বিগব্যাঙ। বিখ্যাত একটি তত্ত্ব। পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি। শুধু তাই না, পৃথিবীর সবচাইতে ভুল ভাবে বোঝা বিষয়গুলোরও একটি হলো বিগব্যাঙ। বিগব্যাঙ সম্পর্কে আমরা সাধারণ মানুষ হয়তো নাম শুনেই যথাযথ সম্মান জানিয়ে দুরে থাকি। কিংবা, এমন কিছু আবছা ধারণা রাখি যা আসলে ভুল, মহাভুল।
আমারা যেই মহাবিশ্বে বাস করি তার কিভাবে উৎপত্তি হলো? মহাবিশ্বের সৃষ্টির আগে কি ছিল? এই প্রশ্ন মানুষ অনেক আগে থেকেই করে আসছে। পাঠক, আপনি কি মনে করেন যে বিগব্যাঙ তত্ত্ব এই প্রশ্নের উত্তর দেয়? যদি এরকমটাই ভেবে থাকেন তাহলে এখনই এ ধারণাটা মাথা হতে ঝেড়ে ফেলে দিন! আসলে এই মহাবিখ্যাত তত্ত্বটির মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই। এই তত্ত্ব আরো যে সব চিরায়ত, অবাক করা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করে না সেগুলো হলো:
=> কি, কিংবা কোন শক্তি মহাবিশ্বের উৎপত্তির সূচনা করেছিলো? বিগব্যাঙ নয়, ইনফ্লুশন থিউরী এর একটি ব্যাখ্যা দেয়।
=> বিগব্যাঙের আগে কি ঘটেছিলো?
=> মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে?
=> মহাবিশ্বের আকৃতি কেমন? এ বিষয়টি অনেক তত্ত্বই ব্যাখ্যা করে। কিন্তু বিগব্যাঙ তত্ত্ব এ সম্পর্কে কিছু বলে না। আরো পড়ুন…
সচলায়তন থেকে অনেক কিছু শিখেছি। হেডার পরিবর্তন করার ব্যাপারটা বেশ মজার। ভাবছি বিজ্ঞান জগতের সাথে তাল মিলিয়ে এখন থেকে নিয়মিতই পরিবর্তন করবো। আর সবগুলো হেডার ইমেজ এর ছবির লিংক দেয়া থাকবে এই পোস্টটিতে। এখন পর্যন্ত মোট চারটি হেডার ইমেজ যোগ করা হয়েছে। সেগুলো দিয়েই শুরু করলাম:
মহাবিজ্ঞানীদের ছবি নিয়ে করেছিলাম। বাম থেকে যথাক্রমে: গ্যালিলিও, নিউটন, ম্যাক্স প্লাংক, আইনস্টাইন এবং ডারউইন।
সেরা নারী বিজ্ঞানীদের নিয়ে এটা করা। বাম থেকে যথাক্রমে: হাইপেশিয়া, মারি কুরি, বারবারা ম্যাকক্লিন্টক, লিজে মাইটনার, মারিয়া গোপার্ট মায়ার এবং রোজালিন্ড ফ্রাংকলিন
অবশ্যই মানুষের চন্দ্রাবতরণ
৩০শে অক্টোবর মারা গেলেন আধুনিক নৃবিজ্ঞানের জনক ক্লোদ লেভি-স্ত্রোস (Claude Lévi-Strauss)। তার স্মরণেই করা এই হেডারটি।
২০০৭ সালের ২৯শে জুন থেকে ১লা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠিত ২৭তম “নর্থ অ্যামেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স” উপলক্ষে প্রকাশিত ব্রোশারে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়েছিল। (পৃষ্ঠা: ৭৭-৭৯)
সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম যেন বিজ্ঞানের জগতে একটি সৌধ হয়ে আছে, বিশেষত কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের জগতে। মৌলিক কণা “বোসন”, বোসনের ক্রিয়াকর্ম ব্যাখ্যায় সক্ষম “বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান” এবং “বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট”- সবগুলো নামই এই মহান বিজ্ঞানীর নামে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট গবেষণাগারে তৈরী করে দেখানোর জন্যই ২০০১ সালে এরিক কর্নেল ও কার্ল ওয়াইম্যানকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। আলবার্ট আইনস্টাইন বসুর গবেষণাপত্রকে বলেছিলেন, “প্রগতির দিকে একটি অনিন্দ্য সুন্দর পদক্ষেপ”।
বাংলায় সত্যেন বসু যেন এক পৌরাণিক কিংবদন্তি। একটি বিখ্যাত বাংলা সাময়িকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, রবি শংকরের মত বিশ্বনন্দিত বাঙালি থাকা সত্ত্বেও সত্যেন বসুকে “শতাব্দীর বাঙালি” হিসেবে স্বীকৃত দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তার লেখা একমাত্র বিজ্ঞান গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে। বসু সম্পর্ক তিনি লিখেছিলেন, “a man of genius with a taste for literature and who is a scientist as well.” আরো পড়ুন…
আমাদের একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে মেয়েদের মাথায় ঘিলু কম, তাই তারা অঙ্ক বা বিজ্ঞান বোঝে কম। মেয়েদের মস্তিষ্কের গড়পড়তা ওজন হলো এগারোশ হতে বারোশ গ্রাম, যেখানে ছেলেদের মস্তিষ্কের গড় ওজন পনেরোশ গ্রাম প্রায়। তাহলে বুদ্ধিমত্তা মেয়েদের “সাইন্টিফিক”-ভাবেই কম, কি বলেন?
আমাদের আরো একটি ধারণা আছে যে, প্রাণী জগতে মানুষের মগজই সবচেয়ে বড়। তাই মানুষই সবচাইতে বুদ্ধিমান প্রাণী।
আসলেই কি তাই? বুদ্ধিমত্তা কি কেবল ঘিলুর ওজনের উপরেই নির্ভর করে?

একটা মজার তথ্য দেই। প্রাণী জগতে সবচাইতে বড় মগজ হলো নীল তিমির। মানুষের মগজের চাইতে তা প্রায় সাড়ে ছয় গুণ বড়! প্রায় আট কেজি তার মগজের ওজন! হাতির মগজের ওজন প্রায় সাড়ে চার কেজি। ডলফিনের হলো পনেরশ গ্রাম, প্রায় আমাদের সমান। তথ্যসূত্র ব্রেন, ফ্যাক্টস এন্ড ফিগার।
এখন, বড় মস্তিষ্কই যদি বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি হতো, তাহলে আমরা দেখতাম তিমি আর ডলফিনদের নিজস্ব, উন্নত সভ্যতা। তারা আজ সমগ্র প্রাণীজগতে খবরদারি করে বেড়াতো। আমরা হতাম তাদের ইচ্ছার খেলনা!! মূল ব্যাপারটা কিন্তু অন্য জায়গায়। আসলে, একটা বড় প্রাণীর শরীরকে নিয়ন্ত্রণ আরো পড়ুন…
পরীক্ষা চলছে। বিএসসি জীবনের শেষ পরীক্ষা। কিন্তু পড়তে একদমই ইচ্ছা করছে না। দুইটা পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। শুধু আগের দিন কোনভাবে পড়াশোনা শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে আসার সিস্টেমটা তো আগে থেকেই আয়ত্তে ছিল। এই দুই পরীক্ষায় সেটা দুইবার ঝালিয়েও নিয়েছি। তাই চিন্তা নাই, ভাবলাম এই সুযোগে একটা ব্লগ নামিয়ে ফেলি। আদতে পরীক্ষার মত ফ্যাসিস্ট একটা জিনিসের চেয়ে ব্লগিং তো অনেক অনেক উত্তম।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ব্রেকিং নিউজ এবং হট টপিক হচ্ছে বারাক ওবামা-র শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া। নিঃসন্দেহে কোনকিছু না করেই নোবেল পেয়ে গেছেন ওবামা। আমাদের মত ওবামা-ও যে সমান হারে বিস্মিত হয়েছেন এতে আমার কোনই সন্দেহ নেই। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়ার জন্য নরওয়ে-র আইনসভা-র ৫ জন সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হয়। এই সদস্যরা আবার সিদ্ধান্তের জন্য আইনসভার কাছে দায়ী থাকে না। তাই এই বিচারক নির্বাচনের উপর যে নোবেল পুরস্কারটা অনেক নির্ভর করে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনও হতে পারে এই ৫ জন খুব বেশি কষ্ট করতে চান নি। হাতে যা ডেটা আছে তা থেকে খুব দ্রুত একটা সুবিধাজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন, দ্বিতীয়বার চিন্তা না করেই, যদিও এর সম্ভাবনা খুব কম। হাজার হোক নোবেল পুরস্কার বলে কথা। আরো পড়ুন…
আমাদের চেয়েও উন্নত কোন বহির্জাগতিক সভ্যতার সাথে যোগাযোগ হলে তাদের করা প্রথম প্রশ্নটিই হতে পারে, “তোমাদের কিভাবে জন্ম হয়েছে সেটা কি বের করতে পেরেছ?” আর ২০০ বছর আগে হলেও এই প্রশ্ন শুনে আমাদের লজ্জায় পড়ে যেতে হতো। ডারউইন এসে আমাদেরকে রক্ষা করলেন আর কি! ডারউইন-এর আগেও যে অনেকে বিবর্তন নিয়ে তত্ত্ব দেয়ার চেষ্টা করেন নি তা না। কিন্তু তত্ত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত ও পর্যবেক্ষণের দরকার ছিল তা কেবল ডারউইন-ই জোগাড় করতে পেরেছেন। আসলে প্রকৃতির পরিবর্তনশীলতা দেখে বিবর্তনের বাস্তবতা বুঝতে পেরেছিলেন, এমন অনেক পণ্ডিতই ইতিহাসে গত হয়েছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক নির্বাচনের মত একটি শক্তিশালী তত্ত্ব দিয়ে সেই বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করাটাই ছিল বৈপ্লবিক।
ডারউইন পর্যবেক্ষণ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, ডারউইনের তত্ত্ব প্রকৃতপক্ষে জীবকূলের ইতিহাস বর্ণনা করে। আর ইতিহাস প্রমাণ করার জন্য এমন কিছু প্রয়োজন যা দিয়ে ইতিহাসের গতিধারাটি চোখের সামনে তুলে ধরা যায়, সচিত্র প্রতিবেদনের মত। এভাবে ইতিহাস উদঘাটনের উপকরণগুলো তখন ছিল না। কিন্তু আজ বিবর্তনের ঐতিহাসিক প্রমাণের সবচেয়ে বড় দুটি উপকরণ আমাদের হাতের মুঠোয়- এক. বংশগতিবিজ্ঞান, দুই. জীবাশ্ম। বংশগতিবিজ্ঞান সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হলেও এটা আমাদেরকে ভিজ্যুয়ালাইজ করতে সাহায্য করে না। কিন্তু জীবাশ্ম একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই ১লা অক্টোবর যখন ৪৪ লক্ষ বছর বয়সী আর্ডিপিথেকাস র্যামিডাস (আর্ডি) এর চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে টিম হোয়াইট-এর দল ১১টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করল তখন আমি যেন ঠিক একটা ভিডিওচিত্রের মতই মানবজাতির ইতিহাসটা চোখের সামনে দেখতে পেলাম। আরো পড়ুন…
পদার্থবিজ্ঞান
চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ, ষষ্ঠ অধ্যায়, আল মুকাদ্দিমা
লেখক – আবদুর রাহমান বিন মুহাম্মাদ ইবন খালদুন
ইংরেজি অনুবাদক – ফ্রানৎস রোজেনথাল
বাংলা অনুবাদক – খান মুহাম্মদ (শিক্ষানবিস)
এটি এমন এক বিজ্ঞান যা বস্তুর সাথে সংযুক্ত গতি ও স্থিতি-র প্রেক্ষাপটে সেই বস্তুর অনুসন্ধান করে। এটি জ্যোতিষ্ক ও মৌলিক বস্তু এবং এসব থেকে সৃষ্ট মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও খনিজ পদার্থ নিয়ে গবেষণা করে। পৃথিবীতে নেমে আসা ভূমিকম্প এবং বসন্ত নিয়েও এটি গবেষণা করে, এছাড়া পরিবেশের মেঘ, বাষ্প, বজ্রধ্বনি, বিদ্যুৎ চমক, ঝড় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদিও এর গবেষণাক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। বস্তুর মাঝে প্রথমে কিভাবে গতির সঞ্চার হয়েছিল, এ বিষয়ক গবেষণার মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান তার ক্ষেত্র বিস্তার করে। অর্থাৎ মানুষ, প্রাণী এবং উদ্ভিদে বিভিন্ন রূপ নিয়ে আত্মার যে প্রকাশ ঘটে তার সূচনাও এই বিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়। আরো পড়ুন…
কোন ক্লাস এর বইয়ে যেন আর্মস্ট্রং-অলড্রিন-কলিন্স এর চন্দ্রাভিযানের বর্ণনা পড়েছিলাম। সেখানেই প্রথম “শান্তির সাগর” নামটার সাথে পরিচয়। অ্যাপোলো ১১ চাঁদে “শান্তির সাগর” নামে একটা জায়গায় অবতরণ করেছিল। প্রথমবার পড়ার পর অন্য অনেকের মত আমিও ভেবে বসেছিলাম, এটা বোধহয় পৃথিবীর মত কোন সাগর। কিছুতেই মাথায় ঢুকছিল না, মাটি বাদ দিয়ে নভোযান কেন সমুদ্রের মাঝখানে অবতরণ করবে। সেসব কনফিউশন এর কথা মনে হলে আজও হাসি পায়। কনফিউশন দূর হতে অবশ্য বেশিদিন লাগে নি। একসময় বুঝেছিলাম, এসব নাম নাসা বিজ্ঞানীদের রসিক মন আর ল্যাটিন-প্রীতিরই পরিচায়ক।
অনেকদিন পর হঠাৎ এই কথা মনে হওয়ার কারণ একটা ব্রেকিং নিউজ। বর্তমানে মহাকাশ অভিযান এবং গ্রহ বিজ্ঞানের গবেষকদের জন্য সবচেয়ে উত্তেজনাকর খবর হচ্ছে, চন্দ্রপৃষ্ঠে পানির সন্ধান লাভ। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায় এই ২৪শে সেপ্টেম্বর চাঁদের পৃষ্ঠতলে হাইড্রক্সিল (OH-) এবং পানির (H2O) অণু আবিষ্কৃত হল। চাঁদে অবশ্যই কোন পানির সাগর নেই, তাত্ত্বিকভাবেই সেটা অসম্ভব। সেখানে পানির বিচ্ছিন্ন অণু মিশে আছে পৃষ্ঠতলীয় পদার্থগুলোর সাথে। যত মেরুর দিকে যাওয়া যায় এই পানির পরিমাণ তত বাড়ে। তবে কমবেশি সব জায়গাতেই পানির অস্তিত্ব আছে বলে মনে করা হচ্ছে। চন্দ্র গবেষকরা এই আবিষ্কারে একেবারে মহাকাশ থেকে পড়েছেন, কারণ ৪০ বছর আগে অনেকে চন্দ্রজলের ভবিষ্যদ্বাণী করলেও গত কয়েক দশকের পশ্চিমা অভিযানগুলো তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ইসরো (ISRO) এবং নাসা-র এই যুগান্তকারী আবিষ্কার তাই সবাইকে বেশ ভালভাবেই চমকে দিয়েছে। আরো পড়ুন…
বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কারই সময়ের প্রয়োজন বুঝেনি, এসেছে প্রয়োজনের অনেক পরে। জটিলতা, দুর্বোধ্যতা, সূক্ষ্ণতা ইত্যাদি অনেক কিছুকেই এর জন্য দায়ী করা যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মধ্যে এর কোনটিই ছিল না। তারপরও অন্যান্য অনেক বিপ্লবের তুলনায় এটি বেশ দেরিতে শুরু হয়েছে। এই ১৮৫৮ সালে চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস প্রাকৃতিক নির্বাচন নিয়ে প্রথম লিখেছেন, আর বিপ্লব সৃষ্টিকারী “অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস” প্রকাশিত হয়েছে মাত্র ১৮৫৯ সালে। সব দেখে তাই মনে হয়, অতিরিক্ত সরল হওয়ার কারণেই এটি বুঝতে আমাদের এতো দেরি হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট পরিবেশের সাথে কিছু নির্দিষ্ট জীবই খাপ খাইয়ে নিতে পারে। অভিযোজনের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা এই জীবগুলোর বংশধরের সংখ্যা তুলনামূলক বেশী হয়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর তাই তারা উক্ত পরিবেশে আধিপত্য বিস্তার করে। অন্যভাবে বলা যায়, পরিস্থিতির সাথে যারা সবচেয়ে বেশী খাপ খাইয়ে নিতে পারে, পরিবেশ নিজেই তাদেরকে “নির্বাচিত” করে। সময়ের স্রোতে পরিবেশের শর্ত পরিবর্তিত হয়, আরোপিত এই নতুন শর্তগুলোর সাথে যারা মানিয়ে নিতে পারে তারাই দিন দিন আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে, বাকিরা পিছিয়ে পড়ে। ডারউইনবাদ কিন্তু জীববিজ্ঞানের কোন জটিল রহস্যের সমাধান করার মাধ্যমে বিপ্লবের জন্ম দেয়নি। প্রকৃতির মৌলিক যুক্তিটি যে একেবারে সাধারণ হতে পারে, সেটা বোঝানোর মাধ্যমেই সে বিপ্লবের সূচনা ঘটিয়েছে। আরো পড়ুন…
আগামী ১২ই ফেব্রয়ারি সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের ২০০তম জন্মবার্ষিকী এবং তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ “অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস” এর ১৫০তম প্রকাশবার্ষিকী। বিবর্তনবাদ নিয়ে আজ পৃথিবীর কোন জীববিজ্ঞানীর মধ্যেই সংশয় নেই। তবে এর প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় আছে। সেটা নিয়েই বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানীরা এখন সবচেয়ে বেশী গবেষণা করছেন। এই প্রেক্ষিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা “সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান” তাদের জানুয়ারি ২০০৯ সংখ্যাটি বিবর্তনবাদ নিয়ে করেছে। প্রথম প্রবন্ধটির অনুবাদ করে সচলায়তনে প্রকাশ করেছিলাম। মুক্ত-মনা ১২ই ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে বিশেষ ওয়েবপেইজ করছে যেখানে প্রবন্ধটি থাকবে। এর পাশাপাশি সিসিবি-তেও লেখাটি প্রকাশ করলাম। আরো পড়ুন…






