন্ডনে বাস করছে। লন্ডনের এক মিউজিক হলে ‘মিস্টার মেমরি’ নামক এক শ্রুতিধরের স্ট্যান্ডআপ বিনোদনে বিনোদিত হচ্ছিল সে। এমন সময় প্রেক্ষাগৃহে গুলির শব্দ, হুড়োহুড়ি করে সবাই বেরিয়ে আসে। হ্যানে বের হতে সাহায্য করে অ্যানাবেলা স্মিথ নামের একটি মেয়েকে যে পরবর্তীতে তার বাড়িতে যাওয়ার আগ্রহ দেখায়। বাড়িতে আসার পর অ্যানাবেলা নিজেকে একজন স্পাই বলে দাবী করে, বাড়ির সামনের রাস্তায় সত্যিই দুজন লোক হাঁটাহাটি করছে দেখে হ্যানে তা মেনে নিতে বাধ্য হয়। ইংল্যান্ড থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার হতে চলেছে, নাম থার্টি নাইন স্টেপস, বিষয় অ্যারোনটিক্স। ঘুমনোর আগে অ্যানাবেলা স্কটল্যান্ডের মানচিত্র চায় এবং জানায় যে বিষয়টার সমাধানের জন্য তাকে স্কটল্যান্ডে বসবাসরত একজনের সাথে অবশ্যই দেখা করতে হবে যার একটি আঙুল অর্ধেক কাঁটা। কিন্তু রাত পোহানোর সুযোগ না দিয়েই অ্যানাবেলা নিহত হয়। ভোরে হ্যানে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, লক্ষ্য স্কটল্যান্ডের সেই গ্রাম যেখানে আধা-আঙুলওয়ালার সাক্ষাৎ মিলবে। কিন্তু এর মধ্যে লন্ডনের সব পত্রিকায় ফলাও করে এক বেনামী (অ্যানাবেলা) নারীর হত্যা-সংবাদ প্রকাশিত হয়, হত্যার জন্য দায়ী করা হয় যথারীতি বাড়ির মালিক রিচার্ড হ্যানেকে। খুনের দায় মাথায় নিয়ে ইংল্যান্ডের মহামূল্যবান তথ্য দেশের ভেতর রাখতে ছুটে বেড়ায় হ্যানে, তার সাথে সাথে ক্যামেরা। Continue reading

Posted in ফিল্ম রিভিউ | মন্তব্য দিন

বহির্জাগতিক প্রযুক্তির সন্ধানে

পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণ আছে কিনা তা খুঁজে বের করা বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হচ্ছে শনির উপগ্রহ টাইটান নিয়ে। রহস্যময় এই উপগ্রহে প্রাণের সন্ধান করতে গিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে জ্যোতির্জীববিজ্ঞানীদের। কারণ খুব সাধারণ- প্রাণের এমন কোন নির্দেশিকা নেই যা পৃথিবী বা পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা দুরবিনে ধরা পড়বে। অন্যান্য তারার আশেপাশে গ্রহ আছে কিনা তা আমরা এখন বের করতে পারি, কিন্তু আমাদের দৌঁড় কেবল গ্রহের ভর, ব্যাসার্ধ্য, মাতৃতারা থেকে তার দূরত্ব এবং এমন কিছু অতি মৌলিক রাশি পরিমাপ পর্যন্তই। এমনকি গ্রহগুলোর আদৌ বায়ুমণ্ডল আছে কিনা এবং থাকলে তা কি দিয়ে গঠিত সেটা জানাও বর্তমানে অসম্ভব।

সে তুলনায় প্রাযুক্তিক প্রাণীর সন্ধান কিন্তু অনেক সোজা। অন্য কথায় বলা যায়, বহির্জাগতিক কোন সভ্যতা যদি আমাদের মত রেডিও বা মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ তৈরিতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে অনেক সহজেই সনাক্ত করা সম্ভব। কারণ আমাদের তেমন তরঙ্গ চিহ্নিত করার উপায় যেমন জানা আছে তেমনি সেটা যে সৌরজগতের বাইরে বসবাসরত কোন বুদ্ধিমান প্রাণীর তৈরি সেটা বোঝার ক্ষমতাও আছে। আমাদের রেডিও তথা বেতার প্রযুক্তি ততোটাই উন্নত। কিন্তু এই অনুসন্ধানকে সার্চ ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স (সেটি) না বলে সার্চ ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বলাই বেশি যুক্তিসঙ্গত। কারণ প্রাণী বুদ্ধিমান হলেই যে আমাদের মত প্রযুক্তি তৈরিতে আগ্রহী বা পারঙ্গম হবে তার নিশ্চয়তা কী? Continue reading

Posted in জ্যোতির্জীববিজ্ঞান | মন্তব্য দিন